hadith book logo

কুরআনের আলোকে মূসা আলাইহিস সালামের ব্যক্তিত্ব ও দা‘ওয়াহ কার্যক্রম

লেখকঃ মো: আবদুল কাদের • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২১

(ট) মাদ‘ঊ তথা যাদের কাছে দাওয়াত প্রদান করা হবে, তাদের প্রতি সাহায্যের হাত সম্প্রসারণ

মাদ‘ঊ হল যাকে দা‘ওয়াত দান করা হয় অর্থাৎ দা‘ওয়াতের টার্গেটভুক্ত ব্যক্তি ও সম্প্রদায়। মুসলিম-অমুসলিম, নারী-পুরুষ, ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সকল শ্রেণীর মানুষই মাদ‘ঊ হিসেবে গণ্য। [মুহাম্মদ আবুল ফাতাহ আল-বয়নুনী, আল মাদখাল ইলা ইলমিদ দা‘ওয়াহ, বৈরুত: মুয়াসসাতুল রিসালাহ, ১৯৯১ খৃ. পৃ. ৪১-৪২।] যাদেরকে দীনের দিকে আহ্বান করা হয়েছে, তাদের অন্তরকে আকৃষ্ট করার জন্য এবং দীনের দিকে তাদের ধাবিত করতে কঠিন পরিস্থিতি ও বিপদের সময় তাদের সাহায্যার্থে এগিয়ে আসা দা‘ওয়াতের একটি গুরুত্বপূর্ণ পন্থা। মূসা আলাইহিস সালাম ফের‘আউন ও তার সম্প্রদায়কে দীনের পথে আহ্বানের ক্ষেত্রে এ পদ্ধতির অনুসরণ করেছিলেন। তিনি মজলুমের সাহায্য করতেন এবং জালিমের বিপক্ষে অবস্থান নিতেন। নবুওয়ত লাভের পূর্বে এক কিবতীকে তিনি জুলুমের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য ইসরাঈলী মজলুমের পক্ষ অবলম্বন করেন। অত্যন্ত প্রতিকুল ও বিপদের সময়েও তিনি অবলা ও অসহায় দু‘জন কিবতীকে তাদের কর্ম সস্পাদনে সাহায্য করেছিলেন। ফের‘আউন সম্প্রদায়ের নিকট যখন আল্লাহর আযাব আসতে লাগল তখন তারা মূসা আলাইহিস সালাম এর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করে। তাদেরকে প্রথমে দুর্ভিক্ষ ও ফল-ফসলের ক্ষয়-ক্ষতির মাধ্যমে আযাব দেয়া হয়। [আল-কুরআন, সূরা আল-আ‘রাফ: ১৩০।] এভাবে তাদের উপর তুফান, পঙ্গপাল, উকুন, ব্যাঙ ও রক্ত প্রভৃতি বহুবিধ আযাব আসছিল [আল-কুরআন, সূরা আল-আ‘রাফ : ১৩৩।] এবং পরবর্তীতে মূসা আলাইহিস সালাম এর দো‘আয় তা রহিত করা হয়। তদুপরি তারা ঈমানের ছায়াতলে আসে নি।

মূসা আলাইহিস সালাম-এর সাথে এ মর্মে তারা প্রতিশ্রুতি দিত যে, আল্লাহ যদি আমাদের উপর থেকে আযাব সরিয়ে নেন, তাহলে আমরা ঈমান আনব এং বনী ইসরাঈলদের মুক্তি দেব। কিন্তু বিপদ মুক্ত হলে তারা আবার পূর্বাবস্থায় ফিরে যেত এবং ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করত। এভাবে বহুবার মূসা আলাইহিস সালাম তাদের শান্তি লাঘবের প্রার্থনা করেন। পবিত্র কুরআনে এসেছেঃ ‘‘আর তাদের উপর যখন কোন আযাব পতিত হয় তখন তারা বলে, হে মূসা! তোমার রবের কাছে সে বিষয়ে দো‘আ কর যা তিনি তোমার সাথে ওয়াদা করেছেন। যদি তুমি আমাদের উপর থেকে এ আযাব সরিয়ে দাও তবে অবশ্যই আমরা তোমার উপর ঈমান আনব এবং বনী ইসরাঈলদেরকে ছেড়ে দেব। অতঃপর যখন আমি তাদের উপর থেকে আযাব তুলে নিতাম, নির্ধারিত একটি সময় পর্যন্ত যেখান পর্যন্ত তাদেরকে পৌঁছানো উদ্দেশ্য ছিল, তখন তড়িঘড়ি তারা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করত।’’ [আল-কুরআন, সূরা আল-আ‘রাফ: ১৩৪-১৩৫।]

আয়াতে বুঝা যায় যে তাদের উপর প্লেগ রোগের মহামারী চাপিয়ে দেয়া হয়, যাতে তাদের সত্তর হাজার লোকের মৃত্যু ঘটেছিল। মূসা আলাইহিস সালাম এর দো‘আয় প্লেগের আযাবও তাদের উপর থেকে সরে যায়। কিন্তু তারা যথারীতি ওয়াদা ভঙ্গ করে। [মওলানা মুফতী মুহাম্মদ শফী, প্রাগুক্ত, পৃ. ৪৭৮।]