hadith book logo

জান্নাতের পথ

লেখকঃ মুহাম্মাদ মুনিরুজ্জামান বিন আশরাফ আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১২

মুত্তাকীদের কতিপয় করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়

এখানে মুত্তাকী হবার প্রয়াসী ব্যক্তিদের জন্য প্রাথমিকভাবে করণীয় ও বর্জনীয় একটি তালিকা দেয়া হলো। নিয়মিত কুরআন ও সহীহ সুন্নার জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে দ্বীন ইসলামের আদেশ-নিষেধ মেনে চলতে হবেঃ

১। বুঝে বুঝে আল কুরআন, সহীহ হাদীসের কিতাব (যেমন বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ ইত্যাদি) এবং দলীলভিত্তিক নির্ভরযোগ্য ইসলামী বই পড়ে দ্বীন ইসলাম তথা কুরআন-সুন্নাহর সঠিক জ্ঞান অর্জন করা।

২। ঈমান ও আকীদার উপর নির্ভরযোগ্য কিতাব পড়ার মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন করে বিশুদ্ধ ঈমান ও আকীদার অধিকারী হওয়া। ভ্রান্ত আকীদা পরিত্যাগ করা।

৩। তাওহীদ ও সুন্নাতের উপর বিশুদ্ধ জ্ঞান অর্জনপূর্বক তাওহীদ ও সুন্নতকে আকড়ে ধরা। এক্ষেত্রে অন্য কারো পরোয়া না করা।

৪। শিরক ও বিদআতকে (যেমন তাবিজ-কবজ, ফরজ সালাতের পর সম্মিলিত মোনাজাত) পরিত্যাগ করা। এক্ষেত্রেও অন্য কারো পরোয়া না করা।

৫। সহীহ হাদীসের কিতাব ও সালাতের উপর রচিত নির্ভরযোগ্য দলীলভিত্তিক কিতাব পড়ার মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন করে সময়মত, নিষ্ঠার সাথে, রাসূল ﷺ এর পদ্ধতিতে সালাত আদায় করা। এক্ষেত্রেও অন্য কারো পরোয়া না করা।

৬। যাকাতের উপর সঠিক জ্ঞান অর্জন করে সঠিকভাবে হিসাব করে যাকাত আদায় করা।

৭। সিয়ামের উপর সঠিক জ্ঞান অর্জন করে রমজান মাসে ফরজ সিয়াম ও অন্যান্য মাসের দলীল ভিত্তিক নফল সিয়াম পালন করা।

৮। হজ্জ করার সামর্থ হওয়ার সাথে সাথে হজ্জের উপর কুরআন ও সহীহ হাদীস দ্বারা রচিত নির্ভরযোগ্য কিতাব থেকে বিশুদ্ধ জ্ঞান অর্জন করে সঠিকভাবে হজ্জ সম্পাদন করা।

৯। হারাম উপার্জন (যথা সুদ, ঘুষ ইত্যাদি) পরিহার করা। হালাল উপার্জন করা। (এ বিষয়ে জানতে ‘‘হালাল রিযিকের সন্ধানে’’ বইটি পড়ুন)।

১০। গোপনে ও প্রকাশ্যে সকল প্রকার গুনাহ/পাপের কাজ পরিহার করা।

১১। তাহাজ্জুদের সালাতসহ সহীহ দলীল ভিত্তিক অন্যান্য সুন্নত ও নফল সালাত আদায় করা।

১২। দলীলবিহীন আমল, দু’আ-দরূদ পরিত্যাগ করা, দলীলনির্ভর আমল করা। (এ বিষয়ে জানতে সহীহ দু’আ ও কুরআন-সুন্নার চিকিৎসা বই পড়ুন)

১৩। আল্লাহ ও রাসূল ﷺ এর আদেশ-নিষেধ নিষ্ঠার সহিত অনুসরণর করা এবং অন্তর থেকে তাদের প্রতি ভালবাসা পোষণ করা।

১৪। সাহাবী, তাবেঈ, তাবে-তাবেঈ ও সকল ইমামদেরকে সম্মান করা। কোন ইমামকে ছোট করে না দেখা।

১৫। আল্লাহ যা দিয়েছেন তার উপরেই সন্তুষ্ট থাকা।

১৬। ধূমপান, বিশেষ করে জর্দাসহ পান-সুপারী এবং সকল প্রকার নেশাদ্রব্য পরিহার করা।

১৭। অল্প খাওয়া, অল্প ঘুমানো, অল্পতে সন্তুষ্ট থাকা।

১৮। দুনিয়ার চাকচিক্যে বিমোহিত না হয়ে বিলাসিতা পরিহার করা, অপচয়-অপব্যায় না করা।

১৯। অনুবাদসহ কুরআন, কুরআন বুঝার সহায়ক গ্রন্থ, তাফসীর, সহীহ হাদীসের কিতাব, দলীলভিত্তিক নির্ভরযোগ্য কিতাব ক্রয় করা, পড়া, জ্ঞান অর্জন করা। এক্ষেত্রে কার্পণ্যতা না করা।

২০। যাবতীয় খেল তামাশা, গান-বাজনা, নাটক-সিনেমা, বেহুদা আড্ডা, টিভি দেখা, অশ্লীল পত্রিকা, ম্যাগাজিন, বই ইত্যাদি পরিহার করে কুরআন, সহীহ হাদীস ও দলীলভিত্তিক নির্ভরযোগ্য ইসলামি বই পড়া। এভাবে জ্ঞান অর্জনকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেয়া।

২১। নির্বিচারে বাপ-দাদা, পূর্বপুরুষ, অধিকাংশ লোকের মত, আলেম-ওলামা, মুরুববী-বুজুর্গদের মতামত, আমল পরিহার করে সহীহ দলীলভিত্তিক আমল করা।

২২। বিশেষ করে পীর-মুরিদী, বিভিন্ন তরীকা, দল-মত, ইজম, মাযহাব, ফাজায়েলের নামে ভূয়া কথা-বার্তা, স্বপ্নের কাহিনী, মুরুববী-বুজুর্গদের কিচ্ছা-কাহিনী, জাল-যঈফ হাদীস, দলীল ছাড়া ওয়াজ করা হুজুর ও তাদের মাহফিল এবং এসব প্রচার প্রসারে নিয়োজিত ব্যক্তিদেরকে সম্পূর্ণরূপে পরিহার করা।

২৩। সুন্নতে গাফেল, বিদআতে নিষ্ঠাবান, দুনিয়াদারী, পেটপূজারী, জর্দাখোর, খতম পড়ানী হুজুরদেরকে সর্বোতভাবে পরিহার করা।

২৪। কুরআন-হাদীস পড়তে ও বুঝতে, জ্ঞান অর্জন করতে নিষেধ করে, অন্ধভাবে পীর-বুজুর্গ, মুরুববী, আলেম-ওলামাদের মানতে বলে, কুরআন ও সহীহ হাদীস প্রচার করতে বাঁধা দেয়- এ ধরনের আলেম ও ব্যক্তিদেরকে ঘৃণার সহিত বর্জন করা।

২৫। দেশীয় ও উপমহাদেশীয় ইসলাম পরিহার করে কুরআন ও সহীহ সুন্নাহভিত্তিক সার্বজনীন ইসলাম মেনে চলা।

২৬। আল্লাহ আমার রব, ইসলাম আমার দ্বীন, মুহাম্মদ ﷺ আমার রাসূল ও মুসলিম আমার পরিচয় এই নীতির উপর সমগ্র মুসলিম উম্মাহর জন্য এক ও অভিন্ন শরীয়ত প্রযোজ্য। এই নীতি মেনে চলা।

২৭। দ্বীন ইসলামের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ওহী তথা কুরআন-সুন্নার অনুসরণ করা এবং আল্লাহ ও রাসূল ﷺ এর আনুগত্য করা। অন্যসকল আনুগত্যের সম্পর্ক ছিন্ন করা।

২৮। অব্যহতভাবে কুরআন ও সহীহ হাদীসের জ্ঞান অর্জন করতে থাকা এবং সে অনুযায়ী নিয়ত, ঈমান, আমল, ইবাদত পরিশুদ্ধ করার মাধ্যমে আদেশগুলো পালন ও নিষেধগুলো পরিত্যাগ করা।