hadith book logo

মুসলমানদের পতন অতীত বর্তমান (সালাহউদ্দীন আইউবীর আবির্ভাব পূর্ব ইসলামি বিশ্ব ও বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা)

লেখকঃ মুহাম্মদ আল আবদাহ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৭

৫. হিল্লায় আসাদীরা (৪০৩-৫৪৫ হি:)

শিয়াদের সহায়তার বদৌলতে বাগদাদের পশ্চিমাঞ্চলের হিল্লা নগরীতে অপর একটি আরব গোত্র ক্ষুদ্র রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে। তবে বনু আসাদের এসব শাসকরা তাদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেই ক্ষান্ত হয়নি, বরং আববাসীয় রাষ্ট্রের অনেক ঘটনা প্রবাহেই তারা অংশ গ্রহণ করে। এসব ঘটনাবলীর মধ্যে রয়েছে বিপর্যয় উস্কে দেয়া এবং খলিফার জন্য সংকট সৃষ্টি করা। অনুরূপ ভাবে তারা আশপাশের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দেশগুলোর তাৎক্ষণিক বিপ্লবেও অংশগ্রহণ করে।

আবুল হাসান আলী ইবনে মাযীদ আস- আসাদী এই ক্ষুদ্র রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা। হিজরী ৩৮৭ সালের ঘটনাবলীতে তাকে একটি আরব গোত্রের আমির উল্লেখ করে বলা হয়েছে যে, তার বেশ মর্যাদা রয়েছে এবং আশপাশের দেশগুলোও তাকে শুমার করে। হিজরী ৪০৩ হিজরীতে তার পুত্র দাবীস নেতা হয়। তার শাসনামলে এ গোত্রটি ইরাকের ঘটনাপ্রবাহে বিরাট ভূমিকা পালন করে। তখন সে বুয়াইহীদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বেও হস্তক্ষেপ করে। বুয়াইহী এবং পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর দ্বন্দ্বেও সে বেশ ভূমিকা পালন করে। বনু খাফাজার মতো অন্যান্য গোত্রের দ্বন্দ্বেও সে বেশ ভূমিকা পালন করে। বনু খাফাজার মতো অন্যান্য গোত্রের দ্বন্দ্বসংঘাতেও সে হস্তক্ষেপ করে।

এ গোত্রের সবচেয়ে খ্যাতিমান নেতা ছিলেন ছাদকা ইবনে মনসূর ইবনে দাবীস। যে কোন বিপর্যয়ে হস্তক্ষেপ করার ক্ষমতা তিনি দাদার নিকট থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করেন। আলাপ আরসান সলজুকীর নাতিদের মধ্যে যুদ্ধে তিনি নিজেকে উপস্থিত করেন। তিনিই শক্তিশালীদের সঙ্গে থাকতেন। এমন এক বিপর্যয়কালে তিনি নিহত হন। তিনিই হিল্লা নগরী পত্তন করেন। ইতিপূর্বে তারা তাঁবুতে বাস করতো। পুত্র দাবীসও তাঁর রীতি অনুসরণ করে চলেন। তাকে হিল্লা থেকে বহিষ্কার করা হলে তিনি সিরিয়া গমন করেন এবং হালব অবরোধে রোমকদের সহায়তা করেন এ শর্তে যে, মুসলমানদের উপর বিজয় লাভ করলে তাকে শাসনকর্তা করা হবে। কিন্তু হামলা ব্যর্থ হয় এবং দাবীস হিল্লায় ফিরে আসেন। দেশে ফিরে এলে তাকে বন্দী এবং সুলতান মাসউদ সালজুকীর নির্দেশে হত্যা করা হয়। এভাবে ৫৫১ হিজরীতে এ রাষ্ট্রের সমাপ্তি ঘটে। এ সময় খলিফা তাদের একাধিক বিপর্যয় আর দাঙ্গা- হাঙ্গামার জন্য অভিযুক্ত করে বনু আসাদকে দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেন।1

এ ক্ষুদ্র রাষ্ট্রটি আরসালান বাসাসীরীকে সহায়তা দান করে, যে ছিল মিসরে ওবায়দীদের আনুগত্যের প্রতি আহবানকারী। সে ছিল বাহাউদ্দৌলা ইবনে আযদুদ্দৌলা বুয়াইহীর তুর্কি ক্রীতদাস। এরপর ধাপে ধাপে উন্নতি করে একজন মশহুর নেতা হয়। অতঃপর মিশরের শাসনকর্তাকে তিনি লিখেন বাগদাদ অধিকারে তাকে সহায়তা করার জন্য। এ ক্ষেত্রে দাবীস ইবনে মাযীদ তাকে সহায়তা করে। বাসাসীরী বাঘের মতো সাহস নিয়ে বাগদাদ প্রবেশ করে জামে মনসূরে ওবায়দী শাসনকর্তা মুস্তানসিরের পক্ষে খুতবা পাঠ করেন। কারখ বাসী রাফেযী সম্প্রদায়ের লোকেরা তাকে গ্রহণ করে নেয় এবং তাদের নিকট থেকে পুরস্কার গ্রহণ করার অনুরোধ জানায়।2 তার নির্দেশে আজানে ‘হাইয়্যা আলা খাইরিল আমাল’ উচ্চারণ করা হয়। এটা হিজরী ৪৫০ সনের ঘটনা। দারুল খেলাফত লুণ্ঠন করে এলে তাকে মিসরে প্রেরণ করা হয় সেখানে গিয়ে বাগদাদে কি অর্জন করলেন তার বিবরণ দানের জন্য। কিন্তু ওবায়দী উজির তাকে বরণও করেনি, কোন গুরুত্বও দেয়নি। বরং তাকে ঘৃণা-ই করে। এরপর বেশি দিন যেতে না যেতেই সেলজুকী সুলতান তুগরল বেগ এর আগমন ঘটে। তিনি বাগদাদ প্রবেশ করে বাসাসীরীকে কুফা বা তার আশপাশ থেকে পাকড়াও করে আনার জন্য সৈন্য প্রেরণ করেন। তাকে পাকড়াও করতে সৈন্যরা সফল হয় এবং শেষ পর্যন্ত তাকে হত্যা করা হয়।3 আসাদীরা শিয়া মতাবলম্বী বিধায় এ ধর্মত্যাগীদের সহায়তা করে, যেমন তারা মুসলমানদের বিরুদ্ধে রোমানদের সহায়তা দান করে।