১
বিশ্বনবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনাদর্শ (ইমাম ইবনুল কাইয়্যেম রহ. এর যাদুল মা‘আদ হতে সংক্ষেপিত)
লেখকঃ ড. আহমাদ ইবন উসমান আল-মাযইয়াদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২৫
(২৩) ফিৎরাত বা স্বভাবজাত-কর্ম, পোষাক-পরিচ্ছদ ও সৌন্দর্যের উপকরণ প্রসঙ্গে তাঁর আদর্শমালা: [যাদুল মা‘আদ, ২/১৬৭।]
১. রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অত্যধিক খোশবু ব্যবহার করতেন এবং খোশবু-সুবাস পছন্দ করতেন এবং তিনি কখনো খোশবু ফিরিয়ে দিতেন না।” [বুখারী।] তাঁর নিকট সর্বাপেক্ষা পছন্দনীয় ছিল মেশক আম্বরের সুগন্ধি।
২. তিনি মিসওয়াক করা পছন্দ করতেন, তিনি রোযারত অবস্থায় এবং রোযা ছাড়া অবস্থায় মিসওয়াক করতেন, অনুরূপ নিদ্রা হতে জাগ্রতকালে, অযু করার সময়, সালাতের সময় এবং ঘরে প্রবেশ কালে মিসওয়াক করতেন।
৩. তিনি সুরমা লাগাতেন এবং বলতেন: তোমাদের সর্বোত্তম সুরমা হলো ‘ইস্মদ’ তথা কালো সুরমা, যা চক্ষু পরিস্কার করে এবং চুল উৎপন্ন করে।” [আবু দাউদ, ইবন মাজাহ।]
৪. তিনি কখনো নিজেই মাথায় ও দাড়িতে চিরুনী করতেন, আবার কখনো উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা তাঁর মাথা ও দাড়িতে চিরুণী করে দিতেন আর মাথা মুন্ডন করা। আর মাথা মুণ্ডনের ব্যাপারে তার নিয়ম ছিল সম্পূর্ণ মাথা মুণ্ডন করা অথবা সম্পূর্ণ চুল রেখে দেওয়া।
৫. হজ্জ-ওমরা ছাড়া অন্য সময় মাথা মুণ্ডন তাঁর থেকে সহীহ্ সনদে প্রমাণিত নেই, আর তাঁর চুল ছিল কাঁধের উপর প্রচুর, জুম্মার উপরে এবং ওফরার চেয়ে কম, যা তাঁর কানদ্বয়ের লতির সাথে লেগেছিল।
৬. তিনি ‘ক্বযা‘অ’- তথা মাথার চুলের কিছু অংশ মুণ্ডন করে কিছু অংশে চুল রেখে দিতে নিষেধ করেন।
৭. তিনি আরো বলেন: তোমরা কাফের-মুশরিকদের বিরোধিতা করো, দাড়ি লম্বা করো এবং গোঁফ কেটে ফেলো।” [বুখারী, মুসলিম।]
৮. পোষাক-পরিচ্ছেদ হতে যা কিছু সহজ সাধ্য হতো, তাই তিনি পরিধান করতেন, কখনো পশমের তৈরী, আবার কখনো তুলা-সুতার তৈরী, আর কখনো উলের তৈরী পোষাক। আর তাঁর নিকট সব চেয়ে প্রিয় ও পছন্দনীয় পোষাক ছিল ‘ক্বামীস’-তথা বড় জামা।” [আবু দাউদ, তিরমিযী।]
৯. তিনি ডোরাকাটা ইয়ামানী চাদর ও ডোরাকাটা সবুজ চাদর পরিধান করেছেন, তিনি জুব্বা, ক্বাবা (এমন কাপড় যার হাতা ও মধ্যভাগ ছোট, পিছনে ফাড়া) জামা, পায়জামা, লুঙ্গি, চাদর, চর্মের মোজা, জুতা ও পাগড়ি পরিধান করেছেন।
১০. তিনি কখনো পাগড়ির একাংশ মুখের তালুর নিচ দিয়ে দিতেন, পাগড়ির কিনারা কখনো পিছনে ঝুলে রাখতেন, আর কখনো ঝুলে রাখতেন না।
১১. তিনি কখনো কখনো কালো রং এর কাপড় পরিধান করেন, আবার কখনও কখনও লাল-ডোরকাটা ‘হুল্লা’ তথা লুঙ্গি ও চাদর পরিধান করেছিলেন।” [বুখারী।]
১২. তিনি রূপার আংটি পরেছেন, আর তার নকশার দিক হাতের কব্জির দিকে রাখতেন।
১৩. তিনি যখন কোনো নতুন কাপড় পরতেন, তখন প্রথমে তার নাম উল্লেখ করতেন, তারপর এ দু‘আটি পাঠ করতেন:
«اللَّهُمَّ أَنْتَ كَسَوْتَنِي هَذَا القَمِيْصَ أَو الرِّدَاءَ أو العمامَةَ , أَسألُكَ خَيْرَهُ وَخَيْرَ مَا صُنِعَ لَهُ , وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهِ وَشَرِّ ما صُنِعَ لَهُ»
‘আল্লা-হুম্মা আনতা কাসাওতানী হাযা (আল কামীস আও আররিদা’ আও আল-‘ইমামাহ), আস্আলুকা খায়রাহু ওযা-খায়রা মা-সুনিআ লাহু, ওয়া-‘আউযুবিকা মিন শাররিহী, ওয়া-শাররি মা-সুনি‘আ লাহু।
হে আল্লাহ! তোমারই জন্য সকল প্রশংসা, তুমিই এ কাপড় (অথবা চাদর অথবা পাগড়ী) আমাকে পরিয়েছো, আমি তোমার নিকট এর মধ্যে নিহিত কল্যাণ এবং এটি যে জন্য তৈরী করা হয়েছে সেসব কল্যাণ প্রার্থনা করি, আর আমি এর অনিষ্ট এবং এটি তৈরীর অনিষ্ট হতে তোমার আশ্রয় কামনা করি।” [তিরমিযী, আবু দাউদ।]
১৪. তিনি যখন তাঁর জামা পরতেন তখন ডান দিক থেকে শুরু করতেন।
১৫. তিনি অযু করা, জুতা পরিধান করা, মাথা আঁচড়ানো এবং আদান-প্রদান ডান দিক থেকে করতে ভালোবাসতেন।
১৬. তিনি যখন হাঁচি দিতেন তখন মুখের উপর নিজের হাত বা কাপড় রাখতেন এবং হাঁচির আওয়াজ নিচু করতেন।
১৭. তিনি পর্দানশীন কুমারী মেয়েদের চাইতেও অধিক লজ্জাশীল ছিলেন।” [বুখারী, মুসলিম।]
১৮. তিনি হাঁসির বিষয় হলে হাঁসতেন এবং কাঁদার বিষয় হলে কাঁদতেন, তবে তাঁর অধিকাংশ হাঁসা ছিল মুচকি হাসি, আর সর্বাধিক হাসির সময় তাঁর দু’পার্শ্বের দাঁত দেখা যেতো, তিনি কখনই মুখগহ্বর বা কন্ঠতালু পর্যন্ত প্রকাশ করে ক্বাহ্-ক্বাহ্ করে হাসেন নি, পক্ষান্তরে তাঁর কান্নাও অনুরূপ ছিল, তিনি কখনই অশ্রুসিক্ত হতো এবং তাঁর বক্ষে ফুটন্ত হাঁড়ির ন্যায় আওয়াজ শোনা যেতো।”
২. তিনি মিসওয়াক করা পছন্দ করতেন, তিনি রোযারত অবস্থায় এবং রোযা ছাড়া অবস্থায় মিসওয়াক করতেন, অনুরূপ নিদ্রা হতে জাগ্রতকালে, অযু করার সময়, সালাতের সময় এবং ঘরে প্রবেশ কালে মিসওয়াক করতেন।
৩. তিনি সুরমা লাগাতেন এবং বলতেন: তোমাদের সর্বোত্তম সুরমা হলো ‘ইস্মদ’ তথা কালো সুরমা, যা চক্ষু পরিস্কার করে এবং চুল উৎপন্ন করে।” [আবু দাউদ, ইবন মাজাহ।]
৪. তিনি কখনো নিজেই মাথায় ও দাড়িতে চিরুনী করতেন, আবার কখনো উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা তাঁর মাথা ও দাড়িতে চিরুণী করে দিতেন আর মাথা মুন্ডন করা। আর মাথা মুণ্ডনের ব্যাপারে তার নিয়ম ছিল সম্পূর্ণ মাথা মুণ্ডন করা অথবা সম্পূর্ণ চুল রেখে দেওয়া।
৫. হজ্জ-ওমরা ছাড়া অন্য সময় মাথা মুণ্ডন তাঁর থেকে সহীহ্ সনদে প্রমাণিত নেই, আর তাঁর চুল ছিল কাঁধের উপর প্রচুর, জুম্মার উপরে এবং ওফরার চেয়ে কম, যা তাঁর কানদ্বয়ের লতির সাথে লেগেছিল।
৬. তিনি ‘ক্বযা‘অ’- তথা মাথার চুলের কিছু অংশ মুণ্ডন করে কিছু অংশে চুল রেখে দিতে নিষেধ করেন।
৭. তিনি আরো বলেন: তোমরা কাফের-মুশরিকদের বিরোধিতা করো, দাড়ি লম্বা করো এবং গোঁফ কেটে ফেলো।” [বুখারী, মুসলিম।]
৮. পোষাক-পরিচ্ছেদ হতে যা কিছু সহজ সাধ্য হতো, তাই তিনি পরিধান করতেন, কখনো পশমের তৈরী, আবার কখনো তুলা-সুতার তৈরী, আর কখনো উলের তৈরী পোষাক। আর তাঁর নিকট সব চেয়ে প্রিয় ও পছন্দনীয় পোষাক ছিল ‘ক্বামীস’-তথা বড় জামা।” [আবু দাউদ, তিরমিযী।]
৯. তিনি ডোরাকাটা ইয়ামানী চাদর ও ডোরাকাটা সবুজ চাদর পরিধান করেছেন, তিনি জুব্বা, ক্বাবা (এমন কাপড় যার হাতা ও মধ্যভাগ ছোট, পিছনে ফাড়া) জামা, পায়জামা, লুঙ্গি, চাদর, চর্মের মোজা, জুতা ও পাগড়ি পরিধান করেছেন।
১০. তিনি কখনো পাগড়ির একাংশ মুখের তালুর নিচ দিয়ে দিতেন, পাগড়ির কিনারা কখনো পিছনে ঝুলে রাখতেন, আর কখনো ঝুলে রাখতেন না।
১১. তিনি কখনো কখনো কালো রং এর কাপড় পরিধান করেন, আবার কখনও কখনও লাল-ডোরকাটা ‘হুল্লা’ তথা লুঙ্গি ও চাদর পরিধান করেছিলেন।” [বুখারী।]
১২. তিনি রূপার আংটি পরেছেন, আর তার নকশার দিক হাতের কব্জির দিকে রাখতেন।
১৩. তিনি যখন কোনো নতুন কাপড় পরতেন, তখন প্রথমে তার নাম উল্লেখ করতেন, তারপর এ দু‘আটি পাঠ করতেন:
«اللَّهُمَّ أَنْتَ كَسَوْتَنِي هَذَا القَمِيْصَ أَو الرِّدَاءَ أو العمامَةَ , أَسألُكَ خَيْرَهُ وَخَيْرَ مَا صُنِعَ لَهُ , وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهِ وَشَرِّ ما صُنِعَ لَهُ»
‘আল্লা-হুম্মা আনতা কাসাওতানী হাযা (আল কামীস আও আররিদা’ আও আল-‘ইমামাহ), আস্আলুকা খায়রাহু ওযা-খায়রা মা-সুনিআ লাহু, ওয়া-‘আউযুবিকা মিন শাররিহী, ওয়া-শাররি মা-সুনি‘আ লাহু।
হে আল্লাহ! তোমারই জন্য সকল প্রশংসা, তুমিই এ কাপড় (অথবা চাদর অথবা পাগড়ী) আমাকে পরিয়েছো, আমি তোমার নিকট এর মধ্যে নিহিত কল্যাণ এবং এটি যে জন্য তৈরী করা হয়েছে সেসব কল্যাণ প্রার্থনা করি, আর আমি এর অনিষ্ট এবং এটি তৈরীর অনিষ্ট হতে তোমার আশ্রয় কামনা করি।” [তিরমিযী, আবু দাউদ।]
১৪. তিনি যখন তাঁর জামা পরতেন তখন ডান দিক থেকে শুরু করতেন।
১৫. তিনি অযু করা, জুতা পরিধান করা, মাথা আঁচড়ানো এবং আদান-প্রদান ডান দিক থেকে করতে ভালোবাসতেন।
১৬. তিনি যখন হাঁচি দিতেন তখন মুখের উপর নিজের হাত বা কাপড় রাখতেন এবং হাঁচির আওয়াজ নিচু করতেন।
১৭. তিনি পর্দানশীন কুমারী মেয়েদের চাইতেও অধিক লজ্জাশীল ছিলেন।” [বুখারী, মুসলিম।]
১৮. তিনি হাঁসির বিষয় হলে হাঁসতেন এবং কাঁদার বিষয় হলে কাঁদতেন, তবে তাঁর অধিকাংশ হাঁসা ছিল মুচকি হাসি, আর সর্বাধিক হাসির সময় তাঁর দু’পার্শ্বের দাঁত দেখা যেতো, তিনি কখনই মুখগহ্বর বা কন্ঠতালু পর্যন্ত প্রকাশ করে ক্বাহ্-ক্বাহ্ করে হাসেন নি, পক্ষান্তরে তাঁর কান্নাও অনুরূপ ছিল, তিনি কখনই অশ্রুসিক্ত হতো এবং তাঁর বক্ষে ফুটন্ত হাঁড়ির ন্যায় আওয়াজ শোনা যেতো।”