১
রাসূল যেভাবে রমজান যাপন করেছেন
লেখকঃ ফায়সাল বিন আলী আল বা’দানী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৩৫
রাসূলের সাথে সম্মিলিত এবাদত পালন
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্মিলিতভাবে তার স্ত্রী-গণের সাথে এবাদত পালন করতেন। রমজানের কিছু কিছু রাতে তার সাথে স্ত্রী-গণ জামাতের সাথে সালাত আদায় করতেন। আবু যর হতে বর্ণিত, তিনি বলেন : ...অত:পর তিনি মাসের তিন দিন অবশিষ্ট থাকা পর্যন্ত আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন না, তৃতীয় দিন আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন। ডেকে নিলেন তার পরিবার ও স্ত্রী-গণকে। এত দীর্ঘ সময় আমাদের নিয়ে রাত্রি জাগরণ করলেন যে, আমাদের ভয় হল সেহরির সময় অতিক্রান্তের। [তিরমিজি : ৮০৬, হাদিসটি সহি।]
রাসূলের স্ত্রী-গণ তার সাথে এতেকাফ পালন করতেন। আয়েশা রা. বর্ণিত হাদিসে আছে, রাসূলের সাথে তার একজন স্ত্রী হায়েজা অবস্থায় এতেকাফ পালন করল, সে স্রাব দেখতে পাচ্ছিল, এবং নিম্নদেশে একটি পাত্র রেখে দিল। [বোখারি : ৩০৯।]
রাসূল যদি গভীরভাবে তার স্ত্রী-গণের প্রতি লক্ষ্য না রাখতেন, প্রচেষ্টা না করতেন তাদের পরকালীন মুক্তির, তবে এবাদত ও কল্যাণের ক্ষেত্রে এ পারস্পরিক সম্মিলন কখনো সম্ভব হত না। এবাদতে রাসূলের সাথে তাদের এ অংশগ্রহণ কোন অর্থেই প্রতিযোগিতামূলক ছিল না, বরং, তার ভিত্তির পুরোটাই গড়ে উঠেছিল ব্যক্তিগত আগ্রহকে কেন্দ্র করে। নারীর সম্ভাবনা, প্রকৃতিভেদ, একে অপরের সাথে স্বভাব ও বৈশিষ্ট্যগত মৌলিক পার্থক্য—ইত্যাদির সফল উন্মোচন পাওয়া যায় এতে।
এ কারণেই, উদাহরণত:, আমরা দেখতে পাই রাসূলের অধিকাংশ স্ত্রীই তার সাথে এতেকাফ পালন করেননি, সাফিয়া বর্ণিত হাদিসে আছে : রাসূল মসজিদে অবস্থান করছিলেন, তার স্ত্রী-গণ তার সংসর্গে আনন্দ যাপন করছিল, তিনি সাফিয়া বিনতে হাই-কে লক্ষ্য করে বললেন : তুমি তাড়াহুড়ো কর না, আমি তোমার সাথে বেরুব। [বোখারি : ২০৩৮।]
আয়েশা রা. হতে বর্ণিত, রাসূল এতেকাফের ইচ্ছা পোষণ করলেন। যে স্থানে এতেকাফের ইচ্ছা করেছিলেন, তথায় পৌঁছে অনেকগুলো তাঁবু দেখতে পেলেন : আয়েশা, হাফসা ও জয়নবের তাঁবু। তিনি বললেন : (সাহাবিদের উদ্দেশ্যে) তোমরা কি একে নারীদের জন্য পুণ্যের কাজ মনে কর ? অত:পর তিনি এতেকাফ পালন না করেই প্রস্থান করলেন। পরবর্তীতে শাওয়ালের দশ দিন তিনি এতেকাফে (কাজা স্বরূপ) অতিবাহিত করেছিলেন। [বোখারি : ২০৩৪।]
দেখা যাচ্ছে, মাত্র তিন জন স্ত্রী তথায় তাঁবু টানিয়ে ছিলেন। অথচ, রাসূলের তিরোধানের পর তার সকল স্ত্রীই এতেকাফ পালন করেছেন। আয়েশা রা. বলেন : রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওফাত পর্যন্ত রমজানের শেষ দশ দিন এতেকাফ পালন করেছেন। তার মৃত্যুর পর তার স্ত্রী-গণ এতেকাফ পালন করেছেন। [বোখারি : ২০২৬।]
এগুলো প্রমাণ করে, পরিবারের যে কর্তা ও অভিভাবক, তার দায়িত্ব পরিবার-ভুক্ত সকলের আগ্রহ ও প্রবণতাকে শনাক্ত করা। তাদের কেউ হয়তো সালাতে অধিক আগ্রহী, কারো আকর্ষণ এতেকাফে, অপর কেউ হয়তো কোরআন তেলাওয়াত ও জিকিরে মগ্নতাই অধিক পছন্দ করে, কেউ কেউ নিজেকে পরিব্যাপ্ত রাখে শিক্ষা-দীক্ষা, জ্ঞানার্জন ও দাওয়াতে। নারীর এ প্রবণতা ও আগ্রহের কেন্দ্রগুলো শনাক্ত করতে সক্ষম না হলে, তার মাধ্যমে এবাদত ও সম্ভাবনার উন্মেষ কোনভাবেই সম্ভব হবে না।
রাসূলের স্ত্রী-গণ তার সাথে এতেকাফ পালন করতেন। আয়েশা রা. বর্ণিত হাদিসে আছে, রাসূলের সাথে তার একজন স্ত্রী হায়েজা অবস্থায় এতেকাফ পালন করল, সে স্রাব দেখতে পাচ্ছিল, এবং নিম্নদেশে একটি পাত্র রেখে দিল। [বোখারি : ৩০৯।]
রাসূল যদি গভীরভাবে তার স্ত্রী-গণের প্রতি লক্ষ্য না রাখতেন, প্রচেষ্টা না করতেন তাদের পরকালীন মুক্তির, তবে এবাদত ও কল্যাণের ক্ষেত্রে এ পারস্পরিক সম্মিলন কখনো সম্ভব হত না। এবাদতে রাসূলের সাথে তাদের এ অংশগ্রহণ কোন অর্থেই প্রতিযোগিতামূলক ছিল না, বরং, তার ভিত্তির পুরোটাই গড়ে উঠেছিল ব্যক্তিগত আগ্রহকে কেন্দ্র করে। নারীর সম্ভাবনা, প্রকৃতিভেদ, একে অপরের সাথে স্বভাব ও বৈশিষ্ট্যগত মৌলিক পার্থক্য—ইত্যাদির সফল উন্মোচন পাওয়া যায় এতে।
এ কারণেই, উদাহরণত:, আমরা দেখতে পাই রাসূলের অধিকাংশ স্ত্রীই তার সাথে এতেকাফ পালন করেননি, সাফিয়া বর্ণিত হাদিসে আছে : রাসূল মসজিদে অবস্থান করছিলেন, তার স্ত্রী-গণ তার সংসর্গে আনন্দ যাপন করছিল, তিনি সাফিয়া বিনতে হাই-কে লক্ষ্য করে বললেন : তুমি তাড়াহুড়ো কর না, আমি তোমার সাথে বেরুব। [বোখারি : ২০৩৮।]
আয়েশা রা. হতে বর্ণিত, রাসূল এতেকাফের ইচ্ছা পোষণ করলেন। যে স্থানে এতেকাফের ইচ্ছা করেছিলেন, তথায় পৌঁছে অনেকগুলো তাঁবু দেখতে পেলেন : আয়েশা, হাফসা ও জয়নবের তাঁবু। তিনি বললেন : (সাহাবিদের উদ্দেশ্যে) তোমরা কি একে নারীদের জন্য পুণ্যের কাজ মনে কর ? অত:পর তিনি এতেকাফ পালন না করেই প্রস্থান করলেন। পরবর্তীতে শাওয়ালের দশ দিন তিনি এতেকাফে (কাজা স্বরূপ) অতিবাহিত করেছিলেন। [বোখারি : ২০৩৪।]
দেখা যাচ্ছে, মাত্র তিন জন স্ত্রী তথায় তাঁবু টানিয়ে ছিলেন। অথচ, রাসূলের তিরোধানের পর তার সকল স্ত্রীই এতেকাফ পালন করেছেন। আয়েশা রা. বলেন : রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওফাত পর্যন্ত রমজানের শেষ দশ দিন এতেকাফ পালন করেছেন। তার মৃত্যুর পর তার স্ত্রী-গণ এতেকাফ পালন করেছেন। [বোখারি : ২০২৬।]
এগুলো প্রমাণ করে, পরিবারের যে কর্তা ও অভিভাবক, তার দায়িত্ব পরিবার-ভুক্ত সকলের আগ্রহ ও প্রবণতাকে শনাক্ত করা। তাদের কেউ হয়তো সালাতে অধিক আগ্রহী, কারো আকর্ষণ এতেকাফে, অপর কেউ হয়তো কোরআন তেলাওয়াত ও জিকিরে মগ্নতাই অধিক পছন্দ করে, কেউ কেউ নিজেকে পরিব্যাপ্ত রাখে শিক্ষা-দীক্ষা, জ্ঞানার্জন ও দাওয়াতে। নারীর এ প্রবণতা ও আগ্রহের কেন্দ্রগুলো শনাক্ত করতে সক্ষম না হলে, তার মাধ্যমে এবাদত ও সম্ভাবনার উন্মেষ কোনভাবেই সম্ভব হবে না।