১
মুসলমানদের পতন অতীত বর্তমান (সালাহউদ্দীন আইউবীর আবির্ভাব পূর্ব ইসলামি বিশ্ব ও বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা)
লেখকঃ মুহাম্মদ আল আবদাহ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৬
৪. বনু হামদান
বিপ্লব আর রাজনৈতিক জাগরণের সে যুগটাতে অন্যান্য রাষ্ট্রের মতো বনু হামদানদের উদ্ভব হয়। দাঙ্গা হাঙ্গামার অনেক আন্দোলনে তারা অংশগ্রহণ করে। মুসেল, জাযিরা এবং উত্তর সিরিয়া পর্যন্তও তারা পৌঁছে। কখনো তারা ছিল শাসকদের সঙ্গে, আবার কখনো দাঁড়ায় শাসক শ্রেণির বিরুদ্ধে। আরবের প্রসিদ্ধ ‘তগলব’ কবিলার সাথে এ পরিবার সম্পৃক্ত। ইসলাম এবং জাহেলি যুগে ফোরাতের একটা দ্বীপে ছিল এদের কেন্দ্র। এ পরিবারে প্রথম যে ব্যক্তিটির উদ্ভব ঘটে, সে ছিল হামদান ইবনে হামদূন তগলবী। আল-জাযিরায় খারেজীদের বিপ্লবের প্রতি সে সমর্থন জ্ঞাপন করে। ফলে আববাসীয় খলিফা তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য বহির্গত হয়ে জয় লাভ করেন। হামদান পলায়ন করে; কিন্তু সৈন্যরা তার পিছু ধাওয়া করে। ফলে তার জন্য পৃথিবী সংকীর্ণ হয়ে পড়লে সে আশ্রয় প্রার্থী হয়। খলিফা মুতায়েদ তাকে পাকড়াও করে বন্দী করে।1
খলিফা মুকতাফীর শাসনামলে আবুল হীজা আব্দুল্লাহ ইবনে হামদান ইবনে হামদূন মুসেল এবং তৎসান্নিহিত অঞ্চলের শাসনকর্তা হয়। আববাসীয় খলিফা আল- মুকতাদির- এর বিরুদ্ধে বিপ্লব আর গোলযোগে আবুল হীজা অংশ গ্রহণ করে। এই গোলযোগে সে নিহত হলে তার পুত্র হাসান মুসেল এর শাসনকর্তা নিযুক্ত হয়। আর তার ভাই আলী সাইফুদ্দৌলা হালবের অধিপতি হয়ে ৩৩৩ হিজরী থেকে তাকে রাজধানীতে পরিণত করে। সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে রোমানদের সঙ্গে যুদ্ধে সে দেশের সীমান্ত ভালোভাবে রক্ষা করে। রোমানদের শিক্ষা দেয়ার জন্য অনেক অভিযানে সে নিজে নেতৃত্ব দেয়। ঐতিহাসিক ইবনে কাসীর তার সম্পর্কে বলেন . তার মধ্যে শিয়া মতবাদের ভাব থাকা সত্ত্বেও সাহসী শাসক এবং অনেক কল্যাণকর নৃপতিদের মধ্যে সে ছিল অন্যতম।2 তার এবং রোমানদের মধ্যে যুদ্ধ অব্যাহত ছিল। ৩৩৯, ৩৪২ এবং ৩৪৩ হিজরীর ঘটনাবলীতে সাইফুদ্দৌলা রোমানদের বিরুদ্ধে বিপুল বিজয় অর্জন করে। কবি মোতানাববী তার একটি প্রসিদ্ধ কবিতায়ও এসব বীরত্বের উল্লেখ করেছেন। কিন্তু এরা প্রচুর রক্তপাত আর লুটতরাজের পরই ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে পেরেছে (যেভাবে সেকালে এবং একালে অধিকাংশ দল ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়)।
সাধারণত . এসব রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে বীরত্ব এবং বিদ্যানুরাগের মতো কিছু মহৎ গুণ থাকে। সাইফুদ্দৌলার মধ্যেও এসব গুণাবলির প্রকাশ ঘটেছে। তবে সে রাষ্ট্রে শিয়া মতবাদের ভাবও ছিল। তবে তা ছিল বদ্দুদের শিয়া ভাব, যারা দর্শন নিয়ে বেশি মাথা ঘামায় না বা কোন তত্ত্ব নিয়ে বাড়বাড়িও করে না। তবে তার এ শিয়া ভাব অন্যান্য শিয়া রাষ্ট্রের সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপন করেই হিজরী ৩৫৮ সালে আবু তগলব ইবনে হামদান কারামেতাদের নিকট কিছু উপঢৌকন প্রেরণ করেন, যার মূল্য ছিল ৫০ হাজার দিরহাম।3 কেবল উপঢৌকন পর্যন্তই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তাদের বাস্তব সহযোগিতাও করেছেন। কারামেতারা মিশর এবং সিরিয়ার অধিপতি আখশীদাস এর হাত থেকে তাবারিয়া শহর অধিকার করতে চাইলে সাইফুদ্দৌলার নিকট লোহা দিয়ে সাহায্য করার আবেদন জানান। অস্ত্র তৈরির জন্য তিনি তাদের জন্য রিক্কা অঞ্চলের প্রাচীর দ্বার ভেঙে দেন। তিনি তাদের জন্য লৌহবৎ মানুষ লাভ করেন। এমনকি ব্যবসায়ীদের পরিমাপ যন্ত্র পর্যন্ত গ্রহণ করে এসব তাদের জন্য প্রেরণ করেন।4
হুসাইন ইবনে হামদান মুক্তাদিরের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে অংশ নিয়ে ইবনুল মুতায এর জন্য বাইয়াত গ্রহণের চেষ্টা করেন। তার সম্পর্কে ঐতিহাসিক ইবনুল আসীর বলেন . গোঁড়া শিয়া এবং আলী ও আহলে বায়তের প্রতি ঝোঁক থাকা সত্ত্বেও ইবনুল মু’তায- এর বায়য়াতের জন্য তিনি চেষ্টা করেন। যদিও ইবনুল মু’তায ছিলেন আলীর বিরোধী এবং প্রতিকৃতি সম্পর্কে তার বাড়াবাড়ি ছিল।5 দিয়ারে বকর- এর শাসক আবু আলী ইবনে মারওয়ান এবং হামদানীদের যখন যুদ্ধ শুরু হয়, তখন হুসাইন ইবনে হামদান বন্দী হয়। এহেন কঠিন দশায় মিশরের ওবায়দী শাসনকর্তা তার পক্ষে সুপারিশ করে পত্র লিখলে তাকে মুক্তি দেয়া হয়। তখন সে মিশর চলে যায় এবং তখন তার থেকে হালবের দায়িত্ব ছিনিয়ে নেয়া হয়।6
আলী ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে হামদানের শাসনামলে এ রাষ্ট্র প্রস্ফুটিত হলেও তার মৃত্যুর পর উক্ত অঞ্চলের অন্যান্য রাষ্ট্রের মতোই কোন রকমে টিকে থাকে। শাসন কর্তৃত্ব লাভ করার জন্য চলে যুদ্ধ আর গুঁতাগুঁতি। শেষ পর্যন্ত তার পুত্র আবুল মা’আলী রোম শাসককে জিযিয়া দেয়। আবুল মাআলীর মৃত্যুর পর তার পুত্র সাঈদ আবুল ফাযায়েল ক্ষমতাসীন হয়ে ক্ষমতা-দর্পী তুর্কিদের হাত থেকে নেতৃত্ব ছিনিয়ে নেয়ার জন্য তিন বার রোমানদের নিকট সাহায্য কামনা করে।7
খলিফা মুকতাফীর শাসনামলে আবুল হীজা আব্দুল্লাহ ইবনে হামদান ইবনে হামদূন মুসেল এবং তৎসান্নিহিত অঞ্চলের শাসনকর্তা হয়। আববাসীয় খলিফা আল- মুকতাদির- এর বিরুদ্ধে বিপ্লব আর গোলযোগে আবুল হীজা অংশ গ্রহণ করে। এই গোলযোগে সে নিহত হলে তার পুত্র হাসান মুসেল এর শাসনকর্তা নিযুক্ত হয়। আর তার ভাই আলী সাইফুদ্দৌলা হালবের অধিপতি হয়ে ৩৩৩ হিজরী থেকে তাকে রাজধানীতে পরিণত করে। সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে রোমানদের সঙ্গে যুদ্ধে সে দেশের সীমান্ত ভালোভাবে রক্ষা করে। রোমানদের শিক্ষা দেয়ার জন্য অনেক অভিযানে সে নিজে নেতৃত্ব দেয়। ঐতিহাসিক ইবনে কাসীর তার সম্পর্কে বলেন . তার মধ্যে শিয়া মতবাদের ভাব থাকা সত্ত্বেও সাহসী শাসক এবং অনেক কল্যাণকর নৃপতিদের মধ্যে সে ছিল অন্যতম।2 তার এবং রোমানদের মধ্যে যুদ্ধ অব্যাহত ছিল। ৩৩৯, ৩৪২ এবং ৩৪৩ হিজরীর ঘটনাবলীতে সাইফুদ্দৌলা রোমানদের বিরুদ্ধে বিপুল বিজয় অর্জন করে। কবি মোতানাববী তার একটি প্রসিদ্ধ কবিতায়ও এসব বীরত্বের উল্লেখ করেছেন। কিন্তু এরা প্রচুর রক্তপাত আর লুটতরাজের পরই ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে পেরেছে (যেভাবে সেকালে এবং একালে অধিকাংশ দল ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়)।
সাধারণত . এসব রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে বীরত্ব এবং বিদ্যানুরাগের মতো কিছু মহৎ গুণ থাকে। সাইফুদ্দৌলার মধ্যেও এসব গুণাবলির প্রকাশ ঘটেছে। তবে সে রাষ্ট্রে শিয়া মতবাদের ভাবও ছিল। তবে তা ছিল বদ্দুদের শিয়া ভাব, যারা দর্শন নিয়ে বেশি মাথা ঘামায় না বা কোন তত্ত্ব নিয়ে বাড়বাড়িও করে না। তবে তার এ শিয়া ভাব অন্যান্য শিয়া রাষ্ট্রের সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপন করেই হিজরী ৩৫৮ সালে আবু তগলব ইবনে হামদান কারামেতাদের নিকট কিছু উপঢৌকন প্রেরণ করেন, যার মূল্য ছিল ৫০ হাজার দিরহাম।3 কেবল উপঢৌকন পর্যন্তই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তাদের বাস্তব সহযোগিতাও করেছেন। কারামেতারা মিশর এবং সিরিয়ার অধিপতি আখশীদাস এর হাত থেকে তাবারিয়া শহর অধিকার করতে চাইলে সাইফুদ্দৌলার নিকট লোহা দিয়ে সাহায্য করার আবেদন জানান। অস্ত্র তৈরির জন্য তিনি তাদের জন্য রিক্কা অঞ্চলের প্রাচীর দ্বার ভেঙে দেন। তিনি তাদের জন্য লৌহবৎ মানুষ লাভ করেন। এমনকি ব্যবসায়ীদের পরিমাপ যন্ত্র পর্যন্ত গ্রহণ করে এসব তাদের জন্য প্রেরণ করেন।4
হুসাইন ইবনে হামদান মুক্তাদিরের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে অংশ নিয়ে ইবনুল মুতায এর জন্য বাইয়াত গ্রহণের চেষ্টা করেন। তার সম্পর্কে ঐতিহাসিক ইবনুল আসীর বলেন . গোঁড়া শিয়া এবং আলী ও আহলে বায়তের প্রতি ঝোঁক থাকা সত্ত্বেও ইবনুল মু’তায- এর বায়য়াতের জন্য তিনি চেষ্টা করেন। যদিও ইবনুল মু’তায ছিলেন আলীর বিরোধী এবং প্রতিকৃতি সম্পর্কে তার বাড়াবাড়ি ছিল।5 দিয়ারে বকর- এর শাসক আবু আলী ইবনে মারওয়ান এবং হামদানীদের যখন যুদ্ধ শুরু হয়, তখন হুসাইন ইবনে হামদান বন্দী হয়। এহেন কঠিন দশায় মিশরের ওবায়দী শাসনকর্তা তার পক্ষে সুপারিশ করে পত্র লিখলে তাকে মুক্তি দেয়া হয়। তখন সে মিশর চলে যায় এবং তখন তার থেকে হালবের দায়িত্ব ছিনিয়ে নেয়া হয়।6
আলী ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে হামদানের শাসনামলে এ রাষ্ট্র প্রস্ফুটিত হলেও তার মৃত্যুর পর উক্ত অঞ্চলের অন্যান্য রাষ্ট্রের মতোই কোন রকমে টিকে থাকে। শাসন কর্তৃত্ব লাভ করার জন্য চলে যুদ্ধ আর গুঁতাগুঁতি। শেষ পর্যন্ত তার পুত্র আবুল মা’আলী রোম শাসককে জিযিয়া দেয়। আবুল মাআলীর মৃত্যুর পর তার পুত্র সাঈদ আবুল ফাযায়েল ক্ষমতাসীন হয়ে ক্ষমতা-দর্পী তুর্কিদের হাত থেকে নেতৃত্ব ছিনিয়ে নেয়ার জন্য তিন বার রোমানদের নিকট সাহায্য কামনা করে।7