১
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব ও কর্তব্য
লেখকঃ মুহাম্মদ আব্দুল মান্নান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৩২
নাফরমান সন্তানের ধ্বংস অনিবার্য
সাহাবী আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তার নাক ধুলি মলিন হোক! তার নাক ধুলি মলিন হোক। তার নাম ধুলি মলিন হোক (অর্থাৎ সে ধ্বংস হোক) জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! কে সে? তিনি বললেনঃ যে ব্যক্তি মাতা- পিতা উভয়কে অথবা তাঁদের কোন একজনকে বার্ধক্য অবস্থায় পেলো অথচ সে জান্নাতের প্রবেশ করল না।১
কা‘ব ইবন ‘উজরা (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা মিম্বরের কাছে এসো জামায়েত হও। আমরা সকলে মিম্বরের কাছে এসে জামায়েত হলাম। তিনি মিম্বরের প্রথম ধাপে আরোহন করে বললেনঃ আমীন। দ্বিতীয় ধাপে আরোহন করে পুনরায় বললেন আমীন। তৃতীয় ধাপে আরোহন করে আবারো বললেনঃ আমীন। তিনি মিম্বার থেকে অবতরণ করার পর আমরা তাঁর নিকট আরয করলাম, আজ আমরা আপনার কাছ থেকে এমন কিছু কথা শুনেছি যা ইতিপূর্বে কখনো শুনিনি। তিনি বললেনঃ জিবরাইল (এইমাত্র) আমাকে এসে বললেনঃ সে ব্যক্তি ধ্বংস হোক, যে রমযান মাস পেয়েছে, অথচ তার গুনাহ মাফ হয়নি। আমি বললাম আমীন (আল্লাহ কুবল করুন)। আমি দ্বিতীয় ধাপে আরোহণ করলে তিনি (জিবরাঈল) বললেনঃ সে ব্যক্তি ধ্বংস হোক, যার সামনে আমার নাম উচ্চারণ করা হলো, অথচ সে দরূদ পড়ল না। আমি বললামঃ আমীন। আমি মিম্বারের তৃতীয় ধাপে আরোহন করলে জিবরাঈল বললেনঃ সে ব্যক্তি ধ্বংস হোক, যে মাতা- পিতা উভয়কে অথবা তাঁদের কোন একজনকে পেল, কিন্তু তারা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করালো না। আমি বললামঃ আমিন।২
ব্যাখ্যাঃ বৃদ্ধ বয়সে মানুষ দ্রুত মৃত্যুর দিকে ধাবিত হয়। শরীর ক্রমাগত শক্তিহীন, দূর্বল ও নিস্তেজ হতে থাকে। কর্মক্ষমতা ও আতম নির্ভরশীলতা হারিয়ে ফেলে। এমনকি এক পর্যায়ে চলা- ফেরা করার ক্ষমতাও তাদের থাকে না। তখন দুর্বলতা ও অসহায়তব তাঁদেরকে গ্রাস করে ফেলে। ফলে তাঁরা পরনির্ভরশীল তথা সন্তান-সন্ততির ওপর পূর্ণ নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। অপর দিকে বার্ধক্যের চাপে ও চতুর্মূখী রোগ যাতনায় তাঁদের মেজায খিটখিটে, কথা-বার্তা কর্কশ, আচার- আচরণ রূঢ় হয়ে যায়। এ সময়টা হয় মানুষের জন্য চরম দুর্দিন। বানদার এ অসহায় ও দুর্দিনে আল্লাহ তাআলা তাদের প্রতি বিশেষ করুণার হাত প্রসারিত করেন এবং দয়া ও রহমতের দ্বার তাদের জন্য উন্মুক্ত করে দেন। ফলে সন্তানের জন্য মাতা- পিতার সন্তুষ্টিকে আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং তাঁদের অসন্তুষ্টিকে আল্লাহর অসন্তুষ্টি হিসাবে পরিগণিত করা হয় এবং তাঁদেরকে সন্তানের জন্য জান্নাত ও জাহান্নাম হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়। কারণ মাতা- পিতার এ কঠিন মুহূর্তে তাঁরা যে সন্তানের প্রতি সন্তুষ্ট হন আল্লাহ তাআলাও তার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে তার জন্য জান্নাতের ফায়সালা করে দেন।
পক্ষান্তরে যে সন্তান তার অস্তিত্ব, জনম, শৈশব ও কৈশোর জীবনে তার জন্র মাতা- পিতার এ চরম অসহায় অবস্থায় তাঁদের সেবা- যত্নে আত্মনিয়োগ করার পরিবর্তে তাঁদের অবাধ্য হয় এবং তাঁদের নাফরমানী করে ও তাঁদের মনে কষ্ট দেয়, আল্লাহ তাআলা তার প্রতি অসন্তুষ্ট ও রাগান্বিত হয়ে তার জন্য জাহান্নামের ফায়সালা করে দেন।
বৃদ্ধ মাতা- পিতাকে বা তাদের কোন একজনকে পেয়েও যারা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারেনি তারা ধ্বংস হোক- রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এ কথাটা জিবরাঈল বললেও এ কথাটা জিবরাঈল এর নয় বরং এটা স্বয়ং আল্লাহ তাআলার ফায়সালা। জিবরাঈল হচেছন বাণী বাহক মাত্র। আল্লাহ তাআলার এ ফায়সালার প্রতি জিবরাঈল এর পূর্ণ সমর্থন ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ফায়সালাকে বিনা বাক্যে গ্রহণ করেছেন। বরং তিনি এর সাথে পূর্ণ একাতম হয়ে এ ফায়সালা কার্যকরী করার জন্য আমীন বলে আল্লাহর কাছে দুআ করেছেন।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মাতের প্রতি অত্যন্ত রহমদিল ছিলেন। উম্মতের শাস্তির কথা শুনে তিনি বিচলিত হয়ে পড়তেন। উম্মতের ইহকাল ও পরকালীন সুখ- শান্তি ও কল্যাণ সাধন করাই ছিল তাঁর নবুয়্যতী জীবনের মিশন। তা সত্ত্বেও মাতা- পিতার নাফরমান এবং তাঁদের মনে কষ্ট দানকারী সন্তানের ধ্বংসের জন্য তিনি বদদু‘আ করেছেন। কাজেই তাদের ধ্বংস অনিবার্য। তবে যদি তারা তওবা করে এবং নিজেদের ভুল স্বীকার করে মাতা- পিতার পায়ে পড়ে ক্ষমা চেয়ে নেয়। তাঁদের সেবা- যত্নে আত্মনিয়োগ করে তাঁদের সন্তুষ্টি অর্জন করে। আর মাতা- পিতা মারা গেলে নিজেদের কৃত অপরাধের জন্য আল্লাহর দরবারে খালেস ভাবে তওবা করে, মাতা- পিতার জন্য দুআ ও দান-সাদাকা করতে থাকে এবং মাতা- পিতার পক্ষের আত্মীয় স্বজনের সাথে ও মাতা- পিতার বন্ধু-মহলের সাথে সদ্ব্যবহার করতে থাকে, তাহলে আশা করা যায় যে, তারা অনিবার্য ধ্বংস থেকে রেহাই পাবে।
কা‘ব ইবন ‘উজরা (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা মিম্বরের কাছে এসো জামায়েত হও। আমরা সকলে মিম্বরের কাছে এসে জামায়েত হলাম। তিনি মিম্বরের প্রথম ধাপে আরোহন করে বললেনঃ আমীন। দ্বিতীয় ধাপে আরোহন করে পুনরায় বললেন আমীন। তৃতীয় ধাপে আরোহন করে আবারো বললেনঃ আমীন। তিনি মিম্বার থেকে অবতরণ করার পর আমরা তাঁর নিকট আরয করলাম, আজ আমরা আপনার কাছ থেকে এমন কিছু কথা শুনেছি যা ইতিপূর্বে কখনো শুনিনি। তিনি বললেনঃ জিবরাইল (এইমাত্র) আমাকে এসে বললেনঃ সে ব্যক্তি ধ্বংস হোক, যে রমযান মাস পেয়েছে, অথচ তার গুনাহ মাফ হয়নি। আমি বললাম আমীন (আল্লাহ কুবল করুন)। আমি দ্বিতীয় ধাপে আরোহণ করলে তিনি (জিবরাঈল) বললেনঃ সে ব্যক্তি ধ্বংস হোক, যার সামনে আমার নাম উচ্চারণ করা হলো, অথচ সে দরূদ পড়ল না। আমি বললামঃ আমীন। আমি মিম্বারের তৃতীয় ধাপে আরোহন করলে জিবরাঈল বললেনঃ সে ব্যক্তি ধ্বংস হোক, যে মাতা- পিতা উভয়কে অথবা তাঁদের কোন একজনকে পেল, কিন্তু তারা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করালো না। আমি বললামঃ আমিন।২
ব্যাখ্যাঃ বৃদ্ধ বয়সে মানুষ দ্রুত মৃত্যুর দিকে ধাবিত হয়। শরীর ক্রমাগত শক্তিহীন, দূর্বল ও নিস্তেজ হতে থাকে। কর্মক্ষমতা ও আতম নির্ভরশীলতা হারিয়ে ফেলে। এমনকি এক পর্যায়ে চলা- ফেরা করার ক্ষমতাও তাদের থাকে না। তখন দুর্বলতা ও অসহায়তব তাঁদেরকে গ্রাস করে ফেলে। ফলে তাঁরা পরনির্ভরশীল তথা সন্তান-সন্ততির ওপর পূর্ণ নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। অপর দিকে বার্ধক্যের চাপে ও চতুর্মূখী রোগ যাতনায় তাঁদের মেজায খিটখিটে, কথা-বার্তা কর্কশ, আচার- আচরণ রূঢ় হয়ে যায়। এ সময়টা হয় মানুষের জন্য চরম দুর্দিন। বানদার এ অসহায় ও দুর্দিনে আল্লাহ তাআলা তাদের প্রতি বিশেষ করুণার হাত প্রসারিত করেন এবং দয়া ও রহমতের দ্বার তাদের জন্য উন্মুক্ত করে দেন। ফলে সন্তানের জন্য মাতা- পিতার সন্তুষ্টিকে আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং তাঁদের অসন্তুষ্টিকে আল্লাহর অসন্তুষ্টি হিসাবে পরিগণিত করা হয় এবং তাঁদেরকে সন্তানের জন্য জান্নাত ও জাহান্নাম হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়। কারণ মাতা- পিতার এ কঠিন মুহূর্তে তাঁরা যে সন্তানের প্রতি সন্তুষ্ট হন আল্লাহ তাআলাও তার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে তার জন্য জান্নাতের ফায়সালা করে দেন।
পক্ষান্তরে যে সন্তান তার অস্তিত্ব, জনম, শৈশব ও কৈশোর জীবনে তার জন্র মাতা- পিতার এ চরম অসহায় অবস্থায় তাঁদের সেবা- যত্নে আত্মনিয়োগ করার পরিবর্তে তাঁদের অবাধ্য হয় এবং তাঁদের নাফরমানী করে ও তাঁদের মনে কষ্ট দেয়, আল্লাহ তাআলা তার প্রতি অসন্তুষ্ট ও রাগান্বিত হয়ে তার জন্য জাহান্নামের ফায়সালা করে দেন।
বৃদ্ধ মাতা- পিতাকে বা তাদের কোন একজনকে পেয়েও যারা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারেনি তারা ধ্বংস হোক- রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এ কথাটা জিবরাঈল বললেও এ কথাটা জিবরাঈল এর নয় বরং এটা স্বয়ং আল্লাহ তাআলার ফায়সালা। জিবরাঈল হচেছন বাণী বাহক মাত্র। আল্লাহ তাআলার এ ফায়সালার প্রতি জিবরাঈল এর পূর্ণ সমর্থন ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ফায়সালাকে বিনা বাক্যে গ্রহণ করেছেন। বরং তিনি এর সাথে পূর্ণ একাতম হয়ে এ ফায়সালা কার্যকরী করার জন্য আমীন বলে আল্লাহর কাছে দুআ করেছেন।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মাতের প্রতি অত্যন্ত রহমদিল ছিলেন। উম্মতের শাস্তির কথা শুনে তিনি বিচলিত হয়ে পড়তেন। উম্মতের ইহকাল ও পরকালীন সুখ- শান্তি ও কল্যাণ সাধন করাই ছিল তাঁর নবুয়্যতী জীবনের মিশন। তা সত্ত্বেও মাতা- পিতার নাফরমান এবং তাঁদের মনে কষ্ট দানকারী সন্তানের ধ্বংসের জন্য তিনি বদদু‘আ করেছেন। কাজেই তাদের ধ্বংস অনিবার্য। তবে যদি তারা তওবা করে এবং নিজেদের ভুল স্বীকার করে মাতা- পিতার পায়ে পড়ে ক্ষমা চেয়ে নেয়। তাঁদের সেবা- যত্নে আত্মনিয়োগ করে তাঁদের সন্তুষ্টি অর্জন করে। আর মাতা- পিতা মারা গেলে নিজেদের কৃত অপরাধের জন্য আল্লাহর দরবারে খালেস ভাবে তওবা করে, মাতা- পিতার জন্য দুআ ও দান-সাদাকা করতে থাকে এবং মাতা- পিতার পক্ষের আত্মীয় স্বজনের সাথে ও মাতা- পিতার বন্ধু-মহলের সাথে সদ্ব্যবহার করতে থাকে, তাহলে আশা করা যায় যে, তারা অনিবার্য ধ্বংস থেকে রেহাই পাবে।