hadith book logo

যেসব কারণে ঈমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৩০

اَلْمُرْتَدُّ (আল মুরতাদ) মুরতাদের পরিচয়

اَلْمُرْتَدُّ (আল মুরতাদ) শব্দটি আরবি رِدَّةٌ (রিদ্দাহ) শব্দ হতে নির্গত। যার অর্থ হলো, ফিরে যাওয়া, ঘুরে যাওয়া, ধর্ম ত্যাগ করা ইত্যাদি।

ইসলামের পরিভাষায় মুরতাদ বলা হয় ঐ ব্যক্তিকে, যে ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করে নাস্তিক হয়ে যায় অথবা অন্য কোন ধর্ম গ্রহণ করে। মুরতাদের হুকুম হলো, তাকে হত্যা করতে হবে। তবে সে যদি পুনরায় ঈমান আনে এবং নেক আমল করে তাহলে সে মুমিন হিসেবে গণ্য হবে নতুবা তার সকল আমল বাতিল হয়ে যাবে। পরকালে সে জান্নাতে যেতে পারবে না। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿وَمَنْ يَّرْتَدِدْ مِنْكُمْ عَنْ دِيْنِهٖ فَيَمُتْ وَهُوَ كَافِرٌ فَاُولٰٓئِكَ حَبِطَتْ اَعْمَالُهُمْ فِى الدُّنْيَا وَالْاٰخِرَةِۚ وَاُولٰٓئِكَ اَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيْهَا خَالِدُوْنَ﴾

তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি তার দ্বীনকে ত্যাগ করবে, অতঃপর কাফির অবস্থায় মারা যাবে, দুনিয়া ও আখিরাতে তাদের সকল আমল বরবাদ হয়ে যাবে। আর তারা হবে জাহান্নামের অধিবাসী; সেখানে তারা চিরকাল (বসবাস) করবে। (সূরা বাক্বারা- ২১৭)

অপর আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿اِنَّ الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا ثُمَّ كَفَرُوْا ثُمَّ اٰمَنُوْا ثُمَّ كَفَرُوْا ثُمَّ ازْدَادُوْا كُفْرًا لَّمْ يَكُنِ اللهُ لِيَغْفِرَ لَهُمْ وَلَا لِيَهْدِيَهُمْ سَبِيْلًا﴾

নিশ্চয় যারা ঈমান আনে, অতঃপর কুফরী করে, আবার ঈমান আনে, আবার কুফরী করে, অতঃপর তাদের কুফরী প্রবৃত্তি বৃদ্ধি পেতে থাকে, আল্লাহ তাদেরকে কিছুতেই ক্ষমা করবেন না এবং তাদেরকে কোন পথও দেখাবেন না। (সূরা নিসা- ১৩৭)

উল্লেখিত আয়াত দ্বারা প্রমাণ হলো যে, মানুষ ইসলাম গ্রহণ করে মুসলিম হয়। আবার মুসলিম হওয়ার পর কুফরী করলে সে কাফির হয়ে যায়। যে ব্যক্তি তার দ্বীন ও ঈমানকে প্রত্যাখ্যান করে কাফির হয় শরীয়াতের পরিভাষায় তাকেই মুরতাদ বলা হয়।

ইসলামী শরীয়াত কর্তৃক দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রমাণিত যে, অপরিহার্যভাবে মেনে চলার জন্য নির্ধারিত এক বা একাধিক বিষয়কে অস্বীকার করলে মুসলিম ব্যক্তি মুরতাদ হয়ে যায়। যে মুসলিম ব্যক্তি ইসলামী শরীয়াত কর্তৃক অপরিহার্যরূপে মেনে চলার জন্য নির্ধারিত কোন একটি বিষয়কে অস্বীকার করল বস্তুত সে আল্লাহর কিতাবের অংশ বিশেষের প্রতি ঈমান আনল এবং অংশ বিশেষকে অস্বীকার করল। এমতাবস্থায় সে কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত বলেই গণ্য হবে অর্থাৎ সে মুরতাদ হয়ে যাবে। আর যে ব্যক্তি মুরতাদ হয়ে যাবে তার শাস্তি হচ্ছে হত্যা করা, যদি না সে তওবা করে ফিরে আসে। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,

عَنْ عِكْرِمَةَ قَالَ اُتِيَ عَلِيٌّ بِزَنَادِقَةٍ فَأَحْرَقَهُمْ فَبَلَغَ ذٰلِكَ ابْنَ عَبَّاسٍ فَقَالَ لَوْ كُنْتُ اَنَا لَمْ اُحْرِقْهُمْ لِنَهْيِ رَسُوْلِ اللهِ لَا تُعَذِّبُوْا بِعَذَابِ اللهِ وَلَقَتَلْتُهُمْ لِقَوْلِ رَسُوْلِ اللهِ مَنْ بَدَّلَ دِيْنَه فَاقْتُلُوْهُ

ইকরামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আলী (রাঃ) এর নিকট কতগুলো যিনদিক ধরে আনা হলো। অতঃপর তিনি তাদেরকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করলেন। এ সংবাদ ইবনে আববাসের কাছে পৌঁছলে তিনি বললেন, এক্ষেত্রে আমি থাকলে তাদেরকে অগ্নিদগ্ধ করে হত্যা করতাম না। কেননা নবী ﷺ বলেছেন, আল্লাহর দেয়া শাস্তির অনুরূপ শাস্তি কাউকে দিও না। আমি শুধুমাত্র তাদেরকেই হত্যা করতাম যাদের সম্বন্ধে নবী ﷺ বলেছেন, যে দ্বীনকে গ্রহণ করার পর তা পরিত্যাগ করে তাকে হত্যা করো। [সহীহ বুখারী, হা/৬৯২২; তিরমিযী, হা/১৪৫৮; আবু দাউদ, হা/৪৩৫১; দারেমী, হা/৩২২৮; নাসাঈ, হা/৪০৬০; সহীহ ইবনে হিববান, হা/৬৫০৬; মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/৬২৯৫; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৮৭১।]