১
শাশ্বত জীবন ব্যবস্থা (হক দীন)
লেখকঃ আশ-শাইখ আবদুর রহমান ইবন হাম্মাদ আ-লে উমার • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১১
মুক্তি প্রাপ্ত দল
সংখ্যায় মুসলিমরা অনেক। আসলে কিন্তু তাদের সংখ্যা অনেক কম। যে সকল দল নিজেদেরকে ইসলামের সাথে সম্পর্কযুক্ত করে তাদের সংখ্যা ৭৩টি। এ সমস্ত দলের লোকদের সংখ্যা হাজার মিলিয়ন। কিন্তু সঠিক মুসলিমের দল হচ্ছে একটি। তারা হচ্ছে, যারা আল্লাহকে এক জানে এবং আকীদাহ ও সৎ কাজ করার ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীদের পথের অনুসারী। যেমনটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার এক বাণীতে বলেছেন,
«افترقت اليهود على إحدى وسبعين فرقة، وافترقت النصارى على اثنتين وسبعين فرقة، وستفترق هذه الأمة على ثلاث وسبعين فرقة كلها في النار إلا واحدة ". قال الصحابة : من هي يا رسول الله؟ قال : " من كان على مثل ما أنا عليه اليوم وأصحابي»
“ইয়াহূদীরা ৭১ দলে বিভক্ত হয়েছে। খৃষ্টানেরা বিভক্ত হয়েছে ৭২ দলে। এ উম্মত বিভক্ত হবে ৭৩ দলে এবং একদল ছাড়া সবাই জাহান্নামে যবে। ছাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রাসূল, সেটি কোন দল? তিনি বললেন, তারা হচ্ছে আমি ও আমার ছাহাবী যে পথে রয়েছি; এ পথে যারা থাকবে। (বুখারী ও মুসলিম)
রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও তাঁর সাহাবীগণ যে আকীদার পথে ছিলেন তা হচ্ছে, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’ অর্থাৎ আল্লাহ ব্যতীত সত্যিকারের কোনো ইলাহ নেই। মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর রাসূল এ বিশ্বাস স্থাপন। একক আল্লাহর নিকটে দো‘আ করা, আল্লাহর উদ্দেশ্যেই জবেহ ও মানত করা। একমাত্র আল্লাহরই কাছে বিপদ মুক্তি কামনা করা, সাহায্য চাওয়া ও আশ্রয় প্রার্থনা করা এবং ভালমন্দ একমাত্র তিনিই করতে পারেন; এ আকীদা পোষণ করা। আর আল্লাহ সুবহানাহুর উদ্দেশ্যে ইখলাছের সাথে ইসলামের স্তম্ভসমূহ (আরকান) আদায় করা। ফিরিশতাগণ, কিতাবসমূহ, রাসূলগণ, পুনরুত্থান, হিসাব কিতাব, জান্নাত, জাহান্নাম, ভালমন্দ সকল তাকদীরই আল্লাহর পক্ষ থেকে এটাকে বিশ্বাস করা। জীবনের সকল ক্ষেত্রে কুরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী শাসন ব্যবস্থা পরিচালনা করা। এ দু'য়ের বিচার ব্যবস্থার প্রতি সন্তুষ্ট থাকা। আল্লাহর ওলীদের সাথে বন্ধুত্ব ও তাঁর শত্রুদের সাথে শত্রুতা রাখা। আল্লাহর দিকে আহ্বান জানানো। তাঁর রাস্তায় এক হয়ে জিহাদ করা। মুসলিমদের শাসকদের সৎকাজের নির্দেশের প্রতি আনুগত্য দেখানো ও যেখানেই অবস্থান করা হউক না কেন সত্য কথা বলা। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর পরিবার ও পরিজন এবং রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর ছাহাবীগণকে ভালোবাসা। তাদের মর্যাদা অনুযায়ী তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা। তাদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট থাকা। তাদের মধ্যে অনুষ্ঠিত ঝগড়া সম্পর্কে নিশ্চুপ থাকা। কিছু মুনাফিক তাদেরকে যে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছে, তা বিশ্বাস না করা। তাদের এ সমালোচনা ছিল মুসলিমদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এবং কিছু সংখ্যক আলিম ও ঐতিহাসিকদেরকে ধোঁকা দেওয়ার জন্য। হয়তবা তারা পুস্তকাদিতে ভাল নিয়তে সাহাবীদের পারস্পরিক এ ঝগড়াকে উল্লেখ করেছে। বস্তুতঃ এটি ঠিক কাজ হয়নি।
আর যারা দাবী করে যে, তারা আহলে বাইতের এবং তারা নিজেকে ‘সাইয়্যিদ’ বলে আখ্যায়িত করে, তাদের উচিৎ এ বংশ পরম্পরা সম্পর্কে সঠিক তথ্য অর্জন করা। কেননা নিশ্চয় আল্লাহ নিজের পিতা ব্যতীত অন্যের দিকে সন্বন্ধকারীকে অভিসম্পাত দিয়েছেন। যদি তারা আহলে বাইতের বলে প্রমাণিত হয় তাহলে তাদের উপর কর্তব্য হচ্ছে, তাওহীদকে আল্লাহর উদ্দেশ্যে একত্ববাদকে ইখলাছের সাথে গ্রহণ করা, গোনাহ বর্জন করা, নিজেদের সামনে মানুষের মাথা নত করা ও হাতে পায়ে চুমু খাওয়ার প্রতি খুশী না হয়ে এবং মুসলিম ভাইদের ছেড়ে ভিন্ন কোনো পোশাক পরিধান না করে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও তার সত্যিকার পরিবার-পরিজনের অনুকরণ-অনুসরণ করা। কারণ এসবই হচ্ছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ বিরোধী কাজ। তিনি এসব কাজ থেকে সমপূর্ণরূপে সম্পর্কহীন। বরং আল্লাহর কাছে সেই মর্যাদার অধিকারী, যে যত বেশী তাকওয়ার অধিকারী।
আর আল্লাহ দুরূদ ও সালাম পেশ করুন আমাদের নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও তাঁর পরিবার পরিজনের উপর। (আমীন)
«افترقت اليهود على إحدى وسبعين فرقة، وافترقت النصارى على اثنتين وسبعين فرقة، وستفترق هذه الأمة على ثلاث وسبعين فرقة كلها في النار إلا واحدة ". قال الصحابة : من هي يا رسول الله؟ قال : " من كان على مثل ما أنا عليه اليوم وأصحابي»
“ইয়াহূদীরা ৭১ দলে বিভক্ত হয়েছে। খৃষ্টানেরা বিভক্ত হয়েছে ৭২ দলে। এ উম্মত বিভক্ত হবে ৭৩ দলে এবং একদল ছাড়া সবাই জাহান্নামে যবে। ছাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রাসূল, সেটি কোন দল? তিনি বললেন, তারা হচ্ছে আমি ও আমার ছাহাবী যে পথে রয়েছি; এ পথে যারা থাকবে। (বুখারী ও মুসলিম)
রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও তাঁর সাহাবীগণ যে আকীদার পথে ছিলেন তা হচ্ছে, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’ অর্থাৎ আল্লাহ ব্যতীত সত্যিকারের কোনো ইলাহ নেই। মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর রাসূল এ বিশ্বাস স্থাপন। একক আল্লাহর নিকটে দো‘আ করা, আল্লাহর উদ্দেশ্যেই জবেহ ও মানত করা। একমাত্র আল্লাহরই কাছে বিপদ মুক্তি কামনা করা, সাহায্য চাওয়া ও আশ্রয় প্রার্থনা করা এবং ভালমন্দ একমাত্র তিনিই করতে পারেন; এ আকীদা পোষণ করা। আর আল্লাহ সুবহানাহুর উদ্দেশ্যে ইখলাছের সাথে ইসলামের স্তম্ভসমূহ (আরকান) আদায় করা। ফিরিশতাগণ, কিতাবসমূহ, রাসূলগণ, পুনরুত্থান, হিসাব কিতাব, জান্নাত, জাহান্নাম, ভালমন্দ সকল তাকদীরই আল্লাহর পক্ষ থেকে এটাকে বিশ্বাস করা। জীবনের সকল ক্ষেত্রে কুরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী শাসন ব্যবস্থা পরিচালনা করা। এ দু'য়ের বিচার ব্যবস্থার প্রতি সন্তুষ্ট থাকা। আল্লাহর ওলীদের সাথে বন্ধুত্ব ও তাঁর শত্রুদের সাথে শত্রুতা রাখা। আল্লাহর দিকে আহ্বান জানানো। তাঁর রাস্তায় এক হয়ে জিহাদ করা। মুসলিমদের শাসকদের সৎকাজের নির্দেশের প্রতি আনুগত্য দেখানো ও যেখানেই অবস্থান করা হউক না কেন সত্য কথা বলা। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর পরিবার ও পরিজন এবং রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর ছাহাবীগণকে ভালোবাসা। তাদের মর্যাদা অনুযায়ী তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা। তাদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট থাকা। তাদের মধ্যে অনুষ্ঠিত ঝগড়া সম্পর্কে নিশ্চুপ থাকা। কিছু মুনাফিক তাদেরকে যে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছে, তা বিশ্বাস না করা। তাদের এ সমালোচনা ছিল মুসলিমদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এবং কিছু সংখ্যক আলিম ও ঐতিহাসিকদেরকে ধোঁকা দেওয়ার জন্য। হয়তবা তারা পুস্তকাদিতে ভাল নিয়তে সাহাবীদের পারস্পরিক এ ঝগড়াকে উল্লেখ করেছে। বস্তুতঃ এটি ঠিক কাজ হয়নি।
আর যারা দাবী করে যে, তারা আহলে বাইতের এবং তারা নিজেকে ‘সাইয়্যিদ’ বলে আখ্যায়িত করে, তাদের উচিৎ এ বংশ পরম্পরা সম্পর্কে সঠিক তথ্য অর্জন করা। কেননা নিশ্চয় আল্লাহ নিজের পিতা ব্যতীত অন্যের দিকে সন্বন্ধকারীকে অভিসম্পাত দিয়েছেন। যদি তারা আহলে বাইতের বলে প্রমাণিত হয় তাহলে তাদের উপর কর্তব্য হচ্ছে, তাওহীদকে আল্লাহর উদ্দেশ্যে একত্ববাদকে ইখলাছের সাথে গ্রহণ করা, গোনাহ বর্জন করা, নিজেদের সামনে মানুষের মাথা নত করা ও হাতে পায়ে চুমু খাওয়ার প্রতি খুশী না হয়ে এবং মুসলিম ভাইদের ছেড়ে ভিন্ন কোনো পোশাক পরিধান না করে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও তার সত্যিকার পরিবার-পরিজনের অনুকরণ-অনুসরণ করা। কারণ এসবই হচ্ছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ বিরোধী কাজ। তিনি এসব কাজ থেকে সমপূর্ণরূপে সম্পর্কহীন। বরং আল্লাহর কাছে সেই মর্যাদার অধিকারী, যে যত বেশী তাকওয়ার অধিকারী।
আর আল্লাহ দুরূদ ও সালাম পেশ করুন আমাদের নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও তাঁর পরিবার পরিজনের উপর। (আমীন)