১
কুরআনের আলোকে মূসা আলাইহিস সালামের ব্যক্তিত্ব ও দা‘ওয়াহ কার্যক্রম
লেখকঃ মো: আবদুল কাদের • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৯
(ঝ) আল্লাহর অনুগ্রহের স্মরণ
মানুষের প্রতি আল্লাহর অগণিত অনুগ্রহ রয়েছে। এ অনুগ্রহরাজির সংখ্যা হিসাব করে শেষ করা যাবে না। মহান আল্লাহ্ বলেন-‘‘তোমরা আমার নেয়ামতরাজি গণনা করে শেষ করতে পারবে না।’’ [আল-কুরআন, সূরা ইবরাহীম: ৩৪।] আল্লাহর অনুগ্রহের স্মরণ ইসলামী দা‘ওয়াহর অন্যতম একটি মাধ্যম। মূসা আলাইহিস সালাম এর জীবদ্দশায় এ পদ্ধতির সমাবেশ ঘটেছিল। তাই তিনি যখন ফের‘আউনের সাথে দা‘ওয়াত গ্রহণের বিষয়ে প্রকাশ্য যুক্তি-তর্কে লিপ্ত হন, তখন তার যুক্তি প্রমাণ উপস্থাপনের শেষ পর্যায়ে তিনি ফের‘আউনকে আল্লাহর কতিপয় অনুগ্রহ স্মরণ করিয়ে দিতে গিয়ে বলেন, হে ফের‘আউন! আল্লাহই এ যমীন এবং যমীনের উপরস্থ সব কিছু সৃষ্টি করেছেন। আকাশ থেকে বারি বর্ষিয়ে এ যমীনকে শস্য শ্যামল করেছেন। ফল-ফুল আর ঘন বৃক্ষ দিয়ে ঢেকে দিয়েছেন। এ মাটি হতেই আল্লাহ্ তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন। মৃত্যুর পর এ মাটি হতেই তোমাদের পুনর্জীবিত করে উঠানো হবে। সুতরাং অহংকার ঔদ্ধত্য দেখিয়ে কারও কোন গত্যন্তর নেই। সবার জন্যেই সে মহাশক্তির অধিকারী সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন, তার সম্প্রদায়কে আযাব থেকে নাজাতের একমাত্র পথ। [এ মর্মে কুরআনে ইরশাদ হয়েছে ‘‘তিনি এমন এক সত্ত্বা যিনি যমীনকে তোমাদের জন্য বিছানাস্বরূপ বানিয়েছেন এবং তাতে তোমাদের জন্য বাসস্থানসমূহ তৈরী করেছেন। আর আসমান হতে পানি বর্ষণ করেছেন। অতঃপর আমি তা দ্বারা বিবিধ প্রকার উদ্ধিদ উৎপন্ন করেছি। তোমরা নিজেরা খাও এবং পশু পালন কর। এ সবের মাঝে জ্ঞানীদের জন্য রয়েছে নিদর্শনসমূহ। এ মাটি হতেই আমি তোমাদেরকে বানিয়েছি এবং এটিতেই আমি তোমাদের প্রত্যাবর্তন করাব। তা হতেই পুনরায় তোমাদেরকে বের করব।’’ আল-কুরআন, সূরা ত্বা-হা: ৫৩:৫৫।] আল্লাহ্র অনুগ্রহের স্মরণ মানুষের অন্তরকে জাগরিত করে এবং কোন বিষয়ের নিগুঢ় সহস্য উদঘাটনে সহায়তা করে। স্বয়ং আল্লাহ্ তা‘আলাও বনী ইসরাঈলদেরকে এ পদ্ধতিতে দীনের দিকে আহ্বান করেছেন। ইরশাদ হয়েছে,
‘‘আর স্মরণ কর সে সময়ের কথা, যখন আমি তোমাদেরকে ফের‘আউনের কবল হতে মুক্তি দিয়েছি যারা তোমাদেরকে কঠিন শাস্তি দিত। তোমাদের পুত্র সন্তানদের জবাই করত এবং তোমাদের স্ত্রীদের ছেড়ে দিত। বস্তুতঃ তাতে তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে এক মহা পরীক্ষা ছিল। আর যখন আমি তোমাদের জন্য সাগরকে দ্বিখন্ডিত করেছি, অতঃপর তোমাদেরকে বাঁচিয়ে দিয়েছি এবং ফের‘আউনের লোকদের ডুবিয়েছি, আর সে সময় তোমরা তা প্রত্যক্ষ করছিলে। [আল-কুরআন, সূরা আল-বাকারা : ৪৯-৫০।] অত্র আয়াতগুলোর মাধ্যমে আল্লাহ তা‘আলা বনী ইসরাঈলদেরকে তার প্রতি ও মূসা আলাইহিস সালাম এর প্রতি দৃঢ়ভাবে ঈমান আনার আহ্বান করেছেন।
‘‘আর স্মরণ কর সে সময়ের কথা, যখন আমি তোমাদেরকে ফের‘আউনের কবল হতে মুক্তি দিয়েছি যারা তোমাদেরকে কঠিন শাস্তি দিত। তোমাদের পুত্র সন্তানদের জবাই করত এবং তোমাদের স্ত্রীদের ছেড়ে দিত। বস্তুতঃ তাতে তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে এক মহা পরীক্ষা ছিল। আর যখন আমি তোমাদের জন্য সাগরকে দ্বিখন্ডিত করেছি, অতঃপর তোমাদেরকে বাঁচিয়ে দিয়েছি এবং ফের‘আউনের লোকদের ডুবিয়েছি, আর সে সময় তোমরা তা প্রত্যক্ষ করছিলে। [আল-কুরআন, সূরা আল-বাকারা : ৪৯-৫০।] অত্র আয়াতগুলোর মাধ্যমে আল্লাহ তা‘আলা বনী ইসরাঈলদেরকে তার প্রতি ও মূসা আলাইহিস সালাম এর প্রতি দৃঢ়ভাবে ঈমান আনার আহ্বান করেছেন।