hadith book logo

মুসলমানদের পতন অতীত বর্তমান (সালাহউদ্দীন আইউবীর আবির্ভাব পূর্ব ইসলামি বিশ্ব ও বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা)

লেখকঃ মুহাম্মদ আল আবদাহ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৯

৭. ফলাফল ও শিক্ষা

হিজরী চতুর্থ শতাব্দী শতাব্দী এবং তৎপর বর্তী কালে যেসব রাষ্ট্রের উদ্ভব হয়, সেসব সম্পর্কে এ বিবরণ পেশ করার পর আমরা নিম্নোক্ত ফলাফলে পৌঁছি।

এক . এসব রাষ্ট্র পরস্পরকে সহায়তা করে; যদিও বাহ্যদর্শী ব্যক্তি তাদের মধ্যে কোন সহযোগিতা বা সম্পর্ক দেখতে পায় না। শিয়াদের আক্বীদা-বিশ্বাস এবং তাদের অন্তর্নিহিত চরিত্র সম্পর্কে অবগত না হয়ে যে ব্যক্তি ইতিহাস অধ্যয়ন করে, সে জানবে না যে, তারা কেমন কর্মকান্ড চায় এবং কেমন আচরণ করে পরস্পরে। কোন সিদ্ধান্ত বা ইতিহাসের বাহ্যিক ঘটনাবলীর ব্যাখ্যা সম্পর্কে সে কোন সঠিক পরিণতিতে পৌঁছতে পারবে না। আধুনিক কালের অনেক রাজনীতিকের নিকটই এটা কঠিন যারা আক্বীদা- বিশ্বাস আর নানা ধর্ম ও কৃষ্টির গভীরে পৌছেনি, তাদের পক্ষে অনুধাবন করা কঠিন হবে যে, তাদের রীতিনীতি আচার আচরণের বিভিন্নতা সত্ত্বেও কেন অমুক রাফেযী সেক্যুলার বাতেনী রাষ্ট্রের সহায়তা করে। তারা যেসব দর্শন নিয়ে চিন্তা করে তার যৌক্তিকতা সম্পর্কে অবহিত হতে পারবে না। তাদের জন্য এর ব্যাখ্যা কঠিন হবে যে, যে দেশে ইসলামের পতাকা উত্তোলন করা হয়, অথচ তখন দেশটি সেক্যুলার শিয়া রাষ্ট্র, সে দেশে মন্ত্রী সভার প্রধান হিসাবে কীভাবে একজন মহিলা সফল হতে পারে। আর শিয়ারা তাকে সহায়তা করছে, মদদ জোগাচ্ছে। তাদের নিকট এতে কোন বৈপরীত্য নেই। যতক্ষণ দেশটি শিয়া রাষ্ট্র থাকবে, তাদের মতে সহযোগিতা করা অপরিহার্য।

এসব রাজনীতিকরা ইসরাইলের সঙ্গে রাফেযী আর বাতেনী রাষ্ট্রের সহায়তার কোন ব্যাখ্যাও খুঁজে পাবে না। তারা ইতিহাস অধ্যয়ন করলে দেখতে পেতো যে, দাবীস ইবনে ছাদকা আসাদী রোমে পলায়ন করে এবং তাদেরকে নিয়ে হালব শহর অবরোধ করে, যাতে পরবর্তীকালে সে হালব শহরের শাসক হতে পারে। তারা দেখতে পেত যে, ওবায়দী- বাতেনী রাষ্ট্রে ইহুদি- খ্রিস্টানরা মন্ত্রী ছিল।

দুই . এসব রাষ্ট্র বা তার অধিকাংশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সুন্নাহর কাঁধে ভর করে। যদি সুন্নীণরা তা প্রতিষ্ঠার জন্য সহায়তা না করতো বা প্রতিরোধ করতো তবে প্রথম সুযোগেই তার পতন হতো। কিন্তু সাধারণ সুন্নীণদের অবহেলা- অমনোযোগিতা তাদেরকে দুশমনদের হাতের খেলনায় পরিণত করেছে। তাদেরকে দিয়ে মার দিয়েছে এবং তাদের ঘাড়ের উপর সিংহাসন স্থাপন করা হয়েছে। শিয়াপন্থী আবু আব্দুল্লাহ তাদেরকে নিয়ে খেলা করার আগে কাতামা গোত্র শিয়া বা ইসমাঈলী কোনটাই ছিল না। অথচ তারাই প্রতিষ্ঠা করেছে ওবায়দিয়া রাষ্ট্র। আর বুয়াইহীরা খেলাফতের প্রাণকেন্দ্র বাগদাদ শাসন করেছে আর সুন্নীণ আলেম এবং উযীররা তাদের সঙ্গে কাজ করেছে, তাদেরকে সহায়তা করেছে।

তিন . এসব দেশের কোন কোনটির সূচনা হয়েছে এমন সব স্থান আর অঞ্চল থেকে, যেখানকার অধিবাসীরা সুন্নাহ সম্পর্কে ছিল অজ্ঞ- মূর্খ, বরং এ অজ্ঞতাই তাদের উপর কর্তৃত্ব করতো। অবশ্য তাদের পর যেসব বাতেনী ফের্কার উদ্ভব হয়েছে, তারা সুন্নাহর কেন্দ্রস্থল দূরে পর্বত বা দুর্গম স্থান বাছাই করে নেয়। এসব থেকে বুঝা যায় যে, এজন্য তারা পূর্ব থেকে পরিকল্পনা করে নীল নকশা এঁকেছিল। এ থেকে মুসলমানদের জন্য সর্বত্র দাওয়াত ছড়িয়ে দেয়া অপরিহার্য হয়ে যায়, যাতে কোন একটা স্থানও এমন শুন্য না থাকে, যেখানে দুশমনরা সুযোগ পেয়ে প্রবেশ করতে পারে।

চার . এ স্রোতধারা ছিল অতি তীব্র বেগবান আর এসব দেশের কোন কোনটি দীর্ঘস্থায়ী হয়েছিল। কিন্তু তা ছিল বীজশূন্য বৃক্ষ। তা দ্রুত উপরে উঠে এবং বিস্তার লাভ করে। কিন্তু যখন পড়ে যায় তখন আর উঠতে পারে না। তার প্রতি দয়া করারও কেউ থাকে না। যতক্ষণ মুসলমানরা তীব্র গতিতে ছুটে না যাবে, ততক্ষণ একটা শক্তিশালী সুন্নীণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আলামত দেখা দেবে না। তাদেরকে নামাতে হবে আগের রাষ্ট্রের পতাকা আর স্মৃতি চিহ্ন। যেন এ মুহূর্তটির জন্য তারা নিতান্ত ধৈর্য সহকারে প্রতীক্ষার প্রহরণ গুনছিল।