পরিচ্ছেদঃ ২৪
মাতা-পিতার আত্মীয়-স্বজনের সাথে সদাচরণ করা
আবু হুরাইরা(রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা সমগ্র মাখলুক সৃষ্টি করে যখন অবসর হলেন, তখন রেহেম (আত্মীয়তা) উঠে দাঁড়িয়ে রাহমানুর রাহীমের কোমর ধরল। আল্লাহ বললেনঃ থাম! (তুমি কি চাও) রেহেম আরয করল, এটা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী থেকে তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করার স্থান। আল্লাহ তাআলা বললেনঃ তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও, যে ব্যক্তি তোমার সাথে সম্পর্ক বহাল রাখবে, আমিও তার সাথে সম্পর্ক বহাল রাখবো। আর যে ব্যক্তি তোমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করবে , আমিও তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন্ করবো। রেহেম বলল, হ্যাঁ আমি রাযি আছি, হে আমার প্রতিপালক! আল্লাহ বললেনঃ ঠিক আছে তোমার সাথে আমার এ অঙ্গীকার থাকল। [১সহিহ আল বুখারী, আদব, অনুঃ ১৩, যে ব্যক্তি আত্মীয়ের সাথে সদ্ব্যবহার করে আল্লাহ তার সাথে সম্পর্ক স্থাপন করেন, নং৫৯৮৭; সহিহ মুসলিম, বির ওয়াস সিলা , অনুঃ আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা, নং ২৫৫৪]
আবু হুরাইরা(রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ ‘‘রেহেম’’ শব্দটি রহমান থেকে উদ্ভুত। তাই আল্লাহ তাআলা বলেনঃ যে ব্যক্তি তোমার সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখবে, আমিও তার সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখবো। আর যে ব্যক্তি তোমাকে ছিন্ন করবে, আমিও তাকে ছিন্ন করবো। [২সহিহ আল বুখারী প্রাগুক্ত]
আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ ‘‘রেহেম আল্লাহর আরশের সাথে ঝুলন্ত রয়েছে। সে বলে যে আমার সাথে সম্পর্ক অটুট রাখবে, আল্লাহও তার সাথে সম্পর্ক অটুট রাখবেন। আর যে আমাকে ছিন্ন করবে, আল্লাহও তাকে ছিন্ন করবেন। [৩ সহিহ মুসলিম প্রাগুক্ত৪ সহিহ আল বুখারী, আদব, অনুঃ আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার ফযিলাত, নং ৫৯৮৪ সহিহ]
জুবায়ের ইবন মুতয়িম (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্কারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না। [৫ সহিহ আল বুখারী, আদব, অনুঃ প্রতিদানে আত্মীয়তার হক আদায় হয় না, নং ৫৯১১]
আব্দুল্লাহ ইবন উমার (রা) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ সে ব্যক্তি আত্মীয়তা রক্ষাকারী নয়, যে শুধু বিনিময় স্বরুপ তা রক্ষা করে। বরং সে ব্যক্তিই আত্মীয়তা রক্ষাকারী, যার সাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার পর সে তা পূনঃস্থাপন করে। []
আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসুল! আমার এমন কিছু আত্মীয় স্বজন রয়েছে, আমি তাদের সাথে সদাচরণ করি, কিন্তু তারা আমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে । আমি তাদের সাথে সদ্ব্যবহার করি, কিন্তু তারা আমার সাথে দুর্ব্যবহার করে। আমি তাদের সাথে ধৈর্যধারণ করি, কিন্তু তারা আমার সাথে মূর্খতা প্রদর্শন করে। জবাবে তিনি বললেনঃ তুমি যেরূপ বললে, যদি এরূপ আচরণই করে থাকো, তবে তুমি যেন তাদের মুখের উপর গরম ছাই নিক্ষেপ করছো। তুমি যতক্ষণ এ নীতির উপর বহাল থাকবে, ততক্ষণ আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে তোমার সাথে একজন সাহায্যকারী থাকবেন যিনি তাদের ক্ষতিকে প্রতিরোধ করবেন। [১ সহিহ মুসলিম প্রাগুক্ত ২৫৫৮;২ সহিহ আল বুখারী, আদব, আত্মীয়ের সাথে সদ্ব্যবহারে রিযক বৃদ্ধি পায়, নং ৫৯৮৫-৬, সহিহ মুসলিম প্রাগুক্ত]
আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি স্বীয় জীবিকা বৃদ্ধি ও দীর্ঘায়ূ কামনা করে, সে যেন আত্মীয় স্বজনের উত্তম ব্যবহার করে। []
আব্দুর রহমান ইবন আউফ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ আল্লাহ তাবারকা ওয়া তাআলা বলেনঃ আমি আল্লাহ আমি রহমান। রেহম (আত্মীয়ত)কে আমিই সৃষ্টি করেছি। আর রেহম শব্দটি আমি আমার (রহমান) নাম থেকে নিঃসৃত করেছি। সুতরাং যে ব্যক্তি আত্মীয়তাকে সংযোজিত করবে, আমি তাকে (আমার রহমতের সাথে) সংযোজিত করবো। আর যে ব্যক্তি আত্মীয়তাকে ছিন্ন করবে; আমিও তাকে বিচ্ছিন্ন করে দেবো। [১ আবু দাউদ, যাকাত, অনুঃ আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা, নং ১৬৯৪]
আব্দুল্লাহ ইবন আউফ (রা) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলতে শুনেছিঃ সে সম্প্রদায়ের প্রতি আল্লাহর রহমত বর্ষণ হয় না, যাদের মাঝে আতমীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী বিদ্যমান রয়েছে। [২. মিশকাতুল মাসাবীহ, প্রাগুক্ত, (বায়হাকী বরাত)]
আবু বাকর (রা) বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ বিদ্রোহ করা ও আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা অপেক্ষা কোন পাপই এত জঘন্য নয় যে, এ পাপকারীকে আল্লাহ তাআলা শীঘ্রই এ পৃথিবীতে শাস্তি প্রদান করেন এবং পরকালেও তার জন্য তা জমা করে রাখেন। [৩. আবু দাউদ, আদব, অনুঃ বিদ্রোহ করা নিষিদ্ধ; আরো দ্রঃ তিরমিযী, ইবন মাজাহ]
ব্যাখ্যাঃ বিদ্রোহ ও আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করার পাপ এতই জঘন্য যে , দুনিয়াতে শীঘ্রই এ পাপের শাস্তি প্রদান করা হবে। কিন্তু দুনিয়াতে শাস্তি দেয়ার মাধ্যমেই এ পাপ মোচন হবে না। বরং পরকালেও এর জন্য তাকে শাস্তি ভোগ করতে হবে।
আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা তোমাদের বংশসমূহের এ পরিমাণ পরিচয় অর্জন করো, যাতে তোমরা নিজেদের আত্মীয়তার হক আদায় করতে পার। কেননা আত্মীয়তা রক্ষা করার মাধ্যমে আপনজনদের মাধ্যে সম্প্রীতি অর্জিত হয়, ধন- সম্পদ ও হায়াত বৃদ্ধি পায়। [৪. তিরমিযী, বির ওয়াস সিলা, অনুঃ বংশ পরিচয় জানা;]
আব্দুল্লাহ ইবন উমার (রা) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খেদমতে এসে আরয করল, হে আল্লাহর রাসুল! আমি একটি জঘন্য পাপ করেছি । আমার
তওবার কোন ব্যবস্থা আছে কি? তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমার মা জীবিত আছেন কি? সে বলল, না। তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন তোমার কোন খালা জীবিত আছেন কি? সে বলল, হ্যাঁ। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ যাও, তাঁর খেদমত করো। [১. তিরমিযী, বির ওয়াস সিলা, অনুঃ খালার সাথে সৎ ব্যবহার করা; আল মুস্তাদরাক, বির ওয়াস সিলা]
ব্যাখ্যাঃ তওবা ছাড়া কবীরা গুনাহ মাফ হয় না। আর মায়ের অবর্তমানে খালার সাথে সদাচরণ করা তওবা কবুল হওয়ার জন্য সহায়ক। তাই নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খালার খেদমত করার আদেশ করছেন।
সাঈদ ইবনে আস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ পিতার অধিকার যেমন সন্তানের উপর রয়েছে, তেমনি ছোট ভাইয়ের ওপরও বড় ভাইয়ের অধিকার রয়েছে। [২ . তিরমিযী, প্রাগুক্ত, আল মুস্তাদরাক, প্রাগুক্ত,]