১
জান্নাতের পথ
লেখকঃ মুহাম্মাদ মুনিরুজ্জামান বিন আশরাফ আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১০
মুত্তাকীদের বৈশিষ্ট্য
মুত্তাকী হতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদেরকে পুরো কুরআন ও সাধ্যমত সহীহ হাদীসের জ্ঞান অর্জন করতে হবে এবং কুরআন-সুন্নাহর নির্ভেজাল আদেশ-নিষেধগুলো আন্তরিকভাবে মেনে চলতে হবে। তথাপি কুরআনে স্পষ্টভাবে বর্ণিত কয়েকটি বৈশিষ্ট্য এখানে তুলে ধরা হলো। প্রথমেই সূরা ২/বাকারার প্রথমদিকেই যেখানে বলা হয়েছে, এই সেই কিতাব (আল কুরআন) যাতে কোন সন্দেহ নেই, মুত্তাকীদের পথ প্রদর্শক। তারপরই মুত্তাকীদের কিছু বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়েছেঃ
اَلَّذِيْنَ يُؤْمِنُوْنَ بِالْغَيْبِ وَيُقِيْمُوْنَ الصَّلَاةَ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنْفِقُوْنَ
যারা অদৃশ্য বিষয়ের উপর ঈমান আনে এবং সালাত কায়েম করে এবং আমি তাদেরকে যে রিযিক দিয়েছে তা থেকে ব্যায় করে।
وَالَّذِيْنَ يُؤْمِنُوْنَ بِمَاۤ اُنْزِلَ اِلَيْكَ وَمَاۤ اُنْزِلَ مِنْ قَبْلِكَۚ وَبِالْاٰخِرَةِ هُمْ يُوْقِنُوْنَ
আর যারা তোমার প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে তার উপর ঈমান আনে এবং তোমার পূর্বে যা নাযিল করা হয়েছে তার উপর ঈমান আনে এবং আখেরাতের উপর দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে। (সূরা ২/বাকারাঃ ৩-৪)
আয়াত হতে প্রাপ্ত মুত্তাকীদের বৈশিষ্ট্যঃ
১। অদৃশ্যে বিশ্বাস করা অর্থাৎ মহান আল্লাহর একত্ববাদ, ফেরেশতাগণ, কিতাবসমূহ, নাবীগণ, কবরের আযাব, বিচারের দিবস, জান্নাত-জাহান্নাম ইত্যাদির উপর বিশ্বাস।
২। সালাতের আনুষ্ঠানিক নিয়ম কানুন মেনে নিষ্ঠার সাথে তা পালন করে প্রতিটি বিষয় থেকে শিক্ষা নিয়ে সে শিক্ষা ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে প্রতিষ্ঠা করা।
৩। আল্লাহ দেয়া রিযিক (ধন-সম্পদ, শিক্ষা, ক্ষমতা এসব) থেকে অন্যের জন্য দান করা বা অন্যের কাজে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ব্যয় করা।
৪। মুহাম্মদ ﷺ এর প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে (ওহী তথা কুরআন ও সহীহ হাদীস) এবং পূর্বের রাসূলগণের (যেমন দাউদ, মুসা, ঈসা (আঃ) এবং অন্যান্য রাসূলগণের) প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছিল (যেমন যাবুর, তাওরাত, ইঞ্জীল ইত্যাদি এবং অন্যান্য সহিফাসমূহ) সেগুলোর উপরও ঈমান আনা যে সেগুলোও মহান আল্লাহই নাযিল করেছিলেন।
৫। আখিরাত তথা বিচার দিবসের উপর দৃঢ় বিশ্বাস রাখা অর্থাৎ বিচার একদিন হবেই, দুনিয়ার জীবনে আমরা যা করছি তার সবকিছুর হিসাব হবে এবং নেককাররা জান্নাতে গমন করবে এবং পাপীরা জাহান্নামে প্রবেশ করবে এই বিশ্বাস রেখে সেভাবে আমল করা।
لَيْسَ الْبِرَّ اَنْ تُوَلُّوْا وُجُوْهَكُمْ قِبَلَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ وَلٰكِنَّ الْبِرَّ مَنْ اٰمَنَ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الْاٰخِرِ وَالْمَلَآئِكَةِ وَالْكِتَابِ وَالنَّبِيِّيْنَۚ وَاٰتَى الْمَالَ عَلٰى حُبِّه ذَوِي الْقُرْبٰى وَالْيَتَامٰى وَالْمَسَاكِيْنَ وَابْنَ السَّبِيْلِ وَالسَّآئِلِيْنَ وَفِي الرِّقَابِۚ وَاَقَامَ الصَّلَاةَ وَاٰتَى الزَّكَاةَۚ وَالْمُوْفُوْنَ بِعَهْدِهِمْ اِذَا عَاهَدُوْاۚ وَالصَّابِرِيْنَ فِي الْبَأْسَآءِ وَالضَّرَّآءِ وَحِيْنَ الْبَأْسِؕ اُولٰٓئِكَ الَّذِيْنَ صَدَقُوْاؕ وَاُولٰٓئِكَ هُمُ الْمُتَّقُوْنَ
ভালো কাজ এটা নয় যে, তোমরা তোমাদের চেহারা পূর্ব ও পশ্চিম দিকে ফিরাবে, বরং ভালো কাজ হলো, যে ঈমান আনে আল্লাহ, শেষ দিবস, ফেরেশতাগণ, কিতাব ও নাবীগণের প্রতি এবং যে সম্পদ দান করে তার প্রতি আসক্তি থাকা সত্ত্বেও নিকটাত্মীয়গণ, ইয়াতীম, অসহায়, মুসাফির ও প্রার্থনাকারীকে এবং বন্দিমুক্তিতে এবং যে সালাত কায়েম করে, যাকাত দেয় এবং যারা অঙ্গীকার করে তা পূর্ণ করে, যারা ধৈর্যধারণ করে কষ্ট ও দুর্দশায় ও যুদ্ধের সময়ে। তারাই সত্যবাদী এবং তারাই মুত্তাকী। (সূরা ২/বাকারাঃ ১৭৭)
আয়াতের শিক্ষা। তারাই সত্যবাদী ও মুত্তাকী যারাঃ
১। আল্লাহ, পরকাল (আখেরাত), ফেরেশতাগণ, কিতাব ও নাবীগণের প্রতি ঈমান আনে।
২। নিজেদের অভাব থাকার পরেও নিকটাত্মীয়গণ, ইয়াতীম, অসহায়, মুসাফির ও প্রার্থনাকারীকে দান করে এবং বন্দিমুক্তিতে অর্থ-সম্পদ ব্যায় করে।
৩। সালাত কায়েম করে (যথাযথভাবে সুনির্দিষ্ট সময়ে ইখলাসের সহিত বিনীতভাবে ধীরে-সুস্থে সহীহ হাদীস থেকে জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে রসুল ﷺ এর পদ্ধতিতে নিজেও সালাত আদায় করে এবং অধীনস্তদের সালাত আদায় করতে বাধ্য করে)।
৪। নেসাব পরিমাণ সম্পদ থাকলে যাকাত দেয়।
৫। অঙ্গীকার পূর্ণ করে। (ব্যাখ্যার জন্য তাফসীরে ইবনে কাসির দেখুন)।
৬। দুঃখ-কষ্টে, অসুখ-বিসুখে ও জিহাদের সময় ধৈর্যধারণ করে।
اَلَّذِيْنَ يُؤْمِنُوْنَ بِالْغَيْبِ وَيُقِيْمُوْنَ الصَّلَاةَ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنْفِقُوْنَ
যারা অদৃশ্য বিষয়ের উপর ঈমান আনে এবং সালাত কায়েম করে এবং আমি তাদেরকে যে রিযিক দিয়েছে তা থেকে ব্যায় করে।
وَالَّذِيْنَ يُؤْمِنُوْنَ بِمَاۤ اُنْزِلَ اِلَيْكَ وَمَاۤ اُنْزِلَ مِنْ قَبْلِكَۚ وَبِالْاٰخِرَةِ هُمْ يُوْقِنُوْنَ
আর যারা তোমার প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে তার উপর ঈমান আনে এবং তোমার পূর্বে যা নাযিল করা হয়েছে তার উপর ঈমান আনে এবং আখেরাতের উপর দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে। (সূরা ২/বাকারাঃ ৩-৪)
আয়াত হতে প্রাপ্ত মুত্তাকীদের বৈশিষ্ট্যঃ
১। অদৃশ্যে বিশ্বাস করা অর্থাৎ মহান আল্লাহর একত্ববাদ, ফেরেশতাগণ, কিতাবসমূহ, নাবীগণ, কবরের আযাব, বিচারের দিবস, জান্নাত-জাহান্নাম ইত্যাদির উপর বিশ্বাস।
২। সালাতের আনুষ্ঠানিক নিয়ম কানুন মেনে নিষ্ঠার সাথে তা পালন করে প্রতিটি বিষয় থেকে শিক্ষা নিয়ে সে শিক্ষা ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে প্রতিষ্ঠা করা।
৩। আল্লাহ দেয়া রিযিক (ধন-সম্পদ, শিক্ষা, ক্ষমতা এসব) থেকে অন্যের জন্য দান করা বা অন্যের কাজে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ব্যয় করা।
৪। মুহাম্মদ ﷺ এর প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে (ওহী তথা কুরআন ও সহীহ হাদীস) এবং পূর্বের রাসূলগণের (যেমন দাউদ, মুসা, ঈসা (আঃ) এবং অন্যান্য রাসূলগণের) প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছিল (যেমন যাবুর, তাওরাত, ইঞ্জীল ইত্যাদি এবং অন্যান্য সহিফাসমূহ) সেগুলোর উপরও ঈমান আনা যে সেগুলোও মহান আল্লাহই নাযিল করেছিলেন।
৫। আখিরাত তথা বিচার দিবসের উপর দৃঢ় বিশ্বাস রাখা অর্থাৎ বিচার একদিন হবেই, দুনিয়ার জীবনে আমরা যা করছি তার সবকিছুর হিসাব হবে এবং নেককাররা জান্নাতে গমন করবে এবং পাপীরা জাহান্নামে প্রবেশ করবে এই বিশ্বাস রেখে সেভাবে আমল করা।
لَيْسَ الْبِرَّ اَنْ تُوَلُّوْا وُجُوْهَكُمْ قِبَلَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ وَلٰكِنَّ الْبِرَّ مَنْ اٰمَنَ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الْاٰخِرِ وَالْمَلَآئِكَةِ وَالْكِتَابِ وَالنَّبِيِّيْنَۚ وَاٰتَى الْمَالَ عَلٰى حُبِّه ذَوِي الْقُرْبٰى وَالْيَتَامٰى وَالْمَسَاكِيْنَ وَابْنَ السَّبِيْلِ وَالسَّآئِلِيْنَ وَفِي الرِّقَابِۚ وَاَقَامَ الصَّلَاةَ وَاٰتَى الزَّكَاةَۚ وَالْمُوْفُوْنَ بِعَهْدِهِمْ اِذَا عَاهَدُوْاۚ وَالصَّابِرِيْنَ فِي الْبَأْسَآءِ وَالضَّرَّآءِ وَحِيْنَ الْبَأْسِؕ اُولٰٓئِكَ الَّذِيْنَ صَدَقُوْاؕ وَاُولٰٓئِكَ هُمُ الْمُتَّقُوْنَ
ভালো কাজ এটা নয় যে, তোমরা তোমাদের চেহারা পূর্ব ও পশ্চিম দিকে ফিরাবে, বরং ভালো কাজ হলো, যে ঈমান আনে আল্লাহ, শেষ দিবস, ফেরেশতাগণ, কিতাব ও নাবীগণের প্রতি এবং যে সম্পদ দান করে তার প্রতি আসক্তি থাকা সত্ত্বেও নিকটাত্মীয়গণ, ইয়াতীম, অসহায়, মুসাফির ও প্রার্থনাকারীকে এবং বন্দিমুক্তিতে এবং যে সালাত কায়েম করে, যাকাত দেয় এবং যারা অঙ্গীকার করে তা পূর্ণ করে, যারা ধৈর্যধারণ করে কষ্ট ও দুর্দশায় ও যুদ্ধের সময়ে। তারাই সত্যবাদী এবং তারাই মুত্তাকী। (সূরা ২/বাকারাঃ ১৭৭)
আয়াতের শিক্ষা। তারাই সত্যবাদী ও মুত্তাকী যারাঃ
১। আল্লাহ, পরকাল (আখেরাত), ফেরেশতাগণ, কিতাব ও নাবীগণের প্রতি ঈমান আনে।
২। নিজেদের অভাব থাকার পরেও নিকটাত্মীয়গণ, ইয়াতীম, অসহায়, মুসাফির ও প্রার্থনাকারীকে দান করে এবং বন্দিমুক্তিতে অর্থ-সম্পদ ব্যায় করে।
৩। সালাত কায়েম করে (যথাযথভাবে সুনির্দিষ্ট সময়ে ইখলাসের সহিত বিনীতভাবে ধীরে-সুস্থে সহীহ হাদীস থেকে জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে রসুল ﷺ এর পদ্ধতিতে নিজেও সালাত আদায় করে এবং অধীনস্তদের সালাত আদায় করতে বাধ্য করে)।
৪। নেসাব পরিমাণ সম্পদ থাকলে যাকাত দেয়।
৫। অঙ্গীকার পূর্ণ করে। (ব্যাখ্যার জন্য তাফসীরে ইবনে কাসির দেখুন)।
৬। দুঃখ-কষ্টে, অসুখ-বিসুখে ও জিহাদের সময় ধৈর্যধারণ করে।