hadith book logo

দয়া ও ভালোবাসার অনন্য বিশ্ব নবী

লেখকঃ আবু আব্দুর রাহমান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২৩

একুশতম পরিচ্ছেদ: তার শেষ জীবনের শ্রেষ্ঠকর্ম

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোন কাজ করতেন সুনিশ্চিত ও নিয়মিত ভাবে করতেন। তিনি বলেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয় আমল হলো, যা নিয়মিত করা হয়, যদিও তা স্বল্প হয়।’ [সহীহ আল - বুখারী ৪৯৯৮, সহীহ মুসলিম , ৭৮২।]

আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক রমজান মাসে দশ দিন ইতিকাফ করতেন। যে বছর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর সান্নিধ্যে চলে যান ঐ বছর তিনি বিশ দিন ইতিকাফ করেছিলেন। তার নিকট কুরআন পেশ করা হতো বছরে একবার। তবে যে বছর তিনি আল্লাহর সান্নিধ্যে চলে যান ঐ বছর কুরআন দু’বার পেশ করা হয়। [সহীহ আল - বুখারী ৪৪৩৩, সহীহ মুসলিম , ২৪৫০।]

আয়েশা রা, হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার মৃত্যুর পূর্বক্ষণে বেশি বেশি বলতেনঃ

سُبْحَانَكَ اللهُمَّ وَبِحَمْدِكَ، أسْتَغْفِرُكَ وَأتُوْبُ إلَيْكَ

‘হে আল্লাহ তোমার পবিত্রতা ঘোষণা এবং তোমার প্রশংসা করছি, তোমার কাছে ক্ষমা চাচ্ছি, এবং তোমার কাছে তাওবা করছি।’

আয়েশা রা. বললেন, আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসূল! এ বাক্যগুলো কি, যা আপনি উদ্ভাবন করে বলছেন?’ তিনি বললেন, ‘আমার উম্মতের মধ্যে আমার জন্য একটি নিদর্শন তৈরী করা হয়েছে। আমি যখন তা দেখি তখন এগুলো বলি। তা হল,

إِذَا جَاءَ نَصْرُ اللَّهِ وَالْفَتْحُ

এ সূরা সম্পর্কে আব্দুল্লাহ ইবনে আববাস উমার রা. কে বললেনঃ

إِذَا جَاءَ نَصْرُ اللَّهِ وَالْفَتْحُ

‘‘যখন আসবে আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় ..’’

এটা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মৃত্যু সংবাদ। এটা আমি জানি। উমার রা. বললেন, ‘আপনি যা জানেন আমি তা-ই জানি।’ [সহীহ আল - বুখারী, ৪৪৩০।]

কারো মত হলো, এ সূরাটি বিদায় হজের সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিনায় অবস্থান কালে জিলহাজ্ব মাসের দশম তারিখে অবর্তীণ হয়। [ফাতহুল বারী, ৭৩৪/৮ কারো কারো মত হলো এ সূরা অবর্তীণ হওয়ার পর তিনি আর মাত্র ৮১ দিন হায়াত পেয়ে ছিলেন, ফাতহুল বারী, ৭৩৪/৮।] কারো মত হলো আইয়্যামে তাশরীকের দিবসগুলোতে সূরাটি অবর্তীণ হয়। [ফাতহুল বারী, ১৩০/৮।] তাবারানি বর্ণনা করেন, এ সূরা নাযিলের পর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরকালের বিষয়ে আমল জোরদার করেন। আয়েশা রা. বলেন, এর প্রেক্ষিতে রাসূল রুকু ও সিজদায় অধিক পরিমাণে বলতেন,

سبحانك اللهم ربنا وبحمدك اللهم اغفرلي

‘তোমার পবিত্রতা ঘোষণা করছি হে আমার প্রতিপালক আল্লাহ ! আর তা তোমার প্রশংসার সাথে। হে আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করো।’

প্রকৃত পক্ষে এতে তিনি কুরআনেরই প্রতি ধ্বনি করছিলেন [] যা সূরা আন-নাছর এ বলা হয়েছে,

فَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ وَاسْتَغْفِرْهُ إِنَّهُ كَانَ تَوَّابًا

‘‘তখন তুমি তোমার প্রতিপালকের কৃতজ্ঞতাবাচক পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করো এবং তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। তিনি তো সর্বাপেক্ষা অধিক তাওবা গ্রহণকারী।’’

সারকথাঃ এ অধ্যায়ে অনেক শিক্ষণীয় বিষয় আছে। এর মধে মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়টি নিম্নে উল্লেখ করা হলোঃ

১. নিয়মিত নেক আমলের প্রতি উৎসাহ প্রদান। অনিয়মিত অধিক আমলের চেয়ে নিয়মিত অল্প আমল অনেক উত্তম । কারণ নিয়মিত আমলের মাধ্যমে নেকআমল, আল্লাহর স্মরণ, ইবাদত, মুরাকাবা, আন্তরিকতা, সৃষ্টিকর্তার প্রতি আগ্রহ অব্যাহত থাকে।

২. যে কোন ইবাদতে নিজের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করলে আশংকা থাকে যে, বিরক্ত হয়ে সে ঐ কাজ ছেড়ে দেবে।

৩. মুসলিম ব্যক্তি যখনই বার্ধর্ক্যে উপনীত হয়, তার সাধ্যানুযায়ী সে নেক কাজে অধিক সময় ব্যয় করে। যাতে সে আল্লাহর সাথে ভালভাবে সাক্ষাত করতে পারে, কারণ আমলের মূল্যায়ন শেষে হয়।