hadith book logo

কুরআনের আলোকে মূসা আলাইহিস সালামের ব্যক্তিত্ব ও দা‘ওয়াহ কার্যক্রম

লেখকঃ মো: আবদুল কাদের • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২০

(ঞ) প্রাঞ্জলময় বক্তৃতা প্রদান

দা‘ওয়াতের ক্ষেত্রে বক্তৃতার গুরুত্ব অপরিসীম। বক্তৃতা একটি শিল্প, যার মাধ্যমে যে কোন বিষয়কে সহজভাবে উপস্থাপন করা যায় এবং এর মাধ্যমে শ্রোতামণ্ডলি প্রভাবিত হয়। সুবক্তাগণ অনেক সময় কঠিন ও দূর্বোধ্য বিষয়কেও সহজ ও প্রাঞ্জলময় করে পেশ করতে সক্ষম হয়। ইসলামী দা‘ওয়াহ’র একটি শৈল্পিক ও সাহিত্যিক ভাবধারা রয়েছে যা, বক্তৃতার মাধ্যামে বাস্তবে রূপ দেয়া সম্ভব হয়। মূসা আলাইহিস সালাম ফের‘আউনের সামনে সর্বপ্রথম আল্লাহর আদেশ অনুযায়ী অত্যন্ত কোমল ও মধুরবাণী সহকারে বিনয়ের সাথে তার বক্তৃতাকে বেছে নিয়েছিলেন। তিনি বাকপটু ছিলেন না এবং অনর্গল ও দ্রুত কথা বলতে পারতেন না। তাই তিনি আল্লাহর দরবারে মুখের জড়তা খুলে দেয়ার প্রার্থনা করেন। [আল-কুরআন, সূরা ত্বা-হা: ২৭-২৮।] মহান আল্লাহ তার মুখের জড়তা ততটুকু পরিমাণ দূর করে দিয়েছিলেন, যার মাধ্যমে শ্রোতারা তার বক্তব্য বুঝতে সক্ষম হয়। তিনি বেশী কথা বলতে পারতেন না, এজন্যে স্বীয় ভাই হারূনকে সাহায্যকারী নিযুক্ত করতে প্রার্থনা করেছিলেন। হারূন আলাইহিস সালাম ছিলেন সুমধুর বক্তা, সুন্দর ভাবে তিনি দীর্ঘ বক্তব্য পেশ করতে পারতেন, যা মূসার দ্বারা সম্ভব হত না। [ইবন কাছীর, তাফসীরুল কুরআনিল আযীম, ৩য় খ-, প্রাগুক্ত,পৃ. ১৫৪। পবিত্র কুরআনে এ মর্মে এসছে ‘‘আর আমার ভাই হারুন আমার চেয়ে বেশী মার্জিত ভাষী। তাকে আমার সাহায্যকারী হিসাবে পাঠান, তাতে সে আমাকে সমর্থন দেয়। আমার ভয় হচ্ছে তারা আমার প্রতি মিথ্যারোপ করবে।’’ আল-কুরআন, সূরা আল-কাসাস: ৩৪।] ফের‘আউন ও মূসা আলাইহিস সালাম এর কথোপকথনে হারূন আলাইহিস সালাম উভয়ের মধ্যে দোভাষীরূপে থাকতেন। আর মূসা আলাইহিস সালাম এর প্রমাণগুলোকে নিতান্ত মার্জিত ভাষায় বর্ণনা করতেন। [হিফজুর রহমান সিউহারবী, প্রাগুক্ত, ২য় খ-, পৃ. ৬৩।] বক্তৃতার প্রভার জাদুর ন্যায়। জাদু যেমনি মুহুর্তের মধ্যে জনগণের চক্ষুকে প্রতারিত করে অন্য দিকে ধাবিত করতে সক্ষম হয়, ঠিক তেমনি বক্তৃতার মাধ্যমেও শ্রোতাদের মনকে জয়ী করা সম্ভব । কখনও কখনও বক্তৃতার প্রভাব জাদুর চেয়েও বেশী হয়ে থাকে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘নিশ্চয় কোন কোন বক্তৃতা জাদুর মত প্রভাব ফেলে।’’ [ইমাম বুখারী, প্রগুক্ত, কিতাবুত তিবব, হাদীস নং ৫৩২৫।]