১
ইসলামে মানবাধিকার
লেখকঃ আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২৪
সাম্য ও ইনসাফের ব্যাপারে ইসলামের বলিষ্ঠ উচ্চারণ:
১. জুডিশিয়াল রাইটস (Judicial Rights) বা বিচারিক অধিকারের ক্ষেত্রে সকল মানুষ সমান। সে মুসলিম হোক বা অমুসলিম হোক। ইসলামী শরীয়তে এ ক্ষেত্রে মানুষের মাঝে কোন ভেদাভেদ নেই। আমরা কোন খৃষ্টানের অধিকার কোন মুসলিমকে দিবো না আর কোন ইহুদির অধিকার কোন মুসলিমকে দিবো না। বরং স্বাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে যার অধিকার প্রমাণিত হবে সেই তা পাবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
أَدِّ الأَمَانَةَ إِلَى مَنِ ائْتَمَنَكَ، وَلا تَخُنْ مَنْ خَانَكَ
“তোমার নিকট যে ব্যক্তি আমানত দিলো তুমি তার আমানত তাকে ফিরিয়ে দাও। আর যে ব্যক্তি তোমার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করল তুমি তার সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা করো না।” [আবুদাউদ হা/৩৫৩৪, তিরমিযী হা/১২৬৪, আহমদ হা/২৪/১৫০ বায়হাকী ফিস সুনান ১০/৪৫৬ ইত্যাদি]
২) আল্লাহর বিধান সবার জন্য সমান। তাই সকল ক্ষেত্রে আল্লাহর বিধান অনুযায়ী বিচার কার্য পরিচালনার নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেন,
وَأَنِ احْكُم بَيْنَهُم بِمَا أَنزَلَ اللَّـهُ
“আপনি আল্লাহর নাজিলকৃত বিধান অনুযায়ী বিচার-ফয়সালা করুন।” [সূরা মায়িদাহ/৪৯]
৩) আল্লাহ আমাদেরকে ন্যায়পরায়নতা ও সত্যের স্বাক্ষী হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন যদি তা আমাদের বিপক্ষেও যায়। আল্লাহ তায়ালা বলেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُونُوا قَوَّامِينَ بِالْقِسْطِ شُهَدَاءَ لِلَّـهِ وَلَوْ عَلَىٰ أَنفُسِكُمْ
“হে ঈমানদারগণ, তোমরা ন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত থাক; আল্লাহর ওয়াস্তে ন্যায়সঙ্গত সাক্ষ্যদান কর, যদিও তা তোমাদের নিজের বিপক্ষে যায়।” [সূরা নিসা/১৩৫]
৪) কোন অবস্থায় ন্যায়-ইনসাফ থেকে সরে আসা যাবে না। আল্লাহ তায়ালা বলেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُونُوا قَوَّامِينَ لِلَّـهِ شُهَدَاءَ بِالْقِسْطِ ۖ وَلَا يَجْرِمَنَّكُمْ شَنَآنُ قَوْمٍ عَلَىٰ أَلَّا تَعْدِلُوا ۚ اعْدِلُوا هُوَ أَقْرَبُ لِلتَّقْوَىٰ
“হে মুমিনগণ,তোমরা আল্লাহর উদ্দেশে ন্যায় সাক্ষ্যদানের ব্যাপারে অবিচল থাকবে এবং কোন সম্প্রদায়ের শত্রুতার কারণে কখনও ন্যায়বিচার পরিত্যাগ করো না। সুবিচার কর। এটাই খোদাভীতির অধিক নিকটবর্তী।” [সূরা মায়িদাহ/৮]
তাই তো দেখা যায়, সাহাবীদের যুগে কোন ইহুদী কোন মুসলিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে বিচারের মসজলিসে হাজির হলে ইহুদী আর মুসলিম বলে কোন পার্থক্য করা হতো না। বরং শরীয়তের হুকুম এবং বিচারের ক্ষেত্রে উভয়কে বিচারের কাঠগড়ায় সমান ধরা হতো। কারো প্রতি অবিচর করা হতো না। কিন্তু কেন? উত্তর হল, এ সকল বিষয়ে পার্থক্য করা হলে, পৃথিবীতে বিশংখলা সৃষ্টি হবে। অথচ আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে পৃথিবীতে বিশৃংখলা সৃষ্টি করতে নিষেধ করেছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন,
وَلَا تُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ بَعْدَ إِصْلَاحِهَا وَادْعُوهُ خَوْفًا وَطَمَعًا
“পৃথিবীকে সংস্কার করার পর তাতে আবার বিশৃংখলা সৃষ্টি করো না। তাঁকে আহবান কর ভয় ও আশা সহকারে।” [সূরা আরাফ/ ৫৬]
এই পৃথিবীকে সংস্কার করা সম্ভব হবে কেবল জ্ঞানের মাধ্যমে এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর রিসালতে বিশ্বাস করত: তার আনীত শরীয়ত অনুমদিত বিভিন্ন অধিকার আদায়ের মাধ্যমে। আর শরীয়ত নির্দেশিত সবচেয়ে বড় অধিকার হল, আল্লাহর তাওহীদ বাস্তবায়ন করা এবং শিরক পরিত্যাগ করা। আর সবচেয়ে বড় বিশৃংখলা হল, আল্লাহর অধিকার নষ্ট করা তারপর মানুষের অধিকার নষ্ট করা। [তাফসীরে ইবনে আবী হাতিম ১/১৫০১, ৫/১৫২০ ইমাম সুয়ুতী এ বক্তব্যটিকে আদ দুররুল মানসুর (৩/৪৭৬, ৪৭৭) গ্রন্থে তাফসীরে আবীশ শায়খ থেকে সংকলন করেছেন।]
এভাবে যখন ক্রমান্বয়ে পৃথিবীতে বিপর্যয়-বিশৃংখলা ছড়িয়ে পড়ে তখন মহান আল্লাহর ক্রোধ অবধারিত হয়ে যায়। আল্লাহ তায়ালা বলেন,
كُلُوا مِن طَيِّبَاتِ مَا رَزَقْنَاكُمْ وَلَا تَطْغَوْا فِيهِ فَيَحِلَّ عَلَيْكُمْ غَضَبِي ۖ وَمَن يَحْلِلْ عَلَيْهِ غَضَبِي فَقَدْ هَوَى وَإِنِّي لَغَفَّارٌ لِّمَن تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا ثُمَّ اهْتَدَىٰ
“বলেছিঃ আমার দেয়া পবিত্র বস্তুসমূহ খাও এবং এতে সীমালংঘন করো না,তাহলে তোমাদের উপর আমার ক্রোধ নেমে আসবে এবং যার উপর আমার ক্রোধ নেমে আসে সে ধ্বংস হয়ে যায়। আর যে তওবা করে,ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে অতঃপর সৎপথে অটল থাকে তার প্রতি আমি পরম ক্ষমাশীল।” [সূরা ত্বহা/৮১-৮২]
أَدِّ الأَمَانَةَ إِلَى مَنِ ائْتَمَنَكَ، وَلا تَخُنْ مَنْ خَانَكَ
“তোমার নিকট যে ব্যক্তি আমানত দিলো তুমি তার আমানত তাকে ফিরিয়ে দাও। আর যে ব্যক্তি তোমার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করল তুমি তার সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা করো না।” [আবুদাউদ হা/৩৫৩৪, তিরমিযী হা/১২৬৪, আহমদ হা/২৪/১৫০ বায়হাকী ফিস সুনান ১০/৪৫৬ ইত্যাদি]
২) আল্লাহর বিধান সবার জন্য সমান। তাই সকল ক্ষেত্রে আল্লাহর বিধান অনুযায়ী বিচার কার্য পরিচালনার নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেন,
وَأَنِ احْكُم بَيْنَهُم بِمَا أَنزَلَ اللَّـهُ
“আপনি আল্লাহর নাজিলকৃত বিধান অনুযায়ী বিচার-ফয়সালা করুন।” [সূরা মায়িদাহ/৪৯]
৩) আল্লাহ আমাদেরকে ন্যায়পরায়নতা ও সত্যের স্বাক্ষী হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন যদি তা আমাদের বিপক্ষেও যায়। আল্লাহ তায়ালা বলেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُونُوا قَوَّامِينَ بِالْقِسْطِ شُهَدَاءَ لِلَّـهِ وَلَوْ عَلَىٰ أَنفُسِكُمْ
“হে ঈমানদারগণ, তোমরা ন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত থাক; আল্লাহর ওয়াস্তে ন্যায়সঙ্গত সাক্ষ্যদান কর, যদিও তা তোমাদের নিজের বিপক্ষে যায়।” [সূরা নিসা/১৩৫]
৪) কোন অবস্থায় ন্যায়-ইনসাফ থেকে সরে আসা যাবে না। আল্লাহ তায়ালা বলেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُونُوا قَوَّامِينَ لِلَّـهِ شُهَدَاءَ بِالْقِسْطِ ۖ وَلَا يَجْرِمَنَّكُمْ شَنَآنُ قَوْمٍ عَلَىٰ أَلَّا تَعْدِلُوا ۚ اعْدِلُوا هُوَ أَقْرَبُ لِلتَّقْوَىٰ
“হে মুমিনগণ,তোমরা আল্লাহর উদ্দেশে ন্যায় সাক্ষ্যদানের ব্যাপারে অবিচল থাকবে এবং কোন সম্প্রদায়ের শত্রুতার কারণে কখনও ন্যায়বিচার পরিত্যাগ করো না। সুবিচার কর। এটাই খোদাভীতির অধিক নিকটবর্তী।” [সূরা মায়িদাহ/৮]
তাই তো দেখা যায়, সাহাবীদের যুগে কোন ইহুদী কোন মুসলিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে বিচারের মসজলিসে হাজির হলে ইহুদী আর মুসলিম বলে কোন পার্থক্য করা হতো না। বরং শরীয়তের হুকুম এবং বিচারের ক্ষেত্রে উভয়কে বিচারের কাঠগড়ায় সমান ধরা হতো। কারো প্রতি অবিচর করা হতো না। কিন্তু কেন? উত্তর হল, এ সকল বিষয়ে পার্থক্য করা হলে, পৃথিবীতে বিশংখলা সৃষ্টি হবে। অথচ আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে পৃথিবীতে বিশৃংখলা সৃষ্টি করতে নিষেধ করেছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন,
وَلَا تُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ بَعْدَ إِصْلَاحِهَا وَادْعُوهُ خَوْفًا وَطَمَعًا
“পৃথিবীকে সংস্কার করার পর তাতে আবার বিশৃংখলা সৃষ্টি করো না। তাঁকে আহবান কর ভয় ও আশা সহকারে।” [সূরা আরাফ/ ৫৬]
এই পৃথিবীকে সংস্কার করা সম্ভব হবে কেবল জ্ঞানের মাধ্যমে এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর রিসালতে বিশ্বাস করত: তার আনীত শরীয়ত অনুমদিত বিভিন্ন অধিকার আদায়ের মাধ্যমে। আর শরীয়ত নির্দেশিত সবচেয়ে বড় অধিকার হল, আল্লাহর তাওহীদ বাস্তবায়ন করা এবং শিরক পরিত্যাগ করা। আর সবচেয়ে বড় বিশৃংখলা হল, আল্লাহর অধিকার নষ্ট করা তারপর মানুষের অধিকার নষ্ট করা। [তাফসীরে ইবনে আবী হাতিম ১/১৫০১, ৫/১৫২০ ইমাম সুয়ুতী এ বক্তব্যটিকে আদ দুররুল মানসুর (৩/৪৭৬, ৪৭৭) গ্রন্থে তাফসীরে আবীশ শায়খ থেকে সংকলন করেছেন।]
এভাবে যখন ক্রমান্বয়ে পৃথিবীতে বিপর্যয়-বিশৃংখলা ছড়িয়ে পড়ে তখন মহান আল্লাহর ক্রোধ অবধারিত হয়ে যায়। আল্লাহ তায়ালা বলেন,
كُلُوا مِن طَيِّبَاتِ مَا رَزَقْنَاكُمْ وَلَا تَطْغَوْا فِيهِ فَيَحِلَّ عَلَيْكُمْ غَضَبِي ۖ وَمَن يَحْلِلْ عَلَيْهِ غَضَبِي فَقَدْ هَوَى وَإِنِّي لَغَفَّارٌ لِّمَن تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا ثُمَّ اهْتَدَىٰ
“বলেছিঃ আমার দেয়া পবিত্র বস্তুসমূহ খাও এবং এতে সীমালংঘন করো না,তাহলে তোমাদের উপর আমার ক্রোধ নেমে আসবে এবং যার উপর আমার ক্রোধ নেমে আসে সে ধ্বংস হয়ে যায়। আর যে তওবা করে,ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে অতঃপর সৎপথে অটল থাকে তার প্রতি আমি পরম ক্ষমাশীল।” [সূরা ত্বহা/৮১-৮২]