১
রাসূল যেভাবে রমজান যাপন করেছেন
লেখকঃ ফায়সাল বিন আলী আল বা’দানী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৪৬
সালাত শেষে রাসূলের আলোচনা ও খুতবা প্রদান
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজানে কোন কোন সালাত শেষে খুতবা প্রদান করতেন, আলোচনা করতেন বিভিন্ন বিষয়ে। আয়েশা রা. হতে বর্ণিত হাদিসে এসেছে—
فطفق رجال منهم يقولون : الصلاة ! فلم يخرج إليهم رسول الله صلي الله عليه وسلم حتى خرج لصلاة الفجر، فلما قضى الفجر أقبل على الناس ثم تشهد فقال : أما بعد : فإنه لم يخفَ علي شأنكم، ولكني خشيت أن تفرض عليكم صلاة الليل فتعجزوا عنها .
তাদের অনেকে বলছিল : ‘সালাত’ ! কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সালাতের পূর্বে বেরুলেন না। ফজরের সালাত শেষে তিনি মানুষের মুখোমুখি হলেন, তাশাহহুদ পাঠ শেষে তিনি এরশাদ করলেন : তোমাদের ব্যাপারটি আমার অবিদিত নয়। কিন্তু, আশঙ্কা হয়েছিল যে, তোমাদের জন্য (এ সালাত) ফরজ করে দেয়া হবে এবং তোমরা তা (পালনে) অক্ষম হয়ে পড়বে। [বোখারি : ১১২৯, মুসলিম : ৭৬১।]
আবু সাইদ খুদরি রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন : আমরা রাসূলের সাথে রমজানের দশ দিন এতেকাফে যাপন করলাম। বিশ তারিখ ভোরে তিনি আমাদের উদ্দেশ্যে খুতবায় বললেন, আমাকে লাইলাতুল কদর প্রদর্শন করা হয়েছিল, কিন্তু আমি তা বিস্মৃত হয়েছি। [বোখারি : ২০১৬।]
ভিন্ন রেওয়ায়েতে আছে—
তিনি তাদের উদ্দেশ্যে খুতবা প্রদান করলেন, নির্দেশ দিলেন তাদের আল্লাহর ইচ্ছা সম্বন্ধে। [নাসায়ি : ১৩৫৬, হাদিসটি সহি।]
খতিব ও ইমামদের মাঝে যাদের রয়েছে এ বিষয়ে সুপ্ত প্রতিভা, তাদের দায়িত্ব হল এর প্রতি পূর্ণ লক্ষ্য রাখা, এর সফল রূপায়ণে সর্বস্ব নিয়োগ করা। আমরা এমন এক সময় যাপন করছি, যখন মসজিদ ও মসজিদ ভিত্তিক প্রভাব অনেকাংশেই খর্ব হয়ে গিয়েছে, ইমাম ও খতিবদের প্রভাব-পরিধি ক্রমান্বয়ে ক্ষীণ হয়ে চলেছে। সামাজিক এ দিকটির প্রতি যদি দায়ি ও ইমামদের অনীহা একটি স্থায়ী সমস্যায় রূপ নেয়, তবে এক সময় আমরা এক ভয়াবহ কেন্দ্রিকতার মুখোমুখি হব, আমরা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ব সমাজ ও সামাজিক অনুষঙ্গ থেকে, সৃষ্টি হবে পরিচয়গত সংকট। প্রবল সতর্কতা ও দ্বীনের কাজে পরিপূর্ণ আত্মনিয়োগই কেবল এ সংকট উত্তরণের পথ তৈরি করতে পারে।
একদিকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সিরাত ও অপরদিকে বর্তমান পরিস্থিতি যার একান্ত নখদর্পণে, যে পাঠ করেছে সমাজ ও নৈতিকতার এ বিষয়গুলো, তিনি নি:সন্দেহে অনুভব করতে সক্ষম হবেন যে, সমাজ ও সামাজিকতার অধিকাংশ স্তরে মসজিদ ভিত্তিক এ ক্ষমতা ও কেন্দ্রিকতা লুপ্ত হয়ে গিয়েছে, ভেঙে পড়েছে এ ব্যবস্থা। মসজিদ ভিত্তিক ধর্মীয় আন্দোলন ও চারিত্রিক অবগঠন ইসলামের অধিকাংশ এলাকাতেই আজ ভঙ্গুর-হীনদশায় আক্রান্ত। এর স্থলে আপন অবস্থান মজবুত করছে অন্যান্য অপসংস্কৃতির কর্তৃত্ব, বিভ্রান্তিকর মতবাদ, পুরোনো যাবতীয় চারিত্রিক অবকাঠামো পুরোপুরি ধ্বসে গিয়ে জন্ম নিচ্ছে নতুন চেতনা, নতুন জীবনাচার পদ্ধতি।
ইসলাহ ও সংস্কারের কার্যকারিতা ও ফললাভের জন্য প্রয়োজন দীর্ঘ সময়, ধৈর্য, ও বিপুল পরিশ্রম। বিদ্যমান সামাজিক ব্যবস্থার অবনমনে ব্যয় হয়েছে যতটা সময়, কৌশল ও শ্রম, সন্দেহ নেই, এর তুলনাতেও তার পরিধি ও ব্যাপ্তি হবে আরো ব্যাপক ও সামগ্রিক। সাফল্য, মুক্তি ও মৌলিক নীতিমালার যা এখনও ক্ষীণ হয়ে টিকে আছে, তার সংরক্ষণ, প্রথমে, খুবই জরুরি। অবনতির এ দীর্ঘকালে যা আমাদের হাত ছাড়া হয়ে গেছে, তাকে পুনরায় প্রতিস্থাপন করবার লক্ষ্যে গড়ে তুলতে হবে সর্বব্যাপী এক সামাজিক বিপ্লব।
ইসলামের ভবিষ্যৎ খুবই উজ্জ্বল, উদ্ভাসিত, যার বিচ্ছুরণ আলোকিত করবে প্রতিটি কোণ। আগামী হবে, আল্লাহ চাহে তো, ইসলাম ও মুসলমানদের। আমরা জানি রমজান এক মহান সুযোগ বয়ে আনে আমাদের জন্য, বিদ্যমান ব্যবস্থাকে পালটানোর এক মোক্ষম উপায় হচ্ছে রমজানকে পূর্ণভাবে ব্যবহার করা ; কিন্তু মনে রাখতে হবে এই বিবর্তন ও পরিবর্তন কেবল তখুনি আমাদের হাতে ঘটতে পারে, যখন ইখলাস, দায়িত্ব সম্পর্কে পূর্ণ সচেতনতা, তালিম ও চরিত্র গঠনে বিপুল শ্রম নিয়োগে আমরা অতুলনীয় দৃষ্টান্ত পেশ করতে পারব। একটি জাতি হিসেবে, এ ক্রমান্বয় পরিশ্রম, বিপুল কর্মযজ্ঞের দৃষ্টান্ত স্থাপন, সফলরূপে সকলের কাছে ইসলামের সুমহান বাণী পৌঁছে দেয়ার মাধ্যমে একদিন নিশ্চয় জগতসভায় আমরা শ্রেষ্ঠত্বের আসনে আসীন হব।
فطفق رجال منهم يقولون : الصلاة ! فلم يخرج إليهم رسول الله صلي الله عليه وسلم حتى خرج لصلاة الفجر، فلما قضى الفجر أقبل على الناس ثم تشهد فقال : أما بعد : فإنه لم يخفَ علي شأنكم، ولكني خشيت أن تفرض عليكم صلاة الليل فتعجزوا عنها .
তাদের অনেকে বলছিল : ‘সালাত’ ! কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সালাতের পূর্বে বেরুলেন না। ফজরের সালাত শেষে তিনি মানুষের মুখোমুখি হলেন, তাশাহহুদ পাঠ শেষে তিনি এরশাদ করলেন : তোমাদের ব্যাপারটি আমার অবিদিত নয়। কিন্তু, আশঙ্কা হয়েছিল যে, তোমাদের জন্য (এ সালাত) ফরজ করে দেয়া হবে এবং তোমরা তা (পালনে) অক্ষম হয়ে পড়বে। [বোখারি : ১১২৯, মুসলিম : ৭৬১।]
আবু সাইদ খুদরি রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন : আমরা রাসূলের সাথে রমজানের দশ দিন এতেকাফে যাপন করলাম। বিশ তারিখ ভোরে তিনি আমাদের উদ্দেশ্যে খুতবায় বললেন, আমাকে লাইলাতুল কদর প্রদর্শন করা হয়েছিল, কিন্তু আমি তা বিস্মৃত হয়েছি। [বোখারি : ২০১৬।]
ভিন্ন রেওয়ায়েতে আছে—
তিনি তাদের উদ্দেশ্যে খুতবা প্রদান করলেন, নির্দেশ দিলেন তাদের আল্লাহর ইচ্ছা সম্বন্ধে। [নাসায়ি : ১৩৫৬, হাদিসটি সহি।]
খতিব ও ইমামদের মাঝে যাদের রয়েছে এ বিষয়ে সুপ্ত প্রতিভা, তাদের দায়িত্ব হল এর প্রতি পূর্ণ লক্ষ্য রাখা, এর সফল রূপায়ণে সর্বস্ব নিয়োগ করা। আমরা এমন এক সময় যাপন করছি, যখন মসজিদ ও মসজিদ ভিত্তিক প্রভাব অনেকাংশেই খর্ব হয়ে গিয়েছে, ইমাম ও খতিবদের প্রভাব-পরিধি ক্রমান্বয়ে ক্ষীণ হয়ে চলেছে। সামাজিক এ দিকটির প্রতি যদি দায়ি ও ইমামদের অনীহা একটি স্থায়ী সমস্যায় রূপ নেয়, তবে এক সময় আমরা এক ভয়াবহ কেন্দ্রিকতার মুখোমুখি হব, আমরা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ব সমাজ ও সামাজিক অনুষঙ্গ থেকে, সৃষ্টি হবে পরিচয়গত সংকট। প্রবল সতর্কতা ও দ্বীনের কাজে পরিপূর্ণ আত্মনিয়োগই কেবল এ সংকট উত্তরণের পথ তৈরি করতে পারে।
একদিকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সিরাত ও অপরদিকে বর্তমান পরিস্থিতি যার একান্ত নখদর্পণে, যে পাঠ করেছে সমাজ ও নৈতিকতার এ বিষয়গুলো, তিনি নি:সন্দেহে অনুভব করতে সক্ষম হবেন যে, সমাজ ও সামাজিকতার অধিকাংশ স্তরে মসজিদ ভিত্তিক এ ক্ষমতা ও কেন্দ্রিকতা লুপ্ত হয়ে গিয়েছে, ভেঙে পড়েছে এ ব্যবস্থা। মসজিদ ভিত্তিক ধর্মীয় আন্দোলন ও চারিত্রিক অবগঠন ইসলামের অধিকাংশ এলাকাতেই আজ ভঙ্গুর-হীনদশায় আক্রান্ত। এর স্থলে আপন অবস্থান মজবুত করছে অন্যান্য অপসংস্কৃতির কর্তৃত্ব, বিভ্রান্তিকর মতবাদ, পুরোনো যাবতীয় চারিত্রিক অবকাঠামো পুরোপুরি ধ্বসে গিয়ে জন্ম নিচ্ছে নতুন চেতনা, নতুন জীবনাচার পদ্ধতি।
ইসলাহ ও সংস্কারের কার্যকারিতা ও ফললাভের জন্য প্রয়োজন দীর্ঘ সময়, ধৈর্য, ও বিপুল পরিশ্রম। বিদ্যমান সামাজিক ব্যবস্থার অবনমনে ব্যয় হয়েছে যতটা সময়, কৌশল ও শ্রম, সন্দেহ নেই, এর তুলনাতেও তার পরিধি ও ব্যাপ্তি হবে আরো ব্যাপক ও সামগ্রিক। সাফল্য, মুক্তি ও মৌলিক নীতিমালার যা এখনও ক্ষীণ হয়ে টিকে আছে, তার সংরক্ষণ, প্রথমে, খুবই জরুরি। অবনতির এ দীর্ঘকালে যা আমাদের হাত ছাড়া হয়ে গেছে, তাকে পুনরায় প্রতিস্থাপন করবার লক্ষ্যে গড়ে তুলতে হবে সর্বব্যাপী এক সামাজিক বিপ্লব।
ইসলামের ভবিষ্যৎ খুবই উজ্জ্বল, উদ্ভাসিত, যার বিচ্ছুরণ আলোকিত করবে প্রতিটি কোণ। আগামী হবে, আল্লাহ চাহে তো, ইসলাম ও মুসলমানদের। আমরা জানি রমজান এক মহান সুযোগ বয়ে আনে আমাদের জন্য, বিদ্যমান ব্যবস্থাকে পালটানোর এক মোক্ষম উপায় হচ্ছে রমজানকে পূর্ণভাবে ব্যবহার করা ; কিন্তু মনে রাখতে হবে এই বিবর্তন ও পরিবর্তন কেবল তখুনি আমাদের হাতে ঘটতে পারে, যখন ইখলাস, দায়িত্ব সম্পর্কে পূর্ণ সচেতনতা, তালিম ও চরিত্র গঠনে বিপুল শ্রম নিয়োগে আমরা অতুলনীয় দৃষ্টান্ত পেশ করতে পারব। একটি জাতি হিসেবে, এ ক্রমান্বয় পরিশ্রম, বিপুল কর্মযজ্ঞের দৃষ্টান্ত স্থাপন, সফলরূপে সকলের কাছে ইসলামের সুমহান বাণী পৌঁছে দেয়ার মাধ্যমে একদিন নিশ্চয় জগতসভায় আমরা শ্রেষ্ঠত্বের আসনে আসীন হব।