hadith book logo

পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব ও কর্তব্য

লেখকঃ মুহাম্মদ আব্দুল মান্নান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৯

ক্ষেত্র বিশেষে মাতা-পিতার সেবা করা জিহাদের চাইতে উত্তম

মুয়াবিয়া ইবন জাহিমা আস-সুলামী (রা.) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এসে বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আমি আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং পরকালীন নাজাত লাভের উদ্দেশ্যে আপনার সাথে জিহাদে যেতে চাই। তিনি বললেনঃ আফসোস তোমার জন্য! তোমার মা কি বেঁচে আছেন? আমি বললাম, হ্যাঁ, বেঁচে আছেন। তিনি বললেন যাও, তার খেদমতে আত্মনিয়োগ করো। এরপর আমি অন্যদিক থেকে এসে আরয করলাম, হে আল্লাহর রাসুল! আমি আল্লাহর সন্তুষ্টি ও পরকালীন মুক্তির আশায় আপনার সাথে জিহাদে যেতে চাই। তিনি বললেনঃ আফসোস তোমার জন্য! তোমার মা কি বেঁচে নেই? আমি বললাম হ্যাঁ, বেঁচে আছেন। তিনি বললেনঃ যাও, তাঁর সেবা কর। অতঃপর আমি তাঁর সামনের দিক দিয়ে এসে বললাম, হে আল্লাহর রসুল! আমি আল্লাহর সন্তুষ্টি ও পরকালীন সফলতা লাভের আশায় আপনার সাথে জিহাদে শামিল হতে চাই । তিনি বললেনঃ আফসোস তোমার জন্য! তোমার মা কি বেঁচে নেই? আমি বললাম, ইয়া রাসুল্লাহ! আমার মা বেঁচে আছেন। তিনি আমাকে বললেনঃ আফসোস তোমার জন্য! তুমি তোমার মায়ের চরণ আঁকড়ে ধর। সেখানেই রয়েছে জান্নাত। [ইমাম মুহাম্মাদ ইবন মাজাহ আল কাজভীনি, সুনানু ইবন মাজাহ, কাদীমী কুতুবখানা, করাচী, কিতাবুল জিহাদ. পৃ. ১৭]

আবু সাইদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন , জনৈক ব্যক্তি ইয়েমেন থেকে হিজরত করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরবারে এসেছে । রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে বললেনঃ তুমি শিরক পরিত্যাগ করে এসেছো। তবে তোমার জিহাদ বাকি রয়ে গেছে। ইয়েমেনে কি তোমার মাতা-পিতা নেই? লোকটি বলল, হ্যাঁ আছেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ তারা কি তোমাকে জিহাদে আসার অনুমতি দিয়েছেন? জবাবে লোকটি বলল, না, অনুমতি দেয়নি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে বললেনঃ তোমার মাতা-পিতার কাছে যাও, তাঁরা অনুমতি দিলে জিহাদের জন্য এসো। অন্যথায় তাদের সেবা- যত্ন করো। [আহমাদ আব্দুর রহমান আল- বান্না, ফাতহুর রাববানী (শরহে মুসনাদে আহমাদ) দারুল হাদিস কায়রো, ১৯ খ, পৃ. ৩৬; ইমাম আবু দাউদ আস-সিজিস্তানী, সুনান আবু দাউদ, দারু ইহয়াউস সুন্নাহ আল নাবাবিয়্যা, ৩ খ, পৃ.১৭]

আনাস(র) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরবারে এসে আরয করল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমার জিহাদে যাওয়ার খুব ইচ্ছা, অথচ আমার সেই সামর্থ্য নেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমার মাতা-পিতা কেউ বেঁচে আছেন কি? লোকটি বলল, আমার মা বেঁচে আছেন। তিনি বললেনঃ তোমার মায়ের সেবায় নিয়োজিত থেকে আল্লাহর সাক্ষাত লাভ করো । এটা যদি তুমি করতে পারো, তাহলে তুমি হজ ও উমরা এবং আল্লাহর পথে জিহাদকারী হিসাবে পরিগণিত হবে। [ইমাম আল মুনযিরী , আত-তারগীব ওয়াত তারহিব, দারু ইহয়াউত তুরাস আল আরাবী বৈরুত, ৩য় সং, ১৩৮৮ হি, ১৯৮৮সন, ৩খ,প.৩১৫]

আব্দুল্লাহ ইবন উমার (র) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরবারে এসে আরয করলো, হে আল্লাহর রসুল! আমি আল্লাহর সন্তুষ্টি ও পরকালীন নাজাত লাভের উদ্দেশ্যে আপনার সাথে জিহাদ করার জন্য এসেছি । আমাকে আসতে দেখে আমার মাতা-পিতা দুজনই কাঁদছিলেন। একথা শুনে তিনি লোকটিকে বললেনঃ তুমি তাঁদের কাছে ফিরে যাও এবং তাঁদের মুখে হাসি ফুটাও, যেমনিভাবে তুমি তাঁদেরকে কাঁদিয়েছিলে। [ইবন মাজাহ, পৃ. ২০০, আল-মুস্তাদরাক, ৪খ, পৃ. ১২৫]

আব্দুল্লাহ ইবন আমর (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এসে বলল, আমি আল্লাহর নিকট থেকে প্রতিদান পাওয়ার আসায় আপনার নিকট হিজরত ও জিহাদের বাইআত করছি। তিনি লোকটিকে জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমার মাতা-পিতার মধ্যে কেউ কি জীবিত আছেন? লোকটি উত্তরে বলল, তাঁরা উভয়ে জীবিত আছেন। তিনি লোকটিকে বললেনঃ তুমি বাস্তবিকই আল্লাহর নিকট থেকে হিজরত ও জিহাদের প্রতিদান পেতে চাও? লোকটি জবাবে বলল হ্যাঁ, পেতে চাই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করলেনঃ তুমি তোমার মাতা-পিতার কাছে ফিরে যাও তাঁদের সাথে সদ্ব্যবহার করতে থাকো। [সহিহ মুসলিম, কিতাবুল বির, অনু: মাতা-পিতার সাথে সদ্ব্যবহার ।]

মুআবিয়া ইবন জাহিমা (রা) থেকে বর্ণিত। একদিন আমার পিতা জাহিমা (রা) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এসে বললেন ইয়া রাসুলুল্লাহ! আমি জিহাদে অংশ গ্রহণ করার ইচ্ছা করেছি। এ ব্যাপারে আমি আপনার সাথে পরামর্শ করতে এসেছি। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমার মা জীবিত আছেন কি? সে বললো হ্যাঁ, আছেন । তিনি বললেনঃ যাও , মায়ের খেদমতে আত্মনিয়োগ করো। কেননা জান্নাত তাঁর পায়ের কাছে। [আল মুস্তাদরাক, ৪খ,পৃ. ১৫১ ফাতহুর রাববানী, ১৯ খ, পৃ.৩৬]