১
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব ও কর্তব্য
লেখকঃ মুহাম্মদ আব্দুল মান্নান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৩৩
মায়ের বদ-দুআ: ইসলাম পূর্ব একটি ঘটনা
আবু হুরাইরা রা. বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ .... জুরাইজ নামে একজন নেককার ও বুযুর্গ ব্যক্তি ছিলেন। তিনি সব সময় খানকায় ইবাদতে মাশগুল থাকতেন। একদিন তাঁর মা তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য আসলেন। তখন তিনি নামায আদায় করছিলেন। মা তাঁকে ডাকলেন, হে জুরাইজ! তিনি মনে মনে বললেন, হে আল্লাহ! একদিকে আমার মা, অপরদিকে আমার নামায, এই বলে তিনি নামাযে মশগুল হয়ে গেলে। তাঁর মা এসে ডাক দিলেন, জুরাইজ! তিনি আবারও চিন্তা করলেন, হে আল্লাহ! একদিকে আমার মা, অপরদিকে আমার নামায (কি করে মার সাথে কথা বলি)। অতঃপর তিনি নামাযে মাশগুল হয়ে গেলেন। তাঁর মা গত দিনের মতো ফিরে চলে গেলেন। তৃতীয় দিনও মা এসে দেখেন, জুরাইজ নামায আদায় করছে। তিনি ডাক দিলেন, হে জুরাইজ! তিনি মনে মনে বললেন; হে আল্লাহ! একদিকে আমার মা, অপরদিকে আমার নামায। নামাযের মধ্যে কি করে জবাব দেই। তিনি চুপ রইলেন, অতঃপর নামাযে মাশগুল হয়ে গেলেন এতে তাঁর মা মনে খুব কষ্ট পেলেন এবং রাগান্বিত হয়ে বদ জিকির">দু’আ করলেন, হে আল্লাহ! চরিত্রহীন ব্যভিচারী নারীর চেহারা না দেখিয়ে তাকে মৃত্যু দিও না। এ বদ দু’আ করে নিরাশ হয়ে তিনি সেখান থেকে প্রস্থান করলেন।
ইতিমধ্যে বনী বনী ইসরাঈলের লোকদের মাঝে জুরাইজ ও তাঁর ইবাদত বন্দেগীর কথা আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়। এমন সময় এক অনিন্দ সুন্দরী ব্যভিচারী মহিলা লোকদেরকে বললো, তোমরা যদি মনে করো, তাহলে আমি তাঁকে কাজে ফাঁসিয়ে দেই। এরপর সে জুরাইজের খানকায় উপস্থিত হলো এবং তাঁকে অপকর্মের আহবান জানাতে লাগল। কিন্তু জুরাইজ তার প্রতি বিন্দুমাত্র দৃষ্টিপাত করেননি।
সে জুরাইজ থেকে নিরাশ হয়ে জুরাইজের খানকায় যাতায়াত করত এমন এক রাখালের কাছে গিয়ে নিজেকে তার সামনে পেশ করে দিল। রাখাল তার ষড়যন্ত্রের শিকার হলো। মহিলাটি গর্ভবতী হলো, অতঃপর একটি বাচ্চা প্রসব করল, আর প্রচার করতে লাগল, বাচ্চাটি জুরাইজ কর্তৃক ভূমিষ্ঠ হয়েছে। মহিলাটির এ অপপ্রচার শুনে লোকেরা জুরাইজের প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁর খানকার সামনে জড়ো হলো। তাঁকে খানকা থেকে টেনে হেঁচেড়ে বের করে তার খানাকাটি ভেঙ্গে ফেললো এবং তাঁকে প্রহার করতে লাগল।
জুরাইজ তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, কি হয়েছে তোমাদের? তারা বলল, তুমি এ নষ্টা ব্যভিচারিনী মহিলার সাথে ব্যভিচার করেছো। আর তোমার মাধ্যমে তার একটি সন্তানও ভূমিষ্ট হয়েছে। তিনি লোকদেরকে বললেন, ঠিক আছে, শিশুটি কোথায়, তাকে নিয়ে এসো। অতঃপর তাকে আনা হলো। তিনি বললেন, তোমরা আমাকে ছেড়ে দাও, আমি (দু রাকাআত) নামায আদায় করি।
নামায শেষ করে তিনি নবজাতক শিশুটির পেটে খোঁচা মেরে জিজ্ঞেস কলেন, বল, তোর পিতা কে? (শিশুটি কয়েকদিনের হলেও আল্লাহ তার যবান খুলে দিয়েছেন) সে বললো, ওমুক রাখার আমার পিতা। একথা শুনে জুরাইজের প্রতি লোকদের ভক্তি-শ্রদ্ধা আরো বেড়ে গেলো, তারা তাঁকে চুমু দেয়া শুরু করল, তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলো এবং বললো, তোমার এ খানকা আমরা সোনা দিয়ে নির্মাণ করে দেব। তিনি বললেন, না, তার প্রয়োজন হবে না। যেভাবে ছিল সেভাবে মাটি দ্বারা নির্মাণ করে দাও। তাই করা হলো।
মুসলিমের অপর বর্ণনায় এসেছে, জুরাইজের মা যদি ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার বদ দু’আ করতেন তাহলে তিনি অবশ্যই ব্যভিচারে লিপ্ত হতেন।১
ইতিমধ্যে বনী বনী ইসরাঈলের লোকদের মাঝে জুরাইজ ও তাঁর ইবাদত বন্দেগীর কথা আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়। এমন সময় এক অনিন্দ সুন্দরী ব্যভিচারী মহিলা লোকদেরকে বললো, তোমরা যদি মনে করো, তাহলে আমি তাঁকে কাজে ফাঁসিয়ে দেই। এরপর সে জুরাইজের খানকায় উপস্থিত হলো এবং তাঁকে অপকর্মের আহবান জানাতে লাগল। কিন্তু জুরাইজ তার প্রতি বিন্দুমাত্র দৃষ্টিপাত করেননি।
সে জুরাইজ থেকে নিরাশ হয়ে জুরাইজের খানকায় যাতায়াত করত এমন এক রাখালের কাছে গিয়ে নিজেকে তার সামনে পেশ করে দিল। রাখাল তার ষড়যন্ত্রের শিকার হলো। মহিলাটি গর্ভবতী হলো, অতঃপর একটি বাচ্চা প্রসব করল, আর প্রচার করতে লাগল, বাচ্চাটি জুরাইজ কর্তৃক ভূমিষ্ঠ হয়েছে। মহিলাটির এ অপপ্রচার শুনে লোকেরা জুরাইজের প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁর খানকার সামনে জড়ো হলো। তাঁকে খানকা থেকে টেনে হেঁচেড়ে বের করে তার খানাকাটি ভেঙ্গে ফেললো এবং তাঁকে প্রহার করতে লাগল।
জুরাইজ তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, কি হয়েছে তোমাদের? তারা বলল, তুমি এ নষ্টা ব্যভিচারিনী মহিলার সাথে ব্যভিচার করেছো। আর তোমার মাধ্যমে তার একটি সন্তানও ভূমিষ্ট হয়েছে। তিনি লোকদেরকে বললেন, ঠিক আছে, শিশুটি কোথায়, তাকে নিয়ে এসো। অতঃপর তাকে আনা হলো। তিনি বললেন, তোমরা আমাকে ছেড়ে দাও, আমি (দু রাকাআত) নামায আদায় করি।
নামায শেষ করে তিনি নবজাতক শিশুটির পেটে খোঁচা মেরে জিজ্ঞেস কলেন, বল, তোর পিতা কে? (শিশুটি কয়েকদিনের হলেও আল্লাহ তার যবান খুলে দিয়েছেন) সে বললো, ওমুক রাখার আমার পিতা। একথা শুনে জুরাইজের প্রতি লোকদের ভক্তি-শ্রদ্ধা আরো বেড়ে গেলো, তারা তাঁকে চুমু দেয়া শুরু করল, তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলো এবং বললো, তোমার এ খানকা আমরা সোনা দিয়ে নির্মাণ করে দেব। তিনি বললেন, না, তার প্রয়োজন হবে না। যেভাবে ছিল সেভাবে মাটি দ্বারা নির্মাণ করে দাও। তাই করা হলো।
মুসলিমের অপর বর্ণনায় এসেছে, জুরাইজের মা যদি ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার বদ দু’আ করতেন তাহলে তিনি অবশ্যই ব্যভিচারে লিপ্ত হতেন।১