hadith book logo

পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব ও কর্তব্য

লেখকঃ মুহাম্মদ আব্দুল মান্নান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২৭

জঘন্যতম পাপ

আবদুর রহমান ইবন আবূ বাকরা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি কি তোমাদেরকে সবচাইতে বড় কবীরা (জঘন্যতম) গুনাহ সম্পর্কে অবহিত করবো না। একথা তিনি তিন বার বললেন। সাহাবায়ে কেরাম বললেন, কেন নয়, অবশ্যই করবেন, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেনঃ আল্লাহর সাথে শিরক করা, মাতা- পিতার নাফরমানী করা। তিনি হেলান দিয়ে বসা ছিলেন, অতঃপর সোজা হয়ে বসে বলতে লাগলেন, (খুব ভালো করে শোন!) মিথ্যা কথা বলা ও মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া। তিনি বার বার একথা বলতে থাকনে। অবশেষে আমরা (মনে মনে) বললাম, হায়! তিনি যদি চুপ হয়ে যেতেন। [সহীহ আল- বুখারী, আদব, অনুঃ ৬; মাতা- পিতার নাফরমানী কবীরা গুনাহ; সহীহ মুসলিম, ঈমান, অনুঃ সবচাইতে বড় কবীরা গুনাহ সমূহের বর্ণনা, ১ খ, পৃ. ৯১, নং ৮৭, আরো দ্রঃ তিরমিযী।]

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমর ইবন হাযম (রা.) এর মাধ্যমে ইয়েমেনবাসীদের নিকট একখানা পত্র প্রেরণ করেছিলেন। তাতে তিনি তাদেরকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলার নিকট সবচাইতে বড় কবীরা গুনাহ হবে- ১. আল্লাহর সাথে শরীক করা, ২. অন্যায়ভাবে কোন মুমিনকে হত্যা করা, ৩. আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের ময়দান থেকে পলায়ন করা, ৪. মাতা-পিতার নাফরমানী করা, ৫। সতী সাধ্বী মহিলার ওপর অপবাদ দেয়া। ৬. যাদু শিক্ষা করা, ৭. সুদ খাওয় ও ৮। ইয়াতীমের সম্পদ ভক্ষণ করা।১

আবদুললাহ ইবন আমর ইবনুল আস (রা.) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : কবীরা গুনাহসমূহ হচ্ছে, ১. আল্লাহর সাথে শরীক করা ২. মাতা- পিতার অবাধ্য হওয়া, ৩. মানুষ হত্যা করা ও ৪. মিথ্যা শপথ করা।২

তাইসালা ইবন মাইয়্যাস (রা.) বলেন, আমি একটি সাহায্যকারী দলের সদস্য ছিলাম। সেখানে আমি কিছু পাপ কাজ করে ফেলেছি। সেটাকে কবীরা গুনাহ বলেই আমি ধরে নিয়েছিলাম। ইবনে উমর রা. এর নিকট বিষয়টি উলেলখ করলে তিনি বললেন, তুমি যে সব গুনার কথা বলছো, তা কি কি? আমি বললাম, তা হচ্ছে এই এই। ইবনে উমার রা. বললেন, এগুলো কবীরা গুনাহ নয়। কবীরা গুনাহ হচ্ছে নয়টি।

১. আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে শরীক করা, ২. অন্যায়ভাবে কোন মানুষকে হত্যা করা, ৩. যুদ্ধের ময়দান থেকে পলায়ন করা, ৪. সতী সাধ্বী নারীর প্রতি মিথ্যা অপবাদ দেয়া, ৫. সুদ খাওয়া, ৬. অন্যায়ভাবে ইয়াতীমের সম্পদ ভক্ষণ করা, ৭. মাসজিদুল হারাম- এ হারামকে হালাল মনে করা, ৮. কাউকে নিয়ে হাসি ঠাট্টা ও বিদ্রুপ করা ও ৯. মাতা পিতার নাফরমানীর মাধ্যমে তাঁদেরকে কাঁদানো।

তাইসালা রা. বলেন, ইবনে উমার রা. আমার মধ্যে ভয়-ভীতি ও আতংক দেখে বললেন, তুমি কি জাহান্নামে প্রবেশ করাকে খুব ভয় করছো? আমি বললাম জি হ্যাঁ। তিনি আবারও জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি জান্নাতে যেতে চাও? আমি বললাম হ্যাঁ, যেতে চাই। তিনি আমার কাছে জানতে চাইলেন, তোমার মাতা- পিতা বেঁচে আছেন কি? আমি বললাম, আমার মা বেঁচে আছেন। তিনি আমাকে বললেন, আল্লাহর শপথ করে বলছি, তুমি যদি তাঁর সাথে নম্রভাবে কথা বল এবং তাঁর ভরণ- পোষণের ব্যবস্থা করো, তাহলে তুমি অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে, যতক্ষণ না তুমি কবীরা গুনাহে লিপ্ত হবে।৩

সাহাবী আনাস রা. থেকে বর্নিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট কবীরা গুনাহের কথাবলা হলে তিনি বলেনঃ কবীরা গুনাহ হলো- আল্লাহর সাথে শরীক করা ও মাতা- পিতার অবাধ্য হওয়া।১

আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন ব্যক্তির নিজের মাতা- পিতাকে গালি দেয়া অন্যতম কবীরা গুনাহ। সাহাবীগণ বললেন, কোন লোক কি নিজের মাতা- পিতাকে গালি দেয়? তিনি বললেন : হ্যাঁ দেয়। কোন ব্যক্তি অপর ব্যক্তির পিতাকে গালি দেয়, প্রত্যুত্তরে সেও তার পিতাকে গালি দেয়। অনুরূপভাবে সে অপর কোন ব্যক্তির মাকে গালি দেয়, এর উত্তরে সেও তার (গালি দাতার) মাকে গালি দেয়।২

আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জঘন্যতম কবীরা গুনাহসমূহের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, কোন ব্যক্তির নিজের মাতা- পিতাকে লা’নত করা। বলা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! কোন ব্যক্তি কিভাবে তার মাতা- পিতাকে লা‘নত করতে পারে? তিনি বললেনঃ কোন ব্যক্তি অন্যের পিতাকে গালি দেয়, প্রত্যুত্তরে সেও তার পিতাকে গালি দেয়। অনুরূপভাবে কোন ব্যক্তি অন্যের মাকে গালি দেয়, এর উত্তরে সেও তার মাকে গালি দেয়।৩

আব্দুল্লাহ ইবন আববাস রা. থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি গাইরুল্লাহর নামে পশু যবাই করে, যে ব্যক্তি জমির সীমানা বদলে দেয় এবং যে ব্যক্তি নিজের মাতা- পিতাকে গালি দেয়, আল্লাহ তাআলা তার প্রতি লা‘নত (অভিসম্পাত) করেন।৪