hadith book logo

মুসলমানদের পতন অতীত বর্তমান (সালাহউদ্দীন আইউবীর আবির্ভাব পূর্ব ইসলামি বিশ্ব ও বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা)

লেখকঃ মুহাম্মদ আল আবদাহ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১২

দ্বিতীয় অধ্যায়: শিয়া বাতেনী ভাবধারায় কর্তৃত্ব লাভের চেষ্টা

শিয়া এবং বাতেনী ভাবধারায় কর্তৃত্ব লাভের চেষ্টা

হিজরী চতুর্থ শতাব্দী সবেমাত্র শুরু হয়েছে। এ সময় এখানে-সেখানে শিয়া রাষ্ট্রের উদ্ভব ঘটে, যেন পানির উপর তেলের ফোটা আর কি! অতঃপর তা বিস্তৃত আর প্রশস্ত হতে থাকে। এমনকি দর্শকের নিকট প্রতিভাত হয় যে, মুসলিম বিশ্বের বেশিরভাগ অঞ্চলের উপরই তাদের কর্তৃত্ব চলছে।

অধিকাংশ শহরে শিয়াদের হাঁক-ডাকে সাড়া দেওয়ার লোক তৈয়ার করায় তাদের আহবান সাফল্য অর্জন করে। সন্দেহ নেই যে, কেন্দ্রীয় খেলাফতের দুর্বলতা, দূর দূরান্ত বা পার্বত্য অঞ্চলে শিয়া প্রচারকদের উৎসাহ, কর্মতৎপরতা, পরিবর্তনের প্রতি মানুষের আগ্রহ, নূতন রাষ্ট্র আর নতুন পরিবার দেখার জন্য তাদের ব্যাগ্রতা- ব্যাকুলতা- এসব হচ্ছে তাদের উদ্ভবের কারণ। শিয়া ধর্ম মতের একজন আলেম সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে ঐতিহাসিক ইবনে কাসীর এ প্রমাণের উল্লেখ করে বলেন .

ইবনু নুমান রাফেযীদের শাসন, তাদের পক্ষে ওকালতকারি, আশপাশের দেশগুলোর শাসকদের নিকট তার ছিল মর্যাদা আর সম্মান। কারণ, সেকালের অনেকেই ঝুঁকে পড়ে শিয়া ধর্মমতের প্রতি। তার অসংখ্য ছাত্রদের মধ্যে শরীফ রযী আর মুতাযাও ছিলেন।1

আল্লাহর ইচ্ছায় এসব রাষ্ট্রের প্রত্যেকটি সম্পর্কে আমরা সংক্ষিপ্ত আলোচনা করব। এসব রাষ্ট্রের অস্তিত্ব ইসলাম আর মুসলমানদের জন্য ক্ষতিকর ছিল কিনা, আমরা সে বিষয়েও সংক্ষেপে আলোচনা করব। মুসলমানদের প্রবৃদ্ধি আর শতধা বিচ্ছিন্নতায় এসব শিয়া রাষ্ট্র ভূমিকা পালন করেছিল কিনা, তা-ও আলোচনা করব। এসব বিষয়ের আলোচনা দ্বারা হিজরী চতুর্থ শতাব্দী এবং তৎপর বর্তী কালে মুসলিম সমাজের সাধারণ অবস্থার একটা চিত্র পাঠকের সম্মুখে পরিস্ফুট হয়ে উঠবে।