hadith book logo

পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব ও কর্তব্য

লেখকঃ মুহাম্মদ আব্দুল মান্নান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২৫

মাতা-পিতার সাথে সদ্ব্যবহারের উপকারিতা

* মাতা-পিতা আল্লাহ র শ্রেষ্ঠ নেআমত। সন্তানের জনম ও তাদের লালন-পালনে আল্লাহর পরেই মাতা-পিতার অবদান সবচাইতে বেশী। মাতা-পিতার অবদান ও ইহসানের কৃতজ্ঞতা জানালে আল্লাহর ইহসানের কৃতজ্ঞতা জানানো হয়। তাদের অকৃতজ্ঞতা আল্লাহর অকৃতজ্ঞতারই শামিল।

* মাতা-পিতার সাথে সদ্ব্যবহার করলে ঈমান পরিপূর্ণ হয় এবং ইসলামী জীবন যাত্রা সুন্দর হয়।

* মাতা-পিতার আনুগত্য করা উত্তম ইবাদত ও শ্রেষ্ঠ আনুগত্য।

* মাতা-পিতার সন্তুষ্টি জান্নাতের চাবিকাটি। মাতা-পিতার সাথে সদ্ব্যবহার জান্নাতের পথে ধাবিত করে। যাকে আল্লাহ মাতা-পিতার সেবা- যত্ন ও খেদমত করার সৌভাগ্য দান করেছেন, প্রকৃতপক্ষে তাকে তিনি জান্নাতের পথে চলারই সুযোগ করে দিয়েছেন। যে ব্যক্তি এ সৌভাগ্য অর্জন করেছে, আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।

* মাতা-পিতার সাথে সদ্ব্যবহার করলে, তাঁদের সেবা-যত্ন ও খেদমত করলে হায়াত বৃদ্ধি পাবে।

* মাতা-পিতার সাথে সদ্ব্যবহার করলে পরকালে মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে এবং মানুষের কাছে সে প্রসংসিত হবে।

যে ব্যক্তি মাতা-পিতার সাথে সদ্ব্যবহার করে, তার সন্তানরাও তার সাথে সদ্ব্যবহার করবে, তার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবে এবং তাকে মর্যাদা প্রদান করবে। মাতা-পিতার সাথে ভালো আচরণ করলে আল্লাহ তার সন্তানদেরকেও সেই শিক্ষাই দেবেন।

* মাতা-পিতার সাথে সদ্ব্যবহার করলে এবং তাদের সেবা-যত্ন করলে বিপদ মুসিবত দুর হয় ও দুশ্চিন্তা মুক্ত হওয়া যায়।

* যে ব্যক্তি মাতা-পিতার বন্ধুদের সাথে সদাচরণ করবে, তার নুর বিলুপ্ত করা হবে না।

* মাতা-পিতার সন্তুষ্টি আল্লাহর সন্তুষ্টি। মাতা-পিতাকে সন্তুষ্ট করার কাজ করতে থাকলে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করা যায়।

* আল্লাহর ঘর তাওয়াফ করা, হজ ও উমরা পালন করা ইসলামের গুরুত্বপুর্ণ ইবাদত। যে ব্যক্তি মাতা-পিতার সাথে সদ্ব্যবহার করে, তাঁদের অধিকার আদায় করে এবং তাদের সেবা যত্ন করে, আল্লাহ তাকে কবুল হজ ও উমরার সমান সাওয়াব দান করেন।

* মাতা-পিতার খেদমত ও সেবা-যত্ন করা জিহাদের সমতুল্য ইবাদত। ক্ষেত্র বিশেষে তার চাইতেও বড়। মাতা-পিতার খেদমতে নিয়েজিত থাকলে দ্বীন প্রতিষ্ঠাকারী মুজাহিদগণের মধ্যে গণ্য হওয়া যাবে এবং জিহাদের ময়দানে অংশ গ্রহণকারীদের সমতুল্য মর্যাদার অধিকারী হওয়া যাবে। [১ নাদরাতুন নাঈম, ৩ খ, পৃ. ৭৭৯ ; হুসনে মুয়াশারাহ, পৃ. ৭৭-৭৮ ।]