১
ইসলামে মানবাধিকার
লেখকঃ আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৩১
ইসলামে শাসক নির্বাচন পদ্ধতি:
ইসলামী শরীয়তে রাষ্ট্র পরিচালনার বিষয়টি আহলুল হাল্লি ওয়াল আকদ [‘আহলুল হাল্ল ওয়াল আকদ’ বলতে মুসলিম উম্মার সেই সব আলেম,রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং প্রথম সারির ব্যক্তিগণ উদ্দেশ্য যাদের মধ্যে তিনটি শর্ত বা গুণাবলী বিদ্যমান। যথা:(১) পরিপূর্ণ ন্যায়পরায়নতা ও সততা। (২) এমন জ্ঞান এবং রাজনৈতিক দূরদর্শিতা,যার মাধ্যমে শাসক হওয়ার জন্য যোগ্য ব্যক্তিকে সনাক্ত ও নির্বাচন করা সম্ভব। (৩) এমন হিকমত ও প্রজ্ঞা,যার মাধ্যমে শাসন ক্ষমতার জন্য যোগ্য একাধিক ব্যক্তি থেকে সর্বাধিক যোগ্য এবং জনসাধারণের কার্যাদি পরিচালনায় সর্বাধিক উপযুক্ত ব্যক্তিকে নির্বাচন করা যায়। আর এক কথায়, মুসলিম উম্মার আলেম ও শাসক নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক দূরদর্শিতা সম্পন্ন ব্যক্তিগণই হলেন أهل الحل والعقد ।] তথা মুসলিম উম্মার আলেম ও শাসক নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক দূরদর্শিতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের এর উপর ন্যাস্ত করা হয়েছে। দেশের অভিভাক, ইমাম, রাষ্ট্রপ্রধান ও দেশ পরিচালনার জন্য যোগ্য ব্যক্তি নির্বাচনের দায়িত্ব ইসলাম সর্ব সাধারণের উপর অর্পন করে নি। রাষ্ট্রের অভিভাবক নির্ধারণে ইসলাম অজ্ঞ আর জ্ঞানী, দ্বীন সম্পর্কে মূর্খ আর আলেমকে সমানভাবে মূল্যায়ন করে নি। শরীয়ত বলে নি যে, উভয়ের ভোট সমান। এ ক্ষেত্রে যদি সবাইকে সমানভাবে দেখা হয় তবে সেটাই হবে অন্যায়। বরং ইসলাম এই দায়িত্ব দিয়েছে আহলুল হাল্লি ওয়াল আকদ তথা মুসলিম উম্মার আলেম ও শাসক নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক দূরদর্শিতাসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গের উপর। যেমন, আবু বকর রা. তার পরবর্তী খলিফা হিসেবে উমর রা. এর নাম ঘোষণা করেছেন। উমর রা. পরবর্তী খলিফা নির্বাচনের জন্য আহলে শুরা তথা বিচক্ষণ ও যোগ্য একদল সাহাবীর সমন্বয়ে গঠিত উপদেষ্টা পরিষদের উপর দায়িত্ব অর্পন করে গেছেন। এটি একটি দীর্ঘ আলোচনার বিষয়।