১
শাশ্বত জীবন ব্যবস্থা (হক দীন)
লেখকঃ আশ-শাইখ আবদুর রহমান ইবন হাম্মাদ আ-লে উমার • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৮
ইসলামের সংজ্ঞা
সর্বশেষ রাসূল ও সমগ্র মানুষের প্রতি আল্লাহর প্রেরিত পুরুষ মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন,
" الإسلام أن تشهد أن لا إله إلا الله، وأن محمدًا رسول الله، وتُقيم الصلاة، وتُؤتي الزكاة، وتصوم رمضان، وتحجّ البيت إن استطعت إليه سبيلاً ". متفق عليه .
“ইসলাম হচ্ছে- তুমি সাক্ষ্য দিবে যে, নিশ্চয় আল্লাহ ছাড়া সত্যিকারের কোনো ইলাহ নেই এবং নিশ্চয় মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর রাসূল। ছালাত প্রতিষ্ঠা করবে, যাকাত প্রদান করবে, রমযানের ছিয়াম আদায় করবে, সামর্থ্যবান হলে কাবার হজ্জ আদায় করবে”। (বুখারী ও মুসলিম)
ইসলাম ঐ আন্তর্জাতিক দীন, যাকে গ্রহণের জন্য সমগ্র মানুষদেরকে আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহর সকল রাসূলগণ এ দীনের উপরে ঈমান এনেছেন। আল্লাহর উদ্দেশ্যেই তাঁরা এ দীন গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন। আল্লাহও ঘোষণা দিয়েছেন যে, এটিই সত্য দীন এবং এ দীন ব্যতীত অন্য কোনো দীনকে তিনি কারো থেকে গ্রহণ করবেন না। তিনি বলেন,
﴿ إِنَّ ٱلدِّينَ عِندَ ٱللَّهِ ٱلۡإِسۡلَٰمُۗ ﴾ [ ال عمران : ١٩ ]
“আল্লাহর নিকট মনোনীত দীনই হচ্ছে ইসলাম” (আলী ইমরান-১৯)
আল্লাহ আরও বলেন,
﴿ وَمَن يَبۡتَغِ غَيۡرَ ٱلۡإِسۡلَٰمِ دِينٗا فَلَن يُقۡبَلَ مِنۡهُ وَهُوَ فِي ٱلۡأٓخِرَةِ مِنَ ٱلۡخَٰسِرِينَ ٨٥ ﴾ [ ال عمران : ٨٥ ]
“যে ইসলাম ব্যতীত অন্য দ্বীনকে অনুসন্ধান করে, তার থেকে তা গ্রহণ করা হবে না এবং সে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।” (আল ইমরান-৮৫)
আয়াত দু’টির মর্মার্থ,
আল্লাহ জানাচ্ছেন যে, ইসলামই হচ্ছে তাঁর নিকট একমাত্র জীবন ব্যবস্থা। দ্বিতীয় আয়াতে বলেছেন, ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো দ্বীন তিনি কবুল করবেন না এবং শুধু মুসলিমরাই মৃত্যুর পরে সৌভাগ্যবান হবেন। যারা ইসলাম ছাড়া অন্য দ্বীনের উপরে মৃত্যুবরণ করবে, তারা আখেরাতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে ও জাহান্নামে তাদেরকে শাস্তি দেওয়া হবে।
এজন্য সকল নবী আল্লাহর উদ্দেশ্যে নিজেদের ইসলামের ঘোষণা দিয়েছেন। আর যারা ইসলাম গ্রহণ করবে না, তাদের থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করারও ঘোষণা দিয়েছেন। সুতরাং ইয়াহূদী ও খৃষ্টানদের মধ্যে যারা পরিত্রাণ পেতে ও সৌভাগ্যবান হতে চায়, তাদের ইসলামকেই গ্রহণ করা উচিৎ এবং রাসূল মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর অনুসারী হওয়া উচিৎ; যাতে তারা সত্যিকার অর্থে মূসা, ঈসা (আ)-এর অনুসারী বলে গণ্য হয়। কেননা, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও ঈসা (আ) সকলেই আল্লাহর রাসূল, সকলেই মুসলিম। সকলেই ইসলামের দিকে মানুষদের ডেকেছেন। কেননা, এটিই আল্লাহর দীন, যা সহকারে তিনি তাদের সকলকেই পাঠিয়েছেন। কারো জন্য এটা সঠিক নয় যে, সে সর্বশেষ রাসূল প্রেরণের পরে দুনিয়ায় শেষ পর্যন্ত তার উপর ঈমান আনা ব্যতীত সে নিজেকে আল্লাহর উদ্দেশ্যে মুসলিম হওয়ার দাবী করবে। কেননা, এ দাবী তখনই গ্রহণ করা হবে যখন সে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আল্লাহর পক্ষ হতে পাঠানো রাসূল বলে ঈমান আনবে, তাঁর অনুসরণ করবে এবং তার উপরে অবতীর্ণ কুরআনের বিধান অনুযায়ী আমল করবে। আল্লাহ তা‘আলা তাঁর মহাগ্রন্থ আল-কুরআনে বলেছেন,
﴿ قُلۡ إِن كُنتُمۡ تُحِبُّونَ ٱللَّهَ فَٱتَّبِعُونِي يُحۡبِبۡكُمُ ٱللَّهُ وَيَغۡفِرۡ لَكُمۡ ذُنُوبَكُمۡۚ وَٱللَّهُ غَفُورٞ رَّحِيمٞ ٣١ ﴾ [ ال عمران : ٣١ ]
“বলে দাও, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালবেসে থাক, তাহলে আমাকে অনুসরণ কর। (তাহলে) আল্লাহ তোমাদেরকে ভালবাসবেন, তোমাদের পাপকে ক্ষমা করবেন। আল্লাহই ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” (আলে ইমরান -৩১)
আয়াতের সারমর্ম:
যে আল্লাহকে ভালবাসার দাবী করে, তাকে আল্লাহ আল্লাহ তাঁর রাসূল মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে এ বলতে নির্দেশ দিয়েছেন যে, সত্যিকারে যদি তোমরা আল্লাহকে ভালবাস, তাহলে আমাকে অনুসরণ কর। তাহলে আল্লাহ তোমাদেরকে ভালবাসবেন। কেননা, যতক্ষণ না তোমরা আল্লাহর রাসূল মাহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর উপরে ঈমান আনবে ও তাকে অনুসরণ করবে, ততক্ষণ আল্লাহ তোমাদেরকে ভালবাসবেন না, তোমদের গুনাহ মাফ করবেন না। রাসূল মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর মাধ্যমে নিখিল মানুষের কাছে যে ইসলাম পাঠানো হয়েছে, তা পরিপূর্ণ ও পূর্ণাঙ্গ। এটাই ক্ষমা সুন্দর ইসলাম, যাকে আল্লাহ পূর্ণতা দিয়েছেন। তিনি তাঁর বান্দাদের জন্য এটাকে দীন হিসাবে মনোনীত করেছেন। তাদের থেকে তিনি সেই দ্বীন ছাড়া অন্য দীন গ্রহণ করবেন না। তিনি এ সম্পর্কে সকল নবী ও ইসলামের প্রতি যারা ঈমান এনেছেন তাদেরকে সুসংবাদ দিয়েছেন। আল্লাহ বলেন,
﴿ٱلۡيَوۡمَ أَكۡمَلۡتُ لَكُمۡ دِينَكُمۡ وَأَتۡمَمۡتُ عَلَيۡكُمۡ نِعۡمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ ٱلۡإِسۡلَٰمَ دِينٗاۚ﴾ [ المائدة : ٣ ]
“আমি আজ তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পরিপূর্ণ করলাম। আমি আমার নিয়ামতকে তোমাদের উপরে সম্পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের জন্য ইসলামকে দ্বীন হিসাবে মনোনীত করলাম।” (মায়িদাহ-৩)
আয়াতের সারমর্ম,
রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুসলিমদের সাথে বিদায় হজ্জের সময় মক্কার আরাফাতে অবস্থান করছিলেন। আল্লাহকে মনে মনে ও উচ্চস্বরে ডাকছিলেন। তখন আল্লাহ তার শেষনবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর উপরে এ আয়াত অবতীর্ণ করেন। এটি ছিল রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর শেষ জীবনে, যখন তাকে তিনি সাহায্য করেছেন, ইসলাম বিস্তার লাভ করেছে, কুরআন অবতীর্ণ হওয়া পূর্ণতা লাভ করেছে।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতা‘আলা জানাচ্ছেন যে, তিনি নিশ্চয় মুসলিমদের জন্য তাদের দীনকে পরিপূর্ণ করেছেন। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -কে পাঠানো ও তাঁর উপরে মহাগ্রন্থ আল-কুরআন অবতীর্ণের মাধ্যমে তাঁর নিয়ামতকে সম্পূর্ণ করেছেন। তিনি আরও জানিয়েছেন যে তিনি তাদের জন্য ইসলামকে দীন হিসেবে প্রদানা করে সন্তুষ্ট হয়েছেন। এর উপর তিনি কখনো অসন্তুষ্ট হবেন না। কখনও তিনি এ দীন ব্যতীত অন্য কোনো কিছু কারও কাছ থেকে গ্রহণ করবেন না।
মহান আল্লাহ আরো জানাচ্ছেন যে, নিশ্চয় তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর মাধ্যমে সমগ্র মানুষের জন্য প্রেরিত ইসলাম হচ্ছে পরিপূর্ণ ও পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। যা সকল যুগে, সকল স্থানে, সকল উম্মতদের জন্য উপযোগী। এটি বিজ্ঞান ভিত্তিক, সহজ সরল, ন্যায়সংগত, মংগলময় জীবন ব্যবস্থা। জীবনের সকল ক্ষেত্রে এর পদ্ধতি অতি স্পষ্ট, পরিচ্ছন্ন, পরিপূর্ণ ও সরল সোজা। তাতে দীনী ব্যবস্থা যেমন রয়েছে তেমনি তাতে রয়েছে রাষ্ট্রব্যবস্থা। তাতে ধর্মনীতি ও রাষ্ট্রনীতি, বিচারনীতি, রাজনীতি, সমরনীতি, অর্থনীতি ও মানুষেরা তাদের পার্থিব জীবনে যা কিছুর প্রয়োজন অনুভব করে এর মধ্যে এসবের সঠিক পদ্ধতি নিহিত রয়েছে। এর মধ্যেই মানুষের মৃত্যুর পরের পারলৌকিক জীবনের মঙ্গল বিদ্যমান রয়েছে।
" الإسلام أن تشهد أن لا إله إلا الله، وأن محمدًا رسول الله، وتُقيم الصلاة، وتُؤتي الزكاة، وتصوم رمضان، وتحجّ البيت إن استطعت إليه سبيلاً ". متفق عليه .
“ইসলাম হচ্ছে- তুমি সাক্ষ্য দিবে যে, নিশ্চয় আল্লাহ ছাড়া সত্যিকারের কোনো ইলাহ নেই এবং নিশ্চয় মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর রাসূল। ছালাত প্রতিষ্ঠা করবে, যাকাত প্রদান করবে, রমযানের ছিয়াম আদায় করবে, সামর্থ্যবান হলে কাবার হজ্জ আদায় করবে”। (বুখারী ও মুসলিম)
ইসলাম ঐ আন্তর্জাতিক দীন, যাকে গ্রহণের জন্য সমগ্র মানুষদেরকে আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহর সকল রাসূলগণ এ দীনের উপরে ঈমান এনেছেন। আল্লাহর উদ্দেশ্যেই তাঁরা এ দীন গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন। আল্লাহও ঘোষণা দিয়েছেন যে, এটিই সত্য দীন এবং এ দীন ব্যতীত অন্য কোনো দীনকে তিনি কারো থেকে গ্রহণ করবেন না। তিনি বলেন,
﴿ إِنَّ ٱلدِّينَ عِندَ ٱللَّهِ ٱلۡإِسۡلَٰمُۗ ﴾ [ ال عمران : ١٩ ]
“আল্লাহর নিকট মনোনীত দীনই হচ্ছে ইসলাম” (আলী ইমরান-১৯)
আল্লাহ আরও বলেন,
﴿ وَمَن يَبۡتَغِ غَيۡرَ ٱلۡإِسۡلَٰمِ دِينٗا فَلَن يُقۡبَلَ مِنۡهُ وَهُوَ فِي ٱلۡأٓخِرَةِ مِنَ ٱلۡخَٰسِرِينَ ٨٥ ﴾ [ ال عمران : ٨٥ ]
“যে ইসলাম ব্যতীত অন্য দ্বীনকে অনুসন্ধান করে, তার থেকে তা গ্রহণ করা হবে না এবং সে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।” (আল ইমরান-৮৫)
আয়াত দু’টির মর্মার্থ,
আল্লাহ জানাচ্ছেন যে, ইসলামই হচ্ছে তাঁর নিকট একমাত্র জীবন ব্যবস্থা। দ্বিতীয় আয়াতে বলেছেন, ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো দ্বীন তিনি কবুল করবেন না এবং শুধু মুসলিমরাই মৃত্যুর পরে সৌভাগ্যবান হবেন। যারা ইসলাম ছাড়া অন্য দ্বীনের উপরে মৃত্যুবরণ করবে, তারা আখেরাতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে ও জাহান্নামে তাদেরকে শাস্তি দেওয়া হবে।
এজন্য সকল নবী আল্লাহর উদ্দেশ্যে নিজেদের ইসলামের ঘোষণা দিয়েছেন। আর যারা ইসলাম গ্রহণ করবে না, তাদের থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করারও ঘোষণা দিয়েছেন। সুতরাং ইয়াহূদী ও খৃষ্টানদের মধ্যে যারা পরিত্রাণ পেতে ও সৌভাগ্যবান হতে চায়, তাদের ইসলামকেই গ্রহণ করা উচিৎ এবং রাসূল মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর অনুসারী হওয়া উচিৎ; যাতে তারা সত্যিকার অর্থে মূসা, ঈসা (আ)-এর অনুসারী বলে গণ্য হয়। কেননা, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও ঈসা (আ) সকলেই আল্লাহর রাসূল, সকলেই মুসলিম। সকলেই ইসলামের দিকে মানুষদের ডেকেছেন। কেননা, এটিই আল্লাহর দীন, যা সহকারে তিনি তাদের সকলকেই পাঠিয়েছেন। কারো জন্য এটা সঠিক নয় যে, সে সর্বশেষ রাসূল প্রেরণের পরে দুনিয়ায় শেষ পর্যন্ত তার উপর ঈমান আনা ব্যতীত সে নিজেকে আল্লাহর উদ্দেশ্যে মুসলিম হওয়ার দাবী করবে। কেননা, এ দাবী তখনই গ্রহণ করা হবে যখন সে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আল্লাহর পক্ষ হতে পাঠানো রাসূল বলে ঈমান আনবে, তাঁর অনুসরণ করবে এবং তার উপরে অবতীর্ণ কুরআনের বিধান অনুযায়ী আমল করবে। আল্লাহ তা‘আলা তাঁর মহাগ্রন্থ আল-কুরআনে বলেছেন,
﴿ قُلۡ إِن كُنتُمۡ تُحِبُّونَ ٱللَّهَ فَٱتَّبِعُونِي يُحۡبِبۡكُمُ ٱللَّهُ وَيَغۡفِرۡ لَكُمۡ ذُنُوبَكُمۡۚ وَٱللَّهُ غَفُورٞ رَّحِيمٞ ٣١ ﴾ [ ال عمران : ٣١ ]
“বলে দাও, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালবেসে থাক, তাহলে আমাকে অনুসরণ কর। (তাহলে) আল্লাহ তোমাদেরকে ভালবাসবেন, তোমাদের পাপকে ক্ষমা করবেন। আল্লাহই ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” (আলে ইমরান -৩১)
আয়াতের সারমর্ম:
যে আল্লাহকে ভালবাসার দাবী করে, তাকে আল্লাহ আল্লাহ তাঁর রাসূল মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে এ বলতে নির্দেশ দিয়েছেন যে, সত্যিকারে যদি তোমরা আল্লাহকে ভালবাস, তাহলে আমাকে অনুসরণ কর। তাহলে আল্লাহ তোমাদেরকে ভালবাসবেন। কেননা, যতক্ষণ না তোমরা আল্লাহর রাসূল মাহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর উপরে ঈমান আনবে ও তাকে অনুসরণ করবে, ততক্ষণ আল্লাহ তোমাদেরকে ভালবাসবেন না, তোমদের গুনাহ মাফ করবেন না। রাসূল মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর মাধ্যমে নিখিল মানুষের কাছে যে ইসলাম পাঠানো হয়েছে, তা পরিপূর্ণ ও পূর্ণাঙ্গ। এটাই ক্ষমা সুন্দর ইসলাম, যাকে আল্লাহ পূর্ণতা দিয়েছেন। তিনি তাঁর বান্দাদের জন্য এটাকে দীন হিসাবে মনোনীত করেছেন। তাদের থেকে তিনি সেই দ্বীন ছাড়া অন্য দীন গ্রহণ করবেন না। তিনি এ সম্পর্কে সকল নবী ও ইসলামের প্রতি যারা ঈমান এনেছেন তাদেরকে সুসংবাদ দিয়েছেন। আল্লাহ বলেন,
﴿ٱلۡيَوۡمَ أَكۡمَلۡتُ لَكُمۡ دِينَكُمۡ وَأَتۡمَمۡتُ عَلَيۡكُمۡ نِعۡمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ ٱلۡإِسۡلَٰمَ دِينٗاۚ﴾ [ المائدة : ٣ ]
“আমি আজ তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পরিপূর্ণ করলাম। আমি আমার নিয়ামতকে তোমাদের উপরে সম্পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের জন্য ইসলামকে দ্বীন হিসাবে মনোনীত করলাম।” (মায়িদাহ-৩)
আয়াতের সারমর্ম,
রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুসলিমদের সাথে বিদায় হজ্জের সময় মক্কার আরাফাতে অবস্থান করছিলেন। আল্লাহকে মনে মনে ও উচ্চস্বরে ডাকছিলেন। তখন আল্লাহ তার শেষনবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর উপরে এ আয়াত অবতীর্ণ করেন। এটি ছিল রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর শেষ জীবনে, যখন তাকে তিনি সাহায্য করেছেন, ইসলাম বিস্তার লাভ করেছে, কুরআন অবতীর্ণ হওয়া পূর্ণতা লাভ করেছে।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতা‘আলা জানাচ্ছেন যে, তিনি নিশ্চয় মুসলিমদের জন্য তাদের দীনকে পরিপূর্ণ করেছেন। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -কে পাঠানো ও তাঁর উপরে মহাগ্রন্থ আল-কুরআন অবতীর্ণের মাধ্যমে তাঁর নিয়ামতকে সম্পূর্ণ করেছেন। তিনি আরও জানিয়েছেন যে তিনি তাদের জন্য ইসলামকে দীন হিসেবে প্রদানা করে সন্তুষ্ট হয়েছেন। এর উপর তিনি কখনো অসন্তুষ্ট হবেন না। কখনও তিনি এ দীন ব্যতীত অন্য কোনো কিছু কারও কাছ থেকে গ্রহণ করবেন না।
মহান আল্লাহ আরো জানাচ্ছেন যে, নিশ্চয় তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর মাধ্যমে সমগ্র মানুষের জন্য প্রেরিত ইসলাম হচ্ছে পরিপূর্ণ ও পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। যা সকল যুগে, সকল স্থানে, সকল উম্মতদের জন্য উপযোগী। এটি বিজ্ঞান ভিত্তিক, সহজ সরল, ন্যায়সংগত, মংগলময় জীবন ব্যবস্থা। জীবনের সকল ক্ষেত্রে এর পদ্ধতি অতি স্পষ্ট, পরিচ্ছন্ন, পরিপূর্ণ ও সরল সোজা। তাতে দীনী ব্যবস্থা যেমন রয়েছে তেমনি তাতে রয়েছে রাষ্ট্রব্যবস্থা। তাতে ধর্মনীতি ও রাষ্ট্রনীতি, বিচারনীতি, রাজনীতি, সমরনীতি, অর্থনীতি ও মানুষেরা তাদের পার্থিব জীবনে যা কিছুর প্রয়োজন অনুভব করে এর মধ্যে এসবের সঠিক পদ্ধতি নিহিত রয়েছে। এর মধ্যেই মানুষের মৃত্যুর পরের পারলৌকিক জীবনের মঙ্গল বিদ্যমান রয়েছে।