hadith book logo

বিশ্বনবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলা‌ইহি ওয়াসাল্লামের জীবনাদর্শ (ইমাম ইবনুল কাইয়্যেম রহ. এর যাদুল মা‘আদ হতে সংক্ষেপিত)

লেখকঃ ড. আহমাদ ইবন উসমান আল-মাযইয়াদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৮

(৬) ইস্তেস্কা প্রসঙ্গে তাঁর আদর্শমালা [যাদুল মা‘আদ : ১/৪৩৯।]

১ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুৎবার সময় মিম্বরের উপর ইস্তিসকা, অর্থাৎ বৃষ্টির জন্য দু‘আ করতেন। জুমআর দিন ছাড়াও তিনি ইস্তিসকা করেন, একদা তিনি মসজিদে নববীতে বসা অবস্থায় দু’হাত উত্তোলন এবং মহান আল্লাহর নিকট ইস্তিস্কা বা বৃষ্টি প্রার্থনা করেন।

২. ইস্তিসকার সময় নিম্নোক্ত কতিপয় দু‘আ পাঠ করা তাঁর থেকে প্রমাণিত রয়েছে:

( اللهم اسق عبادك وبهائمك وانشر رحمتك وأحي بلدك الميت )

‘আল্লা-হুম্মাসকি ইবা-দাকা, ওয়া বাহাইমাকা, ওয়ানশুর রাহমাতাকা, ওয়া আহয়ী বালাদাকাল মাইয়্যেত।’

“হে আল্লাহ ! তুমি তোমার বান্দাদেরকে এবং জীব-জন্তুদেরকে পানি পান করাও, আর তোমার রহমত ছড়িয়ে দাও এবং তোমার মৃত শহরকে সজীব কর।

তিনি আরো বলতেন:

( اللهم اسقنا غيثا مغيثا مريئا مريعا نافعا غير ضار عاجلاً غير آجل )

‘আল্লা-হুম্মাসকিনা গাইছাম-মুগীছান, মুরীআন, না-ফিআন-গায়রা যা-ররিন, ‘আ-জিলান-গায়রা আ-জিলিন।” [আবুদাউদ।]

“হে আল্লাহ ! তুমি আমাদেরকে এমন বৃষ্টির পানি পান করাও যা ফরিয়াদ দূরকারী, পিপাসা নিবারণকারী, সাচ্ছন্দ্য প্রদানকারী, শষ্য-ফসল উৎপাদনকারী, উপকারী-অপকারী নয়, শীর্ঘ্রই, বিলম্বে নয়।”

৩. তিনি যখন মেঘ ও বাতাসের প্রচণ্ডতা দেখতেন, তখন তাঁর মুখমণ্ডলে ভয়-বিষণ্ণতা দেখা যেতো, তবে বৃষ্টি বর্ষণ শেষ হয়ে গেলে তা দূর হয়ে যেতো।

৪. তিনি বৃষ্টির সময়ে এ দু‘আটি বলতেন :

( اللهم صيباً نافعاً )

‘আল্লা-হুম্মা সাইয়্যাবান না-ফি‘আন।” [বুখারী ও মুসলিম।]

“হে আল্লাহ! মুসলধারায় উপকারী বৃষ্টি বর্ষাও।”

আর তিনি শরীরের কাপড় খুলে দিতেন, যাতে বৃষ্টির ফোটা গায়ে পড়ে, এর কারণ জিজ্ঞেস করা হলে বলেন: বৃষ্টি তার প্রভুর নিকট হতে নবাগত।” [মুসলিম।]

৫. সাহাবীগণ তাঁর নিকট অতি বৃষ্টির অভিযোগ করলে তিনি বৃষ্টি বন্ধের জন্যে দু‘আ করে বলেন:

( اللهم حوالينا ولا علينا، اللهم على الآكام والظراب وبطون الأودية ومنابت الشجر )

‘আল্লা-হুম্মা হাওয়া-লাইনা ওয়ালা ‘আলাইনা, আল্লা-হুম্মা ‘আলাল-আ-কামে, ওয়ায-যিরাবে, ওয়া বুতুনিল-আওদিয়াতে, ওয়া মানা-বিতিশ শাজারে।” [বুখারী ও মুসলিম।]

“হে আল্লাহ! আমাদের আশে-পাশে বর্ষণ কর, আমাদের উপর নয়, হে আল্লাহ! টিলা-পাহাড়, নদী-নালা, খাল-বিল, বন-জঙ্গল এবং বৃক্ষ উৎপাদনের জায়গায় বৃষ্টি বর্ষণ কর।”