১
যা হবে মরণের পরে
লেখকঃ আব্দুল্লাহ শাহেদ আল-মাদানী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৮
তারা জাহান্নামে চিরকাল থাকবে, কখনও বের হতে পারবেনাঃ
কাফের, মুশরেক ও মুনাফেকেরা চিরস্থায়ীভাবে জাহান্নামে অবস্থান করবে। কখনও তা থেকে বের হতে পারবেনা। আল্লাহ তাআহলা বলেনঃ
وَالَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا وَاسْتَكْبَرُوا عَنْهَا أُوْلَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ
অর্থঃ যারা আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা বলবে এবং তা থেকে অহংকার করবে তারাই দোযখী এবং তথায় তারা চিরকাল থাকবে। (সূরা আহরাফঃ ৩৬) আল্লাহ আরো বলেনঃ
وَالَّذِينَ كَفَرُوا وَكَذَّبُوا بِآيَاتِنَا أُوْلَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ
অর্থঃ যারা আমার আয়াত সমূহের সাথে কুফরী করেছে এবং তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে তারা জাহান্নামী। তথায় তারা অনাদিকাল অবস্থান করবে। (সূরা বাকারাঃ ৩৯) আল্লাহ তাআলা মুনাফেকদের ব্যাপারে বলেনঃ
إِنَّ الْمُنَافِقِينَ فِي الدَّرْكِ الْأَسْفَلِ مِنْ النَّارِ وَلَنْ تَجِدَ لَهُمْ نَصِيرًا
অর্থঃ নিশ্চয় মুনাফেকরা জাহান্নামের সর্বনিম্নস্তরে অবস্থান করবে আর আপনি তাদের জন্যে কোন সাহায্যকারী পাবেন না। (সূরা নিসাঃ ১৪৫) যখন কাফেরদের আযাব কঠিন আকার ধারণ করবে এবং দীর্ঘ দিন পর্যন্ত তারা সকল প্রকার কল্যাণ থেকে নিরাশ ও বঞ্চিত থাকবে তখন তাদের মনে নতুন এক আশার উদয় হবে। তাই জাহান্নামের প্রহরী ওমালেকহ ফেরেশতাকে আহবান করে তারা বলবেঃ হে মালেক! আমাদেরকে মৃত্যু দান করা হোক, যাতে আমরা এই কঠিন শাস্তি হতে রেহাই পেয়ে যাই। কারণ আমরা মহা পেরেশানী এবং এমন ভয়াবহ আযাবের মধ্যে রয়েছি যা সহ্য করার মত ধৈর্য নিঃশেষ হয়ে গেছে। ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ এক হাজার বছর পর মালেক ফেরেশতা তাদের কথার উত্তর দিয়ে বলবেনঃ তোমাদেরকে এখানেই থাকতে হবে। তোমাদের জন্যে এখান থেকে বের হওয়ার কোন ব্যবস্থা রাখা হয়নি। একথা শুনে তাদের পেরেশানী ও দুঃখ আরও বেড়ে যাবে। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ
يُرِيدُونَ أَنْ يَخْرُجُوا مِنْ النَّارِ وَمَا هُمْ بِخَارِجِينَ مِنْهَا وَلَهُمْ عَذَابٌ مُقِيمٌ
অর্থঃ তারা জাহান্নামের আগুন থেকে বের হওয়ার ইচ্ছা করবে অথচ তাদের জন্যে বের হওয়ার কোন উপায় থাকবেনা। আর তাদের জন্য রয়েছে চিরস্থায়ী শাস্তি। (সূরা মায়িদাহঃ ৩৭) তারা দুনিয়াতে ফেরত পাঠানোর আবেদন করবে, কিন্তু তাদের কথার প্রতি কর্ণপাত করা হবেনা। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ
رَبَّنَا أَخْرِجْنَا مِنْهَا فَإِنْ عُدْنَا فَإِنَّا ظَالِمُونَ قَالَ اخْسَئُوا فِيهَا وَلَا تُكَلِّمُونِي
অর্থঃ তারা বলবেঃ হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে পুনরায় দুনিয়াতে পাঠিয়ে দিন। আমরা যদি আবার দুনিয়াতে পাপের কাজে লিপ্ত হই তাহলে জালেমদের অন্তর্ভূক্ত হব। আল্লাহ বলবেনঃ তোমরা এখানেই পড়ে থাক এবং আমার সাথে কোন কথা বলো না। (সূরা মুমিনূনঃ ১০৭-১০৮)
ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) বলেনঃ
إِذَا صَارَ أَهْلُ الْجَنَّةِ إِلَى الْجَنَّةِ وَأَهْلُ النَّارِ إِلَى النَّارِ جِيءَ بِالْمَوْتِ حَتَّى يُجْعَلَ بَيْنَ الْجَنَّةِ وَالنَّارِ ثُمَّ يُذْبَحُ ثُمَّ يُنَادِي مُنَادٍ يَا أَهْلَ الْجَنَّةِ لَا مَوْتَ وَيَا أَهْلَ النَّارِ لَا مَوْتَ فَيَزْدَادُ أَهْلُ الْجَنَّةِ فَرَحًا إِلَى فَرَحِهِمْ وَيَزْدَادُ أَهْلُ النَّارِ حُزْنًا إِلَى حُزْنِهِمْ
অর্থঃ যখন জান্নাতবাসীগণ জান্নাতে চলে যাবেন এবং জাহান্নামীরা জাহান্নামে প্রবেশ করবে তখন মৃত্যুকে নিয়ে আসা হবে এবং তাকে জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্যবর্তী একটি স্থানে রেখে যবেহ করে দিয়ে ঘোষণা করা হবেঃ হে জান্নাতবাসীগণ! তোমাদের আর মৃত্যু হবেনা। তোমরা এখানে অনাদিকাল অবস্থান করবে। ওহে জাহান্নামীরা! তোরা চিরকাল একঠিন আযাব ভোগ করবে। তোদের আর মৃত্যু হবেনা। একথা শুনে বেহেশতের অধিবাসীদের আনন্দ ও খুশী আরো বেড়ে যাবে এবং জাহান্নামীদের দুঃখ ও পেরেশানী আরো বৃদ্ধি পাবে। [-বুখারী, অধ্যায়ঃ কিতাবুর রিকাক।]
অন্য বর্ণনায় এসেছে, কিয়ামতের দিন মৃত্যুকে সাদা-কালো মিশ্রিত রঙ্গের একটি দুম্বার আকৃতিতে জান্নাত এবং জাহন্নামের মবধ্যবর্তী একটি নির্দিষ্ট স্থানে উপস্থিত করে প্রথমে জান্নাতের অধিবাসীদেরকে ডাক দিয়ে জিজ্ঞেস করা হবে, হে জান্নাতবাসীগণ! তোমরা কি একে চেন? তাঁরা বলবেনঃ আমরা তাকে চিনি। সে হলো মৃত্যু। অতঃপর জাহান্নামীদেরকে জিজ্ঞেস করা হবেঃ তোমরা কি একে চেন? তারা বলবেঃ আমরা তাকে চিনি। সে হলো মৃত্যু। অতঃপর তাকে যবেহ করে দেয়া হবে।
এই হাদীছটি বর্ণনা করার পর ইমাম কুরতুবী (রঃ) বলেনঃ এই হাদীছটি কাফেরদের চিরস্থায়ী জাহান্নামী হওয়ার ব্যাপারে সুস্পষ্ট দলীল। নির্দিষ্ট কোন সীমা বা কাল পর্যন্ত নয়। বরং তারা কোন প্রকার জীবন-মৃত্যু, আরাম-আয়েশ ও নাজাত ছাড়াই অনাদিকাল পর্যন্ত জাহান্নামে অবস্থান করবে। আল্লাহ তাআলা তাঁর মহাগ্রন্থ আল-কুরআনে কাফেরদের শাস্তি বর্ণনা করতে গিয়ে বলেনঃ
وَالَّذِينَ كَفَرُوا لَهُمْ نَارُ جَهَنَّمَ لَا يُقْضَى عَلَيْهِمْ فَيَمُوتُوا وَلَا يُخَفَّفُ عَنْهُمْ مِنْ عَذَابِهَا كَذَلِكَ نَجْزِي كُلَّ كَفُورٍ
অর্থঃ যারা কুফরী করেছে তাদের জন্যে রয়েছে জাহান্নামের আগুনের শাস্তি। তাদেরকে মৃত্যুর আদেশও দেয়া হবে না যে তারা মরে যাবে এবং তাদের থেকে শাস্তিও লাঘব করা হবেনা। আমি প্রত্যেক কাফেরকে এভাবেই শাস্তি দিয়ে থাকি। (সূরা ফাতিরঃ ৩৬) আল্লাহ বলেনঃ
كُلَّمَا نَضِجَتْ جُلُودُهُمْ بَدَّلْنَاهُمْ جُلُودًا غَيْرَهَا
অর্থঃ আগুনের তাপে যখন তাদের চামড়াগুলো জ্বলে-পুড়ে যাবে তখন আবার আমি তা পালটে দেব অন্য চামড়া দিয়ে। (সূরা নিসাঃ ৫৬) আল্লাহ তাআলা আরো বলেনঃ
فَالَّذِينَ كَفَرُوا قُطِّعَتْ لَهُمْ ثِيَابٌ مِنْ نَارٍ يُصَبُّ مِنْ فَوْقِ رُءُوسِهِمْ الْحَمِيمُ يُصْهَرُ بِهِ مَا فِي بُطُونِهِمْ وَالْجُلُودُ وَلَهُمْ مَقَامِعُ مِنْ حَدِيدٍ كُلَّمَا أَرَادُوا أَنْ يَخْرُجُوا مِنْهَا مِنْ غَمٍّ أُعِيدُوا فِيهَا
অর্থঃ অতএব যারা কাফের তাদের জন্যে আগুনের পোশাক তৈরী করা হয়েছে। তাদের মাথার উপর ফুটন্ত পানি ঢেলে দেয়া হবে। ফলে তাদের পেটে যা আছে তা এবং চর্ম গলে বের হয়ে যাবে। তাদের জন্য রয়েছে লোহার হাতুড়ি। তারা যখনই যন্ত্রনায় অতিষ্ট হয়ে জাহান্নাম থেকে বের হতে চাইবে তখনই তাতে ফেরত দেয়া হবে। (সূরা হজ্জঃ ১৯-২২)
وَالَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا وَاسْتَكْبَرُوا عَنْهَا أُوْلَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ
অর্থঃ যারা আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা বলবে এবং তা থেকে অহংকার করবে তারাই দোযখী এবং তথায় তারা চিরকাল থাকবে। (সূরা আহরাফঃ ৩৬) আল্লাহ আরো বলেনঃ
وَالَّذِينَ كَفَرُوا وَكَذَّبُوا بِآيَاتِنَا أُوْلَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ
অর্থঃ যারা আমার আয়াত সমূহের সাথে কুফরী করেছে এবং তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে তারা জাহান্নামী। তথায় তারা অনাদিকাল অবস্থান করবে। (সূরা বাকারাঃ ৩৯) আল্লাহ তাআলা মুনাফেকদের ব্যাপারে বলেনঃ
إِنَّ الْمُنَافِقِينَ فِي الدَّرْكِ الْأَسْفَلِ مِنْ النَّارِ وَلَنْ تَجِدَ لَهُمْ نَصِيرًا
অর্থঃ নিশ্চয় মুনাফেকরা জাহান্নামের সর্বনিম্নস্তরে অবস্থান করবে আর আপনি তাদের জন্যে কোন সাহায্যকারী পাবেন না। (সূরা নিসাঃ ১৪৫) যখন কাফেরদের আযাব কঠিন আকার ধারণ করবে এবং দীর্ঘ দিন পর্যন্ত তারা সকল প্রকার কল্যাণ থেকে নিরাশ ও বঞ্চিত থাকবে তখন তাদের মনে নতুন এক আশার উদয় হবে। তাই জাহান্নামের প্রহরী ওমালেকহ ফেরেশতাকে আহবান করে তারা বলবেঃ হে মালেক! আমাদেরকে মৃত্যু দান করা হোক, যাতে আমরা এই কঠিন শাস্তি হতে রেহাই পেয়ে যাই। কারণ আমরা মহা পেরেশানী এবং এমন ভয়াবহ আযাবের মধ্যে রয়েছি যা সহ্য করার মত ধৈর্য নিঃশেষ হয়ে গেছে। ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ এক হাজার বছর পর মালেক ফেরেশতা তাদের কথার উত্তর দিয়ে বলবেনঃ তোমাদেরকে এখানেই থাকতে হবে। তোমাদের জন্যে এখান থেকে বের হওয়ার কোন ব্যবস্থা রাখা হয়নি। একথা শুনে তাদের পেরেশানী ও দুঃখ আরও বেড়ে যাবে। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ
يُرِيدُونَ أَنْ يَخْرُجُوا مِنْ النَّارِ وَمَا هُمْ بِخَارِجِينَ مِنْهَا وَلَهُمْ عَذَابٌ مُقِيمٌ
অর্থঃ তারা জাহান্নামের আগুন থেকে বের হওয়ার ইচ্ছা করবে অথচ তাদের জন্যে বের হওয়ার কোন উপায় থাকবেনা। আর তাদের জন্য রয়েছে চিরস্থায়ী শাস্তি। (সূরা মায়িদাহঃ ৩৭) তারা দুনিয়াতে ফেরত পাঠানোর আবেদন করবে, কিন্তু তাদের কথার প্রতি কর্ণপাত করা হবেনা। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ
رَبَّنَا أَخْرِجْنَا مِنْهَا فَإِنْ عُدْنَا فَإِنَّا ظَالِمُونَ قَالَ اخْسَئُوا فِيهَا وَلَا تُكَلِّمُونِي
অর্থঃ তারা বলবেঃ হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে পুনরায় দুনিয়াতে পাঠিয়ে দিন। আমরা যদি আবার দুনিয়াতে পাপের কাজে লিপ্ত হই তাহলে জালেমদের অন্তর্ভূক্ত হব। আল্লাহ বলবেনঃ তোমরা এখানেই পড়ে থাক এবং আমার সাথে কোন কথা বলো না। (সূরা মুমিনূনঃ ১০৭-১০৮)
ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) বলেনঃ
إِذَا صَارَ أَهْلُ الْجَنَّةِ إِلَى الْجَنَّةِ وَأَهْلُ النَّارِ إِلَى النَّارِ جِيءَ بِالْمَوْتِ حَتَّى يُجْعَلَ بَيْنَ الْجَنَّةِ وَالنَّارِ ثُمَّ يُذْبَحُ ثُمَّ يُنَادِي مُنَادٍ يَا أَهْلَ الْجَنَّةِ لَا مَوْتَ وَيَا أَهْلَ النَّارِ لَا مَوْتَ فَيَزْدَادُ أَهْلُ الْجَنَّةِ فَرَحًا إِلَى فَرَحِهِمْ وَيَزْدَادُ أَهْلُ النَّارِ حُزْنًا إِلَى حُزْنِهِمْ
অর্থঃ যখন জান্নাতবাসীগণ জান্নাতে চলে যাবেন এবং জাহান্নামীরা জাহান্নামে প্রবেশ করবে তখন মৃত্যুকে নিয়ে আসা হবে এবং তাকে জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্যবর্তী একটি স্থানে রেখে যবেহ করে দিয়ে ঘোষণা করা হবেঃ হে জান্নাতবাসীগণ! তোমাদের আর মৃত্যু হবেনা। তোমরা এখানে অনাদিকাল অবস্থান করবে। ওহে জাহান্নামীরা! তোরা চিরকাল একঠিন আযাব ভোগ করবে। তোদের আর মৃত্যু হবেনা। একথা শুনে বেহেশতের অধিবাসীদের আনন্দ ও খুশী আরো বেড়ে যাবে এবং জাহান্নামীদের দুঃখ ও পেরেশানী আরো বৃদ্ধি পাবে। [-বুখারী, অধ্যায়ঃ কিতাবুর রিকাক।]
অন্য বর্ণনায় এসেছে, কিয়ামতের দিন মৃত্যুকে সাদা-কালো মিশ্রিত রঙ্গের একটি দুম্বার আকৃতিতে জান্নাত এবং জাহন্নামের মবধ্যবর্তী একটি নির্দিষ্ট স্থানে উপস্থিত করে প্রথমে জান্নাতের অধিবাসীদেরকে ডাক দিয়ে জিজ্ঞেস করা হবে, হে জান্নাতবাসীগণ! তোমরা কি একে চেন? তাঁরা বলবেনঃ আমরা তাকে চিনি। সে হলো মৃত্যু। অতঃপর জাহান্নামীদেরকে জিজ্ঞেস করা হবেঃ তোমরা কি একে চেন? তারা বলবেঃ আমরা তাকে চিনি। সে হলো মৃত্যু। অতঃপর তাকে যবেহ করে দেয়া হবে।
এই হাদীছটি বর্ণনা করার পর ইমাম কুরতুবী (রঃ) বলেনঃ এই হাদীছটি কাফেরদের চিরস্থায়ী জাহান্নামী হওয়ার ব্যাপারে সুস্পষ্ট দলীল। নির্দিষ্ট কোন সীমা বা কাল পর্যন্ত নয়। বরং তারা কোন প্রকার জীবন-মৃত্যু, আরাম-আয়েশ ও নাজাত ছাড়াই অনাদিকাল পর্যন্ত জাহান্নামে অবস্থান করবে। আল্লাহ তাআলা তাঁর মহাগ্রন্থ আল-কুরআনে কাফেরদের শাস্তি বর্ণনা করতে গিয়ে বলেনঃ
وَالَّذِينَ كَفَرُوا لَهُمْ نَارُ جَهَنَّمَ لَا يُقْضَى عَلَيْهِمْ فَيَمُوتُوا وَلَا يُخَفَّفُ عَنْهُمْ مِنْ عَذَابِهَا كَذَلِكَ نَجْزِي كُلَّ كَفُورٍ
অর্থঃ যারা কুফরী করেছে তাদের জন্যে রয়েছে জাহান্নামের আগুনের শাস্তি। তাদেরকে মৃত্যুর আদেশও দেয়া হবে না যে তারা মরে যাবে এবং তাদের থেকে শাস্তিও লাঘব করা হবেনা। আমি প্রত্যেক কাফেরকে এভাবেই শাস্তি দিয়ে থাকি। (সূরা ফাতিরঃ ৩৬) আল্লাহ বলেনঃ
كُلَّمَا نَضِجَتْ جُلُودُهُمْ بَدَّلْنَاهُمْ جُلُودًا غَيْرَهَا
অর্থঃ আগুনের তাপে যখন তাদের চামড়াগুলো জ্বলে-পুড়ে যাবে তখন আবার আমি তা পালটে দেব অন্য চামড়া দিয়ে। (সূরা নিসাঃ ৫৬) আল্লাহ তাআলা আরো বলেনঃ
فَالَّذِينَ كَفَرُوا قُطِّعَتْ لَهُمْ ثِيَابٌ مِنْ نَارٍ يُصَبُّ مِنْ فَوْقِ رُءُوسِهِمْ الْحَمِيمُ يُصْهَرُ بِهِ مَا فِي بُطُونِهِمْ وَالْجُلُودُ وَلَهُمْ مَقَامِعُ مِنْ حَدِيدٍ كُلَّمَا أَرَادُوا أَنْ يَخْرُجُوا مِنْهَا مِنْ غَمٍّ أُعِيدُوا فِيهَا
অর্থঃ অতএব যারা কাফের তাদের জন্যে আগুনের পোশাক তৈরী করা হয়েছে। তাদের মাথার উপর ফুটন্ত পানি ঢেলে দেয়া হবে। ফলে তাদের পেটে যা আছে তা এবং চর্ম গলে বের হয়ে যাবে। তাদের জন্য রয়েছে লোহার হাতুড়ি। তারা যখনই যন্ত্রনায় অতিষ্ট হয়ে জাহান্নাম থেকে বের হতে চাইবে তখনই তাতে ফেরত দেয়া হবে। (সূরা হজ্জঃ ১৯-২২)