hadith book logo

বিশ্বনবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলা‌ইহি ওয়াসাল্লামের জীবনাদর্শ (ইমাম ইবনুল কাইয়্যেম রহ. এর যাদুল মা‘আদ হতে সংক্ষেপিত)

লেখকঃ ড. আহমাদ ইবন উসমান আল-মাযইয়াদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৫

(৩) জুম‘আহ্ প্রসঙ্গে তাঁর আদর্শমালা [যাদুল মা‘আদ: ১/৩৫৩।]:

১. রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর আদর্শ ছিল জুম‘আর দিনকে বড় মনে করা ও মর্যাদাবান জ্ঞান করা এবং কতিপয় বৈশিষ্টাবলী সেই দিনের জন্যে নির্ধারণ করা। তন্মধ্যে জুম‘আর দিনে গোসল করা, সবচেয়ে উত্তম কাপড় পরিধান করা, ইমামের খুৎবা মনোযোগ সহকারে ওয়াজিব মনে করে শ্রবণ করা।

২. লোক সমবেত হয়ে গেলে তিনি মসজিদে প্রবেশ করে উপস্থিত সবাইকে সালাম দিতেন, তারপর মিম্বরে উঠে লোকদের মুখী হয়ে সালাম করতেন, তারপর তিনি মিম্বরে আরোহণ করে বসতেন, তখন বিলাল রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু আযান শুরু করতেন, আযান শেষ হওয়ার সাথে সাথেই তিনি খুৎবা আরম্ভ করতেন এবং আযান ও খুতবার মধ্যে কোনো কালক্ষেপন করতেন না। তাঁর জন্যে মিম্বর তৈরী করার পূর্বে তিনি ধনুক কিংবা লাঠির উপর ভর দিয়ে খুৎবা দিতেন।

৩. তিনি সর্বদা মিম্বরে দাঁড়িয়ে খুৎবা দিতেন, অতঃপর সামান্য বসে পুনরায় উঠে দ্বিতীয় খুৎবা দিতেন।

৪. তিনি লোকদেরকে তাঁর নিকটবর্তী হয়ে নীরবে মনোযোগ সহকারে খুৎবা শ্রবণ করার নির্দেশ দিতেন এবং বলতেন, ‘যে ব্যক্তি খুৎবার সময় তার সাথীকে বললো: তুমি চুপ থাক! সেই ব্যক্তিও অর্থহীন কাজ করলো, আর যে কেউ তখন অর্থহীন কাজ করল তার জুম‘আ বিনষ্ট হয়ে গেল।”

৫. খুৎবা দেওয়ার সময় তাঁর চোখ দু’টি লাল হয়ে যেতো, স্বর উচ্চ হতো এবং তাঁর রাগভাব খুব বেড়ে যেতো, মনে হতো যেন তিনি কোনো সৈন্য বাহিনীকে হামলার ভয় প্রদর্শণকারী।

৬. তিনি খুৎবায়, ‘আম্মা বা‘দু’ বলতেন এবং খুৎবা সংক্ষিপ্ত, আর সালাত লম্বা করতেন।

৭. তিনি খুৎবায় সাহাবীদেরকে ইসলামী নীতিমালা, শরীয়াতের বিধি-বিধানসমূহ শিক্ষা দিতেন এবং উপস্থিত প্রয়োজন অনুযায়ী আদেশ-নিষেধ করতেন।

৮. তিনি উপস্থিত প্রয়োজনে কিংবা কারো প্রশ্নের উত্তর দানের উদ্দেশ্যে খুৎবা বন্ধ করে দিতেন, প্রয়োজন সেরে পুনরায় খুৎবা সমাপ্ত করতেন, প্রয়োজনে কখনো তিনি মিম্বর থেকে নেমে প্রয়োজন সেরে পুনরায় মিম্বরে ফিরে যেতেন। তিনি উপস্থিত চাহিদা অনুযায়ী বক্তব্য রাখতেন, তিনি সেখানে কোনো ক্ষুধার্ত কিংবা অভাবগ্রন্থ লোক দেখলে তাদেরকে দান-সদকা করার নির্দেশ দিতেন এবং সে জন্যে উৎসাহিত করতেন।

৯. তিনি খুৎবায় আল্লাহর নাম উচ্চারণকালে শাহাদাত আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করতেন। অনাবৃষ্টির কারণে অভাব দেখা দিলে তিনি খুৎবায় বৃষ্টির জন্য দু‘আ করতেন।

১০. তিনি জুম‘আর সালাত শেষে ঘরে গিয়ে দু’রাকাত সুন্নাত পড়তেন, আর যারা মসজিদে আদায় করতেন তাদেরকে চার রাকাত পড়ার নির্দেশ দিতেন।”