hadith book logo

যা হবে মরণের পরে

লেখকঃ আব্দুল্লাহ শাহেদ আল-মাদানী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩২

ঋণ পরিশোধ না করে মৃত্যু বরণ করার শাস্তিঃ

সাহাবী সাহদ বিন আতওয়াল (রাঃ) বলেনঃ আমার ভাই মারা গেল। মরার সময় সে ৩০০ দিরহাম রেখে গেল। আমি স্থির করলাম যে ঐ ৩০০ দিরহাম তার ছেলে-মেয়েদের জন্য খরচ করবো। কিন্তু ভাই ছিল ঋণগ্রস্ত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর কাছে এ খবর পৌঁছলে তিনি আমাকে বললেনঃ তোমার ভাই ঋণের ফলে আটকে আছে। তার ঋণ পরিশোধ করে দাও। [- আহমাদ, ইবনে মাজাহ।]

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঋণ রেখে মৃত্যুবরণকারীর জানাযা পড়তেন না। একদা একটি জানাযা উপস্থিত হলে সকলে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে জানাযা পড়ার অনুরোধ করল। তিনি প্রশ্ন করলেনঃ ওর কি কোন ঋণ পরিশোধ করা বাকী আছে? সকলে বললঃ তিন দীনার। তারপর বললেনঃ ও কি কোন সম্পদ ছেড়ে যাচ্ছে? সকলে বললঃ না। একথা শুনে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তোমরা তোমাদের সাথীর জানাযা পড়ে নাও--। [- বুখারী, অধ্যায়ঃ কিতাবুল হাওয়ালা।]

নেক আমলের ফলে জান্নাতের অধিকারী মুসলিম ব্যক্তি যদি দুনিয়াতে ঋণ রেখে যায় তাহলে তার ঋণ বেহেশতে যাওয়ার পথে বাধা ও কাঁটা হয়ে দাঁড়াবে। ঋণ পরিশোধ না করে বেহেশতে যেতে পারবেনা। পরকালে টাকা দিয়ে ঋণ পরিশোধ করা যাবেনা। দুনিয়াতে অর্জিত নেকী দিয়ে তা পরিশোধ করতে হবে। নেকীর পরিমাণ যদি ঋণের চেয়ে কম হয়, তাহলে ঋণ দাতার গুনাহ ঋণ গ্রহীতার উপর চাপিয়ে দেয়া হবে। পরিণামে জান্নাতের হকদার হওয়া সত্বেও তাকে জাহান্নামে যেতে হবে।

একদা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তোমরা কি জান অসহায় কে? সাহাবীগণ বললেনঃ যার কোন টাকা-পয়সা নেই সেই তো অসহায়। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ আমার উম্মতের মধ্যে ঐ ব্যক্তি অসহায় যে কিয়ামতের দিন নামায, রোজা ও যাকাত নিয়ে উপস্থিত হবে। কিন্তু সেই সঙ্গে এমন কিছু লোক নিয়ে উপস্থিত হবে যাদের কাউকে গালি দিয়েছে, কারো নামে মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে, কারো ধন-সম্পদ আত্মসাৎ করেছে, কাউকে খুন করেছে, কাউকে প্রহার করেছে--- ইত্যাদি। সুতরাং প্রতিশোধ হলো একে নিজের নেকী দান করবে, ওকেও নিজের নেকী দান করবে। পরিশেষে যখন নেকী শেষ হয়ে যাবে অথচ তার ঋণ শেষ হবেনা তখন তাদের গুনাহ নিয়ে এর ঘাড়ে চাপানো হবে এবং সবশেষে তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। [- মুসলিম, অধ্যায়ঃ কিতাবুল বির ওয়াস্ সিলাত।]