১
যেসব কারণে ঈমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১১
ঈমানদারের গুণাবলি
মুমিনদের অনেক গুণাবলি রয়েছে, যা দ্বারা তারা তাদের ঈমানকে সৌন্দর্যমন্ডিত করে নিতে পারে। এসব গুণাবলির মধ্যে রয়েছে।
তারা আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে :
﴿اِنَّمَا كَانَ قَوْلَ الْمُؤْمِنِيْنَ اِذَا دُعُوْاۤ اِلَى اللهِ وَرَسُوْلِهٖ لِيَحْكُمَ بَيْنَهُمْ اَنْ يَّقُوْلُوْا سَمِعْنَا وَاَطَعْنَاؕ وَاُولٰٓئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُوْنَ﴾
মুমিনদের উক্তি তো এই- যখন তাদের মধ্যে ফায়সালা করে দেয়ার জন্য আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের দিকে আহবান করা হয় তখন তারা বলে, আমরা শ্রবণ করলাম ও আনুগত্য করলাম। মূলত তারাই সফলকাম। (সূরা নূর- ৫১)
তারা কেবল আল্লাহকেই ভয় করে :
﴿اَ لَا تُقَاتِلُوْنَ قَوْمًا نَّكَثُوْاۤ اَيْمَانَهُمْ وَهَمُّوْا بِاِخْرَاجِ الرَّسُوْلِ وَهُمْ بَدَءُوْكُمْ اَوَّلَ مَرَّةٍؕ اَتَخْشَوْنَهُمْۚ فَاللهُ اَحَقُّ اَنْ تَخْشَوْهُ اِنْ كُنْتُمْ مُّؤْمِنِيْنَ﴾
তোমরা কি সে সম্প্রদায়ের সাথে যুদ্ধ করবে না, যারা নিজেদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে ও রাসূলকে বহিষ্কার করার জন্য সংকল্প করেছে? তারাই তো প্রথম তোমাদের বিরুদ্ধাচরণ করেছে। তোমরা কি তাদেরকে ভয় কর? অথচ যদি তোমরা মুমিন হও তাহলে আল্লাহকে ভয় করাই তোমাদের জন্য অধিক সমীচীন। (সূরা তাওবা- ১৩)
তারা বিতর্কের সমাধান করে কুরআন ও সুন্নাহর মাধ্যমে :
﴿يَاۤ اَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْاۤ اَطِيْعُوا اللهَ وَاَطِيْعُوا الرَّسُوْلَ وَاُولِى الْاَمْرِ مِنْكُمْ فَاِنْ تَنَازَعْتُمْ فِيْ شَيْءٍ فَرُدُّوْهُ اِلَى اللهِ وَالرَّسُوْلِ اِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُوْنَ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الْاٰخِرِؕ ذٰلِكَ خَيْرٌ وَّاَحْسَنُ تَأْوِيْلًا﴾
হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করো এবং তাদের আনুগত্য করো, যারা তোমাদের মধ্যে ক্ষমতার অধিকারী। যদি তোমাদের মধ্যে কোন বিষয়ে মতভেদ ঘটে, তবে তা আল্লাহ ও রাসূলের নিকট উপস্থাপন করো; যদি তোমরা আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে থাক। আর এটাই উত্তম পন্থা ও পরিণামে উৎকৃষ্টতর। (সূরা নিসা- ৫৯)
তারা সৎকাজের আদেশ দেয় ও অসৎকাজ হতে নিষেধ করে :
كُنْتُمْ خَيْرَ اُمَّةٍ اُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُوْنَ بِالْمَعْرُوْفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَتُؤْمِنُوْنَ بِاللهِ
তোমরাই হচ্ছ শ্রেষ্ঠ উম্মত, মানবজাতির (কল্যাণের) জন্যই তোমাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছে। তোমরা সৎকাজের আদেশ দেবে ও অসৎকাজ হতে নিষেধ করবে এবং আল্লাহর উপর ঈমান আনয়ন করবে। (সূরা আলে ইমরান- ১১০)
তারা পরীক্ষায় ধৈর্যধারণ করে :
عَنْ اَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ مَا يَزَالُ الْبَلَاءُ بِالْمُؤْمِنِ اَوِالْمُؤْمِنَةِ فِيْ نَفْسِه وَوَلَدِه وَمَالِه حَتّٰى يَلْقَى اللهَ وَمَا عَلَيْهِ خَطِيْئَةٌ
আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, মুমিনের সন্তান, সম্পদ ও নিজের উপর সর্বদা বিপদ আসতে থাকে। এমনকি শেষপর্যন্ত এভাবেই আল্লাহর সাথে মিলিত হয়। তখন তার আর কোন গোনাহ বাকি থাকে না। [তিরমিযী, হা/২৩৯৯; সহীহ ইবনে হিববান, হা/২৯২৪।]
عَنْ اَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ - - : اَلدُّنْيَا سِجْنُ الْمُؤْمِنِ وَجَنَّةُ الْكَافِرِ
আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, দুনিয়া মুমিনের জন্য জেলখানা এবং কাফিরের জন্য জান্নাতস্বরূপ। [সহীহ মুসলিম, হা/৭৬০৬; তিরমিযী, হা/২৩২৪; ইবনে মাজাহ, হা/৪১১৩; মুসনাদে আহমাদ, হা/৮২৮৯।]
মুমিন সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী হয় :
عَنْ اَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ - : - اَكْمَلُ الْمُؤْمِنِيْنَ اِيْمَانًا اَحْسَنُهُمْ خُلُقًا
আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ মুমিন সেই ব্যক্তি, যার চরিত্র সবচেয়ে উত্তম। [আবু দাউদ, হা/৪২৮২; তিরমিযী, হা/১১৬২; সুনানে বায়হাকী আল কুবরা, হা/২০৫৭২।]
عَنِ ابْنِ عُمَرَ اَنَّه قَالَ : كُنْتُ مَعَ رَسُوْلِ اللهِ فَجَاءَه رَجُلٌ مِنَ الْاَنْصَارِ- فَسَلَّمَ عَلَى النَّبِيِّ ثُمَّ قَالَ : يَا رَسُوْلَ اللهِ ! أَيُّ الْمُؤْمِنِيْنِ أَفْضَلُ ؟ قَالَ : اَحْسَنُهُمْ خُلُقًا
আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদা আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সাথে ছিলাম। অতঃপর আনসারদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি আগমন করলেন এবং তিনি নবী ﷺ কে সালাম দিলেন। অতঃপর বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! কোন মুমিন সবচেয়ে উত্তম। তিনি বললেন, যার চরিত্র সবচেয়ে ভালো। [ইবনে মাজাহ, হা/৪২৫৯।]
মুমিন বাজে কথা বলে না এবং প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয় না :
عَنْ اَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ : مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الْاٰخِرِ فَلْيَقُلْ خَيْرًا اَوْ لِيَصْمُتْ وَمَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الْاٰخِرِ فَلَا يُؤْذِ جَارَه وَمَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الْاٰخِرِ فَلْيُكْرِمْ ضَيْفَه
আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের উপর ঈমান রাখে, সে যেন অবশ্যই ভালো কথা বলে অথবা চুপ থাকে। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ বিচারের দিনের উপর বিশ্বাস রাখে সে যেন প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেয়। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন অবশ্যই মেহমানের সম্মান করে। [সহীহ বুখারী, হা/৬৪৭৫; সহীহ মুসলিম, হা/১৮২; আবু দাউদ, হা/৫১৫৩; ইবনে মাজাহ, হা/৩৬৭২; সুনানে বায়হাকী আল কুবরা, হা/১৬৪৪০; তিরমিযী, হা/২৫০০; দরেমী, হা/২০৭৭; মুসনাদে আহমাদ, হা/৭৬২৬।]
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলেন,
اَلْمُؤْمِنُ يَطْوِيْ عَلَى الْخِلَالِ كُلِّهَا غَيْرَ الْخِيَانَةِ وَالْكِذْبِ
মুমিনের মধ্যে অন্যান্য দোষ থাকতে পারে, তবে খিয়ানত এবং মিথ্যা থাকতে পারে না। [মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, পৃ: ৩৫।]
উবাই ইবনে কা‘ব (রাঃ) বলেন,
اَلْمُؤْمِنُ بَيْنَ أَرْبَعٍ : اِنِ ابْتُلِيَ صَبَرَ، وَاِنْ اُعْطِيَ شَكَرَ، وَاِنْ قَالَ صَدَقَ، وَاِنْ حَكَمَ عَدَلَ
মুমিন চারটি জিনিসের মধ্যে থাকে। ১. বিপদে পড়লে ধৈর্যধারণ করে। ২. কিছু পেলে শুকরিয়া আদায় করে। ৩. কথা বললে সত্য বলে এবং ৪. বিচার করলে ইনসাফ করে। [হিলয়াতুল আওলিয়া, আবু নাঈম ইসফাহানি, ১ম খন্ড, ২৫৫ পৃ:।]
ইমাম ফুযাইল ইবনে ইয়াজ (রহ.) বলেন,
اَلْمُؤْمِنُ قَلِيْلُ الْكَلَامِ كَثِيْرُ الْعَمَلِ، وَالْمُنَافِقُ كَثِيْرُ الْكَلَامِ قَلِيْلُ الْعَمَلِ؛ كَلَامُ الْمُؤْمِنِ حَكَمٌ، وَصَمْتُه تَفَكُّرٌ، وَنَظْرُه عِبَرٌ، وَعَمَلُه بِرٌّ
মুমিন কথা বলে কম, আমল করে বেশি। আর মুনাফিক কথা বলে বেশি, আমল করে কম। মুমিনের কথা হলো শিক্ষণীয়, তার নিরবতা হলো গবেষণা, তার দেখা হলো শিক্ষা লাভের জন্য এবং তার কাজ হলো সৎকর্ম। [হিলয়াতুল আওলিয়া, আবু নাঈম ইসফাহানি, ৮ম খন্ড, ৯৮ পৃ:।]
মালিক ইবনে দিনার (রহ.) বলেন,
مَثَلُ الْمُؤْمِنِ مَثَلُ اللُّؤْلُؤَةِ اَيْنَمَا كَانَتْ حُسْنُهَا مَعَهَا
মুমিনের দৃষ্টান্ত হলো মনিমুক্তার সাথে। তা যেখানেই থাকে তার সৌন্দর্য তার সাথেই থাকে। [হিলয়াতুল আওলিয়া, আবু নাঈম ইসফাহানি, ২য় খন্ড, ৩৭৭ পৃ:।]
ওয়াহ্হাব ইবনে মুনববাহ (রহ.) বলেন,
اَلْمُؤْمِنُ يُخَالِطُ لِيَعْلَمَ، وَيَسْكُتُ لِيَسْلَمَ، وَيَتَكَلَّمُ لِيَفْهَمَ، وَيَخْلُوْ لِيَنْعَمَ
মুমিন ব্যক্তি কারো সাথে মিলিত হয় কিছু জানার জন্য, নিরব থাকে নিরাপদ থাকার জন্য, কথা বলে বুঝার জন্য এবং নির্জনতা অবলম্বন করে লাভবান হওয়ার জন্য। [হিলয়াতুল আওলিয়া, আবু নাঈম ইসফাহানি, ৪র্থ খন্ড, ৬৮ পৃ:।]
শাক্বীক ইবনে ইবরাহীম বালাকী (রহ.) বলেন,
اَلْمُؤْمِنُ مَشْغُوْلٌ بِخَصْلَتَيْنِ، وَالْمُنَافِقُ مَشْغُوْلٌ بِخَصْلَتَيْنِ : اَلْمُؤْمِنُ بِالْعِبَرِ وَالتَّفَكُّرِ، وَالْمُنَافِقُ بِالْحِرْصِ وَالْاَمَلِ
মুমিন দুটি বৈশিষ্ট্য নিয়ে ব্যস্ত থাকে এবং মুনাফিকও দুটি বৈশিষ্ট্য নিয়ে ব্যস্ত থাকে। মুমিন থাকে শিক্ষা ও গবেষণায় ব্যস্ত; আর মুনাফিক থাকে লোভ ও আশা নিয়ে ব্যস্ত। [হিলয়াতুল আওলিয়া, আবু নাঈম ইসফাহানি, ৮ম খন্ড, ৭১ পৃ:।]
এগুলো হলো মুমিনের বৈশিষ্ট্য ও রহমানের বান্দাদের গুণাবলি। আমরা যদি মুক্তি ও সফলতা চাই তাহলে আমাদেরকেও এসব গুণাবলির অধিকারী হতে হবে।
তারা আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে :
﴿اِنَّمَا كَانَ قَوْلَ الْمُؤْمِنِيْنَ اِذَا دُعُوْاۤ اِلَى اللهِ وَرَسُوْلِهٖ لِيَحْكُمَ بَيْنَهُمْ اَنْ يَّقُوْلُوْا سَمِعْنَا وَاَطَعْنَاؕ وَاُولٰٓئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُوْنَ﴾
মুমিনদের উক্তি তো এই- যখন তাদের মধ্যে ফায়সালা করে দেয়ার জন্য আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের দিকে আহবান করা হয় তখন তারা বলে, আমরা শ্রবণ করলাম ও আনুগত্য করলাম। মূলত তারাই সফলকাম। (সূরা নূর- ৫১)
তারা কেবল আল্লাহকেই ভয় করে :
﴿اَ لَا تُقَاتِلُوْنَ قَوْمًا نَّكَثُوْاۤ اَيْمَانَهُمْ وَهَمُّوْا بِاِخْرَاجِ الرَّسُوْلِ وَهُمْ بَدَءُوْكُمْ اَوَّلَ مَرَّةٍؕ اَتَخْشَوْنَهُمْۚ فَاللهُ اَحَقُّ اَنْ تَخْشَوْهُ اِنْ كُنْتُمْ مُّؤْمِنِيْنَ﴾
তোমরা কি সে সম্প্রদায়ের সাথে যুদ্ধ করবে না, যারা নিজেদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে ও রাসূলকে বহিষ্কার করার জন্য সংকল্প করেছে? তারাই তো প্রথম তোমাদের বিরুদ্ধাচরণ করেছে। তোমরা কি তাদেরকে ভয় কর? অথচ যদি তোমরা মুমিন হও তাহলে আল্লাহকে ভয় করাই তোমাদের জন্য অধিক সমীচীন। (সূরা তাওবা- ১৩)
তারা বিতর্কের সমাধান করে কুরআন ও সুন্নাহর মাধ্যমে :
﴿يَاۤ اَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْاۤ اَطِيْعُوا اللهَ وَاَطِيْعُوا الرَّسُوْلَ وَاُولِى الْاَمْرِ مِنْكُمْ فَاِنْ تَنَازَعْتُمْ فِيْ شَيْءٍ فَرُدُّوْهُ اِلَى اللهِ وَالرَّسُوْلِ اِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُوْنَ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الْاٰخِرِؕ ذٰلِكَ خَيْرٌ وَّاَحْسَنُ تَأْوِيْلًا﴾
হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করো এবং তাদের আনুগত্য করো, যারা তোমাদের মধ্যে ক্ষমতার অধিকারী। যদি তোমাদের মধ্যে কোন বিষয়ে মতভেদ ঘটে, তবে তা আল্লাহ ও রাসূলের নিকট উপস্থাপন করো; যদি তোমরা আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে থাক। আর এটাই উত্তম পন্থা ও পরিণামে উৎকৃষ্টতর। (সূরা নিসা- ৫৯)
তারা সৎকাজের আদেশ দেয় ও অসৎকাজ হতে নিষেধ করে :
كُنْتُمْ خَيْرَ اُمَّةٍ اُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُوْنَ بِالْمَعْرُوْفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَتُؤْمِنُوْنَ بِاللهِ
তোমরাই হচ্ছ শ্রেষ্ঠ উম্মত, মানবজাতির (কল্যাণের) জন্যই তোমাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছে। তোমরা সৎকাজের আদেশ দেবে ও অসৎকাজ হতে নিষেধ করবে এবং আল্লাহর উপর ঈমান আনয়ন করবে। (সূরা আলে ইমরান- ১১০)
তারা পরীক্ষায় ধৈর্যধারণ করে :
عَنْ اَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ مَا يَزَالُ الْبَلَاءُ بِالْمُؤْمِنِ اَوِالْمُؤْمِنَةِ فِيْ نَفْسِه وَوَلَدِه وَمَالِه حَتّٰى يَلْقَى اللهَ وَمَا عَلَيْهِ خَطِيْئَةٌ
আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, মুমিনের সন্তান, সম্পদ ও নিজের উপর সর্বদা বিপদ আসতে থাকে। এমনকি শেষপর্যন্ত এভাবেই আল্লাহর সাথে মিলিত হয়। তখন তার আর কোন গোনাহ বাকি থাকে না। [তিরমিযী, হা/২৩৯৯; সহীহ ইবনে হিববান, হা/২৯২৪।]
عَنْ اَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ - - : اَلدُّنْيَا سِجْنُ الْمُؤْمِنِ وَجَنَّةُ الْكَافِرِ
আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, দুনিয়া মুমিনের জন্য জেলখানা এবং কাফিরের জন্য জান্নাতস্বরূপ। [সহীহ মুসলিম, হা/৭৬০৬; তিরমিযী, হা/২৩২৪; ইবনে মাজাহ, হা/৪১১৩; মুসনাদে আহমাদ, হা/৮২৮৯।]
মুমিন সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী হয় :
عَنْ اَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ - : - اَكْمَلُ الْمُؤْمِنِيْنَ اِيْمَانًا اَحْسَنُهُمْ خُلُقًا
আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ মুমিন সেই ব্যক্তি, যার চরিত্র সবচেয়ে উত্তম। [আবু দাউদ, হা/৪২৮২; তিরমিযী, হা/১১৬২; সুনানে বায়হাকী আল কুবরা, হা/২০৫৭২।]
عَنِ ابْنِ عُمَرَ اَنَّه قَالَ : كُنْتُ مَعَ رَسُوْلِ اللهِ فَجَاءَه رَجُلٌ مِنَ الْاَنْصَارِ- فَسَلَّمَ عَلَى النَّبِيِّ ثُمَّ قَالَ : يَا رَسُوْلَ اللهِ ! أَيُّ الْمُؤْمِنِيْنِ أَفْضَلُ ؟ قَالَ : اَحْسَنُهُمْ خُلُقًا
আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদা আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সাথে ছিলাম। অতঃপর আনসারদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি আগমন করলেন এবং তিনি নবী ﷺ কে সালাম দিলেন। অতঃপর বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! কোন মুমিন সবচেয়ে উত্তম। তিনি বললেন, যার চরিত্র সবচেয়ে ভালো। [ইবনে মাজাহ, হা/৪২৫৯।]
মুমিন বাজে কথা বলে না এবং প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয় না :
عَنْ اَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ : مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الْاٰخِرِ فَلْيَقُلْ خَيْرًا اَوْ لِيَصْمُتْ وَمَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الْاٰخِرِ فَلَا يُؤْذِ جَارَه وَمَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الْاٰخِرِ فَلْيُكْرِمْ ضَيْفَه
আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের উপর ঈমান রাখে, সে যেন অবশ্যই ভালো কথা বলে অথবা চুপ থাকে। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ বিচারের দিনের উপর বিশ্বাস রাখে সে যেন প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেয়। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন অবশ্যই মেহমানের সম্মান করে। [সহীহ বুখারী, হা/৬৪৭৫; সহীহ মুসলিম, হা/১৮২; আবু দাউদ, হা/৫১৫৩; ইবনে মাজাহ, হা/৩৬৭২; সুনানে বায়হাকী আল কুবরা, হা/১৬৪৪০; তিরমিযী, হা/২৫০০; দরেমী, হা/২০৭৭; মুসনাদে আহমাদ, হা/৭৬২৬।]
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলেন,
اَلْمُؤْمِنُ يَطْوِيْ عَلَى الْخِلَالِ كُلِّهَا غَيْرَ الْخِيَانَةِ وَالْكِذْبِ
মুমিনের মধ্যে অন্যান্য দোষ থাকতে পারে, তবে খিয়ানত এবং মিথ্যা থাকতে পারে না। [মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, পৃ: ৩৫।]
উবাই ইবনে কা‘ব (রাঃ) বলেন,
اَلْمُؤْمِنُ بَيْنَ أَرْبَعٍ : اِنِ ابْتُلِيَ صَبَرَ، وَاِنْ اُعْطِيَ شَكَرَ، وَاِنْ قَالَ صَدَقَ، وَاِنْ حَكَمَ عَدَلَ
মুমিন চারটি জিনিসের মধ্যে থাকে। ১. বিপদে পড়লে ধৈর্যধারণ করে। ২. কিছু পেলে শুকরিয়া আদায় করে। ৩. কথা বললে সত্য বলে এবং ৪. বিচার করলে ইনসাফ করে। [হিলয়াতুল আওলিয়া, আবু নাঈম ইসফাহানি, ১ম খন্ড, ২৫৫ পৃ:।]
ইমাম ফুযাইল ইবনে ইয়াজ (রহ.) বলেন,
اَلْمُؤْمِنُ قَلِيْلُ الْكَلَامِ كَثِيْرُ الْعَمَلِ، وَالْمُنَافِقُ كَثِيْرُ الْكَلَامِ قَلِيْلُ الْعَمَلِ؛ كَلَامُ الْمُؤْمِنِ حَكَمٌ، وَصَمْتُه تَفَكُّرٌ، وَنَظْرُه عِبَرٌ، وَعَمَلُه بِرٌّ
মুমিন কথা বলে কম, আমল করে বেশি। আর মুনাফিক কথা বলে বেশি, আমল করে কম। মুমিনের কথা হলো শিক্ষণীয়, তার নিরবতা হলো গবেষণা, তার দেখা হলো শিক্ষা লাভের জন্য এবং তার কাজ হলো সৎকর্ম। [হিলয়াতুল আওলিয়া, আবু নাঈম ইসফাহানি, ৮ম খন্ড, ৯৮ পৃ:।]
মালিক ইবনে দিনার (রহ.) বলেন,
مَثَلُ الْمُؤْمِنِ مَثَلُ اللُّؤْلُؤَةِ اَيْنَمَا كَانَتْ حُسْنُهَا مَعَهَا
মুমিনের দৃষ্টান্ত হলো মনিমুক্তার সাথে। তা যেখানেই থাকে তার সৌন্দর্য তার সাথেই থাকে। [হিলয়াতুল আওলিয়া, আবু নাঈম ইসফাহানি, ২য় খন্ড, ৩৭৭ পৃ:।]
ওয়াহ্হাব ইবনে মুনববাহ (রহ.) বলেন,
اَلْمُؤْمِنُ يُخَالِطُ لِيَعْلَمَ، وَيَسْكُتُ لِيَسْلَمَ، وَيَتَكَلَّمُ لِيَفْهَمَ، وَيَخْلُوْ لِيَنْعَمَ
মুমিন ব্যক্তি কারো সাথে মিলিত হয় কিছু জানার জন্য, নিরব থাকে নিরাপদ থাকার জন্য, কথা বলে বুঝার জন্য এবং নির্জনতা অবলম্বন করে লাভবান হওয়ার জন্য। [হিলয়াতুল আওলিয়া, আবু নাঈম ইসফাহানি, ৪র্থ খন্ড, ৬৮ পৃ:।]
শাক্বীক ইবনে ইবরাহীম বালাকী (রহ.) বলেন,
اَلْمُؤْمِنُ مَشْغُوْلٌ بِخَصْلَتَيْنِ، وَالْمُنَافِقُ مَشْغُوْلٌ بِخَصْلَتَيْنِ : اَلْمُؤْمِنُ بِالْعِبَرِ وَالتَّفَكُّرِ، وَالْمُنَافِقُ بِالْحِرْصِ وَالْاَمَلِ
মুমিন দুটি বৈশিষ্ট্য নিয়ে ব্যস্ত থাকে এবং মুনাফিকও দুটি বৈশিষ্ট্য নিয়ে ব্যস্ত থাকে। মুমিন থাকে শিক্ষা ও গবেষণায় ব্যস্ত; আর মুনাফিক থাকে লোভ ও আশা নিয়ে ব্যস্ত। [হিলয়াতুল আওলিয়া, আবু নাঈম ইসফাহানি, ৮ম খন্ড, ৭১ পৃ:।]
এগুলো হলো মুমিনের বৈশিষ্ট্য ও রহমানের বান্দাদের গুণাবলি। আমরা যদি মুক্তি ও সফলতা চাই তাহলে আমাদেরকেও এসব গুণাবলির অধিকারী হতে হবে।