১
যেসব কারণে ঈমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৩১
اَلنِّفَاقُ (আন নিফাক্ব) মুনাফিকী
اَلنِّفَاقُ (আন নিফাক্ব) শব্দটি আরবী نَفَقٌ মূলধাতু হতে নির্গত। نَفَقٌ শব্দটির অর্থ হচ্ছে, এমন একটি সুড়ঙ্গপথ, যার একদিকে প্রবেশ করে অপরদিকে বের হওয়ার রাস্তা রয়েছে।
শরীয়াতের পরিভাষায় নিফাক্ব হচ্ছে, দ্বীন ইসলামের এক দরজা দিয়ে প্রবেশ করে অপর দরজা দিয়ে বের হয়ে আসা। অন্য কথায়, বাহ্যিকভাবে ইসলাম প্রকাশ করা; কিন্তু ভেতরে কুফর লুকিয়ে রাখা। যে নিফাক্ব করে তাকে মুনাফিক বলা হয়। মুনাফিকরা জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে অবস্থান করবে।
নিফাক্ব দুটি কারণে হতে পারে :
প্রথমত : সে ইসলামে প্রবেশ করেছে শুধুমাত্র লোক দেখানোর জন্য। আন্তরিকভাবে সে ইসলামকে গ্রহণ করেনি। বরং তার মন কুফরের উপরই প্রতিষ্ঠিত রয়েছে।
দ্বিতীয়ত : সে আন্তরিক বিশ্বাস-অনুরাগ নিয়েই ইসলামে প্রবেশ করেছে; কিন্তু এ সম্পর্কটি এতই দুর্বল যে, অন্যান্য সম্পর্ক তার উপর প্রভাব বিস্তার করে ফেলেছে।
নিফাক্বের প্রকারভেদ : মুনাফিকী দুই প্রকার :
১. নিফাক্ব ফিল আকীদা বা বিশ্বাসগত নিফাক্বী :
যারা মুখে কালিমায়ে শাহাদাত উচ্চারণ করত, কিন্তু তাদের অন্তকরণ সম্পূর্ণরূপে কুফর, নাস্তিকতা ও বেঈমানীর উপর প্রতিষ্ঠিত ছিল। তারা হচ্ছে সেই মুনাফিক, যাদের পরিণতি সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে কঠোর ভাষায় ঘোষণা করা হয়েছে যে,
﴿اِنَّ الْمُنَافِقِيْنَ فِى الدَّرْكِ الْاَسْفَلِ مِنَ النَّارِؕ وَلَنْ تَجِدَ لَهُمْ نَصِيْرًا﴾
মুনাফিকরা জাহান্নামের নিম্নস্তরে থাকবে এবং তাদের জন্য তুমি কখনো কোন সাহায্যকারী পাবে না। (সূরা নিসা– ১৪৫)
আকীদাগত নিফাক্ব ৬ প্রকার :
১. রাসূল ﷺ কে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা।
২. রাসূল ﷺ এর আনীত ওহীর কিছু অংশকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা।
৩. রাসূল ﷺ এর প্রতি হিংসা-বিদ্বেষ পোষণ করা।
৪. রাসূল ﷺ এর আনীত বিধানের কিছু অংশের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা।
৫. রাসূল ﷺ এর দ্বীনের অবনতিতে খুশী হওয়া।
৬. রাসূল ﷺ এর দ্বীনের বিজয়কে অপছন্দ করা।
২. নিফাক্ব ফিল আমাল বা কর্মগত নিফাক্বী :
যারা আন্তরিকতার সাথে ইসলাম গ্রহণ করেছিল; কিন্তু তাদের ঈমানের দৃঢ়তা ছিল না। নানারূপ দুর্বলতার শিকারে পরিণত হয়েছিল। এ দ্বিতীয় শ্রেণির নিফাককেই নিফাকে আমলী বা চরিত্রগত মুনাফিকী বলা হয়।
আমলগত নিফাক্ব চার প্রকার :
১. মিথ্যা কথা বলা। ২. ওয়াদা বা চুক্তি ভঙ্গ করা। ৩. খিয়ানত করা। ৪. ঝগড়া করে গালি দেয়া।
রাসূলুল্লাহ ﷺ এর বাণী :
عَنْ اَبِيْ هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ قَالَ اٰيَةُ الْمُنَافِقِ ثَلَاثٌ اِذَا حَدَّثَ كَذَبَ وَاِذَا وَعَدَ اَخْلَفَ وَاِذَا اؤْتُمِنَ خَانَ
আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী ﷺ বলেন, মুনাফিকের আলামত তিনটি : (১) যখন কথা বলে মিথ্যা বলে। (২) যখন কোন ওয়াদা করে তা ভঙ্গ করে। (৩) আর যখন তার কাছে কিছু আমানত রাখা হয় তখন তার খিয়ানত করে। [সহীহ বুখারী, হা/৩৩, ২৬৮২, ২৭৪৯, ২০৯৫; সহীহ মুসলিম, হা/২২০; তিরমিযী, হা/২৬৩১; মুসনাদে আহমাদ, হা/৮৬৮৫।]
অপর হাদীসে ইরশাদ হয়েছে,
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو اَنَّ النَّبِيَّ قَالَ اَرْبَعٌ مَّنْ كُنَّ فِيْهِ كَانَ مُنَافِقًا خَالِصًا وَمَنْ كَانَتْ فِيْهِ خَصْلَةٌ مِّنْهُنَّ كَانَتْ فِيْهِ خَصْلَةٌ مِّنْ النِّفَاقِ حَتّٰى يَدَعَهَا اِذَا اؤْتُمِنَ خَانَ وَاِذَا حَدَّثَ كَذَبَ وَاِذَا عَاهَدَ غَدَرَ وَاِذَا خَاصَمَ فَجَرَ
আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, চারটি স্বভাব যার মধ্যে পাওয়া যাবে, সে খাঁটি মুনাফিক হিসেবে গণ্য হবে। আর যার মধ্যে উক্ত স্বভাবগুলোর যে কোন একটি থাকবে তাহলে মনে করতে হবে, তার মধ্যে মুনাফিকীর চিহ্ন বিদ্যমান আছে- যতক্ষণ পর্যন্ত সে তা ত্যাগ না করে। উক্ত চিহ্নসমূহ হলো : (১) যখন আমানত রাখা হয় তখন খিয়ানত করে। (২) যখন কথা বলে মিথ্যা বলে। (৩) যখন অঙ্গীকার করে তা ভঙ্গ করে। (৪) আর যখন ঝগড়া করে তখন গালি দেয়। [সহীহ বুখারী, হা/৩৪; সহীহ মুসলিম, হা/২১৯; তিরমিযী, হা/২৬৩২, আবু দাউদ, হা/৪৬৮৮; সহীহ ইবনে হিববান, হা/২৫৪; মুসনাদে আহমাদ, হা/৬৪৬৮।]
শরীয়াতের পরিভাষায় নিফাক্ব হচ্ছে, দ্বীন ইসলামের এক দরজা দিয়ে প্রবেশ করে অপর দরজা দিয়ে বের হয়ে আসা। অন্য কথায়, বাহ্যিকভাবে ইসলাম প্রকাশ করা; কিন্তু ভেতরে কুফর লুকিয়ে রাখা। যে নিফাক্ব করে তাকে মুনাফিক বলা হয়। মুনাফিকরা জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে অবস্থান করবে।
নিফাক্ব দুটি কারণে হতে পারে :
প্রথমত : সে ইসলামে প্রবেশ করেছে শুধুমাত্র লোক দেখানোর জন্য। আন্তরিকভাবে সে ইসলামকে গ্রহণ করেনি। বরং তার মন কুফরের উপরই প্রতিষ্ঠিত রয়েছে।
দ্বিতীয়ত : সে আন্তরিক বিশ্বাস-অনুরাগ নিয়েই ইসলামে প্রবেশ করেছে; কিন্তু এ সম্পর্কটি এতই দুর্বল যে, অন্যান্য সম্পর্ক তার উপর প্রভাব বিস্তার করে ফেলেছে।
নিফাক্বের প্রকারভেদ : মুনাফিকী দুই প্রকার :
১. নিফাক্ব ফিল আকীদা বা বিশ্বাসগত নিফাক্বী :
যারা মুখে কালিমায়ে শাহাদাত উচ্চারণ করত, কিন্তু তাদের অন্তকরণ সম্পূর্ণরূপে কুফর, নাস্তিকতা ও বেঈমানীর উপর প্রতিষ্ঠিত ছিল। তারা হচ্ছে সেই মুনাফিক, যাদের পরিণতি সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে কঠোর ভাষায় ঘোষণা করা হয়েছে যে,
﴿اِنَّ الْمُنَافِقِيْنَ فِى الدَّرْكِ الْاَسْفَلِ مِنَ النَّارِؕ وَلَنْ تَجِدَ لَهُمْ نَصِيْرًا﴾
মুনাফিকরা জাহান্নামের নিম্নস্তরে থাকবে এবং তাদের জন্য তুমি কখনো কোন সাহায্যকারী পাবে না। (সূরা নিসা– ১৪৫)
আকীদাগত নিফাক্ব ৬ প্রকার :
১. রাসূল ﷺ কে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা।
২. রাসূল ﷺ এর আনীত ওহীর কিছু অংশকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা।
৩. রাসূল ﷺ এর প্রতি হিংসা-বিদ্বেষ পোষণ করা।
৪. রাসূল ﷺ এর আনীত বিধানের কিছু অংশের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা।
৫. রাসূল ﷺ এর দ্বীনের অবনতিতে খুশী হওয়া।
৬. রাসূল ﷺ এর দ্বীনের বিজয়কে অপছন্দ করা।
২. নিফাক্ব ফিল আমাল বা কর্মগত নিফাক্বী :
যারা আন্তরিকতার সাথে ইসলাম গ্রহণ করেছিল; কিন্তু তাদের ঈমানের দৃঢ়তা ছিল না। নানারূপ দুর্বলতার শিকারে পরিণত হয়েছিল। এ দ্বিতীয় শ্রেণির নিফাককেই নিফাকে আমলী বা চরিত্রগত মুনাফিকী বলা হয়।
আমলগত নিফাক্ব চার প্রকার :
১. মিথ্যা কথা বলা। ২. ওয়াদা বা চুক্তি ভঙ্গ করা। ৩. খিয়ানত করা। ৪. ঝগড়া করে গালি দেয়া।
রাসূলুল্লাহ ﷺ এর বাণী :
عَنْ اَبِيْ هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ قَالَ اٰيَةُ الْمُنَافِقِ ثَلَاثٌ اِذَا حَدَّثَ كَذَبَ وَاِذَا وَعَدَ اَخْلَفَ وَاِذَا اؤْتُمِنَ خَانَ
আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী ﷺ বলেন, মুনাফিকের আলামত তিনটি : (১) যখন কথা বলে মিথ্যা বলে। (২) যখন কোন ওয়াদা করে তা ভঙ্গ করে। (৩) আর যখন তার কাছে কিছু আমানত রাখা হয় তখন তার খিয়ানত করে। [সহীহ বুখারী, হা/৩৩, ২৬৮২, ২৭৪৯, ২০৯৫; সহীহ মুসলিম, হা/২২০; তিরমিযী, হা/২৬৩১; মুসনাদে আহমাদ, হা/৮৬৮৫।]
অপর হাদীসে ইরশাদ হয়েছে,
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو اَنَّ النَّبِيَّ قَالَ اَرْبَعٌ مَّنْ كُنَّ فِيْهِ كَانَ مُنَافِقًا خَالِصًا وَمَنْ كَانَتْ فِيْهِ خَصْلَةٌ مِّنْهُنَّ كَانَتْ فِيْهِ خَصْلَةٌ مِّنْ النِّفَاقِ حَتّٰى يَدَعَهَا اِذَا اؤْتُمِنَ خَانَ وَاِذَا حَدَّثَ كَذَبَ وَاِذَا عَاهَدَ غَدَرَ وَاِذَا خَاصَمَ فَجَرَ
আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, চারটি স্বভাব যার মধ্যে পাওয়া যাবে, সে খাঁটি মুনাফিক হিসেবে গণ্য হবে। আর যার মধ্যে উক্ত স্বভাবগুলোর যে কোন একটি থাকবে তাহলে মনে করতে হবে, তার মধ্যে মুনাফিকীর চিহ্ন বিদ্যমান আছে- যতক্ষণ পর্যন্ত সে তা ত্যাগ না করে। উক্ত চিহ্নসমূহ হলো : (১) যখন আমানত রাখা হয় তখন খিয়ানত করে। (২) যখন কথা বলে মিথ্যা বলে। (৩) যখন অঙ্গীকার করে তা ভঙ্গ করে। (৪) আর যখন ঝগড়া করে তখন গালি দেয়। [সহীহ বুখারী, হা/৩৪; সহীহ মুসলিম, হা/২১৯; তিরমিযী, হা/২৬৩২, আবু দাউদ, হা/৪৬৮৮; সহীহ ইবনে হিববান, হা/২৫৪; মুসনাদে আহমাদ, হা/৬৪৬৮।]