১
শাশ্বত জীবন ব্যবস্থা (হক দীন)
লেখকঃ আশ-শাইখ আবদুর রহমান ইবন হাম্মাদ আ-লে উমার • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১২
নির্দেশ প্রদান ও শরী‘আত (জীবন পদ্ধতি) প্রণয়নের অধিকার একমাত্র আল্লাহর জন্যই সংরক্ষিত।
আর যেখানেই আল্লাহর শরী‘আতের বাস্তবায়ণ হয়েছে সেখানেই রয়েছে ইনসাফ, রহমত ও মর্যাদা
‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ অর্থাৎ আল্লাহ ব্যতীত সত্যিকারের কোনো ইলাহ (উপাস্য) নেই’ এ কালেমার অর্থসমূহের একটি অর্থ রয়েছে, যার উপরে ঈমান আনা ও আমল করা ওয়াজিব। তা হচ্ছে, নির্দেশ দান ও শরী‘আত প্রণয়নের অধিকার একমাত্র আল্লাহর। সুতরাং আল্লাহর আইনের পরিপন্থী কোনো আইন প্রণয়ন করা কোনো মানুষের জন্য জায়েয নেই, তা যে বিষয়েই হোক না কেন। অনুরূপভাবে কোনো মানুষের জন্য জায়েয হবে না আল্লাহর শরী‘আত বিরোধী কোনো বিচার ফায়সালার উপরে সন্তুষ্ট থাকা। তদ্রূপ কারও জন্য এটা জায়েয নেই যে, আল্লাহ কর্তৃক হারামকৃতকে হালাল করা ও হালালকৃতকে হারাম করা। অতঃপর যে ইচ্ছা করে আল্লাহর শরীয়তের বিরোধিতা করে তা করবে অথবা আল্লাহর শরী‘আতের বিরোধিতার উপর সন্তুষ্ট থাকবে সে আল্লাহকে অস্বীকার করল। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿ وَمَن لَّمۡ يَحۡكُم بِمَآ أَنزَلَ ٱللَّهُ فَأُوْلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلۡكَٰفِرُونَ ﴾ [ المائدة : ٤٤ ]
“আর আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন সে অনুযায়ী যারা বিচার ফয়সালা করে না তারা কাফির।” (সূরা মায়িদা-৪৪)
আর আল্লাহ যে সমস্ত কাজ দিয়ে রাসূলগণকে পাঠিয়েছেন তা হচ্ছে: একত্ববাদের কালেমা ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ তথা আল্লাহ ছাড়া কোনো হক্ব ইলাহ নেই এর প্রতি আহ্বান করা এবং এর দাবী অনুযায়ী আমল করা। এর অর্থ হচ্ছে, একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করা এবং সৃষ্টের ইবাদাত ও তাদের শরী‘আত (বিধি-বিধান) এর গণ্ডি থেকে বের হয়ে একক ও অংশীদারহীন স্রষ্টার শরী‘আতের দিকে মানুষদের ফিরে আসার দাওয়াত দেওয়া।
যিনি গবেষণার দৃষ্টি নিয়ে মহাগ্রন্থ কুরআন পড়েছেন ও অন্ধ অনুকরণ থেকে দূরে অবস্থান করেছেন, তিনি পূর্ণভাবে উপলদ্ধি করেছেন যে, যা আমরা বললাম সেটাই সঠিক এবং আরো উপলদ্ধি করেছেন যে, আল্লাহ তাঁর নিজের সাথে মানুষের সম্পর্ক ও মানুষদের সথে অন্যান্য সৃষ্টির সম্পর্ক নির্ধারণ করে দিয়েছেন। সুতরাং তার সাথে তাঁর ঈমানদার বান্দাদের সম্পর্ক এভাবে নির্ধারণ করে দিয়েছেন যে, তারা যাবতীয় ইবাদাতের প্রকার দিয়ে তাঁরই ইবাদাত করবে; অন্য কারও জন্য সেগুলোর কোনো কিছুই নিবেদন করবে না। আর আল্লাহর নবীদের ও আল্লাহর সৎ বান্দাদের সাথে তাদের সম্পর্ক নির্ধারণ করেছেন এ ভাবে যে, তারা তাদেরকে ভালোবাসবে, তবে সে ভালোবাসা হবে আল্লাহর ভালোবাসার অনুগামী। আর মানুষদের তাদেরকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করে তাদের অনুসরণ করবে। পক্ষান্তরে ঈমানদারদের সাথে আল্লাহর দুশমন কাফিরদের সম্পর্ক হবে শত্রুতার সম্পর্ক। কেননা আল্লাহ তাদেরকে ঘৃণা করেন। আর তাদের সাথে সম্পর্কের অন্য রূপটি হচ্ছে, তাদেরকে ইসলামের দিকে আহ্বান জানানো। তাদের সম্মুখে ইসলামকে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা, হতে পারে তারা হিদায়াত প্রাপ্ত হবে। যদি তারা ইসলাম প্রত্যাখ্যান করে এবং আল্লাহর বিচার ফায়সালা মানতে রাজি না হয়, তাহলে ফিতনা অনুষ্ঠিত না হয়ে সকল দ্বীন আল্লাহর জন্যই নির্ধারিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে মুসলিমদের জিহাদ করা। এটাই হচ্ছে কালিমাতুত তাওহীদ; (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) এর অন্যতম অর্থ। প্রত্যেক মুসলিমের উপর সঠিক মুসলিম হওয়ার জন্য এটাকে জানা ও সে অনুযায়ী আমল করা ওয়াজিব।
‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ অর্থাৎ আল্লাহ ব্যতীত সত্যিকারের কোনো ইলাহ (উপাস্য) নেই’ এ কালেমার অর্থসমূহের একটি অর্থ রয়েছে, যার উপরে ঈমান আনা ও আমল করা ওয়াজিব। তা হচ্ছে, নির্দেশ দান ও শরী‘আত প্রণয়নের অধিকার একমাত্র আল্লাহর। সুতরাং আল্লাহর আইনের পরিপন্থী কোনো আইন প্রণয়ন করা কোনো মানুষের জন্য জায়েয নেই, তা যে বিষয়েই হোক না কেন। অনুরূপভাবে কোনো মানুষের জন্য জায়েয হবে না আল্লাহর শরী‘আত বিরোধী কোনো বিচার ফায়সালার উপরে সন্তুষ্ট থাকা। তদ্রূপ কারও জন্য এটা জায়েয নেই যে, আল্লাহ কর্তৃক হারামকৃতকে হালাল করা ও হালালকৃতকে হারাম করা। অতঃপর যে ইচ্ছা করে আল্লাহর শরীয়তের বিরোধিতা করে তা করবে অথবা আল্লাহর শরী‘আতের বিরোধিতার উপর সন্তুষ্ট থাকবে সে আল্লাহকে অস্বীকার করল। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿ وَمَن لَّمۡ يَحۡكُم بِمَآ أَنزَلَ ٱللَّهُ فَأُوْلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلۡكَٰفِرُونَ ﴾ [ المائدة : ٤٤ ]
“আর আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন সে অনুযায়ী যারা বিচার ফয়সালা করে না তারা কাফির।” (সূরা মায়িদা-৪৪)
আর আল্লাহ যে সমস্ত কাজ দিয়ে রাসূলগণকে পাঠিয়েছেন তা হচ্ছে: একত্ববাদের কালেমা ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ তথা আল্লাহ ছাড়া কোনো হক্ব ইলাহ নেই এর প্রতি আহ্বান করা এবং এর দাবী অনুযায়ী আমল করা। এর অর্থ হচ্ছে, একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করা এবং সৃষ্টের ইবাদাত ও তাদের শরী‘আত (বিধি-বিধান) এর গণ্ডি থেকে বের হয়ে একক ও অংশীদারহীন স্রষ্টার শরী‘আতের দিকে মানুষদের ফিরে আসার দাওয়াত দেওয়া।
যিনি গবেষণার দৃষ্টি নিয়ে মহাগ্রন্থ কুরআন পড়েছেন ও অন্ধ অনুকরণ থেকে দূরে অবস্থান করেছেন, তিনি পূর্ণভাবে উপলদ্ধি করেছেন যে, যা আমরা বললাম সেটাই সঠিক এবং আরো উপলদ্ধি করেছেন যে, আল্লাহ তাঁর নিজের সাথে মানুষের সম্পর্ক ও মানুষদের সথে অন্যান্য সৃষ্টির সম্পর্ক নির্ধারণ করে দিয়েছেন। সুতরাং তার সাথে তাঁর ঈমানদার বান্দাদের সম্পর্ক এভাবে নির্ধারণ করে দিয়েছেন যে, তারা যাবতীয় ইবাদাতের প্রকার দিয়ে তাঁরই ইবাদাত করবে; অন্য কারও জন্য সেগুলোর কোনো কিছুই নিবেদন করবে না। আর আল্লাহর নবীদের ও আল্লাহর সৎ বান্দাদের সাথে তাদের সম্পর্ক নির্ধারণ করেছেন এ ভাবে যে, তারা তাদেরকে ভালোবাসবে, তবে সে ভালোবাসা হবে আল্লাহর ভালোবাসার অনুগামী। আর মানুষদের তাদেরকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করে তাদের অনুসরণ করবে। পক্ষান্তরে ঈমানদারদের সাথে আল্লাহর দুশমন কাফিরদের সম্পর্ক হবে শত্রুতার সম্পর্ক। কেননা আল্লাহ তাদেরকে ঘৃণা করেন। আর তাদের সাথে সম্পর্কের অন্য রূপটি হচ্ছে, তাদেরকে ইসলামের দিকে আহ্বান জানানো। তাদের সম্মুখে ইসলামকে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা, হতে পারে তারা হিদায়াত প্রাপ্ত হবে। যদি তারা ইসলাম প্রত্যাখ্যান করে এবং আল্লাহর বিচার ফায়সালা মানতে রাজি না হয়, তাহলে ফিতনা অনুষ্ঠিত না হয়ে সকল দ্বীন আল্লাহর জন্যই নির্ধারিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে মুসলিমদের জিহাদ করা। এটাই হচ্ছে কালিমাতুত তাওহীদ; (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) এর অন্যতম অর্থ। প্রত্যেক মুসলিমের উপর সঠিক মুসলিম হওয়ার জন্য এটাকে জানা ও সে অনুযায়ী আমল করা ওয়াজিব।