১
রাসূল যেভাবে রমজান যাপন করেছেন
লেখকঃ ফায়সাল বিন আলী আল বা’দানী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৩২
রাসূল সম্পর্কে তার সহধর্মিণীদের অবগতি
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রী-গণ হতে বর্ণিত বিভিন্ন হাদিস ও উক্তি থেকে প্রমাণ হয়, তার জীবন-যাপন, আচার-পদ্ধতি ও অভ্যাস বিষয়ে তারা ছিলেন পূর্ণ অবগত-সজাগ। আয়েশা রা. হতে বর্ণিত—
... كان نبي الله صلي الله عليه و سلم إذا صلى صلاة أحب أن يداوم عليها، وكان إذا غلبه نوم أو وجع عن قيام الليل صلى من النهار ثنتي عشرة ركعة، ولا أعلم نبي الله صلي الله عليه و سلم قرأ القرآن كله في ليلة، ولا صلى ليلة إلى الصبح، ولا صام شهراً كاملاً غير رمضان .
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোন সালাত আদায় করতেন, পছন্দ করতেন তাতেই অতিবাহিত করতে, যখন নিদ্রা প্রবল হত, রাত-জাগরণের ফলে ক্লান্ত হয়ে পড়তেন, তখন দিবসে বার রাকাত সালাত আদায় করে নিতেন। আমি রাসূলকে রমজান ব্যতীত এক রাতে [রাসূল জীবিতাবস্থায় পূর্ণ কোরআন সহ রমজান যাপনের সুযোগ তিনি পাননি। তিনি প্রতি বছর রমজান অবধি যা নাজিল হত, তা এবং ইতিপূর্বে যা নাজিল হয়েছে—সবই রমজানের রাতে তেলাওয়াত করতেন।] পূর্ণ কোরআন তেলাওয়াত করতে, কিংবা পূর্ণ রাত্রি সালাতে কাটিয়ে দিতে অথবা পূর্ণ মাস রোজায় অতিবাহিত করতে দেখিনি। [মুসলি : ৭৪৬।]
তাকে রাসূলের সালাতের ধরন সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন : রমজান কিংবা অন্য সময়ে তিনি (রাতে) এগারো রাকাতের অধিক সালাত আদায় করতেন না। তিনি (প্রথমে) চার রাকাত আদায় করতেন, তা হত খুবই অতুলনীয় ও দীর্ঘ। অত:পর আদায় করতেন চার রাকাত, সেটিও হত অতুলনীয় ও দীর্ঘ। অত:পর তিন রাকাত আদায় করতেন। আমি (একবার) বললাম, হে আল্লাহর রাসূল ! আপনি বিতিরের পূর্বে নিদ্রা যাবেন ? তিনি এরশাদ করলেন : হে আয়েশা ! আমার দু-চোখ নিদ্রা যায়, কিন্তু অন্তর থাকে বিনিদ্র। [বোখারি : ২০১৩।]
আয়েশা রা. রাসূলের রমজানের কয়েকটি রাতের সালাত সম্পর্কে বলেন :— ...রাসূল নিরলস রাত্রি যাপন করলেন, লোকেরা যার যার অবস্থানে স্থির থাকল, এমনকি ফজর ঘনিয়ে এল। [আহমদ : ২৬৩০, হাদিসটি সহি লিগায়রিহ।]
রাসূলের সাথে তার পুণ্যবতী স্ত্রী-গণের সময় যাপন, জ্ঞানার্জন অত:পর উম্মতকে সে বিষয়ে অবগত করা ছিল রমজান সম্পর্কে রাসূলের হেদায়েত সম্পর্কের জানার অন্যতম মাধ্যম ও উৎস। আয়েশা রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন :—
كان النبي صلي الله عليه و سلم إذا دخل العشر شدَّ مئزره وأحيا ليله وأيقظ أهله .
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন শেষ দশ দিবসে প্রবেশ করতেন, পূর্ণভাবে প্রস্ত্ততি গ্রহণ করতেন, রাত জাগতেন এবং জাগিয়ে তুলতেন পরিবার-পরিজনকে। [বোখারি : ২০২৪।]
আয়েশা ও উম্মে সালামা রা. হতে বর্ণিত—
إن كان رسول الله صلي الله عليه و سلم لَيصبح جُنباً من جماع غير احتلام في رمضان ثم يصوم .
স্বপ্নদোষে নয়, সহবাস জনিত কারণে রাসূল রমজান দিবসের সূচনা করতেন, অত:পর রোজা পালন করতেন। [মুসলিম : ১১০৯।]
আয়েশা রা. হতে আবু সালামা বিন আব্দুর রহমান বর্ণনা করেন : রাসূল রোজা অবস্থায় কোন কোন স্ত্রীকে চুম্বন করতেন। আমি আয়েশাকে বললাম, ফরজ ও নফল রোজায় ? তিনি বললেন : ফরজ ও নফল—সকল ক্ষেত্রেই। [ইবনে হিববান : ৩৫৪৫, হাদিসটি সহি।]
আত্মিক ও অনুভবীয় প্রাপ্তি ছাড়াও এ হাদিসগুলো জুড়ে আছে নানা কল্যাণ ; পরিবারের জন্য তাতে রয়েছে শিক্ষা ও তরবিয়ত, এবং রাসূলের অনুবর্তন-অনুসরণের জন্য উৎসাহ ও প্রেরণা।
পরিবার-পরিজনকে দূরে রেখে, সমাজ থেকে বিলগ্ন হয়ে যারা যাপন করছে দাওয়াতি ও ইলমি জীবন, এ হাদিসগুলোর আলোকে তাদের পরিণতি সহজেই অনুমেয়। আল্লাহর কাছে আমরা কায়মনোবাক্যে সঠিক পথের দিশা প্রার্থনা করি।
... كان نبي الله صلي الله عليه و سلم إذا صلى صلاة أحب أن يداوم عليها، وكان إذا غلبه نوم أو وجع عن قيام الليل صلى من النهار ثنتي عشرة ركعة، ولا أعلم نبي الله صلي الله عليه و سلم قرأ القرآن كله في ليلة، ولا صلى ليلة إلى الصبح، ولا صام شهراً كاملاً غير رمضان .
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোন সালাত আদায় করতেন, পছন্দ করতেন তাতেই অতিবাহিত করতে, যখন নিদ্রা প্রবল হত, রাত-জাগরণের ফলে ক্লান্ত হয়ে পড়তেন, তখন দিবসে বার রাকাত সালাত আদায় করে নিতেন। আমি রাসূলকে রমজান ব্যতীত এক রাতে [রাসূল জীবিতাবস্থায় পূর্ণ কোরআন সহ রমজান যাপনের সুযোগ তিনি পাননি। তিনি প্রতি বছর রমজান অবধি যা নাজিল হত, তা এবং ইতিপূর্বে যা নাজিল হয়েছে—সবই রমজানের রাতে তেলাওয়াত করতেন।] পূর্ণ কোরআন তেলাওয়াত করতে, কিংবা পূর্ণ রাত্রি সালাতে কাটিয়ে দিতে অথবা পূর্ণ মাস রোজায় অতিবাহিত করতে দেখিনি। [মুসলি : ৭৪৬।]
তাকে রাসূলের সালাতের ধরন সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন : রমজান কিংবা অন্য সময়ে তিনি (রাতে) এগারো রাকাতের অধিক সালাত আদায় করতেন না। তিনি (প্রথমে) চার রাকাত আদায় করতেন, তা হত খুবই অতুলনীয় ও দীর্ঘ। অত:পর আদায় করতেন চার রাকাত, সেটিও হত অতুলনীয় ও দীর্ঘ। অত:পর তিন রাকাত আদায় করতেন। আমি (একবার) বললাম, হে আল্লাহর রাসূল ! আপনি বিতিরের পূর্বে নিদ্রা যাবেন ? তিনি এরশাদ করলেন : হে আয়েশা ! আমার দু-চোখ নিদ্রা যায়, কিন্তু অন্তর থাকে বিনিদ্র। [বোখারি : ২০১৩।]
আয়েশা রা. রাসূলের রমজানের কয়েকটি রাতের সালাত সম্পর্কে বলেন :— ...রাসূল নিরলস রাত্রি যাপন করলেন, লোকেরা যার যার অবস্থানে স্থির থাকল, এমনকি ফজর ঘনিয়ে এল। [আহমদ : ২৬৩০, হাদিসটি সহি লিগায়রিহ।]
রাসূলের সাথে তার পুণ্যবতী স্ত্রী-গণের সময় যাপন, জ্ঞানার্জন অত:পর উম্মতকে সে বিষয়ে অবগত করা ছিল রমজান সম্পর্কে রাসূলের হেদায়েত সম্পর্কের জানার অন্যতম মাধ্যম ও উৎস। আয়েশা রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন :—
كان النبي صلي الله عليه و سلم إذا دخل العشر شدَّ مئزره وأحيا ليله وأيقظ أهله .
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন শেষ দশ দিবসে প্রবেশ করতেন, পূর্ণভাবে প্রস্ত্ততি গ্রহণ করতেন, রাত জাগতেন এবং জাগিয়ে তুলতেন পরিবার-পরিজনকে। [বোখারি : ২০২৪।]
আয়েশা ও উম্মে সালামা রা. হতে বর্ণিত—
إن كان رسول الله صلي الله عليه و سلم لَيصبح جُنباً من جماع غير احتلام في رمضان ثم يصوم .
স্বপ্নদোষে নয়, সহবাস জনিত কারণে রাসূল রমজান দিবসের সূচনা করতেন, অত:পর রোজা পালন করতেন। [মুসলিম : ১১০৯।]
আয়েশা রা. হতে আবু সালামা বিন আব্দুর রহমান বর্ণনা করেন : রাসূল রোজা অবস্থায় কোন কোন স্ত্রীকে চুম্বন করতেন। আমি আয়েশাকে বললাম, ফরজ ও নফল রোজায় ? তিনি বললেন : ফরজ ও নফল—সকল ক্ষেত্রেই। [ইবনে হিববান : ৩৫৪৫, হাদিসটি সহি।]
আত্মিক ও অনুভবীয় প্রাপ্তি ছাড়াও এ হাদিসগুলো জুড়ে আছে নানা কল্যাণ ; পরিবারের জন্য তাতে রয়েছে শিক্ষা ও তরবিয়ত, এবং রাসূলের অনুবর্তন-অনুসরণের জন্য উৎসাহ ও প্রেরণা।
পরিবার-পরিজনকে দূরে রেখে, সমাজ থেকে বিলগ্ন হয়ে যারা যাপন করছে দাওয়াতি ও ইলমি জীবন, এ হাদিসগুলোর আলোকে তাদের পরিণতি সহজেই অনুমেয়। আল্লাহর কাছে আমরা কায়মনোবাক্যে সঠিক পথের দিশা প্রার্থনা করি।