১
ইসলামে মানবাধিকার
লেখকঃ আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২১
সংকীর্ণ জাতীয়তাবদ নয় বরং উদার ভ্রাতৃত্ব: উজ্জলতম কয়েকটি উদাহরণ:
ইসলাম আসার পরে মানুষে মানুষে ব্যবধান ভেঙ্গে দিয়ে ভাতৃত্ব বন্ধনের নির্দেশ দেয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদীনায় মুহাজির ও আনসারদের মাঝে ভাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। দাস এবং স্বাধীন ব্যক্তির মাঝে ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি পারস্য দেশে থেকে আসা সালমান ফারেসী রা. কে আহলে বায়ত বা নবী পরিবারের সদস্য হিসেবে ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিনি বলেছেন,
سَلْمَانُ مِنَّا أَهْلَ الْبَيْتِ
“সালমান আমাদের পরিবারের সদস্য।” [তবারানী ফিল কাবীর, ৬/২১২, হাকিম ৩/৬৯১, মুসান্নাফ ইবনে শায়বা ১২/১৪৮, ইবনে সাদ ৬/৩৪৬, ৪/৮৫, আবু নাঈম ফিল হিলয়াহ।] (এ হাদীসটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পর্যন্ত মারফু সূত্রে বর্ণিত হয়েছে কিন্তু তা সঠিক নয়। বরং সঠিক কথা হল, এটি আলী রা. পর্যন্ত মাওফুফ সূত্রে বর্ণিত।)
এই সমতা এবং ভেদাভেদ হীনতা এই জন্যই যে, ইসলাম মানুষকে মানুষ হিসেবে অধিকার প্রদানের প্রতিযোগিতায় বহু অগ্রগামী। আল্লাহর সামনে অধিকারের ক্ষেত্রে সকল মানুষ সমান। অনুরূপভাবে মানুষও পরস্পরের প্রতি অধিকার দেয়া ও নেয়ার ক্ষেত্রে সমান।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যায়েদ বিন হারিসা রা. কে এক বিরাট সংখ্যক মুসলিম সেনা বাহিনীর নেতৃত্ব প্রদান করেছেন যদিও তিনি ছিলেন একজন মুক্তিপ্রাপ্ত দাস। তারপরে তার ছেলে উসামা বিন যায়েদকে তিনি সেনাপ্রধান বানিয়েছেন। তারপরে আবু বকর রা. খলীফা হওয়া পর মুসলিম সেনা বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে তাকেই বহাল রেখেছেন।
মুসলিমগণ বিভিন্ন দেশ বিজয় করার পর যখন ইসলাম চর্তুদিকে ছড়িয়ে পড়ল তখন অনারবদের মধ্যে থেকে বড় বড় আলেম, মসজিদের ইমাম এবং জ্ঞানের জগতে এমন বড় বড় ব্যক্তিত্বের আবির্ভাব হল যাদের নিকট মানুষ জ্ঞানের অমীয় সুধা আহরণ করত।
বরং ইতিহাস বলে, অনেক অনারব মুসলিম ইলম, ফতোয়া ও অন্যান্য ক্ষেত্রে মুসলিম বিশ্বের নেতৃত্ব প্রদান করেছে। নেতৃত্ব দিয়েছে আরও বিভিন্ন ক্ষেত্রে। যেমন, ইলমী জগতের এক দিকপাল আবু হানীফা রা.। তিনি আরবীয় ছিলেন না। ইমাম বুখারী। তিনিও ছিলেন অনারব। তাঁর রচিত সহীহ বুখারী কত বড় অনুসরণীয় গ্রন্থ!! এমন কোন মুসলিম নাই যিনি ইমাম বুখারীকে চিনে না। ইমাম আবু হানীফা এবং ইমাম বুখারী ছাড়াও অনেক বড় বড় ইমাম অনারব থেকে বেরিয়ে এসেছে।
সুতরাং মানুষই যখনই ইসলামকে বাস্তবায়ন করেছেন ইসলাম মানুষের মধ্য থেকে ভেদাভেদ তুলে দিয়েছে। যার ফলে অনারবরা আরবদের ইমাম এবং নেতায় পরিণত হয়েছে। এভাবে অনারবদের অগ্রগামী হওয়ার কারণ কি? কারণ হল, তারা দ্বীনের দায়িত্ব বহন করেছেন, তাওহীদের ঝাণ্ডা উত্তোলন করেছেন। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'র ঝাণ্ডা উত্তোলন করেছেন। ইসলাম মুসলিমদেরকে শিক্ষা দিয়েছে যে, তাকওয়া ছাড়া আরব-অনারবের মাঝে কোন ব্যবধান নেই।
মুসলিমগণ যতদিন ইসলামের শিষ্টাচার মেনে চলেছেন তত দিন তাদের মাঝে কোন শ্রেণী বৈষম্য বা ভেদাভেদ ছিল না।
সুতরাং ইসলামই সর্ব প্রথম শ্রেণী বৈষম্য রহিত করে সমতা প্রতিষ্ঠা করেছে এবং বিশ্ববাসীকে তা বাস্তবায়নের পথ দেখিয়েছে। ইসলামের ইতিহাস এসব ঘটনায় সমৃদ্ধ। সুতরাং সাম্যের এ মহান মূলনীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ইসলামই অগ্রদূত। ইতিহাস তারই স্বাক্ষ্য দেয়।
মোটকথা, ইসলামী শরীয়তই সাম্যের অধিকার যর্থাথ ও পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়নের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
سَلْمَانُ مِنَّا أَهْلَ الْبَيْتِ
“সালমান আমাদের পরিবারের সদস্য।” [তবারানী ফিল কাবীর, ৬/২১২, হাকিম ৩/৬৯১, মুসান্নাফ ইবনে শায়বা ১২/১৪৮, ইবনে সাদ ৬/৩৪৬, ৪/৮৫, আবু নাঈম ফিল হিলয়াহ।] (এ হাদীসটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পর্যন্ত মারফু সূত্রে বর্ণিত হয়েছে কিন্তু তা সঠিক নয়। বরং সঠিক কথা হল, এটি আলী রা. পর্যন্ত মাওফুফ সূত্রে বর্ণিত।)
এই সমতা এবং ভেদাভেদ হীনতা এই জন্যই যে, ইসলাম মানুষকে মানুষ হিসেবে অধিকার প্রদানের প্রতিযোগিতায় বহু অগ্রগামী। আল্লাহর সামনে অধিকারের ক্ষেত্রে সকল মানুষ সমান। অনুরূপভাবে মানুষও পরস্পরের প্রতি অধিকার দেয়া ও নেয়ার ক্ষেত্রে সমান।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যায়েদ বিন হারিসা রা. কে এক বিরাট সংখ্যক মুসলিম সেনা বাহিনীর নেতৃত্ব প্রদান করেছেন যদিও তিনি ছিলেন একজন মুক্তিপ্রাপ্ত দাস। তারপরে তার ছেলে উসামা বিন যায়েদকে তিনি সেনাপ্রধান বানিয়েছেন। তারপরে আবু বকর রা. খলীফা হওয়া পর মুসলিম সেনা বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে তাকেই বহাল রেখেছেন।
মুসলিমগণ বিভিন্ন দেশ বিজয় করার পর যখন ইসলাম চর্তুদিকে ছড়িয়ে পড়ল তখন অনারবদের মধ্যে থেকে বড় বড় আলেম, মসজিদের ইমাম এবং জ্ঞানের জগতে এমন বড় বড় ব্যক্তিত্বের আবির্ভাব হল যাদের নিকট মানুষ জ্ঞানের অমীয় সুধা আহরণ করত।
বরং ইতিহাস বলে, অনেক অনারব মুসলিম ইলম, ফতোয়া ও অন্যান্য ক্ষেত্রে মুসলিম বিশ্বের নেতৃত্ব প্রদান করেছে। নেতৃত্ব দিয়েছে আরও বিভিন্ন ক্ষেত্রে। যেমন, ইলমী জগতের এক দিকপাল আবু হানীফা রা.। তিনি আরবীয় ছিলেন না। ইমাম বুখারী। তিনিও ছিলেন অনারব। তাঁর রচিত সহীহ বুখারী কত বড় অনুসরণীয় গ্রন্থ!! এমন কোন মুসলিম নাই যিনি ইমাম বুখারীকে চিনে না। ইমাম আবু হানীফা এবং ইমাম বুখারী ছাড়াও অনেক বড় বড় ইমাম অনারব থেকে বেরিয়ে এসেছে।
সুতরাং মানুষই যখনই ইসলামকে বাস্তবায়ন করেছেন ইসলাম মানুষের মধ্য থেকে ভেদাভেদ তুলে দিয়েছে। যার ফলে অনারবরা আরবদের ইমাম এবং নেতায় পরিণত হয়েছে। এভাবে অনারবদের অগ্রগামী হওয়ার কারণ কি? কারণ হল, তারা দ্বীনের দায়িত্ব বহন করেছেন, তাওহীদের ঝাণ্ডা উত্তোলন করেছেন। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'র ঝাণ্ডা উত্তোলন করেছেন। ইসলাম মুসলিমদেরকে শিক্ষা দিয়েছে যে, তাকওয়া ছাড়া আরব-অনারবের মাঝে কোন ব্যবধান নেই।
মুসলিমগণ যতদিন ইসলামের শিষ্টাচার মেনে চলেছেন তত দিন তাদের মাঝে কোন শ্রেণী বৈষম্য বা ভেদাভেদ ছিল না।
সুতরাং ইসলামই সর্ব প্রথম শ্রেণী বৈষম্য রহিত করে সমতা প্রতিষ্ঠা করেছে এবং বিশ্ববাসীকে তা বাস্তবায়নের পথ দেখিয়েছে। ইসলামের ইতিহাস এসব ঘটনায় সমৃদ্ধ। সুতরাং সাম্যের এ মহান মূলনীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ইসলামই অগ্রদূত। ইতিহাস তারই স্বাক্ষ্য দেয়।
মোটকথা, ইসলামী শরীয়তই সাম্যের অধিকার যর্থাথ ও পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়নের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।