hadith book logo

কুরআনের আলোকে মূসা আলাইহিস সালামের ব্যক্তিত্ব ও দা‘ওয়াহ কার্যক্রম

লেখকঃ মো: আবদুল কাদের • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২৩

(ড) যুগশ্রেষ্ঠ চ্যালেঞ্জিং শক্তির ব্যবহার

মূসা আলাইহিস সালাম এর আবির্ভাবের সময় মিসর তৎকালীন সভ্যতার ইতিহাসে শিক্ষা দীক্ষায় বিশ্বে প্রসিদ্ধি লাভ করেছিল। মিসরে শিক্ষা দীক্ষায় সকল বিদ্যার চর্চা হত। যাবতীয় বিদ্যা ও শিক্ষণীয় বিষয়সমূহের মধ্যে জাদু একটি স্বতন্ত্র বিদ্যার মর্যাদা ছিল। জাদুকরদের মর্যাদা মিসরীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ও উচ্চ বলে বিবেচিত হত। এমনকি রাজদরবারেও তাদের যথেষ্ট প্রভাব ছিল। [হিফজুর রহমান সিউহারবী, প্রাগুক্ত, ২য় খন্ড, পৃ. ৬৪.] তাদের মতামত অনুসারেই যুদ্ধ, সন্ধি, কারও জন্ম-মৃত্যু প্রভৃতি বিষয়ে আমল করা হত। ধর্মীয় বিষয়েও তাদের মতামত গৃহীত হত। সাধারণ মানুষের দৃষ্টিতে জাদু ছিল অলৌকিক বিষয়। ফলে সে সময়ে মিসর জাদু বিদ্যায় উন্নতির উচ্চ শিখরে আরোহন করেছিল। আর এ জন্যই আল্লাহ তা‘আলা মূসা (আ) কে ফের‘আউনের কাছে এমন মু‘জিযা প্রদান করে পাঠিয়েছিলেন, যা তৎকালীন যুগশ্রেষ্ঠ জাদুবিদ্যাকে পরাস্ত ও পরাভূত করে আল্লাহর ঐশী ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব প্রমাণে সক্ষম হয়। আল্লাহ তা‘আলার নিয়ম হল, যে সম্প্রদায়ের মধ্যে যে বিষয়ের অধিক প্রভাব থাকে ও যে বিষয়টি তাদের গর্বের কারণ হয়, সে গোত্রের কাছে প্রেরিত নবী-রাসূলগণকে এমন মু‘জিযাই প্রদান করেন, যা তাদের গর্ব ও অহংবোধকে ধুলায় মিশিয়ে বিজয় লাভে সক্ষম হয়। ঈসা আলাইহিস সালামকে যে সম্প্রদায়ের কাছে পাঠানো হয়েছিল, সে সম্প্রদায়ের লোকেরা চিকিৎসা বিদ্যায় পারদর্শীছিল। তৎকালীন সময়ে দুনিয়াতে তারা ছিল অতুলনীয়। আল্লাহ তা‘আলা ঈসা আলাইহিস সালাম এমন মু‘জিযা দিয়ে প্রেরণ করলেন, যার সম্মুখে তাদের চিকিৎসা ক্ষেত্রের সর্বাধিক উন্নতিও মলিন হয়ে যায়। কেননা, তারা কোন জন্মন্ধ ব্যক্তিকে আরোগ্য করার ঔষধ আবিস্কার করতে পারে নি। এমনকি কুষ্ঠরোগেরও কোন ঔষধ আবিষ্কার হয়নি, অথচ ঈসা আলাইহিস সালাম আবির্ভূত হয়ে আল্লাহর ইচ্ছায় জন্মান্ধকে দৃষ্টিদান, কুষ্ঠব্যধিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদেরকে কুষ্ঠরোগ নিরাময় করে দিতে লাগলেন, যা তাদের জাতীয় শিক্ষা ক্ষেত্রের উন্নতির গর্বকে ম্লান করে দেয়। এ মর্মে কুরআনে এসেছে,

‘‘আর আল্লাহর হুকুমে সুস্থ করে তুলি জন্মান্ধকে এবং শ্বেত কুষ্ঠরোগীকে। আর জীবিত করে দেই মৃত্যুকে।’’ [আল-কুরআন, সূরা ইমরান : ৪৯।]

অনুরূপভাবে আল্লাহ তা‘আলা মূসা আলাইহিস সালামকে এমন মু‘জিযা প্রদান করলেন যে, তার হাতের লাঠি সর্পে পরিণত হয়ে যেত। তার হাত হতে শুভ্র আলোর বিকিরণ হত, যা দেখতে জাদুর ন্যায় মনে হলেও জাদু বিদ্যার চুড়ান্ত পর্যায়ের বিধি-বিধান বহির্ভূত ছিল।