১
যা হবে মরণের পরে
লেখকঃ আব্দুল্লাহ শাহেদ আল-মাদানী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৫৪
এসো তাওবার পথে
হে আল্লাহর বান্দা! যে সমস্ত অপরাধের কারণে আখেরাতে শাস্তি হবে তুমি তা অবগত হলে। তোমার দ্বারা যদি উপরোক্ত পাপকর্মগুলো বা তার কোন একটি সংঘটিত হয়ে থাকে কাল বিলম্ব না করে ফিরে এসো তাওবার পথে। তোমার জন্যে এখনও তাওবার দরজা উম্মুক্ত রয়েছে। তাওবা করলে আল্লাহ তোমাদের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ
التَّائِبُ مِنَ الذَّنْبِ كَمَنْ لَا ذَنْبَ لَهُ
অপরাধ করার পর যে তাওবা করে সে ঐ ব্যক্তির ন্যায় যে কোন অপরাধই করেনি। [- ইবনে মাজাহ, অধ্যায়ঃ কিতাবুয যুহ্দ।] আল্লাহ তাআলা বলেনঃ
قُلْ ياَ عِباَدِيَ الَّذِيْنَ أسْرَفُوْا عَلىَ أنْفُسِهِمْ لاَتَقْنَطُوْا مِنْ رَحْمَةِ اللهِ إنَّ اللهَ يَغْفِرُ الذُّنُوْبَ جَمِيْعاً إنَّهُ هُوَ الْغَفُوْرُ الرَّحِيْمُ
‘‘আপনি বলে দিন, হে আমার বান্দাগণ! তোমরা যারা (গুনাহর কাজে ভলপ্ত হয়ে) নিজেদের উপর অন্যায় করেছ তোমরা আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ হয়োনা। নিশ্চয়ই আল্লাহ সমুদয় পাপ ক্ষমা করেন। নিশ্চয় তিনি অতিব ক্ষমা পরায়ণ, পরম করতণ্ব নিধান’’। (সূরা যুমারঃ ৫৩) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ
لَلَّهُ أَشَدُّ فَرَحًا بِتَوْبَةِ عَبْدِهِ حِينَ يَتُوبُ إِلَيْهِ مِنْ أَحَدِكُمْ كَانَ عَلَى رَاحِلَتِهِ بِأَرْضِ فَلَاةٍ فَانْفَلَتَتْ مِنْهُ وَعَلَيْهَا طَعَامُهُ وَشَرَابُهُ فَأَيِسَ مِنْهَا فَأَتَى شَجَرَةً فَاضْطَجَعَ فِي ظِلِّهَا قَدْ أَيِسَ مِنْ رَاحِلَتِهِ فَبَيْنَا هُوَ كَذَلِكَ إِذَا هُوَ بِهَا قَائِمَةً عِنْدَهُ فَأَخَذَ بِخِطَامِهَا ثُمَّ قَالَ مِنْ شِدَّةِ الْفَرَحِ اللَّهُمَّ أَنْتَ عَبْدِي وَأَنَا رَبُّكَ أَخْطَأَ مِنْ شِدَّةِ الْفَرَحِ
অর্থঃ ‘‘বান্দা যখন তাওব্ব করে তখন আল্লাহ তার প্রতি ঐ ব্যত্তিুর চেয়ে অধিক খুশি হন যে তার বাহনে আরোহন করে সফরে বের হল। বাহনের উপরেই ছিল তার খাদ্য-পানীয় ও সফর সামগ্রী। নির্জন মরুভূমির উপর দিয়ে সফর করার সময় বিশ্রামার্থে সে একটি বৃক্ষের নীচে অবতরণ করল। অতঃপর মাটিতে মাথা রেখে এক সময় ঘুমিয়ে পড়ে। ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে দেখল তার বাহন কোথায় যেন চলে গেছে। সে নিরাশ হয়ে একটি গাছের নীচে এসে আবার শুয়ে পড়ল। কিছুক্ষণ পর সে দেখতে পেলো, তার হারানো বাহনটি সমুদয় খাদ্য-পানীয়সহ মাথার পাশে দাড়িয়ে আছে। বাহনটির লাগাম ধরে আনন্দে আত্মহারা হয়ে বলে উঠলো, হে আল্লাহ! আপনি আমার বান্দা, আমি আপনার প্রভু। অতি আনন্দের কারণেই সে এত বড় ভুল করে বসেছো। [- মুসলিম, অধ্যায়ঃ কিতাবুত্ তাওবা।] নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ
كَانَ فِيمَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ رَجُلٌ قَتَلَ تِسْعَةً وَتِسْعِينَ نَفْسًا فَسَأَلَ عَنْ أَعْلَمِ أَهْلِ الْأَرْضِ فَدُلَّ عَلَى رَاهِبٍ فَأَتَاهُ فَقَالَ إِنَّهُ قَتَلَ تِسْعَةً وَتِسْعِينَ نَفْسًا فَهَلْ لَهُ مِنْ تَوْبَةٍ فَقَالَ لَا فَقَتَلَهُ فَكَمَّلَ بِهِ مِائَةً ثُمَّ سَأَلَ عَنْ أَعْلَمِ أَهْلِ الْأَرْضِ فَدُلَّ عَلَى رَجُلٍ عَالِمٍ فَقَالَ إِنَّهُ قَتَلَ مِائَةَ نَفْسٍ فَهَلْ لَهُ مِنْ تَوْبَةٍ فَقَالَ نَعَمْ وَمَنْ يَحُولُ بَيْنَهُ وَبَيْنَ التَّوْبَةِ انْطَلِقْ إِلَى أَرْضِ كَذَا وَكَذَا فَإِنَّ بِهَا أُنَاسًا يَعْبُدُونَ اللَّهَ فَاعْبُدِ اللَّهَ مَعَهُمْ وَلَا تَرْجِعْ إِلَى أَرْضِكَ فَإِنَّهَا أَرْضُ سَوْءٍ فَانْطَلَقَ حَتَّى إِذَا نَصَفَ الطَّرِيقَ أَتَاهُ الْمَوْتُ فَاخْتَصَمَتْ فِيهِ مَلَائِكَةُ الرَّحْمَةِ وَمَلَائِكَةُ الْعَذَابِ فَقَالَتْ مَلَائِكَةُ الرَّحْمَةِ جَاءَ تَائِبًا مُقْبِلًا بِقَلْبِهِ إِلَى اللَّهِ وَقَالَتْ مَلَائِكَةُ الْعَذَابِ إِنَّهُ لَمْ يَعْمَلْ خَيْرًا قَطُّ فَأَتَاهُمْ مَلَكٌ فِي صُورَةِ آدَمِيٍّ فَجَعَلُوهُ بَيْنَهُمْ فَقَالَ قِيسُوا مَا بَيْنَ الْأَرْضَيْنِ فَإِلَى أَيَّتِهِمَا كَانَ أَدْنَى فَهُوَ لَهُ فَقَاسُوهُ فَوَجَدُوهُ أَدْنَى إِلَى الْأَرْضِ الَّتِي أَرَادَ فَقَبَضَتْهُ مَلَائِكَةُ الرَّحْمَةِ
অর্থঃ তোমাদের পূর্ববর্তীদের মধ্যে জনৈক ব্যক্তি নিরানব্বই জন লোককে হত্যা করল। অতঢ়পর লোকদেরকে জিজ্ঞেস করলোঃ পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় আলেম কে? বলা হলো অমুক পাদ্রী। সে তার নিকট গিয়ে বললঃ আমি তো নিরানব্বই জন মানুষকে হত্যা করেছি। আমার কি তাওবা করার কোন পথ আছে? পাদ্রী বললঢ় না, তোমার কোন তাওবা নেই। একথা শুনে সে তাকেও হত্যা করে ফেলল এবং একশত সংখ্যা পূর্ণ করল। অতঢ়পর আবার সে লোকদেরকে জিজ্ঞেস করলোঃ এযুগের সবচেয়ে বড় আলেম কে? তাকে একজন আলেম ব্যত্তিুর সন্ধান দেয়া হল। সে তাঁর নিকট গিয়ে প্রশণ করল, আমি একশত প্রাণ হত্যা করেছি। আমার কি তওবার কোন সুযোগ আছে? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ তোমার এবং তাওবার মাঝে কোন অমতরায় নেই। তুমি অমুক স্থানে চলে যাও। সেখানে একদল লোক পাবে যারা আল্লাহর এবাদতে লিপ্ত। তুমিও তাদের সাথে আল্লাহর এবাদতে লিপ্ত হয়ে যাও। আর নিজের এলাকায় কখনও ফিরে এসোনা। সে তথায় রওয়ানা হয়ে গেল।
অর্ধেক পথ অতিক্রম করার পর তার মৃত্যু উপস্থিত হয়ে গেল। মৃত্যুর পর রহমতের ফেরেশতা এবং আযাবের ফেরেশতা এসে পরস্পর বিতর্কে লিপ্ত হয়ে গেলেন। রহমতের ফেরেশতাগণ বললেনঃ সে তাওবা করে আল্লাহর কাছে ফেরত এসেছে। সুতরাং আমরা তার জান কবজ করে আল্লাহর রহমতের দিকে নিয়ে যাব। আজাবের ফেরেশতাগণ বললেনঃ সে কখনও ভাল কাজ করেনি। বরং সে একশটি প্রাণ হত্যা করেছে। আমরা তার জান কবজ করে আল্লাহর আযাবের দিকে নিয়ে যাব। এমতাবস্থায় মানুষের আকৃতিতে একজন ফেরেশতা আগমণ করলেন। তারা তাকে উভয় দলের মাঝে বিচারক নির্ধারণ করলেন। তিনি ফয়সালা দিলেন যে, তোমরা এই স্থান থেকে দুহদিকের রাস্তা মেপে দেখ। তারা দুহদিকের রাস্তা মেপে দেখল যে এলাকার দিকে সে রওনা হয়েছিল সে দিকে অধিক নিকটবর্তী। তাই রহমতের ফেরেশতাগণ তার জান কবজ করলেন। [- বুখারী, অধ্যায়ঃ আহাদীছুল আম্বীয়া।]
অন্য একটি বিশুদ্ধ বর্ণনায় এসেছে, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ দেখা গেল সৎব্যক্তিদের এলাকাটি মাত্র অর্ধহাত অধিক নিকটবর্তী। অতঢ়পর তাকে সেই সৎব্যw³দের অমতর্ভূত্তু করে দেয়া হল।
التَّائِبُ مِنَ الذَّنْبِ كَمَنْ لَا ذَنْبَ لَهُ
অপরাধ করার পর যে তাওবা করে সে ঐ ব্যক্তির ন্যায় যে কোন অপরাধই করেনি। [- ইবনে মাজাহ, অধ্যায়ঃ কিতাবুয যুহ্দ।] আল্লাহ তাআলা বলেনঃ
قُلْ ياَ عِباَدِيَ الَّذِيْنَ أسْرَفُوْا عَلىَ أنْفُسِهِمْ لاَتَقْنَطُوْا مِنْ رَحْمَةِ اللهِ إنَّ اللهَ يَغْفِرُ الذُّنُوْبَ جَمِيْعاً إنَّهُ هُوَ الْغَفُوْرُ الرَّحِيْمُ
‘‘আপনি বলে দিন, হে আমার বান্দাগণ! তোমরা যারা (গুনাহর কাজে ভলপ্ত হয়ে) নিজেদের উপর অন্যায় করেছ তোমরা আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ হয়োনা। নিশ্চয়ই আল্লাহ সমুদয় পাপ ক্ষমা করেন। নিশ্চয় তিনি অতিব ক্ষমা পরায়ণ, পরম করতণ্ব নিধান’’। (সূরা যুমারঃ ৫৩) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ
لَلَّهُ أَشَدُّ فَرَحًا بِتَوْبَةِ عَبْدِهِ حِينَ يَتُوبُ إِلَيْهِ مِنْ أَحَدِكُمْ كَانَ عَلَى رَاحِلَتِهِ بِأَرْضِ فَلَاةٍ فَانْفَلَتَتْ مِنْهُ وَعَلَيْهَا طَعَامُهُ وَشَرَابُهُ فَأَيِسَ مِنْهَا فَأَتَى شَجَرَةً فَاضْطَجَعَ فِي ظِلِّهَا قَدْ أَيِسَ مِنْ رَاحِلَتِهِ فَبَيْنَا هُوَ كَذَلِكَ إِذَا هُوَ بِهَا قَائِمَةً عِنْدَهُ فَأَخَذَ بِخِطَامِهَا ثُمَّ قَالَ مِنْ شِدَّةِ الْفَرَحِ اللَّهُمَّ أَنْتَ عَبْدِي وَأَنَا رَبُّكَ أَخْطَأَ مِنْ شِدَّةِ الْفَرَحِ
অর্থঃ ‘‘বান্দা যখন তাওব্ব করে তখন আল্লাহ তার প্রতি ঐ ব্যত্তিুর চেয়ে অধিক খুশি হন যে তার বাহনে আরোহন করে সফরে বের হল। বাহনের উপরেই ছিল তার খাদ্য-পানীয় ও সফর সামগ্রী। নির্জন মরুভূমির উপর দিয়ে সফর করার সময় বিশ্রামার্থে সে একটি বৃক্ষের নীচে অবতরণ করল। অতঃপর মাটিতে মাথা রেখে এক সময় ঘুমিয়ে পড়ে। ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে দেখল তার বাহন কোথায় যেন চলে গেছে। সে নিরাশ হয়ে একটি গাছের নীচে এসে আবার শুয়ে পড়ল। কিছুক্ষণ পর সে দেখতে পেলো, তার হারানো বাহনটি সমুদয় খাদ্য-পানীয়সহ মাথার পাশে দাড়িয়ে আছে। বাহনটির লাগাম ধরে আনন্দে আত্মহারা হয়ে বলে উঠলো, হে আল্লাহ! আপনি আমার বান্দা, আমি আপনার প্রভু। অতি আনন্দের কারণেই সে এত বড় ভুল করে বসেছো। [- মুসলিম, অধ্যায়ঃ কিতাবুত্ তাওবা।] নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ
كَانَ فِيمَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ رَجُلٌ قَتَلَ تِسْعَةً وَتِسْعِينَ نَفْسًا فَسَأَلَ عَنْ أَعْلَمِ أَهْلِ الْأَرْضِ فَدُلَّ عَلَى رَاهِبٍ فَأَتَاهُ فَقَالَ إِنَّهُ قَتَلَ تِسْعَةً وَتِسْعِينَ نَفْسًا فَهَلْ لَهُ مِنْ تَوْبَةٍ فَقَالَ لَا فَقَتَلَهُ فَكَمَّلَ بِهِ مِائَةً ثُمَّ سَأَلَ عَنْ أَعْلَمِ أَهْلِ الْأَرْضِ فَدُلَّ عَلَى رَجُلٍ عَالِمٍ فَقَالَ إِنَّهُ قَتَلَ مِائَةَ نَفْسٍ فَهَلْ لَهُ مِنْ تَوْبَةٍ فَقَالَ نَعَمْ وَمَنْ يَحُولُ بَيْنَهُ وَبَيْنَ التَّوْبَةِ انْطَلِقْ إِلَى أَرْضِ كَذَا وَكَذَا فَإِنَّ بِهَا أُنَاسًا يَعْبُدُونَ اللَّهَ فَاعْبُدِ اللَّهَ مَعَهُمْ وَلَا تَرْجِعْ إِلَى أَرْضِكَ فَإِنَّهَا أَرْضُ سَوْءٍ فَانْطَلَقَ حَتَّى إِذَا نَصَفَ الطَّرِيقَ أَتَاهُ الْمَوْتُ فَاخْتَصَمَتْ فِيهِ مَلَائِكَةُ الرَّحْمَةِ وَمَلَائِكَةُ الْعَذَابِ فَقَالَتْ مَلَائِكَةُ الرَّحْمَةِ جَاءَ تَائِبًا مُقْبِلًا بِقَلْبِهِ إِلَى اللَّهِ وَقَالَتْ مَلَائِكَةُ الْعَذَابِ إِنَّهُ لَمْ يَعْمَلْ خَيْرًا قَطُّ فَأَتَاهُمْ مَلَكٌ فِي صُورَةِ آدَمِيٍّ فَجَعَلُوهُ بَيْنَهُمْ فَقَالَ قِيسُوا مَا بَيْنَ الْأَرْضَيْنِ فَإِلَى أَيَّتِهِمَا كَانَ أَدْنَى فَهُوَ لَهُ فَقَاسُوهُ فَوَجَدُوهُ أَدْنَى إِلَى الْأَرْضِ الَّتِي أَرَادَ فَقَبَضَتْهُ مَلَائِكَةُ الرَّحْمَةِ
অর্থঃ তোমাদের পূর্ববর্তীদের মধ্যে জনৈক ব্যক্তি নিরানব্বই জন লোককে হত্যা করল। অতঢ়পর লোকদেরকে জিজ্ঞেস করলোঃ পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় আলেম কে? বলা হলো অমুক পাদ্রী। সে তার নিকট গিয়ে বললঃ আমি তো নিরানব্বই জন মানুষকে হত্যা করেছি। আমার কি তাওবা করার কোন পথ আছে? পাদ্রী বললঢ় না, তোমার কোন তাওবা নেই। একথা শুনে সে তাকেও হত্যা করে ফেলল এবং একশত সংখ্যা পূর্ণ করল। অতঢ়পর আবার সে লোকদেরকে জিজ্ঞেস করলোঃ এযুগের সবচেয়ে বড় আলেম কে? তাকে একজন আলেম ব্যত্তিুর সন্ধান দেয়া হল। সে তাঁর নিকট গিয়ে প্রশণ করল, আমি একশত প্রাণ হত্যা করেছি। আমার কি তওবার কোন সুযোগ আছে? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ তোমার এবং তাওবার মাঝে কোন অমতরায় নেই। তুমি অমুক স্থানে চলে যাও। সেখানে একদল লোক পাবে যারা আল্লাহর এবাদতে লিপ্ত। তুমিও তাদের সাথে আল্লাহর এবাদতে লিপ্ত হয়ে যাও। আর নিজের এলাকায় কখনও ফিরে এসোনা। সে তথায় রওয়ানা হয়ে গেল।
অর্ধেক পথ অতিক্রম করার পর তার মৃত্যু উপস্থিত হয়ে গেল। মৃত্যুর পর রহমতের ফেরেশতা এবং আযাবের ফেরেশতা এসে পরস্পর বিতর্কে লিপ্ত হয়ে গেলেন। রহমতের ফেরেশতাগণ বললেনঃ সে তাওবা করে আল্লাহর কাছে ফেরত এসেছে। সুতরাং আমরা তার জান কবজ করে আল্লাহর রহমতের দিকে নিয়ে যাব। আজাবের ফেরেশতাগণ বললেনঃ সে কখনও ভাল কাজ করেনি। বরং সে একশটি প্রাণ হত্যা করেছে। আমরা তার জান কবজ করে আল্লাহর আযাবের দিকে নিয়ে যাব। এমতাবস্থায় মানুষের আকৃতিতে একজন ফেরেশতা আগমণ করলেন। তারা তাকে উভয় দলের মাঝে বিচারক নির্ধারণ করলেন। তিনি ফয়সালা দিলেন যে, তোমরা এই স্থান থেকে দুহদিকের রাস্তা মেপে দেখ। তারা দুহদিকের রাস্তা মেপে দেখল যে এলাকার দিকে সে রওনা হয়েছিল সে দিকে অধিক নিকটবর্তী। তাই রহমতের ফেরেশতাগণ তার জান কবজ করলেন। [- বুখারী, অধ্যায়ঃ আহাদীছুল আম্বীয়া।]
অন্য একটি বিশুদ্ধ বর্ণনায় এসেছে, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ দেখা গেল সৎব্যক্তিদের এলাকাটি মাত্র অর্ধহাত অধিক নিকটবর্তী। অতঢ়পর তাকে সেই সৎব্যw³দের অমতর্ভূত্তু করে দেয়া হল।