hadith book logo

কুরআনের আলোকে মূসা আলাইহিস সালামের ব্যক্তিত্ব ও দা‘ওয়াহ কার্যক্রম

লেখকঃ মো: আবদুল কাদের • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২

ভূমিকা

মানুষ আশরাফুল মাখলুকাত বা সৃষ্টির সেরা জীব। পৃথিবীতে মানুষকে সরল সঠিক দিক নির্দেশনা দেওয়ার জন্য যুগে যুগে আল্লাহ তা‘আলা অসংখ্য নবী-রাসূল প্রেরণ করেছেন। পৃথিবীতে এমন কোন জনপদ ও জনগোষ্ঠী নেই যাদের কাছে আল্লাহ্‌ নবী-রাসূল পাঠাননি। এ প্রসংগে মহান আল্লাহ বলেন: আমি প্রত্যেক উম্মতের মধ্যে রাসূল প্রেরণ করেছি, যেন তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর এবং তাগুত থেকে বেঁচে থাক। [আল-কুরআন, সূরা আন নাহল: ৩৬।] পৃথিবীর সমুদয় বস্তুর প্রকৃত ও সাম্যক জ্ঞান লাভে মানুষ অপারগ। কেননা, মহান আল্লাহ অত্যন্ত স্বল্প ও সীমাবদ্ধ জ্ঞান দিয়েই তাদের পাঠিয়েছেন। এ সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা বলেন: ‘‘আর তোমাদেরকে সামান্য জ্ঞানই দান করা হয়েছে’’। [আল-কুরআন, সূরা বনী ইসরাঈল: ৮৬।]

অতএব, স্বল্প জ্ঞানের মানুষেরা জানে না কিসের উপর তাদের কল্যাণ-অকল্যাণ নির্ভর করে। সৃষ্টি জীবের মধ্যে মানুষের জন্য কোনটি উপকারী এবং কোনটি অপকারী নবী-রাসূলগণ এ সকল তথ্য ও গূঢ় রহস্য সম্পর্কে মানুষকে শিক্ষা দিয়ে থাকেন এবং যাবতীয় উপকারী-অপকারী ও মঙ্গল-অমঙ্গলের পথ নির্দেশ করেন। যুগে যুগে এ সকল পথ নির্দেশক শ্রেষ্ঠ মানবগণ মানুষকে স্বীয় স্রষ্টার প্রতি ঈমান আনয়ন ও তার ঐকান্তিক দাসত্ব করার প্রতি উদ্বুদ্ধ করেন। ফলে মহান আল্লাহ তা‘আলা সকল নবী-রাসূলকে দু’টি বিষয় সম্পাদনের জোরালো নির্দেশ প্রদান করেছেন এবং উম্মতগণকে সে বিষয়ের প্রতি দা‘ওয়াত দেয়ার জন্য বিশেষভাবে তাকিদ দিয়েছেন। মহান আল্লাহ্‌ বলেন,‘‘আপনার পূর্বে আমি যে রাসূল-ই প্রেরণ করেছি তাকে এ আদেশই প্রেরণ করেছি যে, আমি ব্যতীত অন্য কোন উপাস্য নেই, সুতরাং আমারই ইবাদত কর।’’ [আল-কুরআন, সূরা আম্বিয়া : ২৫।]

উক্ত আদেশপ্রাপ্ত নবী-রাসূলগণের মাঝে পাঁচজনকে মহান ও শ্রেষ্ঠ, হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। তারা হলেন:

নূহ আলাইহিস সালাম

ইবরাহীম আলাইহিস সালাম

মূসা আলাইহিস সালাম

ঈসা আলাইহিস সালাম

মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম

আলোচ্য প্রবন্ধে মূসা আলাইহিস সালাম এর ব্যক্তিত্ব ও দা‘ওয়াহ কার্যক্রম অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত আকারে বিবৃত হলো।