১
বিশ্বনবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনাদর্শ (ইমাম ইবনুল কাইয়্যেম রহ. এর যাদুল মা‘আদ হতে সংক্ষেপিত)
লেখকঃ ড. আহমাদ ইবন উসমান আল-মাযইয়াদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২২
(২০) কুরআনে মাজীদ তিলাওয়াত প্রসঙ্গে তাঁর আদর্শমালা [যাদুল মা‘আদ, ২/ ৩৬৩।]
১. কুরআনের অংশবিশেষ তাঁর জন্য নির্দিষ্ট ছিল, যা তিনি নিয়মিত তিলাওয়াত করতেন এবং তাতে তিনি কখনই অলসতা করতেন না।
২. তাঁর তিলাওয়াত ছিল ধীরে ধীরে স্পষ্ট ও সুন্দরভাবে, তীব্রতা ও তাড়াহুড়ার সাথে নয়, বরং প্রতিটি অক্ষর সুস্পষ্ট করে উচ্চারণ করতেন।
৩. তাঁর তিলাওয়াত ছিল বিভক্ত ও সাইজ করা। তিনি প্রত্যেকটি আয়াত শেষে থেমে যেতেন। তিনি ধীরে ধীরে স্পষ্ট ও সুন্দরভাবে সূরা আবৃত্তি করতেন, এমনকি বড় সূরা আরো অত্যাধিক বড় হয়ে যেতো।
৪. তিনি মদ্দের হরফকে টেনে দীর্ঘায়িত করে পড়তেন, অতএব ‘আর- রাহমা-ন’ ও ‘আর রাহী-ম’ শব্দদ্বয় টেনে দীর্ঘায়িত করে পাঠ করতেন।
৫. তিনি তিলাওয়াতের শুরুতে আল্লাহর নিকট বিতাড়িত শয়তান হতে আশ্রয় প্রার্থনা করে বলতেন:
«أَعُوذُ باللهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ»
‘আ‘উযু বিল্লাহি মিনাশ শায়ত্বানির রাজীম;-
“আমি বিতাড়িত শয়তান হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।”
আবার কখনো বলতেন:
«اللَّهُمَّ إِنِّي أعُوذُ بِكَ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ مِنْ هَمْزِهِ وَنَفْخِهِ وَنَفْثِهِ»
‘আল্লা-হুম্মা আউযু বিকা মিনাশ্ শায়ত্বানীর রাজীম, মিন হামযিহী, ওয়া নাফখিহী, ওয়া নাফসিহী।” [আবু দাউদ, ইবন মাজাহ।]
“হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি বিতাড়িত শয়তান এবং তার কুমন্ত্রনা, ফুৎকার ও ওয়াসওয়াসা হতে।
৬. তিনি দাঁড়ানো, বসা, শোয়া এবং অযু অবস্থায় ও অযু ছাড়া সর্বাবস্থায় কুরআন তিলাওয়াত করতেন, একমাত্র গোসল ফরয হওয়া ছাড়া অন্য কিছু তাঁকে কুরআন তিলাওয়াত হতে বিরত রাখতো না।
৭. তিনি সুললিত কন্ঠে কুরআন তিলাওয়াত করতেন এবং বলেন: “যে ব্যক্তি সুললিত কন্ঠে কুরআন পাঠ করে না সে আমাদের দলভুক্ত নয়।” [বুখারী।]
তিনি আরো বলেন: ‘‘সুললিত কন্ঠে তিলাওয়াত করে কুরআনের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করো।” [আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবন মাজাহ।]
৮. তিনি কখনো অন্যের মুখ থেকে কুরআন তিলাওয়াত শুনতে ভালবাসতেন।” [বুখারী।]
৯. তিনি সিজদার আয়াত পাঠের পর ‘আল্লাহু আকবর’- বলে সিজদা করতেন এবং কখনো সিজদায় বলতেন:
«سَجَدَ وَجْهِي للذي خَلَقَهُ , وَشَقَّ سمعَه وبصرَه بحولِه وقوتِه»
‘সাজাদা ওয়াজহী লিল্লাজী খালাকাহু, ওয়া-শাক্কা সাম‘আহু ওয়া বাচ্বারাহূ, বি-হাওলিহী ওয়া কুওয়াতিহী;
“আমার মুখমণ্ডল (সহ আমার সমগ্র দেহ) সিজদায় অবনমিত সেই মহান সত্তার জন্য যিনি তাকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার কর্ণ ও তার চক্ষু উদ্ভিন্ন করেছেন স্বীয় ইচ্ছা ও শক্তিতে।” [আবু দাউদ, তিরমিযী।]
আবার কখনো বলতেন:
«اللهم اكتب لي بها عندك أجراً وضع عني بها وزراً، واجعلها لي عندك ذُخراً وتقبلها منّي كما تقبلتها من عبدك داود»
‘আল্লাহুম্মা উকতুব লী বিহা ইনদাকা আজরান, ওয়াদ্বা‘ ‘আন্নী বিহা ওয়িযরান, ওয়াজ‘আলহা লী ইনদাকা যুখরান ওয়া তাকাব্বালহা মিন্নী কামা তাকাব্বালতাহা মিন আবদিকা দাঊদ’
“হে আল্লাহ, এর দ্বারা তোমার নিকট আমার জন্য নেকী লিখে রাখো এবং এর দ্বারা আমার পাপরাশি দূর করে দাও এবং একে আমার জন্য গচ্ছিত সম্পদ হিসেবে জমা করে রাখো, আর একে আমার নিকট হতে কবুল করো যেমন কবুল করেছো তোমার বান্দা দাউদ্ (আলাইহিস সালাম) হতে।” [তিরমিযী, ইবন মাজাহ।]
আর সিজদায়ে তিলাওয়াত হতে মাথা উত্তোলনকালে তাকবীর বলা তাঁর থেকে প্রমাণিত নেই, আর না তিনি তাশাহুদ পাঠ করেন, আর না সালাম ফিরান।”
২. তাঁর তিলাওয়াত ছিল ধীরে ধীরে স্পষ্ট ও সুন্দরভাবে, তীব্রতা ও তাড়াহুড়ার সাথে নয়, বরং প্রতিটি অক্ষর সুস্পষ্ট করে উচ্চারণ করতেন।
৩. তাঁর তিলাওয়াত ছিল বিভক্ত ও সাইজ করা। তিনি প্রত্যেকটি আয়াত শেষে থেমে যেতেন। তিনি ধীরে ধীরে স্পষ্ট ও সুন্দরভাবে সূরা আবৃত্তি করতেন, এমনকি বড় সূরা আরো অত্যাধিক বড় হয়ে যেতো।
৪. তিনি মদ্দের হরফকে টেনে দীর্ঘায়িত করে পড়তেন, অতএব ‘আর- রাহমা-ন’ ও ‘আর রাহী-ম’ শব্দদ্বয় টেনে দীর্ঘায়িত করে পাঠ করতেন।
৫. তিনি তিলাওয়াতের শুরুতে আল্লাহর নিকট বিতাড়িত শয়তান হতে আশ্রয় প্রার্থনা করে বলতেন:
«أَعُوذُ باللهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ»
‘আ‘উযু বিল্লাহি মিনাশ শায়ত্বানির রাজীম;-
“আমি বিতাড়িত শয়তান হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।”
আবার কখনো বলতেন:
«اللَّهُمَّ إِنِّي أعُوذُ بِكَ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ مِنْ هَمْزِهِ وَنَفْخِهِ وَنَفْثِهِ»
‘আল্লা-হুম্মা আউযু বিকা মিনাশ্ শায়ত্বানীর রাজীম, মিন হামযিহী, ওয়া নাফখিহী, ওয়া নাফসিহী।” [আবু দাউদ, ইবন মাজাহ।]
“হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি বিতাড়িত শয়তান এবং তার কুমন্ত্রনা, ফুৎকার ও ওয়াসওয়াসা হতে।
৬. তিনি দাঁড়ানো, বসা, শোয়া এবং অযু অবস্থায় ও অযু ছাড়া সর্বাবস্থায় কুরআন তিলাওয়াত করতেন, একমাত্র গোসল ফরয হওয়া ছাড়া অন্য কিছু তাঁকে কুরআন তিলাওয়াত হতে বিরত রাখতো না।
৭. তিনি সুললিত কন্ঠে কুরআন তিলাওয়াত করতেন এবং বলেন: “যে ব্যক্তি সুললিত কন্ঠে কুরআন পাঠ করে না সে আমাদের দলভুক্ত নয়।” [বুখারী।]
তিনি আরো বলেন: ‘‘সুললিত কন্ঠে তিলাওয়াত করে কুরআনের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করো।” [আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবন মাজাহ।]
৮. তিনি কখনো অন্যের মুখ থেকে কুরআন তিলাওয়াত শুনতে ভালবাসতেন।” [বুখারী।]
৯. তিনি সিজদার আয়াত পাঠের পর ‘আল্লাহু আকবর’- বলে সিজদা করতেন এবং কখনো সিজদায় বলতেন:
«سَجَدَ وَجْهِي للذي خَلَقَهُ , وَشَقَّ سمعَه وبصرَه بحولِه وقوتِه»
‘সাজাদা ওয়াজহী লিল্লাজী খালাকাহু, ওয়া-শাক্কা সাম‘আহু ওয়া বাচ্বারাহূ, বি-হাওলিহী ওয়া কুওয়াতিহী;
“আমার মুখমণ্ডল (সহ আমার সমগ্র দেহ) সিজদায় অবনমিত সেই মহান সত্তার জন্য যিনি তাকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার কর্ণ ও তার চক্ষু উদ্ভিন্ন করেছেন স্বীয় ইচ্ছা ও শক্তিতে।” [আবু দাউদ, তিরমিযী।]
আবার কখনো বলতেন:
«اللهم اكتب لي بها عندك أجراً وضع عني بها وزراً، واجعلها لي عندك ذُخراً وتقبلها منّي كما تقبلتها من عبدك داود»
‘আল্লাহুম্মা উকতুব লী বিহা ইনদাকা আজরান, ওয়াদ্বা‘ ‘আন্নী বিহা ওয়িযরান, ওয়াজ‘আলহা লী ইনদাকা যুখরান ওয়া তাকাব্বালহা মিন্নী কামা তাকাব্বালতাহা মিন আবদিকা দাঊদ’
“হে আল্লাহ, এর দ্বারা তোমার নিকট আমার জন্য নেকী লিখে রাখো এবং এর দ্বারা আমার পাপরাশি দূর করে দাও এবং একে আমার জন্য গচ্ছিত সম্পদ হিসেবে জমা করে রাখো, আর একে আমার নিকট হতে কবুল করো যেমন কবুল করেছো তোমার বান্দা দাউদ্ (আলাইহিস সালাম) হতে।” [তিরমিযী, ইবন মাজাহ।]
আর সিজদায়ে তিলাওয়াত হতে মাথা উত্তোলনকালে তাকবীর বলা তাঁর থেকে প্রমাণিত নেই, আর না তিনি তাশাহুদ পাঠ করেন, আর না সালাম ফিরান।”