১
যেসব কারণে ঈমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৬
৪. রাসূলগণের প্রতি ঈমান
আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দাদেরকে সৎপথ প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে পর্যায়ক্রমে অনেক নবী ও রাসূল পাঠিয়েছিলেন। সর্বপ্রথম নবী ছিলেন আদম (আঃ) এবং সর্বশেষ নবী ছিলেন মুহাম্মাদ ﷺ। এ দুজনের মধ্যখানে আল্লাহ তা‘আলা আরো অনেক নবী ও রাসূল প্রেরণ করেছেন, তাঁদের সকলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে। তারা মানুষকে আল্লাহর দিকে আহবান করতেন, সঠিক পথের দিকনির্দেশনা দিতেন, সৎকাজের নির্দেশ দিতেন এবং মন্দ কাজের জন্য ভীতি প্রদর্শন করতেন। আল্লাহ তা‘আলা সকল রাসূলকে তাঁর রিসালাতের জন্য নির্বাচন করেছিলেন। যারা তাদের অনুসরণ করেছে তারা হেদায়াত পেয়েছে। আর যারা তাদের অনুসরণ করেনি, তারা পথভ্রষ্ট হয়েছে। আল্লাহ তাদের নিকট যেসব কিতাব পাঠিয়েছিলেন তারা তা প্রচার করেছেন এবং এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। তারা আল্লাহর বিধানের মধ্যে কোন পরিবর্তন করেননি এবং কোন বিধান গোপনও রাখেননি। কুরআন মাজীদে ২৫ জন নবীর নাম উল্লেখ রয়েছে। তাছাড়াও আরো অনেক রাসূল ছিলেন, যাদের নাম ও পরিচয় আমরা জানি না। যত নবী ও রাসূল আগমন করেছিলেন, সকলের প্রতি ঈমান আনা জরুরি।
নবী-রাসূলগণ গায়েব জানতেন না :
রাসূলগণ মানুষ ছিলেন, তারা গায়েব জানতেন না। গায়েব জানা একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার বৈশিষ্ট্য। গায়েবের যেসব বিষয় আল্লাহ তা‘আলা ওহীর মাধ্যমে নবী-রাসূলদের কাছে প্রকাশ করেছেন, তারা কেবল ততটুকুই জানতেন। একদা রাসূলুল্লাহ ﷺ কে বকরীর গোশতের সাথে বিশ মিশিয়ে খাওয়ানো হয়েছিল। যদি তিনি গায়েব জানতেন তাহলে তিনি ঐ বিষ মিশ্রিত খাবার কখনো খেতেন না। যেমন হাদীসে রয়েছে,
عَنْ اَنَسِ بْنِ مَالِكٍ اَنَّ يَهُوْدِيَّةً اَتَتِ النَّبِيَّ بِشَاةٍ مَسْمُوْمَةٍ فَاَكَلَ مِنْهَا فَجِيْءَ بِهَا فَقِيْلَ اَ لَا نَقْتُلُهَا قَالَ لَا فَمَا زِلْتُ اَعْرِفُهَا فِيْ لَهَوَاتِ رَسُوْلِ اللهِ
আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) বর্ণনা করেন, একদা এক ইয়াহুদি মহিলা বিষ মিশ্রিত ছাগল নিয়ে আসলে নবী ﷺ তা হতে খেলেন। অতঃপর ঐ মহিলাকে ধরে আনা হলো এবং বলা হলো, আমরা কি তাকে হত্যা করব? তখন তিনি বললেন, না। আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) বলেছেন, (এরপর থেকে) আমি নবী ﷺ এর (মুখের) তালুতে বিষক্রিয়ার আলামত বরাবরই লক্ষ্য করতাম।। [সহীহ বুখারী, হা/২৬১৭; মুসলিম, হা/৫৮৩৪।]
রাসূলগণকে মুজিযা দেয়া হয়েছিল :
রাসূলগণ যে আল্লাহর পক্ষ হতে প্রেরিত এর সপক্ষে প্রমাণ পেশ করার জন্য বিভিন্ন রাসূলকে বিভিন্ন মুজিযা দান করেছেন। এসব মুজিযা হলো এমন অলৌকিক বিষয়, যা রাসূলগণ ব্যতীত অন্য কারো মাধ্যমে সংঘটিত করা সম্ভব নয়। যেমন হাতের লাঠি সাপে পরিণত হওয়া, বগল থেকে হাত বের করলে হাত সাদা হওয়া, আল্লাহর ইচ্ছায় মৃতকে জীবিত করা, মুহাম্মাদ ﷺ এর কুরআনপ্রাপ্ত হওয়া ইত্যাদি।
নবী-রাসূলগণ মাটির তৈরি মানুষ ছিলেন :
সকল নবীই মানুষ ছিলেন এবং তারা মাটির তৈরি ছিলেন। এমনকি আমাদের নবী মুহাম্মাদ ﷺও মাটির তৈরি মানুষ ছিলেন। সকল মানুষ যেভাবে পিতামাতা থেকে জন্মগ্রহণ করেন, তিনিও ঠিক তেমনিভাবে জন্মগহণ করেছেন। অন্যান্য মানুষের যেভাবে বংশধারা আছে তাঁরও তেমন বংশধারা আছে। তার স্ত্রী আছে, সন্তান আছে। তিনি খাওয়া-দাওয়া করতেন, বাজারে যেতেন। মানুষ মাটির তৈরি- এ ব্যাপারে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿اِنَّ مَثَلَ عِيْسٰى عِنْدَ اللهِ كَمَثَلِ اٰدَمَۚ خَلَقَهٗ مِنْ تُرَابٍ ثُمَّ قَالَ لَهٗ كُنْ فَيَكُوْنُ﴾
নিশ্চয় ঈসার দৃষ্টান্ত আল্লাহর কাছে আদমের মতো। তিনি তাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর বললেন, ‘হও’ এতে তিনি হয়ে গেছেন। (সূরা আলে ইমরানু ৫৯)
রাসূলগণ সব জায়গায় হাযির-নাযির থাকেন না :
অনেকের ধারণা রাসূলগণ বিভিন্ন জায়গায় হাযির হন এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে থাকেন। এ আকীদা পোষণকারীরা মিলাদ পড়তে যেয়ে হঠাৎ করে দাঁড়িয়ে যায়, অথচ নবী ﷺ এর জীবদ্ধশায় সাহাবীরা তার সম্মানার্থে দাঁড়িয়ে থাকুক- এটা তিনি পছন্দ করতেন না। হাদীসে এসেছে,
عَنْ اَنَسٍ قَالَ مَا كَانَ شَخْصٌ اَحَبَّ إِلَيْهِمْ مِنْ رَسُوْلِ وَكَانُوْا اِذَا رَأَوْهُ لَمْ يَقُوْمُوْا لِمَا يَعْلَمُوْا مِنْ كَرَاهِيَتِه لِذٰلِكَ
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাহাবায়ে কেরামের চেয়ে অধিক ভালোবাসা রাসূলুল্লাহ ﷺ এর জন্য আর কারো ছিল না। তারপরও যখন তারা নবী ﷺ কে দেখতেন, তখন দাঁড়াতেন না। কারণ তারা জানতেন যে, নবী ﷺ এটা পছন্দ করতেন না। [তিরমিযী, হা/২৭৫৪; মুসনাদে আহমাদ, হা/১২৩৪৫।]
নবী-রাসূলগণ গায়েব জানতেন না :
রাসূলগণ মানুষ ছিলেন, তারা গায়েব জানতেন না। গায়েব জানা একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার বৈশিষ্ট্য। গায়েবের যেসব বিষয় আল্লাহ তা‘আলা ওহীর মাধ্যমে নবী-রাসূলদের কাছে প্রকাশ করেছেন, তারা কেবল ততটুকুই জানতেন। একদা রাসূলুল্লাহ ﷺ কে বকরীর গোশতের সাথে বিশ মিশিয়ে খাওয়ানো হয়েছিল। যদি তিনি গায়েব জানতেন তাহলে তিনি ঐ বিষ মিশ্রিত খাবার কখনো খেতেন না। যেমন হাদীসে রয়েছে,
عَنْ اَنَسِ بْنِ مَالِكٍ اَنَّ يَهُوْدِيَّةً اَتَتِ النَّبِيَّ بِشَاةٍ مَسْمُوْمَةٍ فَاَكَلَ مِنْهَا فَجِيْءَ بِهَا فَقِيْلَ اَ لَا نَقْتُلُهَا قَالَ لَا فَمَا زِلْتُ اَعْرِفُهَا فِيْ لَهَوَاتِ رَسُوْلِ اللهِ
আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) বর্ণনা করেন, একদা এক ইয়াহুদি মহিলা বিষ মিশ্রিত ছাগল নিয়ে আসলে নবী ﷺ তা হতে খেলেন। অতঃপর ঐ মহিলাকে ধরে আনা হলো এবং বলা হলো, আমরা কি তাকে হত্যা করব? তখন তিনি বললেন, না। আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) বলেছেন, (এরপর থেকে) আমি নবী ﷺ এর (মুখের) তালুতে বিষক্রিয়ার আলামত বরাবরই লক্ষ্য করতাম।। [সহীহ বুখারী, হা/২৬১৭; মুসলিম, হা/৫৮৩৪।]
রাসূলগণকে মুজিযা দেয়া হয়েছিল :
রাসূলগণ যে আল্লাহর পক্ষ হতে প্রেরিত এর সপক্ষে প্রমাণ পেশ করার জন্য বিভিন্ন রাসূলকে বিভিন্ন মুজিযা দান করেছেন। এসব মুজিযা হলো এমন অলৌকিক বিষয়, যা রাসূলগণ ব্যতীত অন্য কারো মাধ্যমে সংঘটিত করা সম্ভব নয়। যেমন হাতের লাঠি সাপে পরিণত হওয়া, বগল থেকে হাত বের করলে হাত সাদা হওয়া, আল্লাহর ইচ্ছায় মৃতকে জীবিত করা, মুহাম্মাদ ﷺ এর কুরআনপ্রাপ্ত হওয়া ইত্যাদি।
নবী-রাসূলগণ মাটির তৈরি মানুষ ছিলেন :
সকল নবীই মানুষ ছিলেন এবং তারা মাটির তৈরি ছিলেন। এমনকি আমাদের নবী মুহাম্মাদ ﷺও মাটির তৈরি মানুষ ছিলেন। সকল মানুষ যেভাবে পিতামাতা থেকে জন্মগ্রহণ করেন, তিনিও ঠিক তেমনিভাবে জন্মগহণ করেছেন। অন্যান্য মানুষের যেভাবে বংশধারা আছে তাঁরও তেমন বংশধারা আছে। তার স্ত্রী আছে, সন্তান আছে। তিনি খাওয়া-দাওয়া করতেন, বাজারে যেতেন। মানুষ মাটির তৈরি- এ ব্যাপারে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿اِنَّ مَثَلَ عِيْسٰى عِنْدَ اللهِ كَمَثَلِ اٰدَمَۚ خَلَقَهٗ مِنْ تُرَابٍ ثُمَّ قَالَ لَهٗ كُنْ فَيَكُوْنُ﴾
নিশ্চয় ঈসার দৃষ্টান্ত আল্লাহর কাছে আদমের মতো। তিনি তাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর বললেন, ‘হও’ এতে তিনি হয়ে গেছেন। (সূরা আলে ইমরানু ৫৯)
রাসূলগণ সব জায়গায় হাযির-নাযির থাকেন না :
অনেকের ধারণা রাসূলগণ বিভিন্ন জায়গায় হাযির হন এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে থাকেন। এ আকীদা পোষণকারীরা মিলাদ পড়তে যেয়ে হঠাৎ করে দাঁড়িয়ে যায়, অথচ নবী ﷺ এর জীবদ্ধশায় সাহাবীরা তার সম্মানার্থে দাঁড়িয়ে থাকুক- এটা তিনি পছন্দ করতেন না। হাদীসে এসেছে,
عَنْ اَنَسٍ قَالَ مَا كَانَ شَخْصٌ اَحَبَّ إِلَيْهِمْ مِنْ رَسُوْلِ وَكَانُوْا اِذَا رَأَوْهُ لَمْ يَقُوْمُوْا لِمَا يَعْلَمُوْا مِنْ كَرَاهِيَتِه لِذٰلِكَ
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাহাবায়ে কেরামের চেয়ে অধিক ভালোবাসা রাসূলুল্লাহ ﷺ এর জন্য আর কারো ছিল না। তারপরও যখন তারা নবী ﷺ কে দেখতেন, তখন দাঁড়াতেন না। কারণ তারা জানতেন যে, নবী ﷺ এটা পছন্দ করতেন না। [তিরমিযী, হা/২৭৫৪; মুসনাদে আহমাদ, হা/১২৩৪৫।]