hadith book logo

ইসলামে মানবাধিকার

লেখকঃ আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৬

ক. স্বাধীনতা (Freedom):

তারা যে স্বাধীনতা (Freedom) বলে হাঁকডাক দিয়ে বেড়াচ্ছে প্রকৃত পক্ষে তাদের নিজেদের দেশেও সে স্বাধীনতা নেই। কারণ, শর্তহীন স্বাধীনতার মানে হল, মানুষ যা খুশি তাই করবে। কারও নিকট তাকে জবাবদিহী করতে হবে না।

বরং এ স্বাধীনতা পৃথিবীর কোথাও নেই। যেখানে স্বাধীনতা আছে সেখানে স্বাধীনতার একটি সীমা রয়েছে। সেই সীমা পর্যন্ত যওয়ার পর বলা হবে-নিষিদ্ধ, তুমি এখানে স্বাধীন নও।

এ থেকে আপনি বুঝতে পারছেন যে, দুনিয়ার বুকে পূর্ণ স্বাধীনতা কোথাও নেই। যা আছে তা আংশিক। সম্পদ, রাজনীতি, বিচার, ব্যক্তিগত আচরণ, রক্ত, সন্তান-সন্তুদি ইত্যাদি সব ক্ষেত্রে শর্তহীন স্বাধীনতা পৃথিবীর কোথাও নেই। বরং একেক দেশে একেক ভাবে স্বাধীনতা দেয়া আছে। কোথাও কম কোথাও বেশী।

তারা যে ‘মানবাধিকার’ এর দাবী করছে তার একটি অংশ এই ‘‘‘স্বাধীনতা কথাটি। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এটি তাদের নিকটও নেই। কেননা, এর সাথে তারা নিজেদের মনগড়া বিভিন্ন শর্ত জুড়ে দিয়েছে। সুতরাং এই সব শর্ত যুক্ত করায় স্বাধীনতা কথাটি মানুষের নিকট গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে।

মানুষকে তার ইচ্ছা অনুযায়ী স্বাধীনতা দাও তাহলে স্বাধীনতা গ্রহণযোগ্য হবে এবং প্রকৃত স্বাধীনতার পক্ষে তোমার আহবান যথার্থ হবে। কিন্তু যদি প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য আইন-কানুনের বেড়াজালে আবদ্ধ করে মানুষের অর্থ-সম্পদ লোপাট করা হয় এবং মানুষের ক্ষমতাকে খর্ব করা হয় তখন তা প্রকৃত স্বাধীনতা হিসেবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

তাহলে মানবাধিকারের অন্তর্গত যে স্বাধীনতার দিকে আহবান জানানো হচ্ছে তা আমাদেরকে অবশ্যই এ দৃষ্টিতে দেখতে হবে যে, শর্তহীন স্বাধীনতা বলতে কিছু নেই বরং তা হতে হবে অবশ্যই শর্তসাপেক্ষ। অর্থাৎ মানুষ চলাফেরা ও আচার-আচরণের পৃথিবীর সর্বত্র পূর্ণ স্বাধীন নয়। বরং তার স্বাধীনতার একটি সীমানা বেঁধে দেয়া হয়েছে যেগুলো তারা বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে থাকে। আর এ জন্যই তারা প্রোটকল (Protocols) এবং ইটিকেট (Etiquette-শিষ্টাচার/আদব-কায়দা) নামক বিষয়গুলোর পাশাপাশি বিভিন্ন নামের কিছু নিয়ম-নীতি সামনে নিয়ে এসেছে। কেউ এসব নিয়ম-নীতি না মানলে তাকে সরকারী অনুষ্ঠানে প্রবেশে বাধা দেয় হয়। বাধা দেয়া হয় যে কোন স্থানে মানুষকে তার নিজস্ব পোশাকে আসতে, যে কোন অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করতে বা কথা বলতে।

তাহলে সব জায়গায় কিছু না কিছু স্বাধীনতা অনুপস্থিত আছে। এর কারণ, তারা মনে করে, মানুষকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেয়া ঠিক নয়-কোথাও শালীনতার পরিপন্থী হওয়ার কারণে, কোথাও সম্পর্কের পরিপন্থী হওয়ার কারণে, কখনো অন্য অধিকারের পরিপন্থী হওয়ার করণে...।

সুতরাং মূলকথা হল, ‘মানবাধিকার’ এর অন্তর্গত এই ‘স্বাধীনতা’ (Freedom) শর্তহীন নয় অর্থাৎ মানুষ পরিপূর্ণ স্বাধীন কখনও হতে পারে না।