১
কুরআনের আলোকে মূসা আলাইহিস সালামের ব্যক্তিত্ব ও দা‘ওয়াহ কার্যক্রম
লেখকঃ মো: আবদুল কাদের • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৪
২. মূসা আলাইহিস সালাম-এর ব্যক্তিত্বঃ
মূসা আলাইহিস সালাম অসাধারণ ব্যাক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন। তিনি বিভিন্ন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পাশাপাশি অসংখ্য গুণের আঁধার ছিলেন। নিম্নে তার ব্যক্তিত্বের কতিপয় দিক তুলে ধরা হলঃ
(ক) একনিষ্ঠতা: মূসা আলাইহিস সালাম অত্যন্ত নিষ্ঠাবান ছিলেন। তিনি যাবতীয় দায়িত্ব পালনের ব্যাপারে একনিষ্ঠতার পরিচয় দিয়েছেন। মহান আল্লাহর কঠিন ও দুর্বোধ্য আদেশ পালনে তিনি অত্যন্ত আন্তরিক ছিলেন। এ মর্মে পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে: আর কুরআন মজিদে মূসা আলাইহিস সালাম-এর কথা স্বরণ করুন। নিশ্চয়ই তিনি ছিলেন একনিষ্ঠ রাসূল ও নবী।’’ [আল-কুরআন, সূরা মারয়াম: ৫১।]
(খ) বিশ্বস্ততা : বিশ্বস্ততা ও শক্তিশালী হওয়ার দিক থেকে মূসা আলাইহিস সালাম ছিলেন অনন্য বৈশিষ্ট্যের অধিকারী । তার এই বিশ্বস্ততা ও শক্তি দেখেই এক কন্যা স্বীয় পিতার নিকট তাকে তাদের পরিবারে কর্মচারী নিয়োগ দেওয়ার আবেদন করেছিল। এ সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে সূরা আল কাসাসে এসেছে, ‘‘নারীদ্বয়ের একজন বলল হে পিতা! এ লোককে চাকর নিযুক্ত করুন, নিশ্চয়ই শক্তিমান ও বিশ্বাসী লোকই চাকর হওয়ার উপযুক্ত।’ [আল-কুরআন, সূরা আল-কাসাস: ২৬।]
এছাড়াও নারীদ্বয়ের নিকট তার মার্জিত আচরণ, নৈতিকতা, সহযোগিতার মানসিকতা, চলন-বলন, দৈহিক শক্তি সামর্থ ইত্যাদি গুণাবলী পরিদৃষ্ট হয়েছে।
(গ) সহযোগিতা ও সহমর্মিতা: তিনি ছিলেন অত্যন্ত দয়াশীল ও অপরের হিতাকাংখী। পারস্পরিক সাহায্য-সহযোগিতার মাধ্যমে তিনি খুব আনন্দবোধ করতেন। অসহায়-অবলাদের সাহায্যার্থে তিনি সবসময় এগিয়ে আসতেন। ‘মাদইয়ানে’ [‘মাদইয়ান’ মিসরের পূর্ব দিকে লূত সম্প্রদায়ের আবাসস্থলের নিকটে অবস্থিত। লূত সম্প্রদায় মৃত সাগরের কাছে বাস করত। আর ‘মাদইয়ান’- এর নিকটে দক্ষিন-পূর্ব দিকে অবস্থিত। খ্যাতনামা ভূগোলবিদ ইয়াকুব আল-হামাবী বলেন, আবু যায়িদ এর বর্ণনা মতে, মাদইয়ান নগরী বাহর-ই কুলযুম তথা লোহিত সাগরের তীরে অবস্থিত। (ইয়কুব আল-হামাবী, মু‘জামুল বুলদান, ৫ম খ-, বৈরুত: দারু সাদির ,১৯৫৭) , পৃ. ৭৭-৭৮; ড. সালাহ আল-খালেদী, আল-কাসাসুল কুরআনী, ২য় খ-, প্রাগুক্ত, পৃ. ৩২৪-৩২৫)এটি আকাবা উপসাগরের উত্তরে অবস্থিত। এর পূর্বে ফিলিস্তিন ও উত্তরে হেজাজ। হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম এর এক পুত্র সেখানে বসবাস করতেন। তার নামানুসারেই এ শহরের নাম রাখা হয়েছে মাদইয়ান। আব্দুল ওহাব আন-নাজ্জার, প্রাগুক্ত, পৃ. ১৮২।] অবস্থান কালে তিনি দু‘ নারীকে কুপ হতে পানি উত্তোলনে সহযোগিতা করেছেন।
(ঘ) অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কণ্ঠঃ তিনি ছিলেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপোষহীন। যুলুম-নির্যাতনের বিরুদ্ধে ছিলেন প্রতিবাদী কণ্ঠ। তৎকালীন মিসরে এক কিবতীকে একজন ইসরাঈলীর উপর অন্যায়ভাবে অত্যাচার করতে দেখে তিনি তা প্রতিহত করার চেষ্টা করেছিলেন। [১৯আল-কুরআন, সূরা আল-কাসাস:২৩।]
(ঙ) অনুশোচনা প্রিয়ঃ মূসা আলাইহিস সালাম ছিলেন স্বীয় কৃতকর্মের জন্য অনুশোচনা প্রিয়। তাই কিবতী হত্যাকে তিনি অন্যায় ভেবে মহান আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন। আর আল্লাহ তা‘আলাও তার প্রার্থনা মঞ্জুর করেছিলেন। এ মর্মে পবিত্র কুরআনে এসেছে,
‘‘সে (মূসা আ.) বলল: হে আমার রব! আমি নিজের উপর যুলুম করেছি। আমাকে ক্ষমা করে দাও। তখন আল্লাহ তা‘আলা তাকে ক্ষমা করে দিলেন।’’ [২০আল-কুরআন, সূরা আল-কাসাস:১৪,১৫]
উপরোল্লিখিত যাবতীয় গুনের আধার হিসেবে তিনি আল্লাহ তা‘আলার নিকট অত্যন্ত সম্মানিত ছিলেন। পবিত্র কুরআনে এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন- ‘‘মূসা আলাইহিস সালাম এর আল্লাহর সমীপে বিশেষ সম্মানিত।’’ [২১আল-কুরআন, সূরা আল-আহযাব: ৬৯]
(ক) একনিষ্ঠতা: মূসা আলাইহিস সালাম অত্যন্ত নিষ্ঠাবান ছিলেন। তিনি যাবতীয় দায়িত্ব পালনের ব্যাপারে একনিষ্ঠতার পরিচয় দিয়েছেন। মহান আল্লাহর কঠিন ও দুর্বোধ্য আদেশ পালনে তিনি অত্যন্ত আন্তরিক ছিলেন। এ মর্মে পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে: আর কুরআন মজিদে মূসা আলাইহিস সালাম-এর কথা স্বরণ করুন। নিশ্চয়ই তিনি ছিলেন একনিষ্ঠ রাসূল ও নবী।’’ [আল-কুরআন, সূরা মারয়াম: ৫১।]
(খ) বিশ্বস্ততা : বিশ্বস্ততা ও শক্তিশালী হওয়ার দিক থেকে মূসা আলাইহিস সালাম ছিলেন অনন্য বৈশিষ্ট্যের অধিকারী । তার এই বিশ্বস্ততা ও শক্তি দেখেই এক কন্যা স্বীয় পিতার নিকট তাকে তাদের পরিবারে কর্মচারী নিয়োগ দেওয়ার আবেদন করেছিল। এ সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে সূরা আল কাসাসে এসেছে, ‘‘নারীদ্বয়ের একজন বলল হে পিতা! এ লোককে চাকর নিযুক্ত করুন, নিশ্চয়ই শক্তিমান ও বিশ্বাসী লোকই চাকর হওয়ার উপযুক্ত।’ [আল-কুরআন, সূরা আল-কাসাস: ২৬।]
এছাড়াও নারীদ্বয়ের নিকট তার মার্জিত আচরণ, নৈতিকতা, সহযোগিতার মানসিকতা, চলন-বলন, দৈহিক শক্তি সামর্থ ইত্যাদি গুণাবলী পরিদৃষ্ট হয়েছে।
(গ) সহযোগিতা ও সহমর্মিতা: তিনি ছিলেন অত্যন্ত দয়াশীল ও অপরের হিতাকাংখী। পারস্পরিক সাহায্য-সহযোগিতার মাধ্যমে তিনি খুব আনন্দবোধ করতেন। অসহায়-অবলাদের সাহায্যার্থে তিনি সবসময় এগিয়ে আসতেন। ‘মাদইয়ানে’ [‘মাদইয়ান’ মিসরের পূর্ব দিকে লূত সম্প্রদায়ের আবাসস্থলের নিকটে অবস্থিত। লূত সম্প্রদায় মৃত সাগরের কাছে বাস করত। আর ‘মাদইয়ান’- এর নিকটে দক্ষিন-পূর্ব দিকে অবস্থিত। খ্যাতনামা ভূগোলবিদ ইয়াকুব আল-হামাবী বলেন, আবু যায়িদ এর বর্ণনা মতে, মাদইয়ান নগরী বাহর-ই কুলযুম তথা লোহিত সাগরের তীরে অবস্থিত। (ইয়কুব আল-হামাবী, মু‘জামুল বুলদান, ৫ম খ-, বৈরুত: দারু সাদির ,১৯৫৭) , পৃ. ৭৭-৭৮; ড. সালাহ আল-খালেদী, আল-কাসাসুল কুরআনী, ২য় খ-, প্রাগুক্ত, পৃ. ৩২৪-৩২৫)এটি আকাবা উপসাগরের উত্তরে অবস্থিত। এর পূর্বে ফিলিস্তিন ও উত্তরে হেজাজ। হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম এর এক পুত্র সেখানে বসবাস করতেন। তার নামানুসারেই এ শহরের নাম রাখা হয়েছে মাদইয়ান। আব্দুল ওহাব আন-নাজ্জার, প্রাগুক্ত, পৃ. ১৮২।] অবস্থান কালে তিনি দু‘ নারীকে কুপ হতে পানি উত্তোলনে সহযোগিতা করেছেন।
(ঘ) অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কণ্ঠঃ তিনি ছিলেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপোষহীন। যুলুম-নির্যাতনের বিরুদ্ধে ছিলেন প্রতিবাদী কণ্ঠ। তৎকালীন মিসরে এক কিবতীকে একজন ইসরাঈলীর উপর অন্যায়ভাবে অত্যাচার করতে দেখে তিনি তা প্রতিহত করার চেষ্টা করেছিলেন। [১৯আল-কুরআন, সূরা আল-কাসাস:২৩।]
(ঙ) অনুশোচনা প্রিয়ঃ মূসা আলাইহিস সালাম ছিলেন স্বীয় কৃতকর্মের জন্য অনুশোচনা প্রিয়। তাই কিবতী হত্যাকে তিনি অন্যায় ভেবে মহান আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন। আর আল্লাহ তা‘আলাও তার প্রার্থনা মঞ্জুর করেছিলেন। এ মর্মে পবিত্র কুরআনে এসেছে,
‘‘সে (মূসা আ.) বলল: হে আমার রব! আমি নিজের উপর যুলুম করেছি। আমাকে ক্ষমা করে দাও। তখন আল্লাহ তা‘আলা তাকে ক্ষমা করে দিলেন।’’ [২০আল-কুরআন, সূরা আল-কাসাস:১৪,১৫]
উপরোল্লিখিত যাবতীয় গুনের আধার হিসেবে তিনি আল্লাহ তা‘আলার নিকট অত্যন্ত সম্মানিত ছিলেন। পবিত্র কুরআনে এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন- ‘‘মূসা আলাইহিস সালাম এর আল্লাহর সমীপে বিশেষ সম্মানিত।’’ [২১আল-কুরআন, সূরা আল-আহযাব: ৬৯]