hadith book logo

কুরআনের আলোকে মূসা আলাইহিস সালামের ব্যক্তিত্ব ও দা‘ওয়াহ কার্যক্রম

লেখকঃ মো: আবদুল কাদের • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩

১. মূসা আলাইহিস সালাম এর সংক্ষিপ্ত পরিচয়ঃ

মূসা আলাইহিস সালাম ‘‘ أولوا العزم ’’ [যে সকল রাসূল অত্যন্ত দৃঢ়চিত্ত ও উচ্চ মর্যাদশীল এবং যাদের কাছ থেকে মহান আল্লাহ্‌ প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করেছেন তাদেরকে “ أولوا العزم ’’ বলা হয়। আল কুরআন, সূরা আহযাব: ৭।] এর অন্তর্গত একজন মহাসম্মানিত রাসূল ছিলেন। তিনি ইংরেজী বাইবেলে ‘মোশাস’ ও হিব্রু বাইবেলে ‘‘মোশী’ নামে উল্লেখিত। [সংক্ষিপ্ত ইসলামী বিশ্বকোষ, ২য় খ-, (ঢাকা: ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, তা.বি) পৃ.২৩৪।] কিবতী ভাষায় ‘মূ’ অর্থ পানি আর ‘শা’ অর্থ গাছ। তিনি যে বাক্সে ছিলেন তা গাছ থেকে তৈরী ও তা পানিতে পাওয়া গিয়েছিল বলে তার উক্ত নামকরণ করা হয়েছে। [ইবনে জারির, তারীখুল উমাম ওয়াল মুলূক, ১ম খ-, (মিসর: দারুল মা‘আরিফ, ১৯৬০), পৃ.৩৯০।] অপর এক বর্ণনায় এসেছে, মূসা হিব্রু শব্দের ‘মূশা’ হতে উদ্ভুত, যার অর্থ ‘নাজাতদানকারী। তিনি যেহেতু বনী ইসরাঈলকে চারশত বছরের গোলামী হতে নাজাত দান করেছেন সেজন্যে তার উক্ত নামকরণ করা হয়েছে। [মুহাম্মদ জামীল আহমদ, আম্বিয়া-ই কুরআন, ২য় খ-, (লাহোর: শায়খ গুলাম আলী এ- সন্স, তা.বি.), পৃ. ৪৬৪।] ইঞ্জিলে ‘মূসা’ শব্দটি এভাবে এসেছে, যার অর্থ পানি হতে সংগৃহীত। যেহেতু ফের‘আউন কন্যা অথবা তার স্ত্রী তাকে নীল নদ হতে সংগ্রহ করেছিল, সেজন্যে উক্ত নামে নামকরণ করা হয়েছে। তার উপাধি হল ‘কালিমুল্লাহ’ তিনি সরাসরি আল্লাহর সাথে কথা বলেছিলেন। এ মর্মে পবিত্র কুরআনে এসেছে “আর আল্লাহ তা‘আলা মূসা আলাইহিস সালাম এর সাথে সরাসরিই কথা বলেছেন।’’ [আল-কুরআন, সূরা আন নিসা : ১৬৪।] এ ছাড়াও হাদীসে আদম আলাইহিস সালাম তাঁর এ উপাধির স্বীকৃতি দিয়েছেন। [ইমাম বুখারী, আল-জা’মি আস-সহীহ, ২য় খ-, কিতানু আহাদিসিল-আম্বিয়া দেওবন্দ: কুতুব খানায়ে রাহীমিয়া তা. বি.), পৃ. ৪৬৪।]

মূসা আলাইহিস সালাম ইবরাহীম এর অষ্টম মতান্তরে সপ্তম পুরুষে জন্ম গ্রহণ করেন। তার বংশ তালিকা নিন্মরূপঃ ‘‘মূসা ইবন ইমরান ইবন কাহাছ ইবন আযির ইবন লাবী ইবন ইয়াকুব ইবন ইসহাক ইবন ইবরাহীম।’’ [ইবনে কাছির কাছাসুল আম্বিয়া, আম্মান: মাকতাবাতুর রিসালাহ, তা.বি, প্র. ২২৩; ইবনুল আছির, আল-কামিল ফি আত-তারিখ, ১ম খ-, ( বৈরুত: দারুল কিতাব আল-ইলমিয়্যা, ১ম সংস্করণ, ১৯৮৭), পৃ. ১৩০।]

মূসা আলাইহিস সালাম এর পিতার নাম ইমরান। কুরআনুল কারীমে তার জন্ম প্রসঙ্গে তার মাতা ও ভগ্নীর উল্লেখ আছে কিন্তু তার পিতা সম্পর্কে কোন বর্ণনা নেই। এ জন্য অনেকের ধারণা যে, মূসা আলাইহিস সালাম এর জন্মের সময় তিনি জীবিত ছিলেন না। [.মুহাম্মদ জামীল আহমদ, প্রাগুক্ত, পৃ.৯৬৭।] তার মায়ের নাম সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে। সুহাইলীর বর্ণনা মতে, তার নাম ‘আয়ারেখা’ মতান্তরে ‘আয়াযাখত’ [ইবন কাছীর, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ১ম খ-, কায়রো: দারুদ দিয়ান লিত্তুরাছিল ইরলামী ১৯৯৭, প্রাগুক্ত, পৃ. ২২৪।] হিফজুর রহমান সিউহারবীর মতে, ইউকাবাদ। [হিফজুর রহমান সিউহারবী, কাছাছুল কোরআন, ২য় খ-, (উর্দু), অনুবাদ মাওঃ নুরুর রহমান, (ঢাকা: এমদাদীয়া লাইব্রেরী, ১৯৯৭), পৃ. ১৪] তিনি ছিলেন মূসা আলাইহিস সালাম এর পিতা ইমরান এর ফুফু অর্থাৎ লাবীর কন্যা। [আব্দুল ওহাব আন-নাজ্জার, কাসাসুল আম্বিয়া, বৈরুত। দারুল ফিকর, তা. বি.), পৃ. ১৫৬।] মূসা আলাইহিস সালাম মাতা ছিলেন একজন সম্মানিতা মহিলা এবং আল্লাহর প্রিয় পাত্রী। তার গর্ভে দু‘জন খ্যাতিমান নবীর আবির্ভাবের মাধ্যমে আল্লাহ তাকে গৌরবাম্বিত করেছেন। এ ছাড়াও আল্লাহ তার নিকট প্রত্যাদেশ প্রেরণ করে তাকে সম্মানিত ও মর্যাদাবতী করেছেন। এ সম্পর্কে কুরআনে এসেছেঃ ‘‘আমি মূসার মাকে ইশারা করলাম একে স্তনদান কর, তারপর যখন তার প্রাণের ভয় করবে তখন দরিয়ায় ভাসিয়ে দেবে এবং কোন ভয় ও দুঃখ করবে না। তাকে তোমারই কাছে ফিরিয়ে আনবো এবং তাকে রাসূলদের অন্তর্ভুক্ত করবো।’’ [আল-কুরআন, সূরা আল-কাসাস: ৭।]