hadith book logo

বিশ্বনবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলা‌ইহি ওয়াসাল্লামের জীবনাদর্শ (ইমাম ইবনুল কাইয়্যেম রহ. এর যাদুল মা‘আদ হতে সংক্ষেপিত)

লেখকঃ ড. আহমাদ ইবন উসমান আল-মাযইয়াদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২৮

(২৬) উঠা-বসা ও চলা-ফেরা প্রসঙ্গে তাঁর আদর্শমালা [যাদুল মা‘আদ, ১/ ১৬১।]

১. রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সামনের দিকে ভর দিয়ে চলতেন, যেন তিনি নিম্নভুমিতে অবতরণ করছেন, তাঁর চলাফেরা ছিল সর্বাপেক্ষা দ্রুতগতির, সুন্দর, শান্তশিষ্ট ও ধীরস্থিরভাবে।

২. তিনি কখনও খালি পায়ে, আবার কখনও জুতা পরে চলাফেরা করতেন।

৩. তিনি উট, ঘোড়া, খচ্ছর ও গাধার উপর আরোহন করেন, তিনি ঘোড়ার উপর কখনো লাগাম পরানো অবস্থায়, আবার কখনো লাগাম পরানো ছাড়াই আরোহণ করেন, আবার কখনো কাউকে সাওয়ারীর উপর সামনে ও পিছনে উঠিয়ে নিতেন।

৪. তিনি যমীনের উপর, আবার কখনো চাটাইয়ের উপর, আবার কখনো বিছানার উপর বসতেন।

৫. তিনি বালিশের উপর ঠেস লাগাতেন, আবর কখনো নিজের বাম-পার্শ্বের উপর, আবার কখনো নিজের ডান-পার্শ্বের উপর।

৬. তিনি ‘কুরফুসা’ করে বসতেন [কুরফুসা বলা হয়, নিতম্ব মাটিতে রেখে হাঁটুদ্বয় খাড়া করে পেটের সাথে হাটু মিশিয়ে দুই হাত দিয়ে দুই পায়ের নলা জড়িয়ে ধরা।], তেমনি তিনি কখনো চিৎ হয়ে শোতেন, আবার কখনো এক পায়ের উপর অপর পা রাখতেন, দুর্বলতার কারণে প্রয়োজন বিশেষ সাহাবীদের কারো উপর ঠেস লাগাতেন।

৭. তিনি কোনো ব্যক্তি সূর্য ও ছায়ার মাঝখানে বসতে নিষেধ করেন।

৮. তিনি কোনো বৈঠক আল্লাহর যিকর হতে খালি হওয়া অপছন্দ করে বলেন: “যে কেউ কোনো বৈঠকে বসে আল্লাহর যিকর না করে, তাহলে সেই বৈঠক আল্লাহর নিকট তার জন্য হতাশা ও আক্ষেপের কারণ হবে।” [আবু দাউদ।]

৯. তিনি আরো বলেন: যে ব্যক্তি কোনো মজলিসে বসলো যেখানে অত্যাধিক আলাপ- আলোচনা হয়, আর সে ঐ মজলিস হতে উঠার পূর্বে

«سبحانكَ اللَّهُمَّ وبحمدكَ , أشهدُ أَنْ لَا إلهَ إِلَّا أَنْتَ , أستغفرُكَ وأتوبُ إليك»

‘সুবহা-নাকাল্লা-হুম্মা ওয়া-বিহামদিকা, আশহাদু আল্ লা-ইলা-হা ইল্লা আন্তা, আস্তাগফিরুকা ওয়া-আতূবু ইলাইকা।”

“তোমার পবিত্রতা বর্ণনা করি হে আল্লাহ্! তোমারই প্রশংসার সাথে, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তুমি ছাড়া ইবাদতের যোগ্য কোনো মা‘বূদ নেই, আমি তোমার নিকট ক্ষমা ভিক্ষা করছি এবং তোমার নিকট তাওবা করছি।” এ দু‘আটি পাঠ করলো, তাহলে তার জন্য তা কাফ্‌ফারাস্বরূপ হবে।” [আবু দাউদ, তিরমিযী।]