১
শাশ্বত জীবন ব্যবস্থা (হক দীন)
লেখকঃ আশ-শাইখ আবদুর রহমান ইবন হাম্মাদ আ-লে উমার • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৮
ইসলামের তৃতীয় স্তম্ভ যাকাত
ইসলামের স্তম্ভসমূহের মধ্যে তৃতীয় স্তম্ভ হলো, মালের যাকাত প্রদান করা। প্রত্যেক মুসলিম যারা নির্ধারিত নিছাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হবেন তাদেরকে আল্লাহ তা‘আলা প্রতি বছর তাদের মাল থেকে যাকাত প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন। অতঃপর কুরআনের বর্ণনা অনুযায়ী ফকীর বা অন্যান্য যাদেরকে যাকাত দেওয়া জায়েয, সে সকল হকদারদের আপনি যাকাত প্রদান করবেন।
স্বর্ণের নির্ধারিত নেছাব হচ্ছে, বিশ মিছক্বাল। [প্রায় ৮৫ গ্রাম] রৌপ্যের নেছাব হচ্ছে, দুইশত দিরহাম [প্রায় ৫৯৫ গ্রাম] অথবা এর সমমানের কাগজের টাকা, ব্যবসার মালপত্র। ব্যবসার বিভিন্ন মালপত্রের মূল্য যখন নেছাব পরিমাণ পৌছাবে তখন এক বছর অতিক্রম করলে এর মালিকের উপর যাকাত ওয়াজেব হবে। শস্য ও ফলের নেছাব তিনশত ছা’ [প্রায় ৬১২ কিলোগ্রাম]। যে জমি বিক্রয়ের জন্য তৈরী করা হয়েছে, তার মূল্য মানের যাকাত দিতে হবে। ভাড়ার জন্য তৈরী সম্পদের ভাড়ার উপরেই যাকাত দিতে হবে। স্বর্ণ রৌপ্য ও ব্যবসায়িক মালের যাকাতের পরিমাণ হচ্ছে প্রতি বৎসর শতকরা ২.৫ (উশরের চারভাগের একভাগ)। নদীর পানি, প্রবাহিত ঝর্ণার পানি বা বৃষ্টির পানির দ্বারা কষ্ট ব্যতীত কোনো শস্যক্ষেত্রে বা ফলের বাগানে পানি সরবরাহ সম্ভব হলে উৎপাদিত শস্য ও ফলের যাকাত হবে শতকরা ১০% দশভাগের একভাগ (উশর)। তবে কূপ থেকে বালতি দ্বারা পানি সেচের মত কষ্টসাধ্য উপায়ে উৎপাদিত শস্য ও ফলের যাকাত দিতে হবে শতকরা ৫% বিশভাগের একভাগ (উশরের অর্ধেক)।
ফসল ও ফলের যাকাত প্রদানের সময় হচ্ছে, তা সংগ্রহের সময়। যদি বৎসরে দুইবার অথবা তিনবার তা সংগ্রহ করা হয় তা হলে প্রতিবারই যাকাত প্রদান করতে হবে। উট, গরু ও ছাগলের যাকাতের পরিমাণ সম্পর্কে ইসলামী হুকুম-আহকামের কিতাবসমূহে বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। তা সেখান থেকে দেখে নেওয়ার অনুরোধ রইল। মহান আল্লাহ বলেন,
﴿ وَمَآ أُمِرُوٓاْ إِلَّا لِيَعۡبُدُواْ ٱللَّهَ مُخۡلِصِينَ لَهُ ٱلدِّينَ حُنَفَآءَ وَيُقِيمُواْ ٱلصَّلَوٰةَ وَيُؤۡتُواْ ٱلزَّكَوٰةَۚ وَذَٰلِكَ دِينُ ٱلۡقَيِّمَةِ ٥ ﴾ [ البينة : ٥ ]
“তারা তো কেবল আদিষ্ট হয়েছিল আল্লাহর আনুগত্যে বিশুদ্ধচিত্ত হয়ে একনিষ্ঠভাবে তার ইবাদাত করতে, ছালাত কায়েম করতে এবং যাকাত প্রদান করতে। বস্তুত এটাই হচ্ছে প্রতিষ্ঠিত দ্বীন।” (সূরা আল বাইয়্যিনাহ-৫)। বস্তুত যাকাত প্রদানের উদ্দেশ্যে হচ্ছে, দরিদ্রদের আত্মপ্রশান্তি, তাদের প্রয়োজন মিটানো এবং তাদের ও ধনীদের মাঝে জোরদার সম্পর্ক সৃষ্টি করা।
ইসলাম সামাজিক দায়িত্ববোধ ও মুসলিমদের মধ্যে আর্থিক সহযোগিতার বিষয়কে শুধুমাত্র যাকাতেই সীমাবদ্ধ রাখেনি বরং আল্লাহ ধনীদের উপর দুর্ভিক্ষের সময় দরিদ্রদের প্রতিপালনকে ওয়াজিব করেছেন। মুসলিম পরিতৃপ্তি লাভ করবেন আর তার প্রতিবেশী অভুক্ত থাকবেন, আল্লাহ এটাকে হারাম করেছেন। ঈদুল ফিতরের দিন যাকাতুল ফিতর (ফিতরা) প্রদানকে মুসলিমের প্রতি ওয়াজিব করা হয়েছে। এটি হচ্ছে প্রতিজনের জন্য এমনকি শিশু ও চাকরের জন্য মালিকের পক্ষ থেকে যা শহরে প্রচলিত খাদ্যদ্রব্যের এক ছা [২০৪০ গ্রাম] পরিমাণ খাদ্যদ্রব্য প্রদান। এমনকি যদি কোনো মুসলিম কিছু করার শপথ করে তা না করেন, তাহলে আল্লাহ সেই মুসলিমের উপরে শপথ ভংগের কাফফারা [শপথ ভংগের কাফ্ফারা হচ্ছে একটি দাস মুক্ত করা অথবা ১০ জন দরিদ্রকে খাওয়ানো অথবা কাপড় পরানো। এগুলো সম্ভব না হলে তিন দিন রোযা রাখতে হবে।] ওয়াজিব করেছেন। আল্লাহ নফল দান খয়রাতের প্রতি মুসলিমকে উদ্ধুদ্ধ করেছেন। তাঁর রাস্তায় ছাওয়াবের উদ্দেশ্যে খরচ করার জন্য উত্তম পুরস্কারের ওয়াদা করেছেন। তাদের ছাওয়াবকে দশগুণ থেকে সাতশত গুণ বা অনেক বেশি করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
স্বর্ণের নির্ধারিত নেছাব হচ্ছে, বিশ মিছক্বাল। [প্রায় ৮৫ গ্রাম] রৌপ্যের নেছাব হচ্ছে, দুইশত দিরহাম [প্রায় ৫৯৫ গ্রাম] অথবা এর সমমানের কাগজের টাকা, ব্যবসার মালপত্র। ব্যবসার বিভিন্ন মালপত্রের মূল্য যখন নেছাব পরিমাণ পৌছাবে তখন এক বছর অতিক্রম করলে এর মালিকের উপর যাকাত ওয়াজেব হবে। শস্য ও ফলের নেছাব তিনশত ছা’ [প্রায় ৬১২ কিলোগ্রাম]। যে জমি বিক্রয়ের জন্য তৈরী করা হয়েছে, তার মূল্য মানের যাকাত দিতে হবে। ভাড়ার জন্য তৈরী সম্পদের ভাড়ার উপরেই যাকাত দিতে হবে। স্বর্ণ রৌপ্য ও ব্যবসায়িক মালের যাকাতের পরিমাণ হচ্ছে প্রতি বৎসর শতকরা ২.৫ (উশরের চারভাগের একভাগ)। নদীর পানি, প্রবাহিত ঝর্ণার পানি বা বৃষ্টির পানির দ্বারা কষ্ট ব্যতীত কোনো শস্যক্ষেত্রে বা ফলের বাগানে পানি সরবরাহ সম্ভব হলে উৎপাদিত শস্য ও ফলের যাকাত হবে শতকরা ১০% দশভাগের একভাগ (উশর)। তবে কূপ থেকে বালতি দ্বারা পানি সেচের মত কষ্টসাধ্য উপায়ে উৎপাদিত শস্য ও ফলের যাকাত দিতে হবে শতকরা ৫% বিশভাগের একভাগ (উশরের অর্ধেক)।
ফসল ও ফলের যাকাত প্রদানের সময় হচ্ছে, তা সংগ্রহের সময়। যদি বৎসরে দুইবার অথবা তিনবার তা সংগ্রহ করা হয় তা হলে প্রতিবারই যাকাত প্রদান করতে হবে। উট, গরু ও ছাগলের যাকাতের পরিমাণ সম্পর্কে ইসলামী হুকুম-আহকামের কিতাবসমূহে বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। তা সেখান থেকে দেখে নেওয়ার অনুরোধ রইল। মহান আল্লাহ বলেন,
﴿ وَمَآ أُمِرُوٓاْ إِلَّا لِيَعۡبُدُواْ ٱللَّهَ مُخۡلِصِينَ لَهُ ٱلدِّينَ حُنَفَآءَ وَيُقِيمُواْ ٱلصَّلَوٰةَ وَيُؤۡتُواْ ٱلزَّكَوٰةَۚ وَذَٰلِكَ دِينُ ٱلۡقَيِّمَةِ ٥ ﴾ [ البينة : ٥ ]
“তারা তো কেবল আদিষ্ট হয়েছিল আল্লাহর আনুগত্যে বিশুদ্ধচিত্ত হয়ে একনিষ্ঠভাবে তার ইবাদাত করতে, ছালাত কায়েম করতে এবং যাকাত প্রদান করতে। বস্তুত এটাই হচ্ছে প্রতিষ্ঠিত দ্বীন।” (সূরা আল বাইয়্যিনাহ-৫)। বস্তুত যাকাত প্রদানের উদ্দেশ্যে হচ্ছে, দরিদ্রদের আত্মপ্রশান্তি, তাদের প্রয়োজন মিটানো এবং তাদের ও ধনীদের মাঝে জোরদার সম্পর্ক সৃষ্টি করা।
ইসলাম সামাজিক দায়িত্ববোধ ও মুসলিমদের মধ্যে আর্থিক সহযোগিতার বিষয়কে শুধুমাত্র যাকাতেই সীমাবদ্ধ রাখেনি বরং আল্লাহ ধনীদের উপর দুর্ভিক্ষের সময় দরিদ্রদের প্রতিপালনকে ওয়াজিব করেছেন। মুসলিম পরিতৃপ্তি লাভ করবেন আর তার প্রতিবেশী অভুক্ত থাকবেন, আল্লাহ এটাকে হারাম করেছেন। ঈদুল ফিতরের দিন যাকাতুল ফিতর (ফিতরা) প্রদানকে মুসলিমের প্রতি ওয়াজিব করা হয়েছে। এটি হচ্ছে প্রতিজনের জন্য এমনকি শিশু ও চাকরের জন্য মালিকের পক্ষ থেকে যা শহরে প্রচলিত খাদ্যদ্রব্যের এক ছা [২০৪০ গ্রাম] পরিমাণ খাদ্যদ্রব্য প্রদান। এমনকি যদি কোনো মুসলিম কিছু করার শপথ করে তা না করেন, তাহলে আল্লাহ সেই মুসলিমের উপরে শপথ ভংগের কাফফারা [শপথ ভংগের কাফ্ফারা হচ্ছে একটি দাস মুক্ত করা অথবা ১০ জন দরিদ্রকে খাওয়ানো অথবা কাপড় পরানো। এগুলো সম্ভব না হলে তিন দিন রোযা রাখতে হবে।] ওয়াজিব করেছেন। আল্লাহ নফল দান খয়রাতের প্রতি মুসলিমকে উদ্ধুদ্ধ করেছেন। তাঁর রাস্তায় ছাওয়াবের উদ্দেশ্যে খরচ করার জন্য উত্তম পুরস্কারের ওয়াদা করেছেন। তাদের ছাওয়াবকে দশগুণ থেকে সাতশত গুণ বা অনেক বেশি করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।