hadith book logo

বিশ্বনবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলা‌ইহি ওয়াসাল্লামের জীবনাদর্শ (ইমাম ইবনুল কাইয়্যেম রহ. এর যাদুল মা‘আদ হতে সংক্ষেপিত)

লেখকঃ ড. আহমাদ ইবন উসমান আল-মাযইয়াদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২৬

(২৪) সালামের আদান-প্রদান ও অনুমতি প্রসঙ্গে তাঁর আদর্শমালা [যাদুল মা‘আদ, ২/৩৭১।]

১. রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো কাওমের কাছে গমন করলে তাদের সালাম করতেন, তাদের নিকট হতে প্রত্যাবর্তন কালেও সালাম করতেন এবং সালামের ব্যপক প্রচলন করার নির্দেশ দেন।

২. তিনি বলেন: “ছোট সালাম করবে বড়কে, চলাচলকারী সালাম করবে অবস্থানকারী ব্যক্তিকে, আরোহী ব্যক্তি সালাম করবে পদচারীকে এবং কম সংখ্যক লেকেরা সালাম করবে বেশী সংক্যক লোককে।” [বুখারী, মুসলিম।]

৩. তিনি কারো সাথে সাক্ষাৎকালে প্রথমেই সালাম করতেন, আর কেউ তাঁকে সালাম করলে, তিনি সাথে সাথে অনুরূপ কিংবা তার চেয়ে উত্তমরূপে উত্তর দিতেন, কিন্তু সালাত অথবা প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূর্ণ করা ইত্যাদি বিশেষ কারণে সালামের উত্তর বিলম্বিত করতেন।

৪. তিনি প্রথমে

«السَّلامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةٌ اللهِ»

‘আসসালামু ‘আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ্, বলে সালাম করতেন। অর্থাৎ তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক এবং আল্লাহর রহমতও। প্রথমে সালাম প্রদানকারীর পক্ষ থেকে

«عليكَ السَّلامُ»

‘আলাইকাস্ সালাম’ বলা তিনি অপছন্দ করতেন (কারণ এটা মৃতদের সালাম) এবং তিনি সালাম প্রদানকারীর সালামের জবাবে বলতেন:

«وَعَلَيكَ السلام»

‘ওয়া ‘আলাইকাস সালাম’, আরবী শব্দ ‘ওয়াও’-এর যোগ করে বলতেন।

৫. তাঁর আদর্শ ছিল, যদি জনসাধারণের সমাবেশ খুব বড় ও বিরাট হতো যেখানে এক সালাম সবার নিকট পৌঁছে না, তখন তিনি তিনবার সালাম দিতেন।

৬. তাঁর আদর্শ ছিল, মসজিদে প্রবেশকারী প্রথমে দু’রাকাত ‘তাহিয়্যাতুল মসজিদ’ আদায় করবে, অতঃপর মসজিদের সমাবেশে এসে তাদের সালাম করবে।

৭. তিনি হাতের ইশারায় অথবা মাথা নাড়িয়ে অথবা আঙ্গুলের ইশারায় সালামের উত্তর দিতেন না, তবে শুধু সালাতরত অবস্থায় তিনি ইশারায় সালামের উত্তর দেন।

৮. তিনি শিশু কিশোরদের নিকট দিয়ে পথ অতিক্রম করার সময় তাদের সালাম করেন, অনুরূপ মহিলাদের সমাবেশ দিয়ে পথ অতিক্রম করার সময় তাদের সালাম করেন। আর সাহাবীগণ জুম‘আর সালাত পড়ে ফেরার পথে এক বৃদ্ধা মহিলাকে সালাম করতেন [যিনি বীটের শিকড় ও যবের দানা পিষে তাদের জন্যে খাবার তৈরী করতেন।” অনুবাদক।]।

৯. তিনি অনুপস্থিতের জন্য সালাম বহনও করাতেন এবং নিজেও করতেন। [তিনি উম্মুল মু’মিনীন খাদিজা ও আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা-কে জিবরীল আমীন আলাইহিস সালাম-এর সালাম পৌছান। অনুবাদক।] আর তাঁকে কেউ অন্যের প্রেরিত সালাম পৌঁছালে, তিনি সালাম প্রেরণকারী ও বহণকারী উভয়কে সালামের উত্তর দিতেন। [অর্থাৎ বলতেন : ওয়া আলাইকা ওয়া আলাইহিস্ সালাম।’’ অনুবাদক।]

১০. তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো: এক ব্যক্তি যখন তার ভাই বা বন্ধুর সাথে সাক্ষাৎ করে, সে কি তার প্রতি মাথা ঝুকাবে? তিনি উত্তরে বলেন: না, আবার জিজ্ঞেস করা হলো: সে কি তাকে জড়িয়ে ধরবে এবং চুমো খাবে ? উত্তরে তিনি বলেন: না, আবার জিজ্ঞেস করা হলো: সে কি তার হাত নিজের হাতের মধ্যে নিয়ে মুসাফাহা করবে? উত্তরে তিনি বলেন: হ্যাঁ,।” [তিরমিযী।]

১১. তিনি পরিবার -পরিজনের নিকট অপ্রত্যাশিতভাবে-হঠাৎ এসে উপনীত হতেন না; যাতে তারা ভয় পায়, বরং তিনি তাদের সালাম করতেন এবং তাদেরকে বিবিধ (কুশলাদির) প্রশ্ন করতেন অথবা তাদের অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করতে করতে প্রবেশ করতেন।

১২. তিনি রাত্রিবেলায় পরিবার-পরিজনের নিকট গমন করলে এমনভাবে সালাম করতেন যা নিদ্রিত লোকদের জাগাতো না, তবে জাগ্রত লোকেরা তাঁর সালাম শুনে নিতো।” [মুসলিম।]

১৩. তাঁর আদর্শ ছিল যে, যখন অনুমতিপ্রার্থীকে জিজ্ঞেস করা হয়, তুমি কে? তখন সে জবাবে বলবে: আমি অমুকের পুত্র অমুক, অথবা সে নিজের উপনাম বা ডাকনাম ইত্যাদি বলবে, আর সে যেন ‘আমি’ বা এ ধরণের অস্পষ্ট কিছু না বলে।

১৪. তিনি তিনবার করে অনুমতি চাইতেন, অনুমতি দেওয়া না হলে তিনি ফিরে যেতেন।

১৫. তিনি সাহাবীদেরকে অনুমতি চাওয়ার পূর্বে সালাম করা শিক্ষা দিতেন।

১৬. তিনি কারো বাড়ীতে গেলে তাদের দরজার সামনে দাঁড়াতেন না, বরং ডান কিংবা বাম দিকে সরে দাঁড়াতেন।

১৭. তিনি বলেন: “দৃষ্টি পড়ার কারণেই তো অনুমতি নেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে।” [বুখারী, মুসলিম।]