১
বিশ্বনবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনাদর্শ (ইমাম ইবনুল কাইয়্যেম রহ. এর যাদুল মা‘আদ হতে সংক্ষেপিত)
লেখকঃ ড. আহমাদ ইবন উসমান আল-মাযইয়াদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৪
(১২) হাদী, কুরবানী ও ‘আকীকাহ্ প্রসঙ্গে তাঁর আদর্শমালা [যাদুল মা‘আদ :২/২৮৫।]
(ক) হাদী প্রসঙ্গে তাঁর আদর্শমালা [মক্কার হারাম শরীফে হজ্জ-উমরা একই সফরে করার সুযোগ গ্রহণ করার কারণে শোকরিয়াস্বরূপ যে পশু যবেহ করতে হয় সে নির্দিষ্ট পশুকে হাদী বলা হয়।’’ অনুবাদক।]:
১. রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উট ও ছাগলপাল হাদী হিসেবে প্রেরণ করেন এবং তাঁর স্ত্রীদের পক্ষ হতে হাদী হিসেবে গরু প্রেরণ করেন। তিনি হজ্জ ও ওমরার সময় এবং (হুদায়বিয়ার সন্ধি কালে) অবস্থান স্থলে হাদী যবেহ্ করেন।
২. তাঁর আদর্শ ছিল, হাদী হিসেবে প্রেরিত ছাগলপালের গলায় বেড়ি লাগানো, সেগুলোর গলায় ছুরির আঘাতে দাগ করা নয়। তিনি স্বীয় হাদী প্রেরণের পর (ইহরাম বাঁধার পূর্বমুহুর্ত পর্যন্ত) কোনো হালাল বিষয়াদিকে নিজের উপর হারাম মনে করেন নি।
৩. তিনি হাদি হিসেবে উট প্রেরণ করলে সেগুলিকে ‘তাক্বলীদ’-গলায় বেড়ী লাগাতেন, বা ‘এশআর’ করতেন- অর্থাৎ উটের ডান কুজেঁ ছুরির আঘাতে সামান্য দাগ লাগাতেন।
৪. তিনি হাদী প্রেরণ করার সময় দূতকে বলে দিতেন যে, কোনো হাদী মৃত্যুমুখী হলে সেটি যবেহ্ করে দেবে, অতঃপর তার রক্তে স্বীয় জুতা রঙ্গিন করে তার উপরিভাগে রেখে দেবে, সে নিজে কিংবা সাথীবর্গের কেউ সে পশুর গোশ্ত ভঙ্গন করবে না, অতঃপর গোশ্ত অন্য লোকদের মাঝে বন্টন করে দেবে।
৫. তিনি হাদীতে সাহাবীদের অংশীদার করে দিতেন, উটে সাতভাগ এবং গরুতে সাত ভাগ।
৬. তিনি রাখালকে বিশেষ প্রয়োজনে অন্য সওয়ারী পাওয়া পর্যন্ত হাদীতে আরোহণ করার অনুমতি দেন।
৭. তাঁর আদর্শ ছিল: উটকে দাঁড়ানো ও বাম পা বাঁধানো অবস্থায় নহর করা, তিনি নহর করার সময় ‘বিসমিল্লাহ’ ও ‘আল্লাহু আকবর’ বলতেন।
৮. তিনি নিজ হাতেই কুরবানীর পশু যবেহ্ করেন, আবার কখনো অন্যকে অবশিষ্টগুলো যবেহ্ করার দায়িত্ব প্রদান করেন।
৯. তিনি ছাগল-দুম্বা যবেহ্ করার সময় তাঁর এক পা দিয়ে ছাগল-দুম্বার পাঁজর দাবিয়ে রাখতেন, অতঃপর ‘বিসমিল্লাহি-আল্লাহু আকবর’ বলে যবেহ্ করতেন।
১০. তিনি উম্মতকে কুরবানী ও হাদীর গোশ্ত খাওয়া ও জমা রাখার অনুমতি দিয়েছেন।
১১. তিনি কখনো হাদীর গোশ্ত বন্টন করে দিতেন, আবার কখনো বলেন: যার ইচ্ছা কিছু অংশ রেখে দেবে।
১২. তাঁর আদর্শ ছিল ওমরার হাদী যবেহ্ করা মারওয়া পাহাড়ের নিকটে, আর হজ্জে কেরানের হাদী যবেহ্ করা মিনাতে।
১৩. তিনি কখনও ইহরাম থেকে হালাল হওয়ার পূর্বে স্বীয় হাদী নহর করেননি, বরং তিনি শুধুমাত্র সূর্যোদয়ের পর এবং জমরাতে কংকর নিক্ষেপের পরই হাদী নহর করেন এবং সূর্যোদয়ের পূর্বে হাদী নহর করার অনুমতি কখনও তিনি দেননি।”
(খ) কুরবানী প্রসঙ্গে তাঁর আদর্শমালা [যাদুল মা‘আদ : ২ /২৮৯।]:
১. রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনও কুরবানী করা পরিত্যাগ করেননি এবং তিনি দু’টি দুম্বা দিয়ে কুরবানী করতেন এবং ঈদের সালাতের পর সেগুলো যবেহ্ করতেন। তিনি বলেন: “আইয়্যামে তাশরীক্ব তথা ১১, ১২, ১৩ তারিখও কুরবানীর পশু যবেহ করার দিবস।” [মুসনাদে আহমদ।]
২. তিনি আরো বলেন: যে কেউ ঈদের সালাতের পূর্বে কুরবানী করলো, তার কুরবানী বলতে কিছুই হলো না, বরং সেটা কেবল খাবার গোশ্ত হলো, যা সে নিজের পরিবার-পরিজনের জন্য আগাম ব্যবস্থা করলো।” [বুখারী, মুসলিম।]
৩. তিনি ছাগল-মেষ জাতীয় পশুর ছয় মাসের ছানা এবং পাঁচ বছর উত্তীর্ণ উট, আর দু’বছর উত্তীর্ণ গরু কুরবানী করার নির্দেশ দেন।
৪ তাঁর আদর্শ ছিল কুরবানীর জন্য সুন্দর ও ত্রুটিমুক্ত পশু বাচাই করা। তিনি কান-কাটা, শিং-ভাঙ্গা, এক চোখ-কানা, নেংড়া, পা ভাঙ্গা, ও অতি দুর্বল পশু দিয়ে কুরবানী করতে নিষেধ করেন এবং তিনি চোখ-কান ত্রুটিমুক্ত হওয়ার প্রতি লক্ষ্য রাখার নির্দেশ দেন।
৫. তিনি আরো নির্দেশ দেন, যে ব্যক্তি কুরবানী করার ইচ্ছা রাখে সে যেন যিল-হাজ্জ মাসের প্রথম দশক প্রবেশের পর নিজের নখ-চুলের কিছুই না কাটে।
৬. তাঁর আদর্শ ছিল ঈদগাহে কুরবানী করা।” [বুখারী।]
৭. তাঁর আদর্শ ছিল একটি ছাগল এক পরিবারের পক্ষ হতে যথেষ্ট হবে বলে মনে করা, যদিও সংখ্যায় তারা একাধিক হয়ে থাকে।”
(গ) আক্বীকা প্রসঙ্গে তাঁর আদর্শমালা: [যাদুল মা‘আদ: ২/২৯২।]
১. সহীহ্ সনদে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত যে, তিনি বলেছেন: “প্রত্যেক নবজাত শিশু তার আক্বীকার সাথে দায়বন্ধ থাকে, যেটি তার পক্ষ থেকে সপ্তম দিনে যবেহ্ করা হয় এবং তার মাথা-মুণ্ডন করা হয় ও নাম রাখা হয়।” [আবু দাউদ, তিরমিযী ও নাসাঈ।]
২. তিনি আরো বলেছেন: “ছেলের পক্ষ থেকে দু’টি ছাগল এবং মেয়ের পক্ষ থেকে একটি ছাগল যবেহ্ করা হবে।” [আবু দাউদ ও নাসাঈ।]
১. রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উট ও ছাগলপাল হাদী হিসেবে প্রেরণ করেন এবং তাঁর স্ত্রীদের পক্ষ হতে হাদী হিসেবে গরু প্রেরণ করেন। তিনি হজ্জ ও ওমরার সময় এবং (হুদায়বিয়ার সন্ধি কালে) অবস্থান স্থলে হাদী যবেহ্ করেন।
২. তাঁর আদর্শ ছিল, হাদী হিসেবে প্রেরিত ছাগলপালের গলায় বেড়ি লাগানো, সেগুলোর গলায় ছুরির আঘাতে দাগ করা নয়। তিনি স্বীয় হাদী প্রেরণের পর (ইহরাম বাঁধার পূর্বমুহুর্ত পর্যন্ত) কোনো হালাল বিষয়াদিকে নিজের উপর হারাম মনে করেন নি।
৩. তিনি হাদি হিসেবে উট প্রেরণ করলে সেগুলিকে ‘তাক্বলীদ’-গলায় বেড়ী লাগাতেন, বা ‘এশআর’ করতেন- অর্থাৎ উটের ডান কুজেঁ ছুরির আঘাতে সামান্য দাগ লাগাতেন।
৪. তিনি হাদী প্রেরণ করার সময় দূতকে বলে দিতেন যে, কোনো হাদী মৃত্যুমুখী হলে সেটি যবেহ্ করে দেবে, অতঃপর তার রক্তে স্বীয় জুতা রঙ্গিন করে তার উপরিভাগে রেখে দেবে, সে নিজে কিংবা সাথীবর্গের কেউ সে পশুর গোশ্ত ভঙ্গন করবে না, অতঃপর গোশ্ত অন্য লোকদের মাঝে বন্টন করে দেবে।
৫. তিনি হাদীতে সাহাবীদের অংশীদার করে দিতেন, উটে সাতভাগ এবং গরুতে সাত ভাগ।
৬. তিনি রাখালকে বিশেষ প্রয়োজনে অন্য সওয়ারী পাওয়া পর্যন্ত হাদীতে আরোহণ করার অনুমতি দেন।
৭. তাঁর আদর্শ ছিল: উটকে দাঁড়ানো ও বাম পা বাঁধানো অবস্থায় নহর করা, তিনি নহর করার সময় ‘বিসমিল্লাহ’ ও ‘আল্লাহু আকবর’ বলতেন।
৮. তিনি নিজ হাতেই কুরবানীর পশু যবেহ্ করেন, আবার কখনো অন্যকে অবশিষ্টগুলো যবেহ্ করার দায়িত্ব প্রদান করেন।
৯. তিনি ছাগল-দুম্বা যবেহ্ করার সময় তাঁর এক পা দিয়ে ছাগল-দুম্বার পাঁজর দাবিয়ে রাখতেন, অতঃপর ‘বিসমিল্লাহি-আল্লাহু আকবর’ বলে যবেহ্ করতেন।
১০. তিনি উম্মতকে কুরবানী ও হাদীর গোশ্ত খাওয়া ও জমা রাখার অনুমতি দিয়েছেন।
১১. তিনি কখনো হাদীর গোশ্ত বন্টন করে দিতেন, আবার কখনো বলেন: যার ইচ্ছা কিছু অংশ রেখে দেবে।
১২. তাঁর আদর্শ ছিল ওমরার হাদী যবেহ্ করা মারওয়া পাহাড়ের নিকটে, আর হজ্জে কেরানের হাদী যবেহ্ করা মিনাতে।
১৩. তিনি কখনও ইহরাম থেকে হালাল হওয়ার পূর্বে স্বীয় হাদী নহর করেননি, বরং তিনি শুধুমাত্র সূর্যোদয়ের পর এবং জমরাতে কংকর নিক্ষেপের পরই হাদী নহর করেন এবং সূর্যোদয়ের পূর্বে হাদী নহর করার অনুমতি কখনও তিনি দেননি।”
(খ) কুরবানী প্রসঙ্গে তাঁর আদর্শমালা [যাদুল মা‘আদ : ২ /২৮৯।]:
১. রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনও কুরবানী করা পরিত্যাগ করেননি এবং তিনি দু’টি দুম্বা দিয়ে কুরবানী করতেন এবং ঈদের সালাতের পর সেগুলো যবেহ্ করতেন। তিনি বলেন: “আইয়্যামে তাশরীক্ব তথা ১১, ১২, ১৩ তারিখও কুরবানীর পশু যবেহ করার দিবস।” [মুসনাদে আহমদ।]
২. তিনি আরো বলেন: যে কেউ ঈদের সালাতের পূর্বে কুরবানী করলো, তার কুরবানী বলতে কিছুই হলো না, বরং সেটা কেবল খাবার গোশ্ত হলো, যা সে নিজের পরিবার-পরিজনের জন্য আগাম ব্যবস্থা করলো।” [বুখারী, মুসলিম।]
৩. তিনি ছাগল-মেষ জাতীয় পশুর ছয় মাসের ছানা এবং পাঁচ বছর উত্তীর্ণ উট, আর দু’বছর উত্তীর্ণ গরু কুরবানী করার নির্দেশ দেন।
৪ তাঁর আদর্শ ছিল কুরবানীর জন্য সুন্দর ও ত্রুটিমুক্ত পশু বাচাই করা। তিনি কান-কাটা, শিং-ভাঙ্গা, এক চোখ-কানা, নেংড়া, পা ভাঙ্গা, ও অতি দুর্বল পশু দিয়ে কুরবানী করতে নিষেধ করেন এবং তিনি চোখ-কান ত্রুটিমুক্ত হওয়ার প্রতি লক্ষ্য রাখার নির্দেশ দেন।
৫. তিনি আরো নির্দেশ দেন, যে ব্যক্তি কুরবানী করার ইচ্ছা রাখে সে যেন যিল-হাজ্জ মাসের প্রথম দশক প্রবেশের পর নিজের নখ-চুলের কিছুই না কাটে।
৬. তাঁর আদর্শ ছিল ঈদগাহে কুরবানী করা।” [বুখারী।]
৭. তাঁর আদর্শ ছিল একটি ছাগল এক পরিবারের পক্ষ হতে যথেষ্ট হবে বলে মনে করা, যদিও সংখ্যায় তারা একাধিক হয়ে থাকে।”
(গ) আক্বীকা প্রসঙ্গে তাঁর আদর্শমালা: [যাদুল মা‘আদ: ২/২৯২।]
১. সহীহ্ সনদে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত যে, তিনি বলেছেন: “প্রত্যেক নবজাত শিশু তার আক্বীকার সাথে দায়বন্ধ থাকে, যেটি তার পক্ষ থেকে সপ্তম দিনে যবেহ্ করা হয় এবং তার মাথা-মুণ্ডন করা হয় ও নাম রাখা হয়।” [আবু দাউদ, তিরমিযী ও নাসাঈ।]
২. তিনি আরো বলেছেন: “ছেলের পক্ষ থেকে দু’টি ছাগল এবং মেয়ের পক্ষ থেকে একটি ছাগল যবেহ্ করা হবে।” [আবু দাউদ ও নাসাঈ।]