১
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব ও কর্তব্য
লেখকঃ মুহাম্মদ আব্দুল মান্নান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৪১
মাতা-পিতার নাফরমানীর বদলা
আসমা’ঈ র. বলেন, জনৈক আরব বেদুঈন আমার নিকট বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি মাতা- পিতার নাফরমান ও তাঁদের অনুগত সন্তানের অনুসন্ধানে নিজ গ্রাম থেকে বের হয়ে বহু গ্রাম অতিক্রম করি। অবশেষে এক বৃদ্ধের কাছে এসে পৌঁছি। তার গলায় দড়ি বাঁধা। সে দ্বিপ্রহরের প্রচন্ড গরমে একটি বালতি দ্বারা পানি উঠানোর কাজে নিয়োজিত রয়েছে, যে বালতি দ্বারা পানি উঠানো উটের পক্ষেও অসম্ভব। বৃদ্ধের পিছনে রয়েছে পাকানো দড়ির চাবুক হাতে এক যুবক। সে তাকে উক্ত চাবুক দ্বারা প্রহার করছে। চাবুকের আঘাতে বৃদ্ধের পিঠ ফেটে যাচ্ছে। আমি যুবককে বললাম, সাবধান! আল্লাহকে ভয় করো। এ দুর্বল বৃদ্ধকে প্রহার করা থেকে বিরত হও। বৃদ্ধ লোকটি রশি দ্বারা পানি উঠানোর যে কঠিন কাজে নিয়োজিত তা কি তার জন্য যথেষ্ট নয়? তা সত্ত্বেও তাকে প্রহার করছো? যুবকটি বললো, এতদসত্তেব সে তো আমার পিতা। আমি বললাম, আল্লাহ তাআলা তোমার অকল্যাণ করুন। যুবকটি বললো, থামুন! সে তার পিতার সাথে এরূপ আচরণ করতো। আর তার পিতাও তার দাদার সাথে এ ধরনের আচরণ করতো। তখন আমি বললাম, এই হলো, মাতা- পিতার সবচাইতে বড় নাফরমান ব্যক্তি।১
আসমাঈ রহ. বলেন, জনৈক আরব আমাকে বলেন, আব্দুল মালেক ইবন মারওয়ানের শাসনামলে মুনাযিল নামে এক লোক ছিল। তার ছিল একজন বৃদ্ধ পিতা। তার উপাধি ছিল ফার‘আন। যুবক ছেলেটি তার অবাধ্য ছিল। কবিতার ছন্দাকারে বৃদ্ধ আক্ষেপ করে বলেন, আমার ও মুনাযিলের মাঝে আত্মীয়তা আমাকে এমন প্রতিদান দিয়েছে যেমন ঋণ দাতা ঋণ গ্রহিতাকে ঋণ পরিশোধের জন্য তাড়িয়ে নিয়ে বেড়ায়। কিছুকাল পর মুনাযিলের সন্তান জুলাইহ মুনাযিলের অবাধ্য হয়ে যায়, সে জুলাইহ কর্তৃক বিপদগ্রস্থ হয়ে বলে, আমার মাল- সম্পদের ব্যাপারে জুলাইহ আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে, আর সে আমার অবাধ্য হয়, যখন আমার মেরুদন্ডের হাড় বেকিয়ে ধনুকের মতো হয়ে গেছে। এ অবস্থা দেখে গভর্নর জুলাইহকে প্রহার করতে উদ্যত হলে সে বলে, আমার ব্যাপার তাড়াহুড়া করবেন না। এই হচ্ছে ফার’আন পুত্র মুনাযিল যার সম্পর্কে তার পিতা আক্ষেপ করে বলেছিলো, আমার ও মুনাযিলের মাঝে আত্মীয়তা এমন প্রতিদান দিয়েছে যেমন ঋণ দাতা ঋণ গ্রহিতাকে ঋণ পরিশোধ করার জন্য তাড়িয়ে বেড়ায়। এ কথা শুনে গভর্নর বলেন, ওহে! তুমি তোমার মাতা-পিতার নাফরমানী করেছো, এখন সন্তান কর্তৃক নাফরমানীর শিকার হয়েছো।২
উবাইদ ইবন জুরাইজ থেকে বর্ণিত, তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়, মূসা আ. এর ওপর আল্লাহ তাআলা যা নাযিল করেছেন তাতে মাতা- পিতার নাফরমানীর ব্যাপারে কি বলেছেন? জবাবে তিনি বলেন, পিতা সন্তানকে কোন আদেশ করলে সে যদি তা পালন না করে, সেটাই হলো পিতার নাফরমানী। আর পিতা সন্তানের পক্ষ থেকে কোন বিষয়ের সম্মুখীন হয়ে আল্লাহর দরবারে অভিযোগ করলে সেটা হবে পুরোপুরি নাফরমানী ও অবাধ্যতা।১
আসমাঈ রহ. বলেন, জনৈক আরব আমাকে বলেন, আব্দুল মালেক ইবন মারওয়ানের শাসনামলে মুনাযিল নামে এক লোক ছিল। তার ছিল একজন বৃদ্ধ পিতা। তার উপাধি ছিল ফার‘আন। যুবক ছেলেটি তার অবাধ্য ছিল। কবিতার ছন্দাকারে বৃদ্ধ আক্ষেপ করে বলেন, আমার ও মুনাযিলের মাঝে আত্মীয়তা আমাকে এমন প্রতিদান দিয়েছে যেমন ঋণ দাতা ঋণ গ্রহিতাকে ঋণ পরিশোধের জন্য তাড়িয়ে নিয়ে বেড়ায়। কিছুকাল পর মুনাযিলের সন্তান জুলাইহ মুনাযিলের অবাধ্য হয়ে যায়, সে জুলাইহ কর্তৃক বিপদগ্রস্থ হয়ে বলে, আমার মাল- সম্পদের ব্যাপারে জুলাইহ আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে, আর সে আমার অবাধ্য হয়, যখন আমার মেরুদন্ডের হাড় বেকিয়ে ধনুকের মতো হয়ে গেছে। এ অবস্থা দেখে গভর্নর জুলাইহকে প্রহার করতে উদ্যত হলে সে বলে, আমার ব্যাপার তাড়াহুড়া করবেন না। এই হচ্ছে ফার’আন পুত্র মুনাযিল যার সম্পর্কে তার পিতা আক্ষেপ করে বলেছিলো, আমার ও মুনাযিলের মাঝে আত্মীয়তা এমন প্রতিদান দিয়েছে যেমন ঋণ দাতা ঋণ গ্রহিতাকে ঋণ পরিশোধ করার জন্য তাড়িয়ে বেড়ায়। এ কথা শুনে গভর্নর বলেন, ওহে! তুমি তোমার মাতা-পিতার নাফরমানী করেছো, এখন সন্তান কর্তৃক নাফরমানীর শিকার হয়েছো।২
উবাইদ ইবন জুরাইজ থেকে বর্ণিত, তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়, মূসা আ. এর ওপর আল্লাহ তাআলা যা নাযিল করেছেন তাতে মাতা- পিতার নাফরমানীর ব্যাপারে কি বলেছেন? জবাবে তিনি বলেন, পিতা সন্তানকে কোন আদেশ করলে সে যদি তা পালন না করে, সেটাই হলো পিতার নাফরমানী। আর পিতা সন্তানের পক্ষ থেকে কোন বিষয়ের সম্মুখীন হয়ে আল্লাহর দরবারে অভিযোগ করলে সেটা হবে পুরোপুরি নাফরমানী ও অবাধ্যতা।১