১
ইসলামে মানবাধিকার
লেখকঃ আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২২
ইসলামে সাম্য:
সাম্য প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে শরীয়তে দুটি বিষয় রয়েছে। যথা:
ক. সমতা
খ: ইনসাফ
সর্বক্ষেত্রে ইনাসাফ করা অপরিহার্য কিন্তু সমতা বাস্তবায়ন করতে হবে যথাস্থানে। সমতা সব ক্ষেত্রে এক নয়। আরও স্পষ্ট করে বললে, ইনসাফ বলা হয়, প্রত্যেককে তার যথাযথ প্রাপ্য বুঝিয়ে দেয়া এবং কারও অধিকার লঙ্ঘণ না করা। এটাই হল, ইনসাফ ও ন্যায়-পরায়নতা। আল্লাহ তায়ালা সর্বক্ষেত্রে এই ন্যায়পরায়নতা বাস্তবায়নের নির্দেশ প্রদান করেছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন,
إِنَّ اللَّـهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ وَالْإِحْسَانِ وَإِيتَاءِ ذِي الْقُرْبَىٰ
“আল্লাহ ন্যায়পরায়ণতা,সদাচরণ এবং আত্নীয়-স্বজনকে দান করার আদেশ দেন।” [সূরা নহল/৯০]
সুতরাং ইনসাফ মানে হল, প্রত্যেক মানুষকে তার প্রাপ্য বুঝিয়ে দেয়া। এর নামই ন্যায়-পরায়নতা। এই কারণ ঐ কারণ দেখিয়ে কাউকে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। বরং যেখানে যাকে যা দেয়া প্রয়োজন সেখানে তাকে তাই দিতে হবে।
এই কারণে ইসলাম হদ বা শরীয়ত নির্ধারিত দণ্ড প্রয়োগ হয় এমন অপরাধ ছাড়া অন্য ক্ষেত্রে সকল অপরাধীকে সমান ভাবে বিচার করতে বলে নি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
أَقِيلُوا ذَوِي الْهَيْئَاتِ عَثَرَاتِهِمْ إِلَّا الْحُدُودَ
“কোন (সৎ ব্যক্তি) যদি হঠাৎ করে বিশেষ পরিস্থিতির শিকার হয়ে কোন অপরাধে করে ফেলে তবে তাকে ছেড়ে দাও। তবে যদি এমন অপরাধ করে যাতে শরীয়ত নির্ধারিত দণ্ড প্রযোজ্য হয় তা হলে ভিন্ন কথা।” [আবুদাউদ হা/৪৩৭৫, মুসনাদ আহমদ হা ৪২/৩০০, নাসাঈ ফিল কুবরা হা/৭২৫৩ ইত্যাদি।]
এ ক্ষেত্রে যে ব্যক্তি পেশাদার অপরাধী এবং বিভিন্ন অন্যায়ের সাথে জড়িত আর একজন ভাল মানুষ কিন্তু পরিস্থিতির শিকার হয়ে হঠাৎ কোন অন্যায় করে ফলেছে উভয়কে সমানভাবে বিচার না করাটাই ইনসাফ। কারণ, এ ক্ষেত্রে উভয়কে এক সমান মনে না করার মধ্যেই শরয়ী দৃষ্টিতে বিরাট কল্যাণ নিহীত রয়েছে।
উমর ইবনুল খাত্তাব রা. সরকারী অনুদানের ক্ষেত্রে বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ কারীদেরকে অন্যদের সমান অনুদান দিতেন না। (বরং তাদেরকে আলাদভাবে মূল্যায়ণ করতেন।) অনুরূপভাবে যারা আগে ইসলাম গ্রহণ করেছেন আর আর যারা পরে ইসলাম গ্রহণ করেছেন তাদেরকে বাইতুল মাল থেকে অনুদানের ক্ষেত্রে একইভাবে মূল্যায়ণ করতেন না। বরং যে যতটুকু হকদার তাকে ততটুকু দান করতেন। ইসলামে যার অগ্রগণ্যতা রয়েছে তাকে তিনি দানের ক্ষেত্রেও অগ্রগণ্য করতেন। এটাই ইনসাফ। কেননা, মানুষদের মধ্যে ইসলামকে সাহায্য করা, যোগ্যতা ও সামর্থগত পার্থক্য থাকার পরেও সবাইকে এক দৃষ্টিতে দেখা শরীয়ত সম্মাত নয় বরং শরীয়তের নির্দেশ ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা।
ইসলামী শরীয়তে মানুষের অধিকার দেয়ার ক্ষেত্রে, নেয়ার ক্ষেত্রে, বিচারাচারে জুডিশিয়াল রাইট (Judicial rights) ইত্যাদির ক্ষেত্রে সমতা রক্ষা করার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। সুতরাং রাষ্ট্র, রাষ্ট্রপ্রধান, বিচারক এবং সর্বশ্রেণীর মানুষের জন্য অপরিহার্য হল, তারা সকল মানুষকে সমান দৃষ্টিতে বিচার করবে। কাউকে কারও উপর প্রাধান্য দিবে না। এমন কি বিচারের এজলাসে যদি একজন মুসলিম ও একজন কাফির এসে হাজির হয় তাহলে বিচারক বিচারের ক্ষেত্রে মুসলিম ও কাফিরের মাঝে পার্থক্য করবে না। কারণ আদলত হল ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার স্থান। এ ক্ষেত্রে সব মানুষই সমান।
প্রতিটি মানুষের এটি একটি সাধারণ অধিকার যে, ইসলামী শাষণ ব্যবস্থায় মানুষ আদালতের ক্ষমতা বলে তার প্রাপ্য বুঝে পাবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন,
فَإِن جَاءُوكَ فَاحْكُم بَيْنَهُمْ أَوْ أَعْرِضْ عَنْهُمْ ۖ وَإِن تُعْرِضْ عَنْهُمْ فَلَن يَضُرُّوكَ شَيْئًا ۖ وَإِنْ حَكَمْتَ فَاحْكُم بَيْنَهُم بِالْقِسْطِ ۚ إِنَّ اللَّـهَ يُحِبُّ الْمُقْسِطِينَ وَإِنْ حَكَمْتَ فَاحْكُم بَيْنَهُم بِالْقِسْطِ ۚ إِنَّ اللَّـهَ يُحِبُّ الْمُقْسِطِينَ
“অতএব, তারা যদি আপনার কাছে আসে, তবে হয় তাদের মধ্যে ফয়সালা করে দিন, না হয় তাদের ব্যাপারে নির্লিপ্ত থাকুন। যদি তাদের থেকে নির্লিপ্ত থাকেন, তবে তাদের সাধ্য নেই যে, আপনার বিন্দুমাত্র ক্ষতি করতে পারে। যদি ফয়সালা করেন, তবে ন্যায় ভাবে ফয়সালা করুন। নিশ্চয় আল্লাহ সুবিচারকারীদেরকে ভালবাসেন।” [সূরা মায়িদাহ/৪২] এ মর্মে আরও আয়াত রয়েছে।
ক. সমতা
খ: ইনসাফ
সর্বক্ষেত্রে ইনাসাফ করা অপরিহার্য কিন্তু সমতা বাস্তবায়ন করতে হবে যথাস্থানে। সমতা সব ক্ষেত্রে এক নয়। আরও স্পষ্ট করে বললে, ইনসাফ বলা হয়, প্রত্যেককে তার যথাযথ প্রাপ্য বুঝিয়ে দেয়া এবং কারও অধিকার লঙ্ঘণ না করা। এটাই হল, ইনসাফ ও ন্যায়-পরায়নতা। আল্লাহ তায়ালা সর্বক্ষেত্রে এই ন্যায়পরায়নতা বাস্তবায়নের নির্দেশ প্রদান করেছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন,
إِنَّ اللَّـهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ وَالْإِحْسَانِ وَإِيتَاءِ ذِي الْقُرْبَىٰ
“আল্লাহ ন্যায়পরায়ণতা,সদাচরণ এবং আত্নীয়-স্বজনকে দান করার আদেশ দেন।” [সূরা নহল/৯০]
সুতরাং ইনসাফ মানে হল, প্রত্যেক মানুষকে তার প্রাপ্য বুঝিয়ে দেয়া। এর নামই ন্যায়-পরায়নতা। এই কারণ ঐ কারণ দেখিয়ে কাউকে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। বরং যেখানে যাকে যা দেয়া প্রয়োজন সেখানে তাকে তাই দিতে হবে।
এই কারণে ইসলাম হদ বা শরীয়ত নির্ধারিত দণ্ড প্রয়োগ হয় এমন অপরাধ ছাড়া অন্য ক্ষেত্রে সকল অপরাধীকে সমান ভাবে বিচার করতে বলে নি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
أَقِيلُوا ذَوِي الْهَيْئَاتِ عَثَرَاتِهِمْ إِلَّا الْحُدُودَ
“কোন (সৎ ব্যক্তি) যদি হঠাৎ করে বিশেষ পরিস্থিতির শিকার হয়ে কোন অপরাধে করে ফেলে তবে তাকে ছেড়ে দাও। তবে যদি এমন অপরাধ করে যাতে শরীয়ত নির্ধারিত দণ্ড প্রযোজ্য হয় তা হলে ভিন্ন কথা।” [আবুদাউদ হা/৪৩৭৫, মুসনাদ আহমদ হা ৪২/৩০০, নাসাঈ ফিল কুবরা হা/৭২৫৩ ইত্যাদি।]
এ ক্ষেত্রে যে ব্যক্তি পেশাদার অপরাধী এবং বিভিন্ন অন্যায়ের সাথে জড়িত আর একজন ভাল মানুষ কিন্তু পরিস্থিতির শিকার হয়ে হঠাৎ কোন অন্যায় করে ফলেছে উভয়কে সমানভাবে বিচার না করাটাই ইনসাফ। কারণ, এ ক্ষেত্রে উভয়কে এক সমান মনে না করার মধ্যেই শরয়ী দৃষ্টিতে বিরাট কল্যাণ নিহীত রয়েছে।
উমর ইবনুল খাত্তাব রা. সরকারী অনুদানের ক্ষেত্রে বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ কারীদেরকে অন্যদের সমান অনুদান দিতেন না। (বরং তাদেরকে আলাদভাবে মূল্যায়ণ করতেন।) অনুরূপভাবে যারা আগে ইসলাম গ্রহণ করেছেন আর আর যারা পরে ইসলাম গ্রহণ করেছেন তাদেরকে বাইতুল মাল থেকে অনুদানের ক্ষেত্রে একইভাবে মূল্যায়ণ করতেন না। বরং যে যতটুকু হকদার তাকে ততটুকু দান করতেন। ইসলামে যার অগ্রগণ্যতা রয়েছে তাকে তিনি দানের ক্ষেত্রেও অগ্রগণ্য করতেন। এটাই ইনসাফ। কেননা, মানুষদের মধ্যে ইসলামকে সাহায্য করা, যোগ্যতা ও সামর্থগত পার্থক্য থাকার পরেও সবাইকে এক দৃষ্টিতে দেখা শরীয়ত সম্মাত নয় বরং শরীয়তের নির্দেশ ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা।
ইসলামী শরীয়তে মানুষের অধিকার দেয়ার ক্ষেত্রে, নেয়ার ক্ষেত্রে, বিচারাচারে জুডিশিয়াল রাইট (Judicial rights) ইত্যাদির ক্ষেত্রে সমতা রক্ষা করার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। সুতরাং রাষ্ট্র, রাষ্ট্রপ্রধান, বিচারক এবং সর্বশ্রেণীর মানুষের জন্য অপরিহার্য হল, তারা সকল মানুষকে সমান দৃষ্টিতে বিচার করবে। কাউকে কারও উপর প্রাধান্য দিবে না। এমন কি বিচারের এজলাসে যদি একজন মুসলিম ও একজন কাফির এসে হাজির হয় তাহলে বিচারক বিচারের ক্ষেত্রে মুসলিম ও কাফিরের মাঝে পার্থক্য করবে না। কারণ আদলত হল ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার স্থান। এ ক্ষেত্রে সব মানুষই সমান।
প্রতিটি মানুষের এটি একটি সাধারণ অধিকার যে, ইসলামী শাষণ ব্যবস্থায় মানুষ আদালতের ক্ষমতা বলে তার প্রাপ্য বুঝে পাবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন,
فَإِن جَاءُوكَ فَاحْكُم بَيْنَهُمْ أَوْ أَعْرِضْ عَنْهُمْ ۖ وَإِن تُعْرِضْ عَنْهُمْ فَلَن يَضُرُّوكَ شَيْئًا ۖ وَإِنْ حَكَمْتَ فَاحْكُم بَيْنَهُم بِالْقِسْطِ ۚ إِنَّ اللَّـهَ يُحِبُّ الْمُقْسِطِينَ وَإِنْ حَكَمْتَ فَاحْكُم بَيْنَهُم بِالْقِسْطِ ۚ إِنَّ اللَّـهَ يُحِبُّ الْمُقْسِطِينَ
“অতএব, তারা যদি আপনার কাছে আসে, তবে হয় তাদের মধ্যে ফয়সালা করে দিন, না হয় তাদের ব্যাপারে নির্লিপ্ত থাকুন। যদি তাদের থেকে নির্লিপ্ত থাকেন, তবে তাদের সাধ্য নেই যে, আপনার বিন্দুমাত্র ক্ষতি করতে পারে। যদি ফয়সালা করেন, তবে ন্যায় ভাবে ফয়সালা করুন। নিশ্চয় আল্লাহ সুবিচারকারীদেরকে ভালবাসেন।” [সূরা মায়িদাহ/৪২] এ মর্মে আরও আয়াত রয়েছে।