১
জান্নাতের পথ
লেখকঃ মুহাম্মাদ মুনিরুজ্জামান বিন আশরাফ আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৩
মৃত্যু ও তার পরবর্তী অবস্থা
মৃত্যু ও তার পরবর্তী অবস্থা সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ বলেন,
كُلُّ نَفْسٍ ذَآئِقَةُ الْمَوْتِؕ وَاِنَّمَا تُوَفَّوْنَ اُجُوْرَكُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِؕ فَمَنْ زُحْزِحَ عَنِ النَّارِ وَاُدْخِلَ الْجَنَّةَ فَقَدْ فَازَؕ وَمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَاۤ اِلَّا مَتَاعُ الْغُرُوْرِ
প্রত্যেক জীবকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে, আর অবশ্যই কিয়ামতের দিন তাদের প্রতিদান পরিপূর্ণভাবে দেয়া হবে। সুতরাং যাকে জাহান্নাম থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে সে-ই সফলতা লাভ করবে। আর দুনিয়ার জীবন শুধু ধোঁকার সামগ্রী মাত্র। (সূরা ৩/আলে ইমরানঃ ১৮৫)
اَيْنَمَا تَكُوْنُوْا يُدْرِكْكُّمُ الْمَوْتُ وَلَوْ كُنْتُمْ فِيْ بُرُوْجٍ مُّشَيَّدَةٍ
তোমরা যেখানেই থাক না কেন মৃত্যু তোমাদেরকে পাকড়াও করবেই যদিও তোমরা সুদৃঢ় দূর্গের ভিতর অবস্থান কর তবুও। (সূরা ৪/নিসাঃ ৭৮)
كُلُّ نَفْسٍ ذَآئِقَةُ الْمَوْتِؕ وَنَبْلُوْكُمْ بِالشَّرِّ وَالْخَيْرِ فِتْنَةًؕ وَّاِلَيْنَا تُرْجَعُوْنَ
প্রতিটি প্রাণ মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবেই, আর আমি তোমাদেরকে ভাল ও মন্দ দ্বারা পরীক্ষা করে থাকি এবং আমার কাছেই তোমাদেরকে ফিরে আসতে হবে। (সূরা ২১/আম্বিয়াঃ ৩৫)
وَهُوَ الَّذِيْۤ اَحْيَاكُمْؗ ثُمَّ يُمِيْتُكُمْ ثُمَّ يُحْيِيْكُمْؕ اِنَّ الْاِنْسَانَ لَكَفُوْرٌ
আর তিনিই তোমাদেরকে জীবন দিয়েছেন, অতঃপর তিনিই তোমাদেরকে মৃত্যু দেবেন, তারপর তিনিই তোমাদেরকে আবার জীবন দেবেন। নিশ্চয় মানুষ বড়ই অকৃতজ্ঞ। (সূরা ২২/হাজ্জ্বঃ ৬৬)
সূরা নং ২৩, সূরা আল মুমিনুন এর ১২ থেকে ১৬ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন,
وَلَقَدْ خَلَقْنَا الْاِنْسَانَ مِنْ سُلَالَةٍ مِّنْ طِيْنٍ
আমি মানুষকে মাটির সারাংশ থেকে সৃষ্টি করেছি।
ثُمَّ جَعَلْنَاهُ نُطْفَةً فِيْ قَرَارٍ مَّكِيْنٍ
অতঃপর আমি তাকে শুক্রবিন্দুরূপে সংরক্ষিত আধারে (মাতৃ জরায়ুতে) স্থাপন করেছি।
ثُمَّ خَلَقْنَا النُّطْفَةَ عَلَقَةً فَخَلَقْنَا الْعَلَقَةَ مُضْغَةً فَخَلَقْنَا الْمُضْغَةَ عِظَامًا فَكَسَوْنَا الْعِظَامَ لَحْمًا ثُمَّ اَنْشَأْنَاهُ خَلْقًا اٰخَرَؕ فَتَبَارَكَ اللهُ اَحْسَنُ الْخَالِقِيْنَ
এরপর আমি শুক্রবিন্দুকে জমাট রক্তে পরিণত করেছি, অতঃপর জমাট রক্তকে মাংসপিন্ডে পরিণত করেছি। এরপর সেই মাংসপিন্ড থেকে হাড় সৃষ্টি করেছি, অতঃপর সেই হাড়কে মাংস দ্বারা আবৃত করেছি, অবশেষে তাকে নতুন রূপে দাঁড় করিয়েছি। নিপুণতম সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ কত কল্যাণময়।
ثُمَّ اِنَّكُمْ بَعْدَ ذٰلِكَ لَمَيِّتُوْنَ
এরপর অবশ্যই তোমরা মৃত্যুবরণ করবে।
ثُمَّ اِنَّكُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ تُبْعَثُوْنَ
অতঃপর কিয়ামতের দিন তোমরা অবশ্যই পুনরুত্থিত হবে।
اِنَّ اللهَ عِنْدَهٗ عِلْمُ السَّاعَةِ وَيُنَزِّلُ الْغَيْثَ وَيَعْلَمُ مَا فِي الْاَرْحَامِ وَمَا تَدْرِيْ نَفْسٌ مَّاذَا تَكْسِبُ غَدًا وَّمَا تَدْرِيْ نَفْسٌ ۢبِاَيِّ اَرْضٍ تَمُوْتُ اِنَّ اللهَ عَلِيْمٌ خَبِيْرٌ
নিশ্চয় আল্লাহর নিকট রয়েছে কিয়ামতের জ্ঞান। আর তিনি বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং জরায়ুতে যা আছে, তাও তিনি জানেন। আর কেউ জানে না আগামীকাল সে কী অর্জন করবে এবং কেউ জানে না কোন স্থানে সে মারা যাবে। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সম্যক অবহিত। (সূরা ৩১/লোকমানঃ ৩৪)
قُلْ يَتَوَفَّاكُمْ مَّلَكُ الْمَوْتِ الَّذِيْ وُكِّلَ بِكُمْ ثُمَّ اِلٰى رَبِّكُمْ تُرْجَعُوْنَ
বলো, মৃত্যুর ফেরেশতা (যথাযথ সময়ে) তোমাদের মৃত্যু ঘটাবে যাকে তোমাদের মৃত্যুর জন্য নিয়োগ করা হয়েছে। তারপর তোমাদেরকে তোমাদের রবের নিকট ফিরিয়ে আনা হবে। (সূরা ৩২/আস-সাজদাঃ ১১)
قُلْ لَّنْ يَّنْفَعَكُمُ الْفِرَارُ اِنْ فَرَرْتُمْ مِّنَ الْمَوْتِ اَوِ الْقَتْلِ وَاِذًا لَّا تُمَتَّعُوْنَ اِلَّا قَلِيْلًا
বলো, যদি তোমরা মৃত্যু অথবা হত্যার ভয়ে পালাতে চাও তবে সেই পালানো তোমাদের কোন উপকারে আসবে না। আর সে ক্ষেত্রে তোমাদের সামান্যই ভোগ করতে দেয়া হবে। (সূরা ৩৩/আহযাবঃ ১৬)
اَللهُ يَتَوَفَّى الْاَنْفُسَ حِيْنَ مَوْتِهَا وَالَّتِيْ لَمْ تَمُتْ فِيْ مَنَامِهَا فَيُمْسِكُ الَّتِيْ قَضٰى عَلَيْهَا الْمَوْتَ وَيُرْسِلُ الْاُخْرٰۤى اِلٰۤى اَجَلٍ مُّسَمًّى اِنَّ فِيْ ذٰلِكَ لَاٰيَاتٍ لِّقَوْمٍ يَّتَفَكَّرُوْنَ
আল্লাহ জীবসমূহের প্রাণ হরণ করেন তাদের মৃত্যুর সময় এবং যারা মরেনি তাদের নিদ্রার সময়। তারপর যার জন্য তিনি মৃত্যুর ফয়সালা করেন তার প্রাণ তিনি রেখে দেন এবং অন্যগুলো ফিরিয়ে দেন একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল কওমের জন্য অনেক নিদর্শন রয়েছে। (সূরা ৩৯/যুমারঃ ৪২)
قُلِ اللهُ يُحْيِيْكُمْ ثُمَّ يُمِيْتُكُمْ ثُمَّ يَجْمَعُكُمْ اِلٰى يَوْمِ الْقِيَامَةِ لَا رَيْبَ فِيْهِ وَلٰكِنَّ اَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُوْنَ
বলো, আল্লাহই তোমাদের জীবন দেন, তারপর তোমাদের মৃত্যু ঘটান। তারপর তিনি তোমাদেরকে কিয়ামতের দিন একত্রিত করবেন, যাতে কোন সন্দেহ নেই; কিন্তু অধিকাংশ লোকই জানে না। (সূরা ৪৫/জাসিয়াঃ ২৬)
وَجَآءَتْ سَكْرَةُ الْمَوْتِ بِالْحَقِّ ذٰلِكَ مَا كُنْتَ مِنْهُ تَحِيْدُ
আর মৃত্যু যন্ত্রণা সত্যি সত্যিই আসবে, যা থেকে তুমি পলায়ন করতে চাও।
(সূরা ৫০/ক্বাফঃ ১৯)
نَحْنُ قَدَّرْنَا بَيْنَكُمُ الْمَوْتَ وَمَا نَحْنُ بِمَسْبُوْقِيْنَ
আমি তোমাদের মধ্যে মৃত্যু নির্ধারণ করেছি এবং আমাকে অক্ষম করা যাবে না।
(সূরা ৫৬/ওয়াক্বিয়াঃ ৬০)
قُلْ اِنَّ الْمَوْتَ الَّذِيْ تَفِرُّوْنَ مِنْهُ فَاِنَّهٗ مُلَاقِيْكُمْ ثُمَّ تُرَدُّوْنَ اِلٰى عَالِمِ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ فَيُنَبِّئُكُمْ بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُوْنَ
বলো, যে মৃত্যু থেকে তোমরা পলায়ন করতে চাও তা অবশ্যই তোমাদের সাথে সাক্ষাৎ করবে। তারপর তোমাদেরকে অদৃশ্য ও দৃশ্য সম্পর্কে পরিজ্ঞাত আল্লাহর কাছে ফিরিয়ে নেয়া হবে। তারপর তিনি তোমাদেরকে জানিয়ে দেবেন যা তোমরা করতে। (সূরা ৬২/জুমুআঃ ৮)
وَاَنْفِقُوا مِنْ مَّا رَزَقْنَاكُمْ مِّنْ قَبْلِ اَنْ يَّأْتِيَ اَحَدَكُمُ الْمَوْتُ فَيَقُوْلَ رَبِّ لَوْلَاۤ اَخَّرْتَنِيْۤ اِلٰى اَجَلٍ قَرِيْبٍ فَاَصَّدَّقَ وَاَكُنْ مِّنَ الصَّالِحِيْنَ
আর আমি তোমাদেরকে যে রিযিক দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করো- তোমাদের কারো মৃত্যু আসার পূর্বেই। কেননা তখন সে বলবে, হে আমার রব, যদি আপনি আমাকে আরো কিছুকাল অবকাশ দিতেন, তাহলে আমি দান-সদকা করতাম আর (তওবা ও নেককাজ করে) সৎ লোকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যেতাম। (সূরা ৬৩/মুনাফিকুনঃ ১০)
এই আয়াতগুলো এবং আরো অনেক আয়াত ও সহীহ হাদীসে মৃত্যু সম্পর্কে অনেক কিছু বলা হয়েছে যেগুলোর সারমর্ম হলো - সবাইকে একদিন মরতে হবে। মৃত্যু থেকে বাঁচার কোন পথ নেই এবং সবাইকে একদিন কিয়ামতের মাঠে বিচারের জন্য হাজির হতে হবে দুনিয়ার জীবনের সবকিছুর হিসাব দেয়ার জন্য এবং পুরস্কার লাভ অথবা শাস্তি ভোগ করার জন্য।
كُلُّ نَفْسٍ ذَآئِقَةُ الْمَوْتِؕ وَاِنَّمَا تُوَفَّوْنَ اُجُوْرَكُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِؕ فَمَنْ زُحْزِحَ عَنِ النَّارِ وَاُدْخِلَ الْجَنَّةَ فَقَدْ فَازَؕ وَمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَاۤ اِلَّا مَتَاعُ الْغُرُوْرِ
প্রত্যেক জীবকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে, আর অবশ্যই কিয়ামতের দিন তাদের প্রতিদান পরিপূর্ণভাবে দেয়া হবে। সুতরাং যাকে জাহান্নাম থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে সে-ই সফলতা লাভ করবে। আর দুনিয়ার জীবন শুধু ধোঁকার সামগ্রী মাত্র। (সূরা ৩/আলে ইমরানঃ ১৮৫)
اَيْنَمَا تَكُوْنُوْا يُدْرِكْكُّمُ الْمَوْتُ وَلَوْ كُنْتُمْ فِيْ بُرُوْجٍ مُّشَيَّدَةٍ
তোমরা যেখানেই থাক না কেন মৃত্যু তোমাদেরকে পাকড়াও করবেই যদিও তোমরা সুদৃঢ় দূর্গের ভিতর অবস্থান কর তবুও। (সূরা ৪/নিসাঃ ৭৮)
كُلُّ نَفْسٍ ذَآئِقَةُ الْمَوْتِؕ وَنَبْلُوْكُمْ بِالشَّرِّ وَالْخَيْرِ فِتْنَةًؕ وَّاِلَيْنَا تُرْجَعُوْنَ
প্রতিটি প্রাণ মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবেই, আর আমি তোমাদেরকে ভাল ও মন্দ দ্বারা পরীক্ষা করে থাকি এবং আমার কাছেই তোমাদেরকে ফিরে আসতে হবে। (সূরা ২১/আম্বিয়াঃ ৩৫)
وَهُوَ الَّذِيْۤ اَحْيَاكُمْؗ ثُمَّ يُمِيْتُكُمْ ثُمَّ يُحْيِيْكُمْؕ اِنَّ الْاِنْسَانَ لَكَفُوْرٌ
আর তিনিই তোমাদেরকে জীবন দিয়েছেন, অতঃপর তিনিই তোমাদেরকে মৃত্যু দেবেন, তারপর তিনিই তোমাদেরকে আবার জীবন দেবেন। নিশ্চয় মানুষ বড়ই অকৃতজ্ঞ। (সূরা ২২/হাজ্জ্বঃ ৬৬)
সূরা নং ২৩, সূরা আল মুমিনুন এর ১২ থেকে ১৬ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন,
وَلَقَدْ خَلَقْنَا الْاِنْسَانَ مِنْ سُلَالَةٍ مِّنْ طِيْنٍ
আমি মানুষকে মাটির সারাংশ থেকে সৃষ্টি করেছি।
ثُمَّ جَعَلْنَاهُ نُطْفَةً فِيْ قَرَارٍ مَّكِيْنٍ
অতঃপর আমি তাকে শুক্রবিন্দুরূপে সংরক্ষিত আধারে (মাতৃ জরায়ুতে) স্থাপন করেছি।
ثُمَّ خَلَقْنَا النُّطْفَةَ عَلَقَةً فَخَلَقْنَا الْعَلَقَةَ مُضْغَةً فَخَلَقْنَا الْمُضْغَةَ عِظَامًا فَكَسَوْنَا الْعِظَامَ لَحْمًا ثُمَّ اَنْشَأْنَاهُ خَلْقًا اٰخَرَؕ فَتَبَارَكَ اللهُ اَحْسَنُ الْخَالِقِيْنَ
এরপর আমি শুক্রবিন্দুকে জমাট রক্তে পরিণত করেছি, অতঃপর জমাট রক্তকে মাংসপিন্ডে পরিণত করেছি। এরপর সেই মাংসপিন্ড থেকে হাড় সৃষ্টি করেছি, অতঃপর সেই হাড়কে মাংস দ্বারা আবৃত করেছি, অবশেষে তাকে নতুন রূপে দাঁড় করিয়েছি। নিপুণতম সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ কত কল্যাণময়।
ثُمَّ اِنَّكُمْ بَعْدَ ذٰلِكَ لَمَيِّتُوْنَ
এরপর অবশ্যই তোমরা মৃত্যুবরণ করবে।
ثُمَّ اِنَّكُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ تُبْعَثُوْنَ
অতঃপর কিয়ামতের দিন তোমরা অবশ্যই পুনরুত্থিত হবে।
اِنَّ اللهَ عِنْدَهٗ عِلْمُ السَّاعَةِ وَيُنَزِّلُ الْغَيْثَ وَيَعْلَمُ مَا فِي الْاَرْحَامِ وَمَا تَدْرِيْ نَفْسٌ مَّاذَا تَكْسِبُ غَدًا وَّمَا تَدْرِيْ نَفْسٌ ۢبِاَيِّ اَرْضٍ تَمُوْتُ اِنَّ اللهَ عَلِيْمٌ خَبِيْرٌ
নিশ্চয় আল্লাহর নিকট রয়েছে কিয়ামতের জ্ঞান। আর তিনি বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং জরায়ুতে যা আছে, তাও তিনি জানেন। আর কেউ জানে না আগামীকাল সে কী অর্জন করবে এবং কেউ জানে না কোন স্থানে সে মারা যাবে। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সম্যক অবহিত। (সূরা ৩১/লোকমানঃ ৩৪)
قُلْ يَتَوَفَّاكُمْ مَّلَكُ الْمَوْتِ الَّذِيْ وُكِّلَ بِكُمْ ثُمَّ اِلٰى رَبِّكُمْ تُرْجَعُوْنَ
বলো, মৃত্যুর ফেরেশতা (যথাযথ সময়ে) তোমাদের মৃত্যু ঘটাবে যাকে তোমাদের মৃত্যুর জন্য নিয়োগ করা হয়েছে। তারপর তোমাদেরকে তোমাদের রবের নিকট ফিরিয়ে আনা হবে। (সূরা ৩২/আস-সাজদাঃ ১১)
قُلْ لَّنْ يَّنْفَعَكُمُ الْفِرَارُ اِنْ فَرَرْتُمْ مِّنَ الْمَوْتِ اَوِ الْقَتْلِ وَاِذًا لَّا تُمَتَّعُوْنَ اِلَّا قَلِيْلًا
বলো, যদি তোমরা মৃত্যু অথবা হত্যার ভয়ে পালাতে চাও তবে সেই পালানো তোমাদের কোন উপকারে আসবে না। আর সে ক্ষেত্রে তোমাদের সামান্যই ভোগ করতে দেয়া হবে। (সূরা ৩৩/আহযাবঃ ১৬)
اَللهُ يَتَوَفَّى الْاَنْفُسَ حِيْنَ مَوْتِهَا وَالَّتِيْ لَمْ تَمُتْ فِيْ مَنَامِهَا فَيُمْسِكُ الَّتِيْ قَضٰى عَلَيْهَا الْمَوْتَ وَيُرْسِلُ الْاُخْرٰۤى اِلٰۤى اَجَلٍ مُّسَمًّى اِنَّ فِيْ ذٰلِكَ لَاٰيَاتٍ لِّقَوْمٍ يَّتَفَكَّرُوْنَ
আল্লাহ জীবসমূহের প্রাণ হরণ করেন তাদের মৃত্যুর সময় এবং যারা মরেনি তাদের নিদ্রার সময়। তারপর যার জন্য তিনি মৃত্যুর ফয়সালা করেন তার প্রাণ তিনি রেখে দেন এবং অন্যগুলো ফিরিয়ে দেন একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল কওমের জন্য অনেক নিদর্শন রয়েছে। (সূরা ৩৯/যুমারঃ ৪২)
قُلِ اللهُ يُحْيِيْكُمْ ثُمَّ يُمِيْتُكُمْ ثُمَّ يَجْمَعُكُمْ اِلٰى يَوْمِ الْقِيَامَةِ لَا رَيْبَ فِيْهِ وَلٰكِنَّ اَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُوْنَ
বলো, আল্লাহই তোমাদের জীবন দেন, তারপর তোমাদের মৃত্যু ঘটান। তারপর তিনি তোমাদেরকে কিয়ামতের দিন একত্রিত করবেন, যাতে কোন সন্দেহ নেই; কিন্তু অধিকাংশ লোকই জানে না। (সূরা ৪৫/জাসিয়াঃ ২৬)
وَجَآءَتْ سَكْرَةُ الْمَوْتِ بِالْحَقِّ ذٰلِكَ مَا كُنْتَ مِنْهُ تَحِيْدُ
আর মৃত্যু যন্ত্রণা সত্যি সত্যিই আসবে, যা থেকে তুমি পলায়ন করতে চাও।
(সূরা ৫০/ক্বাফঃ ১৯)
نَحْنُ قَدَّرْنَا بَيْنَكُمُ الْمَوْتَ وَمَا نَحْنُ بِمَسْبُوْقِيْنَ
আমি তোমাদের মধ্যে মৃত্যু নির্ধারণ করেছি এবং আমাকে অক্ষম করা যাবে না।
(সূরা ৫৬/ওয়াক্বিয়াঃ ৬০)
قُلْ اِنَّ الْمَوْتَ الَّذِيْ تَفِرُّوْنَ مِنْهُ فَاِنَّهٗ مُلَاقِيْكُمْ ثُمَّ تُرَدُّوْنَ اِلٰى عَالِمِ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ فَيُنَبِّئُكُمْ بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُوْنَ
বলো, যে মৃত্যু থেকে তোমরা পলায়ন করতে চাও তা অবশ্যই তোমাদের সাথে সাক্ষাৎ করবে। তারপর তোমাদেরকে অদৃশ্য ও দৃশ্য সম্পর্কে পরিজ্ঞাত আল্লাহর কাছে ফিরিয়ে নেয়া হবে। তারপর তিনি তোমাদেরকে জানিয়ে দেবেন যা তোমরা করতে। (সূরা ৬২/জুমুআঃ ৮)
وَاَنْفِقُوا مِنْ مَّا رَزَقْنَاكُمْ مِّنْ قَبْلِ اَنْ يَّأْتِيَ اَحَدَكُمُ الْمَوْتُ فَيَقُوْلَ رَبِّ لَوْلَاۤ اَخَّرْتَنِيْۤ اِلٰى اَجَلٍ قَرِيْبٍ فَاَصَّدَّقَ وَاَكُنْ مِّنَ الصَّالِحِيْنَ
আর আমি তোমাদেরকে যে রিযিক দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করো- তোমাদের কারো মৃত্যু আসার পূর্বেই। কেননা তখন সে বলবে, হে আমার রব, যদি আপনি আমাকে আরো কিছুকাল অবকাশ দিতেন, তাহলে আমি দান-সদকা করতাম আর (তওবা ও নেককাজ করে) সৎ লোকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যেতাম। (সূরা ৬৩/মুনাফিকুনঃ ১০)
এই আয়াতগুলো এবং আরো অনেক আয়াত ও সহীহ হাদীসে মৃত্যু সম্পর্কে অনেক কিছু বলা হয়েছে যেগুলোর সারমর্ম হলো - সবাইকে একদিন মরতে হবে। মৃত্যু থেকে বাঁচার কোন পথ নেই এবং সবাইকে একদিন কিয়ামতের মাঠে বিচারের জন্য হাজির হতে হবে দুনিয়ার জীবনের সবকিছুর হিসাব দেয়ার জন্য এবং পুরস্কার লাভ অথবা শাস্তি ভোগ করার জন্য।