১
যেসব কারণে ঈমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৫
৩. কিতাবসমূহের প্রতি ঈমান
আল্লাহ তা‘আলা তাঁর রাসূলগণের উপর যে সকল কিতাব অবতীর্ণ করেছেন সেগুলোর প্রতি ঈমান আনতে হবে। যে ব্যক্তি তার কিতাবসমূহ অথবা তাঁর কোন কিছুকে অস্বীকার করবে সে কাফির হয়ে যাবে। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে :
﴿يَاۤ اَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْاۤ اٰمِنُوْا بِاللهِ وَرَسُوْلِهٖ وَالْكِتَابِ الَّذِيْ نَزَّلَ عَلٰى رَسُوْلِهٖ وَالْكِتَابِ الَّذِيْۤ اَنْزَلَ مِنْ قَبْلُؕ وَمَنْ يَّكْفُرْ بِاللهِ وَمَلَآئِكَتِهٖ وَكُتُبِهٖ وَرُسُلِهٖ وَالْيَوْمِ الْاٰخِرِ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَالًا ۢبَعِيْدًا﴾
হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর উপর, তাঁর রাসূলের উপর, তিনি তাঁর রাসূলের প্রতি যে কিতাব নাযিল করেছেন তার উপর এবং যে কিতাব তিনি পূর্বে নাযিল করেছেন তার উপর ঈমান আনয়ন করো। (জেনে রেখো) যে ব্যক্তি আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ এবং আখিরাতকে অস্বীকার করবে, সে ভীষণভাবে পথভ্রষ্ট হয়ে যাবে। (সূরা নিসা- ১৩৬)
আল্লাহ তা‘আলা যুগে যুগে পথহারা মানুষকে পথ দেখানোর জন্য নবী ও রাসূলগণের উপর ধর্মগ্রন্থ বা কিতাব নাযিল করেছেন। এসব কিতাবের মধ্যে চারটি কিতাব প্রসিদ্ধ। যথা :
১। তাওরাত- মূসা (আঃ) এর উপর।
২। যাবুর- দাঊদ (আঃ) এর উপর।
৩। ইঞ্জিল- ঈসা (আঃ) এর উপর।
৪। কুরআন- মুহাম্মাদ ﷺ এর উপর নাযিল হয়েছে।
আল-কুরআনের উপর যেমন বিশ্বাস করতে হবে, তেমনি পূর্ববর্তী নবী ও রাসূলগণের উপর নাযিলকৃত কিতাবগুলোর উপরও অনুরূপ বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে। পূর্ববর্তী সকল কিতাব ও সহীফা নবী ও রাসূলগণের মৃত্যুর পর বিলুপ্ত অথবা বিকৃত হয়ে গেছে। যেহেতু কুরআন মাজীদ রক্ষা করার দায়িত্ব স্বয়ং আল্লাহ গ্রহণ করেছেন সেহেতু কুরআন কিয়ামত পর্যন্ত অবিকৃত থাকবে। আল কুরআন স্বীয় শব্দ, অর্থ এবং তাতে যে জ্ঞান রয়েছে তা সর্ববিষয়ে এক অলৌকিক শক্তি। আল কুরআন সর্বশেষ আসমানী কিতাব, কুরআনের মাধ্যমে আসমানী কিতাবের সমাপ্তি ঘটেছে। সকল প্রকার বিকৃতি ও পরিবর্তন হতে আল্লাহ তা‘আলা কুরআনকে হেফাযত করবেন। আল কুরআন পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿مَا كَانَ حَدِيْثًا يُّفْتَرٰى وَلٰكِنْ تَصْدِيْقَ الَّذِيْ بَيْنَ يَدَيْهِ وَتَفْصِيْلَ كُلِّ شَيْءٍ وَّهُدًى وَّرَحْمَةً لِّقَوْمٍ يُّؤْمِنُوْنَ﴾
এটা এমন বাণী, যা মিথ্যা রচনা নয়। বরং এটা পূর্ববর্তী কিতাবে যা আছে তার সমর্থক এবং মুমিনদের জন্য সবকিছুর বিশদ বিবরণ, হেদায়াত ও রহমত। (সূরা ইউসুফ- ১১১)
পূর্ববতী কিতাবে যে বিধান রয়েছে তা যদি আমাদের শরীয়াতের অনুরূপ হয়, তবে তা সত্য বলে বিবেচিত হবে। যেমন মূসা ও ইবরাহীম (আঃ) এর সহীফার কিছু কথা আল্লাহ উল্লেখ করেছেন,
﴿بَلْ تُؤْثِرُوْنَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا ‐ وَالْاٰخِرَةُ خَيْرٌ وَّاَبْقٰى ‐ اِنَّ هٰذَا لَفِى الصُّحُفِ الْاُوْلٰى ‐ صُحُفِ اِبْرَاهِيْمَ وَمُوْسٰى﴾
কিন্তু তোমরা তো পার্থিব জীবনকে অগ্রাধিকার দিয়ে থাক, অথচ পরকালের জীবন উৎকৃষ্ট ও স্থায়ী। এটা লিখিত রয়েছে পূর্ববর্তী কিতাবসমূহে, ইবরাহীম ও মূসার কিতাবসমূহে। (সূরা আ‘লা- ১৬)
কুরআন নাযিলের মৌলিক লক্ষ্য উদ্দেশ্য তিনটি।
১. কুরআন তিলাওয়াত করা।
২. কুরআনের বিষয়সমূহ বুঝা।
৩. কুরআন অনুযায়ী আমল করা।
সুতরাং কুরআনের প্রতি সার্বিকভাবে ঈমানের অর্থ হলো, কুরআনের সাথে সম্পৃক্ত উল্লেখিত তিনটি বিষয়ের উপর বিশ্বাস করা এবং বিশ্বাস অনুযায়ী আমল করা।
﴿يَاۤ اَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْاۤ اٰمِنُوْا بِاللهِ وَرَسُوْلِهٖ وَالْكِتَابِ الَّذِيْ نَزَّلَ عَلٰى رَسُوْلِهٖ وَالْكِتَابِ الَّذِيْۤ اَنْزَلَ مِنْ قَبْلُؕ وَمَنْ يَّكْفُرْ بِاللهِ وَمَلَآئِكَتِهٖ وَكُتُبِهٖ وَرُسُلِهٖ وَالْيَوْمِ الْاٰخِرِ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَالًا ۢبَعِيْدًا﴾
হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর উপর, তাঁর রাসূলের উপর, তিনি তাঁর রাসূলের প্রতি যে কিতাব নাযিল করেছেন তার উপর এবং যে কিতাব তিনি পূর্বে নাযিল করেছেন তার উপর ঈমান আনয়ন করো। (জেনে রেখো) যে ব্যক্তি আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ এবং আখিরাতকে অস্বীকার করবে, সে ভীষণভাবে পথভ্রষ্ট হয়ে যাবে। (সূরা নিসা- ১৩৬)
আল্লাহ তা‘আলা যুগে যুগে পথহারা মানুষকে পথ দেখানোর জন্য নবী ও রাসূলগণের উপর ধর্মগ্রন্থ বা কিতাব নাযিল করেছেন। এসব কিতাবের মধ্যে চারটি কিতাব প্রসিদ্ধ। যথা :
১। তাওরাত- মূসা (আঃ) এর উপর।
২। যাবুর- দাঊদ (আঃ) এর উপর।
৩। ইঞ্জিল- ঈসা (আঃ) এর উপর।
৪। কুরআন- মুহাম্মাদ ﷺ এর উপর নাযিল হয়েছে।
আল-কুরআনের উপর যেমন বিশ্বাস করতে হবে, তেমনি পূর্ববর্তী নবী ও রাসূলগণের উপর নাযিলকৃত কিতাবগুলোর উপরও অনুরূপ বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে। পূর্ববর্তী সকল কিতাব ও সহীফা নবী ও রাসূলগণের মৃত্যুর পর বিলুপ্ত অথবা বিকৃত হয়ে গেছে। যেহেতু কুরআন মাজীদ রক্ষা করার দায়িত্ব স্বয়ং আল্লাহ গ্রহণ করেছেন সেহেতু কুরআন কিয়ামত পর্যন্ত অবিকৃত থাকবে। আল কুরআন স্বীয় শব্দ, অর্থ এবং তাতে যে জ্ঞান রয়েছে তা সর্ববিষয়ে এক অলৌকিক শক্তি। আল কুরআন সর্বশেষ আসমানী কিতাব, কুরআনের মাধ্যমে আসমানী কিতাবের সমাপ্তি ঘটেছে। সকল প্রকার বিকৃতি ও পরিবর্তন হতে আল্লাহ তা‘আলা কুরআনকে হেফাযত করবেন। আল কুরআন পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿مَا كَانَ حَدِيْثًا يُّفْتَرٰى وَلٰكِنْ تَصْدِيْقَ الَّذِيْ بَيْنَ يَدَيْهِ وَتَفْصِيْلَ كُلِّ شَيْءٍ وَّهُدًى وَّرَحْمَةً لِّقَوْمٍ يُّؤْمِنُوْنَ﴾
এটা এমন বাণী, যা মিথ্যা রচনা নয়। বরং এটা পূর্ববর্তী কিতাবে যা আছে তার সমর্থক এবং মুমিনদের জন্য সবকিছুর বিশদ বিবরণ, হেদায়াত ও রহমত। (সূরা ইউসুফ- ১১১)
পূর্ববতী কিতাবে যে বিধান রয়েছে তা যদি আমাদের শরীয়াতের অনুরূপ হয়, তবে তা সত্য বলে বিবেচিত হবে। যেমন মূসা ও ইবরাহীম (আঃ) এর সহীফার কিছু কথা আল্লাহ উল্লেখ করেছেন,
﴿بَلْ تُؤْثِرُوْنَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا ‐ وَالْاٰخِرَةُ خَيْرٌ وَّاَبْقٰى ‐ اِنَّ هٰذَا لَفِى الصُّحُفِ الْاُوْلٰى ‐ صُحُفِ اِبْرَاهِيْمَ وَمُوْسٰى﴾
কিন্তু তোমরা তো পার্থিব জীবনকে অগ্রাধিকার দিয়ে থাক, অথচ পরকালের জীবন উৎকৃষ্ট ও স্থায়ী। এটা লিখিত রয়েছে পূর্ববর্তী কিতাবসমূহে, ইবরাহীম ও মূসার কিতাবসমূহে। (সূরা আ‘লা- ১৬)
কুরআন নাযিলের মৌলিক লক্ষ্য উদ্দেশ্য তিনটি।
১. কুরআন তিলাওয়াত করা।
২. কুরআনের বিষয়সমূহ বুঝা।
৩. কুরআন অনুযায়ী আমল করা।
সুতরাং কুরআনের প্রতি সার্বিকভাবে ঈমানের অর্থ হলো, কুরআনের সাথে সম্পৃক্ত উল্লেখিত তিনটি বিষয়ের উপর বিশ্বাস করা এবং বিশ্বাস অনুযায়ী আমল করা।