hadith book logo

পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব ও কর্তব্য

লেখকঃ মুহাম্মদ আব্দুল মান্নান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৮

মাত-পিতার সাথে সদ্ব্যবহারের প্রতিদান

আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি নিজের হায়াত ও জীবিকার প্রশস্ততা কামনা করে, সে যেন মাতা-পিতার সাথে সদ্ব্যবহার করে এবং আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখে। [৩ফতহুর রববানী ১৯ খ, পৃ. ৩৫, আত তারগীব ওয়াত তারহীব ৩য় খ, পৃ. ৩১৭]

মুয়ায ইবন আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি মাতা-পিতার সাথে সদ্ব্যবহার করে, তার জন্য সুসংবাদ হলো, আল্লাহ তাআলা তার হায়াত বৃদ্ধি করে দেবেন। [৪ আত তারগীব ওয়াত তারহীব ৩ খ, পৃ. ৩১৭; আল মুস্তাদরাক ৪খ , পৃ. ১৫৪]

ওয়াহাব ইবন মুনিয়্যা (রা) বলেনঃ মাতা-পিতার সাথে সদ্ব্যবহার সন্তানে হায়াত বৃদ্ধি করে দেয়। [১ আদ দুরুল মানসুর, ৫খ, পৃ. ২৬৭;]

সাওবান (র) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ দুআ ব্যতীত কোন কিছুই তাকদিরকে ফিরাতে পারে না । নেক আমল ব্যতীত কোন কিছুই হায়াত বাড়াতে পারে না। আর ব্যক্তির কৃত গুনাহ-ই তাকে জীবিকা থেকে বঞ্চিত করে। [২ ইবন মাজাহ, পৃ. ১০ আরো দ্রঃ মুসনাদে আহমাদ, তিরমিযী;]

ইবন উমার (রা) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা তোমাদের পিতাদের (পিতা ও দাদার ) সাথে সদ্ব্যবহার ও সদাচরণ করো, তাহলে তোমাদের সন্তানরাও তোমাদের সাথে সদাচরণ করবে । তোমরা সচ্চরিত্রবান হও, তোমাদের নারীরাও সচ্চরিত্রবান হবে। [৩ আত তারগীব ওয়াত তারহীব ৩ খ, পৃ. ৩১৮;]

আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা পরনারীর প্রতি কুদ্রষ্টি দেয়া থেকে নিজেদেরকে পবিত্র রাখ এবং সচ্চরিত্রবান হও, তোমাদের নারীরাও সচ্চরিত্রবান ও পবিত্র হবে । তোমাদের বাপদাদাদের সাথে সদ্ব্যবহার করো, তোমাদের সন্তানরাও তোমাদের সাথে সদ্ব্যবহার করবে.....। [৪ আত তারগীব ওয়াত তারহীব ৩ খ, পৃ. ৩১৭;]

ইবন উমার (রা) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ তিন ব্যক্তি চলার পথে বৃষ্টির কবলে পড়ে পর্বত গুহায় আশ্রয় নেয় । এমন সময় একখানা প্রকান্ড পাথর পাহাড় থেকে গড়িয়ে গুহার মুখে এস পড়ে । ফলে গুহার মুখ সম্পুর্ণরুপে বন্ধ হয়ে যায় । তখন তারা একে অপরকে বলল, তোমরা নিজেদের এমন কোন নেক আমলের কথা স্বরণ করো যা একমাত্র আল্লাহর উদ্দেশ্যেই করা হয়েছে । আর সেই নেক আমলের অসীলা করে আল্লাহর নিকট দুআ করো। আশা করা যায়, এর বদৌলতে তিনি বিপদ দূর করে দেবেন। অতঃপর তাদের একজন বলল, হে আল্লাহ ! আমার অতিশয় বৃদ্ধ মাতা-পিতা ছিলেন এবং ছোট ছোট কয়েকটি বাচ্চাও ছিল । আমি তাদের জন্য মেষ ও দুম্বা চরাতাম এবং আসার সময় তাদের জন্য দুধ দোহন করে আনতাম। আমার সন্তানদের দুধ পান করানোর আগেই আমার মাত-পিতাকে দুধ পান করাতাম। ঘটনাক্রমে একদিন চারণ বৃক্ষ আমাকে দুরে নিয়ে যায়। ফলে ঘরে ফিরতে আমার সন্ধ্যা হয়ে গেল। আমি এসে তাদেরকে (মাতা-পিতাকে) ঘুমন্ত অবস্থায় পেলাম। প্রতিদিনের ন্যায় আজও দুধ দোহন করে দুধের পাত্র নিয়ে তাঁদের কাছে আসলাম এবং পাত্র হাতে নিয়ে তাঁদের শিয়রে দাঁড়িয়ে থাকলাম। তাঁদের ঘুম থেকে ডাকা এবং তাঁদের আগে বাচচাদেরকে দুধ পান করানো আমি ভালো মনে করলাম না। অথচ আমার বাচ্চাগুলো (ক্ষুধার যাতনায়) আমার পায়ে পড়ে কাঁদছিল। আমার ও তাদের এ অবস্থা সকাল পর্যন্ত বিদ্যমান রইল। (অবশেষে আমার মাতা-পিতা ঘুম থেকে জাগার পর প্রথমে তাঁদেরকেই দুধ পান করালাম) ইয়া আল্লাহ! তুমি যদি জান যে, আমি এ কাজটি একমাত্র তোমার সন্তুষ্টির জন্য করেছিলাম, তাহলে এর অসীলায় আমাদের জন্য (গুহার মুখ থেকে) পাথরটি এতটুকু সরিয়ে দাও যাতে আমরা আকাশ দেখতে পাই। তখন আল্লাহ তাআলা পাথরটি এতটুকু পরিমাণ সরিয়ে দিলেন যে, তারা আকাশ দেখতে পাচ্ছিলো ...। [১ সহিহ আল বুখারী, ২খ, পৃ.৮৮৩ সহিহ মুসলিম, যিকির ওয়াদ দুয়া, অনুঃ ২৭, তিন গুহাবাসির ঘটনা; ৪খ, পৃ. ২৭৪৩]